Skip to content

শেষযাত্রায় গমনে দ্বিধা

  • by

এই লেখাটা একজন মৃত্যুপথযাত্রীর উদ্দেশ্যে একটা নির্দয় স্বীকারোক্তি। আমি জানি আমার সাথে আপনি একমত কিছুতেই হবেন না। জীবনের কোনো একটা কুৎসিত কিংবা দুর্বল মুহূর্তের সিদ্ধান্তে নিজের জীবনের জন্য একটা অপ্রয়োজনীয় কুঅভ্যাস নিজের মধ্যে গেঁথে ফেলেছি। আমি আমার এই মধ্যম বয়সী জীবনে খুব বিরল কিছু ঘটনা ছাড়া কখনো মৃতের বাড়ি, বিয়ের বাড়ি, নবজন্মের বাড়ি যাই না। অনেক বন্ধু, সহকর্মী, আত্মীয়, পরিচীত আমাকে এজন্য নানানরকম কথা, অনুযোগ, দুয়ো, গালি-মনের মতো তাদের মতো করে দিয়ে থাকেন।

”কেন যান না?”-প্রশ্নটার জবাবে শুধু বলি ”যাই না”।

আমি কখনোই সেল্ফ টেস্টিমনি হিসেবে এই ব্যখ্যাটা দিতাম না। কিন্তু আমার একজন পছন্দের মানুষ কোনো একটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে (তার ধারনা মতে) শেষ দিনটির অপেক্ষা করছেন। একটা মৃত্যুরোগ তার শরীরটাকে ধীরে ধীরে শেষ করে আনতে চাচ্ছে। তাক দুর হতে দোয়া করি। দেখতে যাই না। তিনি জানেন কেন যাই না। তবু চান আমি যাই। তবু বলি না। তবু যাই না।

আমি আসলে খুব দুর্বল মনের একজন অযোগ্য মানুষ। মৃত্যুর মত একটা পরাজয় আমাকে, আমার সব গতিকে,, সব ইচ্ছাশক্তি, মনের জোরকে বিবশ, পঙ্গু করে দেয়। একটা অসারতা পা থেকে মাথা পর্যন্ত গ্রাস করে। অসহ্য একটা চাপা কষ্ট কলজেটাকে দুমড়ে মুচড়ে দেয়। মৃতের চলে যাওয়ার হৃদয়ভাঙা বেদনা, তার কাছের মানুষগুলোর বুকভাঙা বিলাপ সহ্য করার মতো শক্ত মন আমার নেই ।

তাই পালিয়ে থাকি। নিজের সাথে নিজের প্রতারণাও বলতে পারেন। তাই যাইনা। আমার না যাওয়াতে শুধুমাত্র আমার বদনাম ছাড়া আর কারো ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না তো।

“অসামাজিক” বা ”ঢং” বদনামটুকু নিতে তাও পারব। সেটা তবুও মৃতের সাক্ষাতের চেয়ে কম কষ্টকর।

#socialism #death #DeathBed #funeral

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *