অনলাইনে বা অফলাইনে যারা বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত যেমন লেখালিখি, গ্রূমিং, মেনটরিং, গান, কাউন্সেলিং ইত্যাদি ইত্যাদি, তাদের প্রচুর ফ্রেন্ড, কানেকশন, ফ্যান, ফলোয়ার আছে। প্রতিনিয়ত ফ্যান ও ফ্রেন্ডরা জানান দেন, ”WE LOVE YOU “ । কিন্তু এই ভালবাসার গভীরতা ও স্থায়ীত্ব কতটা? আমি বলতে চাই ভালবাসার মজবুতীর কথা। যদি এখনো না বুঝে থাকেন, তবে একটা উদাহরন বলি। স্রেফ উদাহরন। অন্য কোনো গন্ধ না খুঁজি।
একজন লেখক হুমায়ূন আহমেদের বিশাল সংখ্যক অন্ধ ভক্ত ছিল ও আছে। তাকেও আমরা ওভাবেই বলতাম, “WE LOVE YOU” ।
কিন্তু যেই না ব্যক্তি হুমায়ূন তার একান্ত ব্যক্তিগত পছন্দে ও সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় বিয়েটি করলেন, তৎক্ষনাৎ তার সেই বিশাল সংখ্যক ফ্যান ও ভালবাসার মানুষদের কাছে পরিণত হলেন ভিলেনে। ব্যাপারটা মুহুর্তের ভিতরে ঘটল। এর আগে তাকে যে আমরা প্রচন্ড ভালবাসা ও শ্রদ্ধা দেখাতাম, সেটা বেমালুম বিস্মৃত হলাম আমরা। ওই ভালবাসা বিন্দুমাত্র বাঁধা হতে পারল না, তাকে তারা হতে ইদারায় স্থান দিতে। যাহোক এটা শুধুই একটা উদাহরন।
একটা বাস্তব উদাহরন বলি। মনে করুন, বর্তমান সময়ের একজন খুব বিখ্যাত, জনপ্রিয়, যোগ্য ও সেলেব ব্যক্তি যারা হাজার হাজার ভক্ত, যার ইনবক্স ও ওয়ালে রোজ হাজার হাজার লাভ ইমো, লাইক জমা পড়ে। তিনি যদি হঠাৎ করে একটা স্ট্যাটাস দিয়ে বসেন, ”টিএসসি’র ফুটপাতের ওই তরুন ও তরুনীর দুঃসাহসী প্রণয় প্রকাশে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত”-ব্যাস। পরবর্তি ৩ দিন কী কী ঘটতে পারে?
>তাকে ৫৭ ধারায় ধরে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
>তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হবে।
>তার ওয়ালে কয়েক হাজার নোংরা ও ওই ঘটনার চেয়েও অশ্লীল ছবি, ট্রল পাঠানো হবে।
>তাকে কয়েক শত মানুষ আনফ্রেন্ড/ব্লক করবে।
>বেশকিছু মানুষ তাকে ইনিয়ে বিনিয়ে নিন্দা করবে।
>তার প্রোফাইল রিপোর্ট খেতে পারে।
>তিনি স্বস্তা জনপ্রিয়তা চান কিনা-এই নিয়ে কয়েকটা টকশো হয়ে যাবে।
>তিনি মানসিকভাবে সুস্থ্য কিনা-তা নিয়ে প্রচুর ফেসবুক পোস্ট হবে।”হাতেনাতে ধরা খেলেন…….” মর্মে প্রচুর চিকামারা অনলাইন পোর্টালে তাকে নিয়ে নিউজ হবে।
>তার নেটওয়ার্কে থাকা প্রচুর বড় বড় মানুষ তাকে আনফ্রেন্ড/আনফলো করবেন। কিন্তু কেন?
যেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিনিয়ত খুন হচ্ছে বলে সবাই চোখের পানি ফেলে, সেই দেশে একজন ব্যক্তি মানুষ তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতে পারবে না?
পৃথিবীতে কোনো অবস্থাতেই একজন সেলেব, একজন বড় মানুষ, একজন বিখ্যাত মানুষ, একজন মেনটর, একজন গুরু, একজন নেতা, একজন মহিরূহ-কোনো অবস্থাতেই তার ব্যক্তিস্বাধীনতা ত্যাগ করতে বাধ্য নন। আমরা তাকে মহাপুরুষ মানি-তার মানে এই নয়, তাকে তার ব্যক্তিপছন্দ ত্যাগ করতে হবে। আমাদের, মানে ফলোয়ারদের রুচীই হবে তার রুচী, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই হবে তার দৃষ্টিভঙ্গি, আমাদের জীবনবোধ ও ভাল/মন্দ লাগাকে তিনি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবেন-কেন কেন কেন?
তার শুধুমাত্র সোশ্যাল এক্সপোজার ও এপিয়ারেন্সটুকুই আমাদের পাওনা হওয়া উচিৎ এবং তার ব্যক্তিগত গঠন ও জীবনাচরনে নাক গলানোর অধিকার আমাদের নেই-সেটা কবে মেনে নিতে শিখব আমরা?
#judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome #fan #transitory #temporarylove #shortlove #personality #privacy #attitude #choice #freedomofspeech #freedomofopinion #personalfreedom