Skip to content

পুরুষের পৌরুষত্ব’র পুরস্কার

  • by

’আসল!পুরূষ’ মানুষের কিছু লক্ষন দিয়ে শুরু করি।’আসল!পুরূষ’ দেশি মুরগীর বাচ্চা নিয়ে অফিস হতে বাসায় ফেরে। ”আসল!পুরূষ” সকালে উঠে তাজা গোসত কিনতে মাংসের দোকানে যেতে পারে। ”আসল!পুরূষ” লেবু আর কাচামরিচ ছাড়া রাতের ভাত খায় না। ”আসল!পুরূষ” রাস্তার পাশে টং দোকানে চা খায় না। ”আসল!পুরূষ” লুঙ্গি পড়ে। ”আসল!পুরূষ” ব্লেজার পড়ে নীলগিড়ি পাহাড়ে যায়। ”আসল!পুরূষ” ড্রেস প্যান্ট পড়ে শার্ট ইন করে (শীত গরম যাই হোক)। ”আসল!পুরূষ” নোকিয়া ছাড়া মোবাইল ব্যবহার করে না। ”আসল!পুরূষ” বলাকা ব্লেডে দাড়ি কাটে। ”আসল!পুরূষ” এ্যাক্স সিগনেচার ও ওল্ডস্পাইস ছাড়া মাখে না।

”আসল!পুরূষ” ক্রোকোডাইলের ছাড়া কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করে না। ”আসল!পুরূষ” নিয়ম করে সংবাদপত্র পড়ে। ”আসল!পুরূষ” বাসে ওঠে না। ”আসল!পুরূষ” স্ত্রীকে তার বেতনের পরিমান বলে না। ”আসল!পুরূষ” স্ত্রীকে নিয়ে ফাল্গুনে বেড়ায় না। ”আসল!পুরূষ” পকেটে রুমাল রাখে ভাজ করে। ”আসল!পুরূষ” পকেটে চিরুনী রাখে। ”আসল!পুরূষ” সিথী করে চুল আচড়ায়। ”আসল!পুরূষ” ক্রোকোডাইলের ছাড়া কোনো প্রোডাক্ট ব্যবহার করে না। ”আসল!পুরূষ” রিক্সাভাড়া ঠিক করে রিক্সায় চড়ে না। ”আসল!পুরূষ” মাছের কানকো দেখে আসল মাছ চিনতে পারে। ”আসল!পুরূষ” রাকস্যাক বহন করেনা, তারা এক্সিকিউটিভ ব্যাগ নিয়ে অফিস যায়। ”আসল!পুরূষ” বাজারের ব্যাগ নিজ হাতে নেয় না, মিন্তিকে দিয়ে বওয়ায়। ”আসল!পুরূষ” সুলতান সুলেমান দেখে না। ”আসল!পুরূষ” পুরুষত্ব ছাড়া কিছু চায় না।

একজন নারীর মন নাকি দেবতারাও বোঝেন না। পুরুষের মন? সেটা কি তারা বোঝেন? না। আসলে, সত্যিটা হল, নারীরটা তারা বোঝেন না। আর, পুরুষের মনটাকে বোঝার চেষ্টাও তারা করেন না। আর মানুষ হয়ে পুরুষের মন বোঝার চেষ্টার প্রশ্নই ওঠে না। একজন পুরুষের মনের খবর, মনের আবহাওয়া কেউ বোঝার দরকারই মনে করে না। পুরুষকে সবাই সফল দেখে। দেখে না, সেই সফলতা অর্জনের জন্য তার কতটা হারাতে হয়েছে। পুরুষকে সবাই গর্বিত দেখে। দেখে না, সেই গর্বটা অর্জন করতে তাকে কতবার অপদস্ত হতে হয়েছে। পুরুষকে সবাই সাহসী দেখে। দেখে না, সেই আত্মবিশ্বাসটা অর্জন করতে তাকে কতবার হারতে হয়েছে।  পুরুষকে সবাই সামনে হতে জয়ী দেখে। দেখে না, জয় ছিনিয়ে আনতে তাকে চোখের অগোচরে কতবার জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে হয়েছে। পুরুষকে সবাই ধনী দেখে। দেখে না, সেই ধন তার কত ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে অর্জন করে নিতে হয়েছে।  পুরুষের মধ্যে সবাই আশ্রয় খোঁজে, পুরুষের মধ্যে ভরসা পায়। কেউ দেখে না, সেই পুরুষও কখনো কখনো আশ্রয় খোঁজে, ভরসা করার মতো কাউকে খোঁজে। সেই পুরুষেরও ভয় হয়, পুরুষও ভয় পায়।

সেই ছোটবেলায় রাত ঘুমের মধ্যে ভয় পাওয়ার মতোই। কেউ জানে না, কেউ বুঝতে চায় না, পুরুষও ভয় পেয়ে সাহস দেবার মতো কাউকে চায়। পুরুষকে সবাই শক্ত দেখে। পুরুষকে দৃঢ় থাকতে দেখে। পুরুষকে সবার জন্য আড়াল হয়ে, ঢাল হয়ে দাড়াতে দেখে। অথচ, কেউ কখনো দেখার দরকার মনে করে না, যে, পুরুষেরও মন খারাপ হয়, পুরুষের আড়াল দরকার হয়, সে ও মনে মনে কখনো অন্তত কাউকে ঢাল হয়ে দাড়াবার আকুতি মনে মনে ধারন করে। সামনে হতে সবাইই পুরুষকে ’পুরুষ’ হিসেবে দেখে। কেউ দেখে না, কেউ দেখার চেষ্টা করে না, কেউ দেখার দরকারও মনে করে না, পুরুষও দুঃখে, শোকে, চাপে, তাপে, আবেগে ভেতরে ভেতরে ভাঙে, ভেতরে ভেতরে পোড়ে।

লেখার সাথে যুক্ত ভিডিও ক্লিপটি মি. অঙ্কুশ ও মিজ ঐন্দ্রিলার ‘ম্যাজিক’ সিনেমার। [2:16 minute https://youtu.be/ZnFHNao3Ljc?t=139] এই অংশটুকু আমার মাথায় অবসেশনের মতো গেঁথে আছে বিগত অন্তত দেড়টা বছর। ঠিক এমনই কোনো একটা অন্ধকারাচ্ছন্ন সকালে অফিস যাবার সময়ে এক ঝলক ট্রেইলারের এই অংশটা নজরে পড়ে। সেভ করতে করতেই ভুলে যাই। কিন্তু, সে তো আমার মাথায় গেঁথে আছে। কিছু হারালে বা কিছু ভুলে গেলে বা কিছু খুঁজতে শুরু করলে আমার প্রায় মাথা খারাপের মতো হয়ে যায়। সফল না হওয়া তক নাওয়া খাওয়া রোচে না। অনেকের সাহায্য নিলাম। তবে সফল হলাম না।

খুব অদ্ভুৎভাবে, গতকাল রাত ১১ টা, বারান্দায় অন্ধকারে বিপুল বিক্রমে চলা ঝড়ো বাতাসে গিয়ে দাড়ালাম। স্ক্রল করতে গিয়ে হঠাৎই মুভিটা পেলাম। সাথে সাথে সেভ। সকালে কেটে নিয়েছি আমার অবসেশনকে। মুক্তি।

ঠিক এই দৃশ্যটি আমাকে ঠিক কী পরিমাণ অবসেজড করে রেখেছে, কী যে ভয়ানক পছন্দ এই দৃশ্যটা, তা বলবার নয়।

তবে এটি খুঁজে পাবার মধ্য দিয়ে তিনটা জিনিস আবারও উপলব্ধি করলাম-

১. তোমার যুদ্ধটা আসলে তোমাকেই লড়তে হবে।

২. যা হবার, তা সময়ের আগে হবে না।

৩. কোনো কিছু খুঁজবার কাজে আমি এখনও *লাশার মতোই আছি।

আমার আরো অনেক কাজের মতোই, এই দৃশ্যের সংযোজনের সাথে পরের অংশের সংশ্লেষ পেতেও পারেন, না ও পারেন।

গতকাল জনাব রাফসানের লেখা “পুরুষ মানুষ তার আয়ের কত শতাংশ নিজের পেছনে ব্যয় করতে পারে?”-পড়বার পরে ভাবনাটার জন্ম আর তখনই লিখতে চেয়েছিলাম। লিখিনি। নিরস্ত থেকেছি। কিন্তু আজ জনাব কিবরিয়ার “পুরুষের LONE WOOLF জীবন” নিয়ে পড়বার পরে লিখেই ফেললাম।

এই যে, আপনারা গণহারে, বিপুল উৎসাহে ও শক্তি নিয়ে বলেই যান, বলেই যান, পুরুষ পরিবারের বিষয়ে উদাসীন, পুরুষ পরিবারকে সময় দেয় না, সে বাইরে বাইরে থাকে, সে তার কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না, সে পরিবারের খেয়াল রাখে না, সে অফিস আর ব্যবসা নিয়েই থাকে, পুরুষ গভীর রাত তক কাজ করে, ব্যবসা, মিটিং, ’সোসাইটি’ নিয়েই পড়ে থাকে। বউ, বাচ্চা, পরিবার সব বউয়ের ওপর ফেলে সে খালি টাকার পেছনে ছোটে, বউকে সময় দেয় না, বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটায় না, আমাদের জন্য সময় নেই তার…. অফিসের পরেও হাজারটা এনগেজমেন্ট তার………….ইত্যাদি ইত্যাদি।

খুব স্বার্থপর ও একপেশে হয়ে গেল না?

কখনো ঘুনাক্ষরেও চিন্তা করে দেখেছেন, এই যে পুরুষ মুখে রক্ত তুলে দিন-রাত এক করে চাকরি, পেশা, ক্যারিয়ার আর টাকার পেছনে ছুটছে, তার কোনো দিন কামাই নেই, ২৩ বছর বয়সে শুরু করে পরবর্তি ৪০ টা বছর সে একটানা, ননস্টপ চাকরি বা ব্যবসা করে গেছে, এই মাঝের ৪০ টা বছরের প্রতিটা দিন, প্রতিটা ঘন্টা, প্রতিটা সেকেন্ড-সেটা কার জন্য? শুধুই কি নিজের জন্য?

শুধুই কি ঔদাসিন্য তার জন্য দায়ী?

রাফসান তার উত্তর পেয়েছেন কিনা জানি না। তবে পুরুষ তার আয়ের খুব সামান্য অংশই এক্সক্লুসিভলি নিজের জন্য ব্যয় করে বা করতে পারে বা করে থাকে। বাকিটা সবই বৃহত্তর পরিবারের। একটু বেশি উৎসাহি যারা, তারাতো বলেন, পুরুষ যে খায়, সেটাও নিজের চিন্তা করে খায় না।

ইন ফ্যাক্ট, পরিবার হয়ে গেলে, বাবা বা মায়ের কারোরই আর ‘ব্যক্তিগত’ বলে কিছু বেঁচে থাকে না। তাদের সবকিছুই তখন হয়ে যায় পরিবার, স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানদের জন্য।

তো, তারপরও, এই যে পুরুষ পরিবারকে সময় না দিয়ে (আসলে দিতে না পেরে) বাইরে বাইরে থাকে, অফিস, ব্যবসা, সোসাইটি, নেটওয়ার্ক, অপরচুনিটি নিয়ে দিন-রাত দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে পরিবারকে সময় দেয় না (পড়ুন দিতে পারে না), কখনো ভেবে দেখেছেন, তাদের কেমন লাগে? পরিবারের সঙ্গ মিস করতে? সন্ধ্যা তক অফিস করে তারপর আবার ঘন্টা চারেক কোথাও একটা ধান্দায় ব্যয় করতে গিয়ে বাচ্চাটার মুখটা মিস করতে, সন্ধ্যার পরে প্রেমিকা বা বউয়ের সাথে হাত ধরে রাস্তায় হাঁটা মিস করতে, বিকেলে ঘরে ফিরে বারান্দায় মায়ের সাথে বসে চা খাওয়া মিস করতে গিয়ে তার কেমন লাগে?

তার মনে কী হয়?

সে ঠিক কীভাবে পোড়ে?

তার মনটা পরিবারকে মিস করতে বাধ্য হয়ে কীভাবে আহত হতেই থাকে? আর সেই যে সন্ধ্যার মুখে ঘরের কোণটাতে সবার মিলে সময় কাটানোর আবেগটার চাপে গালার কাছে দলা পাকানো ও হারানোর কষ্ট গিলে সে কীভাবে পরের মিটিংটার দিকে ধাবমান হয়?

ভেবেছেন?

আধুনিক সভ্যতায় পরিবারে, সমাজে, মহল্লায়, রাষ্ট্রে, কর্পোরেটে আপনি মি. অমূক নন, আপনি সমূক নন, আপনি মানুষই নন। আপনি স্রেফ একটা নম্বর।

পরিবারে আপনি কতটা দায়ীত্ব পালন করেন, কত আয় করেন-সেই অনুযায়ী একটা ক্রম নম্বর আপনার আছে।

সমাজে আপনি নেহাতই একজন বাড়তি সদস্য মাত্র।

জিন্দা থাকতে আপনার মানিব্যাগ, গাড়ির মডেল ও ফ্ল্যাটের জেল্লার লেভেল নম্বরটাই আপনার নম্বর। মসজিদে কত ডোনেট করেন, আর, স্কুল কমিটির তালিকায় কত নম্বরে সিরিয়াল-সেটাই আপনার নম্বর।

মরলে আপনার নাম নেই, পরিচয় নেই, আপনি তখন-মিরপুর ২ নম্বরের, ৪ নম্বর রোডের, ৩ নম্বর বাসার, ৭ নম্বর ফ্লাটের ১ নং সদস্য তথা মাইয়েত মাত্র।

মরা মাত্র আপনি গোরখোদকের কাছে একটা নতুন কবর নম্বর।

মোল্লা সাহেবের জাব্দা খাতায় মহল্লার সবশেষ জানাজার একটা নম্বর।

ইন্টারনেট ও ডিশ প্রোভাইডারের খাতায় একটা কেটে দেয়া নম্বর।

অফিসের পাঞ্চ মেশিনে আপনি একটা ডিলিটযোগ্য নম্বর।

মহল্লার মুদী দোকানে আপনি বাকির খাতার একটা বাতিল নম্বর।

রাষ্ট্রে আপনি আদম শুমারীর তালিকায় ১৭ কোটির পরে একটা নতুন নম্বর মাত্র। হয়তো আপনার নম্বর ১৭ কোটি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার, ৯ শত নিরানব্বই। রাজনৈতিক দলের কাছে আপনি একটা ভোটার নম্বর। বেঘোরে দুর্ঘটনায় মরলে আপনি একটা লাশ নম্বর। পুড়ে কয়লা হয়ে গেলে আপনি একটা সিরিয়াল অব ম্যাটেরিয়াল নম্বর। ডি.এন.এতেও পরিচয় না মিললে বা কেউ ক্লেইম না করলে আপনি কবরখানায় একটা বেওয়ারিশ নম্বর।

একাঙ্কীকা নাটকের হিরো তথা একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের পুরুষ কর্তার একটি গড়পড়তা দিন কেমন কাটে? কোথায় ব্যয় হয় তার জীবন? আসুন দেখি একটা মজার হিসেব। ১০০ ভাগ নির্ভুলতা আশা না করা উচিৎ। অফিস ও অফিসের প্রস্তুতি/প্রত্যাবর্তন = ১৪ ঘন্টা (সকাল ৭ টা হতে রাত ৯ টা) গড় ঘুম = ৬ ঘন্টা; বাচ্চার পড়াশোনার তদারকি = ০.৫ ঘন্টা; সাপ্তাহিক ও মাসিক বাজারের ১ দিনের গড় সময় = ০.২ ঘন্টা; কাপড় ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছনতা = ০.২ ঘন্টা; বছরে কমপক্ষে ৩-৪ বার ডাক্তার ভিজিটের মাসিক তথা দৈনিক গড় = ০.০৫ ঘন্টা; বছরে কমপক্ষে ৫ টা সোস্যাল ইভেন্ট ভিজিটের মাসিক তথা দৈনিক গড় = ০.০৮ ঘন্টা; বছরে কমপক্ষে ২ বার বাচ্চার স্কুল ইভেন্টের মাসিক গড় = ০.০১ ঘন্টা; মাসে কমপক্ষে ৪ দিন জ্যামে পড়ে রাস্তায় বাড়তি সময়ের দৈনিক গড় = ০.২৫ ঘন্টা; বাসার বিভিন্ন ইউটিলিটি সংক্রান্ত কাজে দৈনিক গড় সময় = ০.০৬ ঘন্টা ; সবমিলিয়ে একটি ২৪ ঘন্টার দিনের প্রায় ২১.১৫ ঘন্টা সে হয় ঘুমে বা অন্যের পেছনে কাটায়। তার নিজের জন্য বরাদ্দ মাত্র ২.৮৫ ঘন্টা।

আমরা পুরুষরা কি তবে অন্যের জন্য জন্ম নিই? পুরুষের নিজের উন্নতি, বিনোদন, আত্ম-উন্নয়ন, উপলব্ধি এসবের জন্য কাজ করার বা ভাবার সময়টা কই?; [এই লেখাকে পুরুষবাদী অথবা নারীবিদ্বেষী অথবা সাংসারিকভাবে অশান্তিতে থাকা পুরুষ লেখকের উষ্মা ভাববার কারন নেই। এক বৈঠকে আকিকা আর কুলখানি হওয়া জরুরী না। ও হ্যা, ধূমপান অনুৎসাহিত করছি এবং ধূমপানের দৃশ্য হওয়ায় দুঃখও প্রকাশ করছি। একজন নারীকে নিয়ে কেন ব্যালেন্স করে লিখলাম না, সেই প্রশ্ন করলে আমি লাচার।]

#masculinism #knowingman #understandingaman #man #maleashuman #selflessmale #middleclasslife #nakedlife #thuglife #selfachievement #signofamale #symbolofmale #exploring #findingback #tracingback #lifeofamale #malelife #sacrificeofamale

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *