Skip to content

ভেতরে যদি ঘাপলা থাকে

  • by

কোনটি প্রাণের ‘ভাই’ আর কোনটি স্বার্থের ‘ভাইয়া’-সেটি একটু মন দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করলেই আপনি বুঝতে পারবেন। ভেতরে যদি ঘাপলা থাকে, তা একটা সময়ে বের হয়ে আসবেই। RFL এর সেই বিখ্যাত বিজ্ঞাপনটির মতো, একটু নাড়া পড়লে মনের অজান্তেই ঘাপটি মারা ‘ভাইয়া’ আপন মনে বলে উঠবে, “আঁই কিচ্চি? বেগগুন দোষ কি হারুইক্ক্যার নি?” বিজ্ঞাপনটা জানতে মন চাইছে? শুনুন তবে।

স্মৃতি হতে বলছি, সামান্য ভুল থাকতে পারে। অফিসের মালিকের নাম ফারুক খান। এক পিওন ছিল, তার নাম ফারুক মিয়া। তার বাড়ি Royal district এ। স্বাভাবিকভাবেই তাকে সবাই ডাকে ‘হারুইক্ক্যা’। একদিন আমাদের হারুইক্ক্যা একটি যাদুর বলে চেহারা বদলে হয়ে যায় ফারুক খান আর ফারুক খানকে বানিয়ে দেয় ফারুক মিয়া। পরদিন হতে সে ফারুক খানের ডেস্ক দখল করে, অফিস দখল করে। বড় সাহেব বনে যায়। রূপকথার কঙ্কন দাসীর মতো। কিন্তু, অফিসের বাকি লোকেরা ফারুক খান ওরফে ‘হারুইক্ক্যার আচার, আচরনের নতুন রূপে সন্দেহ করে। কিন্তু ধরতে পারে না।

একদিন কোনো এক মিটিংয়ে ফারুক খান ওরফে ফারুক মিয়া (হারুইক্ক্যা) হাজির। মিটিংয়ে ফারুক মিয়া ওরফে ফারুক খান কি একটা ভুল করে। অথবা, বস ফারুক খানেরই কিছু একটা ভুল নিয়ে সবাই সমালোচনা করতে থাকে। সমালোচনা যখন তীব্র হতে থাকে, তখন একটা পর্যায়ে আর সহ্য করতে না পেরে ফারুক খান ভেকধারী ‘হারুইক্ক্যা’ চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠে বলে ওঠে, “আঁই কিচ্চি? বেগগুন দোষ কি হারুইক্ক্যার নি?”

ভেতরের ঘাপলা সামান্য নাড়া পেলেই নখদন্ত নিয়ে বের হয়ে আসে। সুতরাং, ’ভাই’, ‘ভাইয়া’ ও ‘আপ্পি’র অতি মাখন হতে সাবধান। আমাদের মিরপুরের সাবেক ’সনি হল’ এখন হয়ে গেছে ‘সনি স্কয়ার’। একসময়ের জরাজীর্ন Unfit দালান নজরকাড়া Interior, Exterior, Retrofitting এর বদৌলতে এখন ‘সনি স্কয়ার’ নামের ঝা-চকচকে প্রাসাদ। তার পেটের ভেতর, মিরপুরের দীনহীন নিম্নমধ্যবিত্ত অবয়বে গড়ে উঠেছে বিদেশী খাদ্য শৃঙ্খলের Francisee । দেখলে মনে হবে, লন্ডন বা ইস্তাম্বুল না হোক, গুলশান এসে পড়লাম। কিন্তু, সেই দোকানে, বা ঢাকার যে কোনো ঝা-চকচকে ‘মল’ এ যেকোনো ‘Shop’ এ যান, মান, দাম বা ব্যবহার নিয়ে সামান্য হেরফের করুন, আপনি বুঝে যাবেন, কত টাকায় কত ব্রীজ। (কত টাকায় কত ধান’ বহু আগে হতে অচল হয়ে গেছে।)

দোকানীরা (যাদের এখন আদর করে Sales Associate বলে) আপনার পরনের লুঙ্গি তো খুলে নেবেই, পিন্ধনের ‘খাটো পান্তালুন’ খুলে টেবিল মুছবে। ভেতরের দোকানদার মনটা সামান্য নাড়া পেলে গজদন্ত বের করবে। প্রকৃতির নিয়ম বলে, ভেতরে যদি ঘাপলা থাকে, সেটা অবস্থার হেরফেরে বের হয়ে আসবেই। শূন্য কলসী যেমন বাজে বেশি, অসার, জাল ও ভেজালের ঝনঝন বেশি।

ভেতরে থাকা অসারতা, অশিক্ষা, নিম্নশ্রেনীর নিচু মানসিকতা, অযোগ্যতা একটু টোকা পেলে, স্বার্থে একটু টান ধরলেই চেহারা বদলে যাবে। কুহু কুহু ডাকা মুনিয়া পাখির স্বর মুহূর্তে কাউয়া পঙ্খীর রূপ নিতে বাধ্য। এবং, নিয়ম বলে, অসারের গর্জন বেশি। এক বাড়িতে একটি ময়না পোষা হত। ময়নাকে তার মালিক নানা বোলচাল শিখিয়েছে। সে বাড়িতে কুটুম এলে শিখিয়ে দেয়া বোল মধুর স্বরে ডাকে, ”আসুন, আসুন, বসুন, বসুন। মেহমান এসেছে, পিঁড়ি দাও। শরবত দাও।”-ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু, একদিন মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে বাড়ির হুলো বেড়ালটা ময়নার ওপর হামলা করল। পোষা ময়নার গলায় মরণ কামড় বসালো হুলো। প্রাণ যখ যায় যায়, ময়না, তার শেখানো বোলচাল সব ভুলে ডেকে ওঠে, ”চ্যাও চ্যাঁও চ্যাঁও চ্যাঁও চ্যাঁও।”। সে আর মধুর স্বরে পুলিশ বা মালিককে ডাকে না।

অন্তরে যে লুকিয়ে থাকে, রক্তে যে বীজ মিশে থাকে, তার ডাক অস্বীকার করতে কীভাবে? কাল রাতে হাঁটতে বেড়িয়ে এক ভদ্রলোককে চোখের সামনে দেখলাম। একখানা ঘাপলাবাজ। মালকড়ি ভালই কামান (ডান ও বাম হাতে)। একবার তাকে একটা সহজ প্রশ্ন করেছিলাম। সাথে সাথে তড়বড় করে মূল কথার সাথে এত কথা জুড়ে দিলেন, ঘাপলাটা স্পষ্ট হয়ে গেল। ঘাপলাবাজরা নিজে হতেই আপনাকে অপ্রয়োজনীয় সাফাই দেবে। দুর্বল নৈতিকতা, ঘাপলাপূর্ণ ও দূর্নীতিবাজের গলার স্বর মাত্রাতিরিক্ত মিহি অথবা দ্রূত হয়ে থাকে। আত্মব্যাখ্যার অযাচিত ঘটা দেখলে বুঝবেন, সাবধান হবার উপলক্ষ্য আছে। আমাদের গ্রাম দেশে বলে ‘চাটাম’-মানে বড়াই, আত্মম্ভরিতা ও মিথ্যা জারিজুরি। খলের খলবল বেশি।

#96/98 #internalproblem #innerissues #deepinsides #Discrepancy #scam #fraud #৯৬/৯৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *