আমার জানের জান আম্মাজান। তাকে আমরা কখনো আম্মা, আম্মু, মাম্মি, মম-কোনো নামে ডাকি না। তার নাম একটাই-’মা’। বয়সে প্রায় ৭০ আমার মা এখনো চশমা লাগিয়ে সমানে বই পড়েন। তার হাতে অখন্ড অবসর। তার একটা বড় অংশ কাঁটে বই পড়ে। আমি নিজেকে খুব নেগেটিভ মূল্যায়ন করি সবসময়। মোটামুটি ব্যর্থ আর অসার এক জীবন কাটানোর পরও যে কয়েকটি ক্ষেত্রে আমি নিজেকে কিঞ্চিত মার্কস দিই সেটার একটা হল শোনা আর পড়া। আমি খুব ভাল শ্রোতা। আমার বিশ্বাস, শ্রোতাদের জন্য কোনো পুরষ্কার থাকলে আমি একটা নিশ্চই পেতাম। আপনি যদি শুনবার জন্য কাউকে খোঁজেন, আমাকে নিতে পারেন।
আর আমি পড়ি। বেশ ভাল রকমই পড়ি। পড়ার নেশা আমার মা’র কাছ থেকে পেয়েছি। অবশ্য আমার অনেক কিছুই আমার মা’র মতো। ছোটবেলায় দেখেছি, বাজার হতে আসা মালামালের কাগজের মোড়কও মা যত্ন করে খুলে পড়তেন। সেটা বইয়ের পাতা বা পত্রিকা কেটে বানানো হলে তো কথাই নেই। মা’র সেই অভ্যাস ঢুকেছে আমার মধ্যে। যেখানে যা পাই পড়ি। সেটা খাদ্য না অখাদ্য সে বিচার পরে। পড়ার মতো হবে-এমন সিগন্যাল পেলেই পড়ি।
মনে আছে, ছোটবেলায় বড় ভাইয়া, আপার উপরের ক্লাসের বই পড়ে ফেলতাম। ওরা দিত মার। বই এলোমেলো করার অপরাধে। এতক্ষণ পড়ে যদি আপনার মনে হয় লোকটা নিজের ঢোল বাজাচ্ছে, তবে ভুল ভাবছেন। এতটা শুধু পটভূমি বললাম। মূল গল্প বাকি। সেটা শুনে আপনি আমাকে ঝাড়ুপেটা করতে চাইবেন বলেই এতগুলো সুন্দর কথা বলে নিলাম।
এইরকম গোগ্রাসে পড়ার পড়েও আমি বই কিনি না। মন হতে সরল স্বীকারোক্তি করলাম, আমি বই কিনি না। নিকট অতীতেও কেনা হয়নি। কেন?
অনেকগুলো উত্তর। সবচেয়ে খেলো যে কারনটা সেটা হল-পয়সা নেই। তাহলে পড়ি কিভাবে? মুফতে। যেখানে যত মাগনা লেখা, ব্লগ, সাহিত্য পেজ আছে ওখানকার ঘেষো জমিতে হন্যে হয়ে পড়ি।
১টি বই কিনতে যে ৫০০ টাকা লাগে সেটা দিয়ে ৫০০ এমবি কিনি। সেই একই ৫০০ টাকার এমবিতে ১০ টা বই পড়ি।
হ্যা, আত্মপ্রতারনা, অন্যায়, পাইরেসি-সব অপবাদ দিতে পারেন। মেনে নিচ্ছি। যেই দেশে ৩০ দিনে ৯০ বেলার ভাতের পয়সা জোগাড় করতে হিমশিম খাই, সেদেশে বই কেনার মতো পয়সা কোথায় পাব? বলবেন, আরো আরো অপচয়, বিলাস, লাক্সারি করতে পারলে বই কেন নয়? স্যরি, ওগুলোর একটাও আমি করি না। পয়সা নেই।
#money #middleclasslife #nakedlife #thuglife #mother #buyingbook #reading #listening #audience #listener