এক;
তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকি। টিউশনির পয়সায় জীবন চালাই। বিনোদন বলতে মল চত্বর, টিএসসির মুফতে বিনোদন। এমনি একদিন যাদুঘরের মিলনায়তনে লালন গায়িকা ফরিদা পারভীনের একক সঙ্গীত সন্ধ্যা। মুফতে। সময় ব্যবস্থা করে গান শুনতে গেলাম। ফরিদা পারভীন আপা তার সূরের যাদুর মায়াজাল বিস্তার করে একটার পর একটা লালনসহ অন্যান্য গান দিয়ে শ্রোতাকে মুগ্ধ করলেন। গানের ফাঁকে ফাঁকে কথা বলছিলেন তিনি। তার সঙ্গীত জীবন নিয়ে নানা কথা। তার স্বামীর তার গান ও সঙ্গীতজীবন নিয়ে আপত্তি, অমিলের কথা। লালন সঙ্গীত নিয়ে আমাদের এককালের নাক সিঁটকোনো আর হালের উন্মাদনার কথা। একফাঁকে তিনি তার সঙ্গীত জীবনের একটি স্মরনীয় গল্প বললেন। একবার তিনি সঙ্গীত ভ্রমনে ডেনমার্ক (কিংবা স্পেন) গেছেন। একটি বড়সড় আসরে গান গাইবেন। নির্দিষ্ট সময়ে গানের আসর শুরু হল। সেই আসরে গান শুনতে এসেছেন ডেনমার্কের (কিংবা স্পেনের) রাণী। অন্যান্য শ্রোতাদের সাথে তিনিও তন্ময় হয়ে লালন শুনছেন। গান শুনতে শুনতে কখন যেন তার দু’গাল বেয়ে পানির ধারা বয়ে যাচ্ছিল। গান শেষ হলে শ্রোতারা রাণীকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি তো বাংলা গানের কথা বুঝতে পারছেন না। তাহলে কাঁদছেন কেন?” রাণী উত্তর দিলেন, “পৃথিবীর সবদেশেই সঙ্গীতের সুরের নিজস্ব একটি ভাষা ও আবেদন আছে। কথা বা লিরিক না বুঝলেও সেই আবেদন হৃদয়ে গিয়ে আঘাত করে। ওই সুরের ভাষাই শ্র্রোতাকে গানের মর্ম বুঝিয়ে দেয়।” গানের বিশ্বব্যাপী আবেদন নিয়ে এত সুন্দর ব্যাখ্যা আর হয় না।
ইদানীং একটি নতুন আদিখ্যেতা হয়েছে। অফিস যেতে আসতে কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান আর আবৃত্তি শোনা। সেই গানের বড় অংশই #SiD ট্যাগে। ইংরেজি গানও শুনি, যদিও কথার বেশিরভাগই বুঝি না। শুধু সুর শুনি চোখ বুঁজে। জনতা ভাবতে পারে, “এহ, ব্যাটা ইংলিশ গান শোনে”। হ্যা, ওই যে বললাম, গানের নিজস্ব ভাষা আছে। যেটা মনে পৌছে যায়। আমার বন্ধু ইশতিয়াক আমাকে অনেকগুলো ’ইংলিশ’ গানের সূত্র দিয়ে বাধিত করেছিল। আজও শুনি।
পছন্দের গান খুঁজে বের করতে করা আমার পাগলামো চেষ্টার কথা আগেও বলেছি। আজও একটি গান খুঁজছি। খোঁজে থাকলে জানাবেন।
“দমাদম মাস্ত কালেন্দার” এই গানটির একটি ভার্সন ১৯৯৭-২০০০ সালের দিকে রেডিওতে খুব প্রচার হত। ভার্সনটি খুব ছন্দময়, গতিময় আর সুরেলা। যতটা মনে পড়ে, গানটির মিউজিক ভিডিওতে প্রিয়াংকা চোপড়া জড়িত ছিলেন। এই গানটির হাজার হাজার কপি ইউটিউবে আছে। আমি ওই নির্দিষ্ট এ্যালবামটি খুঁজছি। সাহায্য করতে পারেন। না করলেও ক্ষতি নেই। আমি জানি আমি পাব।
এসপ্তাহের সপ্তাহান্ত বার্তা এটাই-গান শুনুন। মনের মতো। সুখে বা অসুখে। মন সুখী হবে।
ব্রায়ান এডামস: দিস সাইড অব প্যারাডাইজ। আমার এককভাবে সর্বাধিকবার শোনা অন্যতম গান:
দুই;
আমাকে যদি গানপাগলা ভাবেন, তবে ভুল ভাববেন। আমি বরং আমার প্রিয় গানের আশেক। যেটা ভাল লেগে যায়, সেটার আশেক। সেই ভাল লাগার কোনো মাথামুন্ডূ নেই। নেই কোনো ধরন ধারন। সে একেবারে সেই “মধূ হই হই বিষ হাওয়াইলা” হতে শুরু করে “দিস সাইড অব প্যারাডাইস”-সবই আছে।
মনে আছে, সেই টু ইন ওয়ানের জামানায় হাবিবের “ভালবাসব” গানটা একরাতে সারারাত প্রায় ৬ ঘন্টা একটানা রিওয়াইন্ড করে বাজিয়ে বাজিয়ে শুনেছিলাম হলের রুমে বসে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে টিউশনির পয়সা বাঁচিয়ে গুলিস্তান হতে সস্তা ওয়াকম্যান কিনেছিলাম। আজও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি খুব। লোকে ব্লটুথ হেডসেটে গান শোনে। আমি এখনো মাগনা পাওয়া ওয়্যারের ইয়ারফোনে গান শোনার চেষ্টা করি। অফিস যেতে আর বাড়ি ফিরতে গাড়িতে।
আমার শৈশবে টুইনওয়ানের যুগে বড় ভাইয়ের দখলে থাকত টুইনওয়ান। কালে ভদ্রে তার দখল পেতাম। তো, তার পছন্দেই গান শুনতে হত সেকারনে। তার কালেকশনে মাইকেল জ্যাকসনের ২টা গান তীব্ররকম ভাল লাগত। লিরিক বা এ্যালবাম বোঝার মতো কাবেল তখনও হইনি। সুযোগ পেলেই ওই দুইটা ফিতা কলম দিয়ে টেনে টেনে রিভার্স করে শুনতাম। তারপর কাটল শৈশব। পৃথিবী প্রবেশ করল মোবাইল আর ইউটিউবের যুগে। কিন্তু আমার মাথায় বসে রইল সেই দুটি গান।
যেহেতু লিরিক বা এ্যালবাম কিছুই মনে নেই, শুধু গানের সুরটা মনে আছে, আর আবছা আবছা দুয়েকটা কথা। তাই দিয়ে পাগলের মতো খুঁজি। শুনে পাগল মনে হবে, একবার মিনাবাজারে গানটা বাঁজছে শুনে তাদের সেন্ট্রাল মিউজিক সিস্টেমের কন্ট্রোলারের কাছে দিয়ে জিজ্ঞেস করেছি, গানটার লিরিক। যাহোক, তারপর দীর্ঘ কয়েক বছর গেল। আমি আর ওই গান দুটো পাই না। তারপর একবার গো ধরলাম আমি গান দুটো বের করে ছাড়বই।
একদিন, দুদিন, তিনদিন চেষ্টা। হাল ছেড়ে দিই অবস্থা। তার মাসখানেক পড়ে একদিন সকালে বসলাম। দীর্ঘ ৭ ঘন্টা একটানা খুঁজে খুঁজে, জ্যাকসনের নানান গান শুনে শুনে তারপর হঠাৎই আবিষ্কার করলাম গান দুটো। কী সেই গান? আপনার শুনে বিশ্রী মনে হতে পারে। কিন্তু ওই যে, আশেক মরে মনের সুখে। লিংক দিলাম। শুনে দেখবেন।
1. Michael Jackson – Liberian Girl: https://youtu.be/70VrvkfjJjg?t=66
2. Michael Jackson – I Just Can’t Stop Loving You: https://youtu.be/PHZ1Bii7Uwk?t=57
পুরোনো লেখার সাথে নতুন করে একটা গানের কথা বলি। ”সিক্স ডেজ” গানটি কোনো একদিন গাড়িতে রেডিওতে বা ইয়েলোর আউটলেটে শুনে ভাল লাগল। তারপর আর সেই গান খুঁজে পাই না। একবার এক চুড়ির দোকানে পেয়েও হারালাম।
অতঃপর দীর্ঘকাল পরে আবার এক চায়ের দোকানে সেই গান খুঁজে পেলাম। চায়ের মেজবান ফরহাদ। ওর জন্যেই খুঁজে পাওয়া গেল।
কীভাবে? সে গল্প হবে আবার কখনো। ওটাই কয়েকদিন ধরে ঘুরে ফিরে শুনছি। শুনতে পারেন।
#musiclover #songcrazy #loveformusic