Skip to content

দলিতের ধুলির ঈশ্বর

  • by

আমি ক্ষুদ্রের দেবতা, আমি শূদ্রের পরমেশ্বর। আমি ক্ষুধিতের ত্রাতা, আমি দলিতের ভ্রাতা, আমি পাপে জর্জর, আমি তুচ্ছতার সর্বেশ্বর।

আচ্ছা, স্বয়ং ঈশ্বর কি ভেদ-বিচার করেন? পক্ষপাত, জাতপাত মেনে চলেন?

দেবতাদেরও কি শ্রেনীবিভেদ থাকে? থাকেই তো। বোসেদের, চকোত্তিদের, ব্যানার্জিদের বারোয়ারী মন্ডপে, বহুমূল্য মঞ্চে শামিয়ানার ছায়ায় আসীন বিশাল বপুর ঠাকুর আর পরান মাঝির নাওয়ের গলুইয়ের মধ্যে স্থাপিত ছোট্ট কায়া এক দেবতার স্থান কি কখনো এক হয়?

দত্তদের বাড়ির ঠাকুরের আসনের ঈশ্বর কি বেনুমালার মাটির ঘরের কুলুঙ্গিতে স্থাপিত ঠাকুরের আসনে বিরাজিত হন কখনো? আমি তো দেখি না। আমি তো দেখি, ঈশ্বরও গা বাঁচিয়ে চলেন, কূল, জাত গুনে মর্ত্যের ভক্তের কাছে ধরা দেন। ঠাকুর সবখানে, সব গৃহে, সব নিবেদনে সমাজ বিরাজমান হলে সমাজে মুচি, চামার, ডোমেদের মতো ভক্তদের কেন তিনি সেই চির অস্পৃশ্য করেই রাখলেন?

কুলীন ঠাকুরমশায়, পঞ্চানন মশায়ের প্রাসাদের মতো বিপিন মাঈতির কুড়েতে, মধু ডোমের ঠাকুরাসনে স্বর্গের দ্যাবতারা সমান বিরাজমান হলে-সে তো উঁচুজাতেই উঠে যেত। কই, গেল না তো কোনোকালে? বড় ঘরে ভূবনখ্যাত পোটোর গড়া রোশনাই আর বিশাল ঢাকের শব্দে আহুত ঠাকুরের পানে নিবেদীত অভিজাত ভক্তকূলের ভক্তি, আর পথের পাশের পাকুড় গাছের পদতলে স্থাপিত ভক্তের ক্ষুদ্র ঠাকুরের প্রতি ভক্তির মাত্রা ও গভীরতা যদিও একই।  কিন্তু, কেবল ভক্তিই তো সব নয়। নৈবেদ্য, প্রসাদ আর ঠাকুরের ঠিকরে বেরোনো জেল্লায় তো ঠাকুরে ঠাকুরে বিস্তর ভেদ। 

ক্ষুদ্রের দেবতাও ক্ষুদ্র। হীন, দীন তার বেশ। অবহেলা, অনাদরে তার স্থাপন।  তবু সে ক্ষুদ্রের দেবতা। ক্ষুধিতের ঈশ্বর। বারোয়ারী মঞ্চ কিংবা অভিজাত পুরোহিতের কমন্ডলু জল সে পায় না। দুটো অপুষ্ট বিল্লপত্র আর কুড়োনো জবায় তার নিবেদন চুপিসারে সম্পন্ন হয়। প্যান্ডেল, বারো রকম আলোর রোশনাই সেই পথঠাকুরের ভাগ্যে জোটে না। ক্ষু্দ্রের সে ধুলোমাখা ঈশ্বর অনাদরেই পড়ে রয়। ক্ষুদ্রের হৃদয় মন্দীরে তার স্থায়ী আসন। অস্পৃশ্যের নৈবেদ্য সে নিরবে গ্রহন করে নেয়। ক্ষুদ্রের মনের ভালোবাসা আর ভক্তিই তার ঐশ্বর্যসম হয়ে জমে রয়।

সেই ক্ষুদ্রের ঈশ্বর বারোয়ারী মঞ্চে বিরাজিত হবার স্বপ্নও দেখেন না। যেমন দেখে না ক্ষুদ্রের দেবতার পূজারীও।  সে হতশ্রী, কাঁচামাটির গড়া জৌলুসহীন ঠাকুরের পূজারী হয়েই তৃপ্ত রয়। তার পূজিত ঈশ্বরও ক্ষুদ্রের হৃদয় মন্দীরের অস্পৃশ্য ঈশ্বর হয়ে মহিমা মন্ডিত হয়ে রয়। 

It’s not the God who divided us into millions of groups, roads, casts, paths, flocks, races.

It’s the so called AGENT of GOD and the politicians who divided us.

[গল্পের কুশিলবেরা সব কাল্পনিক। স্বর্গ ও মর্ত্যের কোনো দেবতা, অপদেবতা, মানব বা দানবের সাথে মিলে গেলে, কারো ’অনুভূতি’তে যেন আবার আঘাত না লাগে। লাগলে বড় লজ্জিত হব। রূপক গল্পের কি আসলেই কোনো মাথামুন্ডু থাকে?]

#godofsmallthings #minor #abandoned #outcast #lowercast #cult #obscure #classstatus #classconflict #classdiscrimination #poverty #middleclasslife #nakedlife #thuglife

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *