কথায় বলে, লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায়। কথাটা উপমাসূচক হলেও এর বহুধা অর্থ আছে।
প্রগতির চর্চা বেশি হলেও একই অবস্থা হয়। আমাদের সমাজেও বোধহয় উদারনৈতিকতা ও প্রগতিশীলতার একটু বেশি চর্চার স্রোত চলছে ইদানীং। আমি আমার নিজের ক্যারিয়ারে অনেক অনেক ভুল, ত্রূটি, অব্যবস্থা, আবেগীয় সিদ্ধান্ত, অলসতার কারনে অনেক কিছু পাবার বা হবার সুযোগ পেয়েও কাজ হয়নি। আমি সবসময় চেয়েছি, আমাদের পরের প্রজন্ম যেন সেই একই ভুল না করে। তারা যেন সত্যিটা ও বাস্তবতাটা জেনে প্রস্তুত থাকে, কাজে নামে সময়মতো।
এই চিন্তা হতে আমার লেখালেখির সূত্রপাত। আমার লেখায় জ্ঞান, তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র সেই অর্থে থাকে না। কারন একটাই, আমি মোটামুটি মুর্খদের পর্যায়ে পড়ি। বড় কোন ডিগ্রী, সার্টিফিকেট নেয়া হয়নি, পিজিডি বা এমবিএ নেই। তাই একাডেমিশিয়ান বা একজন বিজ্ঞ প্রফেশনালের মতো ক্যারিয়ার অ্যাডভাইজরী কিংবা স্কীল ডেলিভারি দেয়া আমাকে দিয়ে হয় না।
আমি যেটা করি, তা হল, আমি কোন বিষয়টাকে কীভাবে দেখি, সেটাই লেখার মধ্যে দিয়ে বলি। কখনো কখনো চোখের সামনে যেসব ভুল বা অসঙ্গতি চোখে পড়ে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা বা চোখে আঙুল দিয়ে ভুলটা সামনে তুলে আনার চেষ্টা করি। কারো সমালোচনা, কারো ভুল ধরা, কাউকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা, কাউকে নিচে নামানো, কাউকে মূর্খ প্রমান করা, কাউকে অপমান করা, কারো সম্মানহানি করা, কারো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করা, নিজেকে ঠিক ও বিজ্ঞ প্রমান করা-আমার উদ্দেশ্যও না, স্বভাবও না। কারো নাম ধরে বা কারো পরিচয় প্রকাশ পায়-এমন করে কখনো কোনো কথা বলি না, লিখি না।
কারন আমার উদ্দেশ্য কারো ভুল নিয়ে মশকরা করা না, বরং ভুলটি জানিয়ে বাকিরা যাতে ভুলটি না করেন সেই ব্যবস্থা করা।কিন্তু সবসময়ই কিছু অবুঝ মানুষ বা সমালোচক থাকেন যারা প্রায়ই লেখার মূল উদ্দেশ্য না বুঝে, লেখা না পড়েই, লেখার থীম না বুঝেই অযথা ভুল অর্থ করেন, ভুল ব্যাখ্যা করেন, ভুল ধরেন, কর্কশ সমালোচনা করেন, আমার যোগ্যতা বা উদ্দেশ্য নিয়ে ভুল কথা বলেন, খোঁচা দেন, বাঁকা মন্তব্য করেন, লেখার বিষয়ের বাইরে গিয়ে আকাশ হতে আজব সব বিষয় নিয়ে কথা শুরু করেন। হয়তো বলছি, ”কী করে ফ্রেশাররা চাকরির জন্য রেডি হবে।”
মন্তব্য আসে, ”এত জ্ঞান না দিয়ে আগে চাকরি দেন। পেটে ক্ষুধা থাকলে জ্ঞান দিয়ে কী হবে?” হা হা হা।
অনেকেই সমালোচনা করেন এই বলে, ”মানুষের ভুল না ধরে তাদের সুযোগ দিন”,
“সারাক্ষন মানুষের/দেশের নেগেটিভ দিক না বলে পারলে তাদের শেখান”,
“মানুষের নিন্দা করা আপনার কাছে আশা করি না”,
“আপনি নিজেকে কী মনে করেন”,
“সবাই কি সমান হবে”,
“সব চাকরিতে অভিজ্ঞতা চান, কেন, ফ্রেশারদের সুুযোগ দিতে পারেন না?”,
“সবার মধ্যে লুক্কায়িত গুন আছে। আগে সুযোগ দিয়ে দেখুন” ইত্যাদি ইত্যাদি।
কেউ কেউ আবার এক পা এগিয়ে বলেন, “ইন্টারভিউতে ভাল করা খুব জরুরী না। চাকরি দিয়ে দেন। নিজেই শিখে নেবে।” বাহ!
বাংলাদেশে কত লিবারেল! খালি বাসার কাজের মেয়ে সামান্য শরবতে লবন বেশি দিলেই ঠা ঠা থাপ্পর। গঠনমূলক পর্যালোচনা ও পরামর্শও পাই। ভাল লাগে। কিন্তু অমন বাঁকা খোঁচা আর সংশ্লেষহীন মন্তব্য মনটা ভেঙে দেয়।
তাই আমার পাঠকদের বিনীত অনুরোধ থাকবে, দয়া করে আগে বোঝার চেষ্টা করুন, কী বলতে চেয়েছি আর কী নিয়ে কথা বলছি। আর অবশ্যই লেখকের সাথে সরাসরি পরিচয় না থাকলে তাকে কীভাবে এপ্রোচ করতে হয়-সেটি একটু মনে রাখবেন। আমি রাগান্বিত বা বিরক্ত বা আশাহত নই। আমি একটি সেল্ফ ডিসক্লেইমার দিচ্ছি মাত্র।
আরেকটি কথা। কেউ ভুল করে বা ভুল বুঝে হয়তো আমার লেখায় কোনো বাঁকা মন্তব্য বা ভুল সমালোচনা করেন। কিন্তু তার মানে এই নয়, যারা আমাকে ভালবাসেন বা ভাল জানেন বা আমার লেখাকে পছন্দ করেন, তারা সবাই মিলে ওই ব্যক্তিকে সমানে তীরের নিশানা করবেন, তাকে আক্রমন করবেন, তাকে কথা শোনাবেন, তাকে অপমানসূচক নানা কথা বলবেন।
মানছি, তিনি হয়তো ভুল বলে থাকবেন। কিন্তু তারপরও আমাদের একটি সীমারেখা মেনে চলা উচিৎ। কেউ একটা ভুল করলে, সেটার প্রতিউত্তরে আমাকেও একটা ভুল পথে তাকে মোকাবেলা করতে হবে-এমনটা ঠিক নয়। অনেকেই ভিন্নমত পোষন করতে পারেন। কেউ কেউ সেটা হয়তো সুন্দর করে বোঝাতে পারেন না। ভাল বা খারাপ কিংবা টিক বা বেঠিক-কোনোটিতেই ব্যক্তিকে তীরের লক্ষ্য বানানো উচিৎ না। তার কথার বিপক্ষে লজিক দিন কিন্তু তাকে অনর্থক আক্রমন না করি।
সবার কথার ধরন, কাজের ধরন, চিন্তার গভীরতা বা জ্ঞানের লেভেল তো এক হবে না। সবাই মিলে সমালোচককে/ভুল কাজ করনেওলাকে সাইজ করাও একরকম অন্যায়। সমালোচনা, পর্যালোচনা, যুক্তি উপস্থাপন হওয়া উচিৎ ভদ্রোচিতভাবে, যুক্তিযুক্ত বাক্যে, সীমার মধ্যে থেকে। আর অবশ্যই কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমন নয়।
আমার লক্ষ্য বিতর্ক সৃষ্টি নয়, বিভেদ সৃষ্টি নয়। সবাইকে সাথে নিয়েই হোক পথচলা।
#critics #criticism #admiring