Skip to content

বিয়ের প্রলোভন

  • by

আমি নারী-পুরুষের ক্ষমতা ও অধিকার নিয়ে কখনো বর্ণবাদী বা পুরুষতান্ত্রিক মন্তব্য করার পক্ষপাতি নই। এই লেখাটি বর্ণবাদি বা ম্যাসকুলিনিটি ভিত্তিক ভাবতে পারেন কেউ কেউ। তবে অনুরোধ করব, জাজমেন্টাল না হয়ে দয়া করে যুক্তি দেখাবেন। বাঙালী বড্ড জাজমেন্টাল।

প্রায়ই পত্রিকার পাতায় একটা খবর দেখি “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুনীর সঙ্গে সম্পর্ক। অতঃপর বিয়ে না করতে চাওয়ায় তরুণের নামে প্রতারনার মামলা।”

এধরনের খবরের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ কেসেই উক্ত তরুনীটি সবার সিমপ্যাথি পান। সবার মনে এই জাজমেন্ট কাজ করে-সম্পর্ক করার পরে বিয়ে না করতে চাওয়ায় পুরুষটি সর্বৈবভাবে দায়ী ও প্রতারক। অধিকাংশ কেসেই পুলিশ পুরুষটিকে ধরে নিয়ে যায় কিংবা মামলাতে পুরুষটি ফেসে যায় আর মিডিয়াও পুরুষটিকে মিডিয়া ট্রায়ালে দিয়ে দেয়।

যদিও আমি জানি না, প্রেমের সম্পর্ক, যেটি দু’জন নরনারীর ব্যক্তিগত স্বেচ্ছাসম্মতিতে শুরু হয় তারপর যা কিছু ঘটে তাও সম্মতিতেই ঘটে ওই সময়টাতে ওই ছেলে ও ওই মেয়েটির মধ্যে কোনো চুক্তি হয় কিনা যে, তারা অবশ্যই বিয়ে করবে। আমরা তো মনে হয় মানসিক প্রেম (ও জৈবিক প্রেম) বিয়ে করার চুক্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় না। তাহলে সম্পর্কটি কোনো কারনে ভেঙ্গে গেলে বিয়ে করার বাধ্যকতার বিষয়টি কেন সামনে আসে? আর বিয়ের বাধ্যবাধকতা কি শুধু ছেলেদের একার?

ব্রেক আপের সময় গণহারে বলা হয় ছেলেটি মেয়েটিকে মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে ভোগ করেছে। আচ্ছা? তো মেয়েটি তাহলে শুধু বিয়ে করার লোভেই ছেলেটির সব প্রস্তাবে হ্যা বলেছিল? 

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় পারস্পরিক ভাল লাগা হতে প্রেমের সম্পর্ক (আজকাল অবশ্য ভালবাসার সম্পর্ক না বলে বলা ভাল জৈবিকতার চুক্তি) তৈরী হবার পরে কখনো কখনো মেয়েটি তার বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্রকে বা কখনো নিজের ইচ্ছেতেই ধনী বা আপাত অধিকতর সম্পদশালী বা যোগ্যতর পাত্রের সাথে বিয়ে করতে বয়ফ্রেন্ডকে ছেড়ে যায়। এমন ঘটনাও আকছাড় ঘটছে।

এখন প্রশ্ন হল, এরকম কেসে প্রতারক পুরুষের সাথে যে আচরন করা হয় (মামলা, মিডিয়া ট্রায়াল, সোস্যাল ব্লেম) সেই একই চোখে মেয়েটিকে দেখা হয় কি? আমি তো আজ পর্যন্ত কোনো মিডিয়াতে একটাও এমন খবর দেখিনি যে, মেয়েটি বয়ফ্রেন্ড’র সাথে সবরকম সম্পর্কে জড়ানোর পরে, দু’চার বছর প্রেম করে অতঃপর ধনী পুরুষের গলায় ঝুলে পড়ার পরে তার ব্যাপারে এমন নিউজ কোথাও হয়েছে। নাকি বলবেন, মেয়েরা ছেলেকে ছ্যাকা দিয়ে যাবার ঘটনা বাংলাদেশে কখনোই ঘটে না। শুধু ছেলেরাই এমন করে। দয়া করে ফালতু মন্তব্য বা ফাজলামো করবেন না। যদি কোনো যুক্তি থাকে সেটাই দিন।

কিছু চরিত্র আছে যারা নারী-পুরুষের চিরায়ত অধিকারের দন্দ্ব, ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি রুপ, পুরুষবাদীতা বা নারীবাদিতা নিয়ে খোঁচা দিয়ে একরকম বিকৃত আনন্দ উপভোগ করেন। এটা তারই একটা। যারা এই পোষ্টে লাইক দিতে চান তারা ভাবুন-কিসে লাইক করলেন? আমার কথাটাকে নাকি পোষ্ট এর বক্তব্যকে?

নারী, মহিলা, স্ত্রী, বিয়ে, সংসার, গার্লফ্রেন্ড-এসব নিয়ে যারা অনেক কষ্টে ভোগেন বা যারা নারীকে সবসময় বাতিলের খাতায় রাখতে পছন্দ করেন তারা ভ্যাটিকান গিয়ে থাকলেই তো ভাল হয়। জানেন কিনা?

ক.

বঙ্গদেশের বিশাল সংখ্যক পুরুষ বিশেষত স্বামীরা এখনও মনে করেন, ’ঘরের বউ থাকবে বউয়ের মতোন। তার বেশি বোঝা দরকার নাই। ’

খ.

বঙ্গদেশের আপামর জনগোষ্ঠী এখনও একজন পুরুষ বা নারীর একাধিক বিয়ে হলেই মনে করেন, ’ব্যাটা/বেটিরই দোষ আছে।’

গ.

বঙ্গদেশের মা ও বাবারা আজও বিশ্বাস করেন, ’স্বামী যত খারাপই হোক, তাকে নিয়েই সংসার করতে হবে।’ ঘ. বঙ্গদেশের আপামর জাগ্রত জনতা মনে করেন, ’কারও ব্যক্তিগত কর্মচারী যদি ঘন ঘন চেঞ্জ হয়, তাহলে ওই লোকেরই সমস্যা।’

#greedofmarriage #fraudinlove #fraudaffair #rape #physicalassoult #feminism #violenceagainstwomen ##judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *