আমার ৪/৫ জন সুহৃদ বিভিন্ন সময়ে আমাকে ঠাট্টা করে বলেছেন, “তুমি এত কূল কী করে?” হা হা হা। আমি কূল টূল না। আমি হলাম আমি। গোস্বা, বিসম্বাদ আমারও হয়। রাগে চুল ছেড়ার মতো মেজাজ আমারও হয়। তবু যেটা করি সেটা হল, সবকিছুর লজিক ও ব্যাকগ্রাউন্ড বোঝার চেষ্টা করি সবার আগে। মুহূর্তে বিষ্ফোরিত হবার সদগুন হয়তো সুপুরুষ বা মহাপুরুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে পারে, তবে আমি ধীরস্থিরতা ও লজিক্যাল রিএ্যাকশনের মধ্য দিয়ে ’মানুষ’ হবার চেষ্টাটাকে বেশি ভাল মনে করি। তো এই ফিলসফির একটা ব্যাকগ্রাইন্ড আছে। শুনবেন?
ছোটবেলায় আমার বাবার বিদ্যুতের পাওয়ার স্টেশনে টেকনিক্যাল চাকরীর সুবাদে আমরা পাওয়ার স্টেশনে থাকতাম। বৈদ্যুতিক মেশিন ঠিক করবার সময় ডিভাইসগুলো মুছবার জন্য বাবার কাছে টেক্সটাইল/স্পীনিং এর ঝুট সূতা আসত যেটাতে সূতা তালগোল পাঁকিয়ে থাকত। আমার আম্মা মাঝে মাঝে ওই তালগোল পাঁকানো সূতার গোছা নিয়ে সেগুলো হতে খুব ধৈর্য সহকারে পুরোটা সূতা ধীরে ধীরে বের করে লাট্টু পাকাতেন। কাজটা খুব ধৈর্য্যের ও সময়ের। এমন করে বের করতেন পুরোটা সূতো। পরে ওই সূতো দিয়ে তিনি কাঁথা সেলাই করতেন, চটের সৌখিন দ্রব্য বানাতেন।
তাকে ওই কাজে অনেকদিন সহযোগীতা করতাম আমি। তাড়াহুড়া করার কোনো সুযোগ ছিল না কাজটাতে। দীর্ঘ সময় নিয়ে একটু একটু করে সূতার প্যাঁচ ছাড়িয়ে সূতা বের করা ছিল আমার পছন্দের কাজ। ওই কাজ করতে গিয়ে হয়তো মাথা ঠান্ডা রাখা বা লজিকে থাকার খাসলতটা কিছুটা হাসিল হয়েছিল। কারো সাথে প্যাঁচ না কষা আর কারো মাঝের প্যাঁচ খুলতে পারার কাবেলিয়াত হয়তো তখন থেকেই রপ্ত হয়ে থাকবে।
#angercontrol #angermanagement #patience #logic #rational #cool