এক;
বাঙালীদের মধ্যে প্রদর্শন রোগের প্রবল তাড়না আগে থেকেই ছিল। ফেসবুক আর স্মার্ট মোবাইল আসার পর সেটাতে মনে হয় বিষ্ফোরন হয়েছে। প্রদর্শন ইচ্ছার একটা অশ্লীল পন্থার নাম হল “এক্সিবিশনিজম” যেখানে নিজের পৌরুষ জাহিরের জন্য মানুষ সর্বোচ্চ ঘৃণিত একটি কাজ করে।তো, বাঙালীর এই নিজেকে জাহিরের, প্রচারের চেষ্টা নিয়ে আমার বন্ধু বাবু’র একটা গল্প মনে পড়ল। এক লোক অফিসে কিছুতেই নিজের নাম ফুটাতে না পেরে শেষে একদিন বাজার হতে ১ লাখ টাকা দিয়ে ২টি জাঙিয়া কিনলেন। পরের দিন অফিসে যাবার সময় তার মনে তো ব্যাপক আনন্দ। আজ সবাইকে তাক লাগিয়ে দেবেন। তো সবাইকে ৫০ হাজার টাকার জাঙিয়া দেখাতে তো হবে। তাই প্যান্টের জিপার না লাগিয়ে এলেন। অফিসে ঢুকবার সময় রিসেপশনের থাকা লোকেরা তার দিকে বিষ্ফোরিত চোখে তাকাতে লাগলেন। তিনি ভাবলেন নিশ্চই তার ৫০ হাজার টাকা দামের জাঙিয়া দেখে এই প্রতিক্রিয়া। রিসেপশনিষ্টকে ডেকে বললেন, “যা দেখছেন এটাই সব না। বাসায় আরো একটা আছে। রিসেপশনিষ্ট এবার ভিড়মি খাবার দশা। সে বলল, সত্যি স্যার আরেক পিস আছে? দেখুনতো ভাল করে।” লোকটা নিচে তাকিয়ে দেখে প্রদর্শনের উদগ্র লোভ আর এক্সাইটমেন্টের ধাক্কায় তিনি জাঙিয়াটা না পড়েই চলে এসেছেন আর প্যান্টের জিপারও খোলা। বাকিটা বুঝে নিন……………বাসায় আরো একটা নাকি ছিল।
দুই;
এই দেশটাতে বাঙলা নতুন বছরেও উত্তেজনা, ইঙরেজি নিউ ইয়ারেও উত্তেজনায় লাফালাফি আবার সপ্তাহখানিক পরেই ধর্মীয় বিশ্ব ইজতেমাতেও উত্তেজনা। মনে হয় বাঙালী এখনো ঠিক করে উঠতে পারেনি, সে কী করতে চায়? কিসে তার প্রকৃত উত্তেজনা, কিসে তার প্রশমন। বাঙালীর সামাজিক উৎসব আগে ছিল কয়েকটা-ঈদ, কোরবানী, পহেলা বৈশাখ, চৈত্র সংক্রান্তী, বসন্ত বরন ইত্যাদি। বিয়ে শাদি হয়ে যেত চট করে। তার পরিবর্তে আজকের বাংলাদেশে টাকার প্রদর্শনের কত আয়োজন! কত আড়ম্বর, কত গর্বিত প্রদর্শন-এংগেজমেন্ট, মেহেন্দী, হলুদ, ব্রাইডাল শাওয়ার, ফিরানী। খোদা নাখাস্তা! অচীরেই হয়তো আরো কিছু যোগ হবে এই অপচয়ের বহরে: বালেগ হবার অনুষ্ঠান, বালেগা হবার অনুষ্ঠান, বাসর রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা অনুষ্ঠান, তালাকের সেলিব্রেশন অনুষ্ঠান, সন্তানের প্রথম নাইট আউটের অনুষ্ঠান, কুমারত্ব বা কুমারিত্ব বিসর্জনের অনুষ্ঠান, প্রথম ড্রাগ নেবার অনুষ্ঠান, বাবা-মাকে প্রথম ছ্যাকা দেবার অনুষ্ঠান, প্রথম প্রতারনা করার অনুষ্ঠান ইত্যাদি ইত্যাদি। আজকালকার সেলফি যুগে কোনো কাজ করা বা কোনো কিছু কেনার কাজটা আর আমরা নিজের আনন্দের জন্য করি না বা কিনি না। করি অন্যকে সেটা দেখিয়ে দেখানোর মজা তাড়িয়ে তাড়িয়ে ভোগ করতে। সামান্য তেজপাতা কিনলাম অথবা কোনো ভিক্ষুককে কচটেপে জোড়া দেয়া দুটাকা দিলাম-ব্যাস কতক্ষণে সেটা পিক তুলে ফেবুতে দেব তার অপেক্ষা।
৫টি খুব মনে রাখার মতো চেকইন স্ট্যাটাস বলি, তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন:
ক.চেকড ইন টু গুলিস্তান আন্ডারপাস পাবলিক টয়লেট। ফিলিং রিলিভড বাট বদনা কই?
খ.চেক্ড ইন টু কান্দুপট্টির গলি। ফিলিং উড়ু উড়ু। এত রঙিন দুনিয়া।
গ.চেক্ড ইন টু তিন নম্বার জিএফ এর বাসা। ফিলিং গিল্টি গিল্টি।
ঘ.চেক্ড ইন টু কারওয়ান বাজার সবজির আড়ত। ফিলিং ক্ষ্যাত ক্ষ্যাত।
ঙ.চেক্ড ইন টু এক টিকিটে দুই মুভি। ওহ! হোয়াট এ থ্রিল।
কী মনে হয় উপরের ৫টা কোথাও দিতে দেখেননি? কেন? প্রতিদিন যে চেকইনগুলো দেখেন সেগুলো এর চেয়ে খুব কি উঁচু তবকার?
যেই চেক্ইন কেউ দেয় না:
ক.চেক্ড ইন টু আম্মুর ঘর বহুদিন পর। ফিলিং-ভিজে ওঠা চোখ।
খ.চেক্ড ইন টু মসজিদ, ফিলিং-সৃষ্টিকর্তা মহান।
গ.চেক্ড ইন টু বাজার উইথ বাবা, ফিলিং-বাবা আর কত করবে?
ঘ.চেক্ড ইন টু শহীদ মিনার অন ২১ ফেব্রূয়ারী, ফিলিং-শ্রদ্ধা।
ঙ.চেক্ড ইন টু সোনামণি নিবাস, ফিলিং-অপরাধি এ্যাজ এ ম্যানকাইন্ড।
তিন;
একজন মহান ব্যক্তিত্ব ও জাতীয় পর্যায়ের কর্পোরেট নেতাকে প্রায়ই দেখি, ওনার দেশ ও জাতির বৃহত্তর কল্যাণার্থে বিদেশ গমনের খবর ফেবুতে প্রদর্শন করতে। উনাকে মাসের ২৯ দিনই দেখি দেশ উদ্ধারের নামে উনি বিভিন্ন কনফারেন্সে, সেমিনারে বিলাত যাচ্ছেন। তাহলে উনি চাকরীটা কখন করেন? ওনার কোম্পানী কি উনাকে বিদেশ গমনের জন্য রেখেছেন? যান জনাব, আপনারা বিদেশ যান, পেলেনে চড়েন, চেকইন করতে থাকেন। আমরা আপনাদের দেখে ধন্য হতেই থাকি। আচ্ছা, পৃথিবীর আর কোন কোন দেশের মানুষ কোনো বড় সেমিনার, ওয়ার্কশপ, কনফারেন্স এ্যাটেন্ড করলে মাসখানেক আগে থেকে অনুষ্ঠানের দিন পর্যন্ত ঘটা করে সেটা ফেসবুকে ঘন্টায় ঘন্টায় আপ করতে থাকে? জাতিসংঘের অধিবেশনের তো প্রশ্নই ওঠেনা। কিছু “এককালের বন্ধু”কে দেখতে পাই। বেশ পুরুষ মানুষ হয়েছে। পুরুষের মতো পুরূষ হয়েছে। পুরূষালী পুরূষ হয়েছে। দশজনের একজন হয়েছে। সমাজের একজন হয়েছে। আদর্শ সংসারী হয়েছে। বেটা মানুষ হয়েছে উপযুক্ত হয়েছে। ভাল ভাল। কিছু অতিপুরূষ ছোটভাই (মোষ্ট জুনিয়র), মেঝ ভাই (মেট) আর বড়ভাই (সিনিয়র) জীবনে খুব দ্রুত সময়ে ঢাকাইয়া ফ্ল্যাট, একটুকরো মাটি (প্লট), সেলফী নেয়ার মতো বউ, গন্ডাখানেক আন্ডাবাচ্চা, চোস্ত চাকরী, বিজনেস শেয়ার, বিদেশ ভ্রমন (অর্ধেক দুনিয়া), বিশিষ্ট সমাজসেবী তকমা-সব লক্ষ্য পূরন করে ফেলেছেন অর্ধেক জীবনের মধ্যেই। বাকি জীবন আপনারা কী নিয়ে কাটাবেন? সবতো পূরণ হয়েই গেছে। আরতো লক্ষ্য বাকি নেই।
চার;
মাঝমধ্যেই কিছু বিজ্ঞ লোকজনকে দেখি বড় বা বিখ্যাত লোকদের সাথে ছবি তুলে পোষ্ট দিয়ে থাকেন। ক্যাপশানে লেখেন, “অমুকের সাথে আমি”, “তমুকের সাথে আমি”, “………ভাইয়ের সাথে”, “………. আপুর সাথে আমি”। এই ছবি ও ক্যাপশান দিয়ে তারা কি বলতে চান? তিনি নিজে একজন বিখ্যাত কেউ? যে জন্য বিখ্যাত লোকেরা তার সাথে ছবি তুলেছেন? নাকি তিনি কোনো বিখ্যাত লোকের সাথে ছবি তোলার বিরল সুযোগ পেয়েছেন সেটা বোঝাতে চাচ্ছেন? আর বিখ্যাত লোকের সাথে আপনার তোলা একটা ছবি আছে-এটাতে আপনার ক্রেডিটটা কোথায়? আপনার গৌরব বৃদ্ধিটা কোথায়? নাকি হ্যংলার মতো “আপনার সাথে একটা ছবি তুলি?”-বলে নিজের ইনফেরিয়র ফিলিংটা আরো প্রকট করা হয়? কেউ কেউ আবার বলেন এটা অটোগ্রাফের আধুনিক রূপ। ওকে, তাহলে সবকিছুরই কি আধুনিকীকরন হবে ভবিষ্যতে? যেমন ধরেন বাথরুম করে ডানহাত দিয়ে শৌচকার্য করবেন আর বলবেন-এটা ফ্যাশনের আধুনিক রূপ।
পাঁচ;
একবার ইলিশের মৌসুমে রাত করে মিরপুর ১ নম্বর বাজারে অফিস ফেরত নামলাম কিঞ্চিত জরুরি বটিকা কিনব বলে। ওমা! সারা বাজারে রাশি রাশি পুরুষ। সবার ভীড় মাছ বাজারে। মাছের সব দোকানদার সব ইলিশের কারবারি। তুচ্ছাতিতুচ্ছ রুই, ট্যাংরার মতো নমো শুদ্র মাছ কেউ আর বেঁচছেন না। আমার মনে হল গোটা মিরপুরের সব “আসল পুরুষ মানুষ” ইলিশের হিস্যা নিতে বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। দোকানিরাও আসল পুরুষদের খায়খাতিরে ব্যস্ত। পানির দরে ইলিশ যাচ্ছে-এই লুব্ধক সংবাদে পুরুষেরা দলে দলে অফিস ফেরত বাজারে হাজিরা দিচ্ছেন। চলমান ইলিশ ক্রেইজে নিজের নাম না লেখালে তো স্ট্যাটাস থাকে না।স্মার্টফোন আর সস্তায় ইন্টারনেট এবং ফেসবুক আর কি কি উপকার বা অপকার করেছে জানি না, এক্সপোজার, শো আপ, স্ট্যাটাসবাজি আর প্রতিষ্ঠার খেলো ও নগ্ন প্রতিযোগিতার দগদগে ঘাঁ বাঙালি সমাজে পচন ভালই ধরিয়েছে। আমার এক চাচা গেছেন তাবলীগের জামাতে। কাকরাইল মসজিদে জামাতের সদস্যদের নাম এন্ট্রি করা চলছে। নাম বলার সময় একজন সুশ্রুমন্ডিত লোক বারবার বলছেন, আমার নাম ”হাজী” জব্বার আলী”, ”হাজী…..জব্বার আলী”। লেখক লিখলেন “হাজী জব্বার আলী”। তিনি আবার বললেন, বাবাজী ”হাজী লিখেছেন তো? ”হাজী” জব্বার হবে। লেখক তাকে নিশ্চিৎ করলেন যে তার নাম ”হাজী” জব্বারই লেখা হয়েছে। এবার আমার চাচার পালা। লেখক জিজ্ঞেস করলেন, “চাচা, আপনার নাম কী?” আমার চাচার উত্তর, “আমার নাম হাজী নামাজী যাকাতী রোজাদার ঈমান আলী”। লেখকসহ বাকিরা টাসকী খাবার যোগাড়। চাচা এইটা আবার কেমন পদবী? ”কেন? উনি শুধূ হজ্জ করছেন তাই তার পদবি হাজী তাহলে আমি নামাজ পড়ি, হজ্জ করেছি, যাকাত দেই, রোজা রাখি, ঈমানও আছে তাহলে আমার নামের আগে এগুলো রাখলে অসুবিধা কী?”-আমার চাচার সরল উত্তর।নাম আর পদবী নিয়ে বড়াই না করলেই কি নয়? মাঝে মাঝে কিছু ফেসবুক নেম দেখি:-‘DC Mofiz’, UNO কালাম, কর কমিশনার জব্বার, কুদদুস: ভুড়ুঙ্গামাড়ির মেম্বার ইত্যাদি। নিজেদের পজিসন জাহির করার চিকনা বুদ্ধি। নাম কামানোর ইচ্ছা থাকলে ফিল্মী লাইনে যান। ধর্মের রাস্তায় কেন? পজিশন দেখাইতে চাইলে ঘটক বাড়ি যান ভাল পাত্রির কাছে চড়া দামে বিক্রী হবেন, যৌতুকটাও ভাল পাবেন, ফেসবুকে কেন? বাপ-মা আকিকা করে যে খানদানী নাম রেখেছেন, তার আগে পরে সুদীর্ঘ টাইটেল লাগানোর সংস্কৃতি কবে হতে শুরু হয়েছে-কারো জানা আছে? নামের আগে বা পরে গালভারী প্রফেশনাল, একাডেমিক, ব্যক্তিগত বা বংশগত টাইটেল লাগানোর কাজটা আগে চুপেচাপে দুইচারজনে সীমিত ছিল। সেটাতে বোধহয় একটা বিস্ফোরণ হয়েছে। এই তালিকায় নিত্য নতুন অলংকার যোগ হচ্ছে। চিন্তা করছি, দেশের সব লোক যদি এই ধান্দা শুরু করে, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে আমরা-ড. আব্বাস কিংবা ইঞ্জিঃ গাবগাছ এর মতো করে, চাষী মতিন,রিক্সাওলা সেন্টূ,বিএ ফেল মফিজ,আক্কাস আলি বাজনদার,স্যাকরা মদন,এস.এস.সি করিম, কলিম পি.এস.সি,সলিম জে.এস.সি,পাজি সেলিম, আতর আলি এম.বি.এ,ব্ল্যাকার কুদ্দুচ—-এমন কত কিছু যে দেখতে চলেছি। এমনিতে কালা জাহাঙ্গীর আর টিকটক হৃদয় তো বিখ্যাত হয়েই আছে। কেউ যদি নামের আগে হাজি আর ব্যরিষ্টার লিখতে পারে, তাহলে আরেকজন এইট পাশ কেন লিখতে পারবে না মাইনর মতিন? ঠিক আছে, গণতান্ত্রিক দেশে আপনি যা খুশি তা করতেই পারেন। নামতো কোনো ব্যাপারই না। নাম দিতে আর পাল্টাইতে কতক্ষণ? কোনোদিন এমন না হয় আপনি লন্ডন, নিউইয়র্ক হতে যাত্রা শুরু করলেন ঢাকার প্লেনে। টিকিটে লেখা ”……. ই..ন্টার…..ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নাম। ফ্লাই করে মাঝপথে যখন পৌছলেন তখন নাম চেঞ্জ হয়ে গেল এয়ারপোর্টের…….. এখন ঢাকার এয়ার ট্রাফিক প্লেনকে নামতে দিবে না কারণ এটা তো ……. এয়ারপোর্টের নামে বুক করা, …….. নামে তো পারমিশন নেই। পাইলট কয় সময় নাই আজকে নামতে হবেই, বিকালে যে তার গায়ে হলুদ খায়রুন বিবির সাথে, ব্যাস সে প্লেন ছেড়ে প্যারাশুট নিয়ে লাফ দিল আপনাদের (আকাশ)পথে বসিয়ে। অথবা প্লেনে উঠলেন, যাত্রা শুরু হল। যখন বাংলাদেশের আকাশ সীমায় ঢুকল তখন টিকিট চেকার আসল টিকিট চেক করতে। টিকিট দেখে তো আপনাকে মহাধমক, “এই মিয়া, আপনের তো …….. এয়ারপোর্টে যাবার টিকিট, এই প্লেনতো সেখানে যাবে না, এটা ……… এয়ারপোর্টের প্লেন। নামেন নামেন এইখানে নাইম্মা যান।” বোঝেন, নামের কি ঠেলা? আমি জানি এই অধমের কথায় দেশে কোনো মারাত্মক পরিবর্তন আসবে না। তাই আমি নিজেই আপনাদের দলে যোগ দিলাম। আপনারা পারলে আমিওতো পারি। আজ না, এখন এই মুহুর্ত হতে আমি গার্মেন্টস কর্মী ওয়ালিদ, আমি গোসল করা ওয়ালিদ, আমি বাজার করা ওয়ালিদ, আমি ফেসবুকিয়ান ওয়ালিদ, আমি ব্লগার ওয়ালিদ, আমি স্বামী ওয়ালিদ, আমি ঝাড়ুদার ওয়ালিদ, আমি সংসারি ওয়ালিদ, আমি………………………………………………………….. (যাবতীয় সম্ভাব্য পদবী টু দি পাওয়ার ফোর) ওয়ালিদ।
ছয়;
একটা ২ কেজি ওজনের মুরগী যখন ২০০ গ্রাম ওজনের একটা জড়ভরত ডিম দেয় তখন কক কক কক কক করে সারা দুনিয়াকে জানান দিতে চায় তার কীর্তিখানি। অথচ একটা ৩ মণ ওজনের গরু যখন এতবড় একটা জলজ্যান্ত বাচ্চাকে জন্মদান তরে তখন আগে যাও একটু হাম্বা হাম্বা করত, বাচ্চা দিয়ে তার চেয়েও চুপ মেরে যায়। মনে রাখবেন খালি কলসি সাউন্ড করে বেশি।মসজিদে কি লেখা থাকে এখানে নামাজ পড়া হয়? আমি কাজ করলে আমাকে ঢোল বাজাতে হবে না, আমার কাষ্টমারই বাজাবে। আমার দেখা ট্যালেন্টেড মানুষদের মধ্যে অলরাউন্ডার ট্যালেন্ট একটা ছেলেকে দেখে একটা আক্ষেপ বাড়ে। আক্ষেপটা হল সেল্ফ ব্র্রান্ডিং এর অক্ষমতা। ওই যে, ছোটবেলায় আমাদের একটা প্রবাদ বলা হত, ”নিজের ঢোল নিজে পেটানো”। ওটাই আজকাল চোস্ত লোকেরা বলে সেল্ফ ব্র্যান্ডিং । সেই বদ কাজই আজকের বাংলাদেশে এসে এক অমোঘ বাস্তবতা ও অতি জরুরী যোগ্যতা হয়ে দাড়িয়েছে। ছেলেটা এত ট্যালেন্ট নিয়ে পড়ে আছে তলায়। বন্ধু বান্ধবরা আসমান ছোঁয়ার জোগাড় ক্যারিয়ারে। অথচ তাদের চেয়ে হাজার গুন যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়া স্বত্বেও ওই সিঁড়িতে উঠতে পারছে না। কারন একটাই-সেল্ফ ব্র্যান্ডিং করতে শেখেনি। ভদ্র হবার অনেক জ্বালা। একই রকম বেশ ক’জনকে দেখছি। দেখছি আর হা-পিত্যেষ করছি। এককালে যেটাকে বলা হত লবিং, সেটাই আজকের লিংকিং। লবিং/লিংকীং যাই বলি ওটা পারি না। পারি না সেল্ফ ব্র্যান্ডিং । একই রোগের রোগী নিজেও। ওই যে, নিজের ঢোল নিজে পেটাতে শিখিনি কিংবা বাবা-মা শেখাননি। তাই ঢোল পেটাতে পারি না। নিজের যোগ্যতা বলতে যৎসামান্য। সেটাকেও আজকাল মার্কেটিং আর ব্র্যান্ডিং না করালে কপাল হতে ভাত উঠে যাবার যোগাড় দেখছি। আক্রাড় বাজারে টিকে থাকতে শেষে কি ওটাও করতে হবে? চতুর্পাশের প্রচুর সেল্ফ ব্র্যান্ডিং আর ঢোল পেটানোতে রীতিমতো স্কেয়ার্ড হচ্ছি। মনে হচ্ছে আমার দিন শেষ। এত এত বিদ্যান ও গুনীদের তীব্র মার্কেটিং এর সামনে টিকতে পারব বলে মনে হয় না। ভাবছি, এইসব এইচআর, ক্যারিয়ার, নাগরিক ইঁদুর দৌড় বাদ দিয়ে গ্রামে চলে যাব। আমি চাষার ছেলে। ওটাই বোধহয় আমাকে ভাল মানাবে। নিজের শৌর্যবীর্য, ধনসম্পদ, পজিশন মানুষকে দেখানোর বাসনা একটি রোগ। নিজের ট্রিটমেন্ট করুন।
#generationZ #GenZ #craze #bangali #showoffatitsbest #exhibitionism #TRPaholic #fameseeker #attentionseeker #selfy #hypocrisy #hypocritenation #haji #personality #masculinism #purush #status #facebookmania #facebookhype #facebookdestruction #facebooktrend #socialmediadomination #socialmediamanipulation #socialmediadestruction #socialmediahype #socialmediaaholic #socialmediatrial #moralpolicing #selfbranding #selfpromotion #selfmarketing #personalbranding #talent #lobbying #linking