Skip to content

চাকরি প্রত্যাশীদের জন্য নয়া গজব

  • by

জন্মের পর হতে বহুদিন বিডিজবস চাকরিপ্রার্থীদের প্লাটফরম ছিল। যেরকমই হোক, চাকরিপ্রার্থীরাই এই সুপ্রাচীন জবসাইটটিকে বিশাল প্লাটফরমে রুপ দিয়েছে। ব্যবসা ফুলে ফেপে ওঠার পর তারা কি পুরোনো সব ভুলতে চাইছে?

বিডিজবসের মাধ্যমে ইন্টারভিউ কল করার পর ইন্টারভিউতে না গেলে জব সিকারকে ব্লাক লিস্টেড করার একচেটিয়া ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এমপ্লয়ারকে-এমনটা শুনেছিলাম। আমি এই নিয়ে একটা উন্মুক্ত পোস্ট দিই কিছুদিন আগে। আমি চাইনি, গুজব বা স্রেফ শোনা কথার ওপর ভিত্তি করে কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌছে যেতে। পোস্টটি দেবার পরে বেশ ভালরকম প্রতিক্রিয়া হয়। আমি সংশ্লিষ্ট দু’য়েকজনের থেকে তথ্যও সংগ্রহ করি। তা হতে, জানতে পারি, বিষয়টি সত্যি।

এখন এমপ্লয়াররা চাইলেই পারবেন, একজন প্রার্থীর বিপরীতে ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ করতে। সেটা অফিশিয়ালি ইন্টারভিউতে হাজির না হলে দেবার বিধান বলা হলেও, এমপ্লয়ার চাইলে অন্য কোনো রাগ ঝাড়তেও যে সেটা করতে পারবেন না, সেই সুরক্ষা কবচ ওখানে রাখা হয়েছে এমনটা শুনিনি। ওয়াদা করেও

ইন্টারভিউতে হাজির না হওয়ার বদ খাসলত বাংলাদেশে চালু আছে জানি। আমরা দুর্ভোগ ভুগি তাও মানি। আমার নিজের কর্মক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত এই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও ইন্টারভিউতে হাজির না হবার অনেক খুবই যৌক্তিক কারন থাকে যা আমরা এইচআরের লোকেরাও জানি। ইন্টারভিউতে হাজির না হবার প্রচুর লজিক থাকে বলেই সেটাকে আমরা এইচআরের লোকেরা লজিক্যালী হ্যান্ডেল করি। সেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা, অনুসন্ধানের মধ্যে না গিয়ে একতরফা ব্লাকলিস্টেড করার ক্ষমতা নিয়োগকর্তা পেতে পারেনা।

তাছাড়া প্রচুর নিয়োগ কর্তৃপক্ষ ফ্রড ও হ্যারাস করে। ইন্টারভিউতে যাবার আগে একজন প্রার্থী সেই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে দরকারী সব তথ্য জেনে যাতে যেতে পারেন-সেটা এখনো সিংহভাগ এমপ্লয়ার প্রতিষ্ঠানই নিজেরাই নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। তাই একজন জব সিকার আগেভাগেই যাওয়া ক্যান্সেল করার সবরকম প্রি-লজিসটিকস পান না। অনেক ক্ষেত্রেই কারেন্ট অফিস হতে এ্যাপ্লিক্যান্টদের আটকে দেয়া হয় কাজে। তারা বাধ্য হন না যেতে। অনেক সময় আগের দিন রাতে ইন্টারভিউ ফোন করা হয় যা খুবই অন্যায্য। অনেক সময় আবেদনের বহুদিন পরে ডাকা হয়। হয়তো আবেদনকারী আগ্রহ হারিয়েছেন ততদিনে। সে বলল, যাবে না।

তো এমপ্লয়ার রাগ করে তাকে দিয়ে দিলেন ডিমেরিট পয়েন্ট। কে আটকাবে তাকে? ডাক পাবার সময়ই রিফিউজ করায় তাকে ডিমেরিট না দিয়ে, শুধুমাত্র কথা দিয়ে হাজির না হলে তবেই তাকে ডিমেরিট দেবে এমপ্লয়ার-এই গ্যারান্টি কে দেবে? উপরন্ত বাংলাদেশের বিশাল সংখ্যক এমপ্লয়ারের এইচআর খুবই পুওর। তাদের অযোগ্যতা ভাল প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে যেতে বাধা। সেজন্য কোনো এমপ্লয়ারকে ডিমেরিট পয়েন্ট দেবার ক্ষমতা চাকরিপ্রার্থীদেরও দেয়া উচিৎ। সেটা কিন্তু করা হয়নি।

বলা হয়েছে, এমপ্লয়ারের ওই ক্ষমতা খুবই নিয়মতান্ত্রীক ও সীমিত আকারে। সেটা যদি সত্যি হয়ও, তবু, একজন জব সিকারকে কোনোরকম ব্যাখ্যা দেবার সুযোগ না দিয়ে তাকে ডিমেরিট (প্রকারান্তরে ব্ল্যাক লিস্টেড) দেবার ক্ষমতা এমপ্লয়ারকে দেয়াটা খুব অন্যায় ও একতরফা হয়ে যায়। তাই আমি বিডিজবসকে এবং এরকম আরো যতগুলো অনলাইন জব পোর্টাল আছে, তাদেরকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করব, এই বিষয়টি নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবতে।

হয়তো আপনারা এমপ্লয়ারদের চাহিদার ভিত্তিতে ও ফিডব্যাক নিয়ে এটা করেছেন। কিন্তু আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনাদের প্লাটফরম শুধু এমপ্লয়ারদের না। এটি জব সিকারদেরও প্লাটফরম এবং তারাই আপনাদের মূল স্টেকহোল্ডার। তাদের নিরাপত্তা, স্বার্থ, যুক্তিও দেখা উচিৎ ছিল। আমি নিজে যুগপৎ একজন এমপ্লয়ার ও জব সিকার হিসেবে এই আহবানটুকু জানালাম। [পাঠকদের বিশেষত জব সিকারদের আমি এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় সংযত ও যুক্তিযুক্ত মন্বব্যে সীমিত থাকার অনুরোধ করব। হিংসা, ক্ষোভ ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ছড়ানো আমার নীতির বিরোধী।]

#Bdjobs #BlackListing

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *