Skip to content

ক্যারিয়ার ভাবনার রকমফের: ক্যারিয়ার প্ল্যানিং কখন করবেন ও কীভাবে:

  • by

যারা একাডেমির উচ্চতর পড়াশোনার জন্য সাবজেক্ট বা স্পেশালাইজেশন বাঁছাই করতে যাচ্ছেন, অথবা, এখন একাডেমিক পড়াশোনা করছেন, তবে শিগগীরই তা শেষ করে ক্যারিয়ার দৌড়ে শামিল হবেন, কিংবা, যারা মাত্রই চাকরি শুরু করলেন ও আগামী বছর পাঁচেকের জন্য এগোনোর একটি পাথওয়ে ভেবে নিতে চান-এমন মানুষদের জন্য পরামর্শ নিয়ে এই বিষদ লেখা। আপনার ধেঁড়ে সন্তানকে তার ক্যারিয়ার প্ল্যান ও ফিউচার প্ল্যান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন।

একটা বড় সংখ্যক চিন্তাশীল মানুষের মোটামুটি ধারনা হল, এখনকার তরুণদের একটা বড় অংশই তার ক্যারিয়ার নিয়ে পরিকল্পিত ও সিরিয়াস না। তাদের পেছনে কেবল কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করবেন না। তাদের ডিগ্রীকেই তাদের ভবিষ্যৎ ভাবলে মরবেন। উদয়াস্ত মুখে রক্ত তুলে খেটে তাদের পেছনে ব্যয় করাকেই ‘এনাফ’ ভাবলে নিজের পায়ে কুড়াল মারবেন।

প্রোপার প্ল্যান না থেকে থাকলে তাকে সেটা করাবার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় পস্তাবেন।

আপনার সারাটা জীবন অন্যের জীবনের তরে কোরবান করবার জন্য না। সেটা সন্তান হলেও না।

আমি আমার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব তৃপ্ত নই। তবে ফ্রাস্ট্রেটেডও নই।

আমি মনে করি, আমি আরো অনেক কিছু করতে বা হতে পারতাম। আমার ভুল বা বিলম্বিত সিদ্ধান্ত ও আরো কিছু পারিপার্শ্বিক কারনে সেটা হয়নি। সেই পারিপার্শ্বিকতার একটা বড় কারন ক্যারিয়ার প্ল্যানিং।

ক্যারিয়ার প্ল্যানিং এর শুরুটা কিন্তু খুব ভাইটাল। আমরা অনেকেই মনে করি, যেদিন আমার মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হবে, সেদিন হতে আমার ক্যারিয়ার প্ল্যানিং শুরু করব। বড় ভুলটা আমরা সেখানেই করি।

আমি মনে করি, সত্যিকারের বুদ্ধিমান মানুষ তার ক্যারিয়ার প্ল্যান করবে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তির সময়। কারন ওই পড়াশোনা হতেই তার বাকি জীবনের ক্যারিয়ারের সূত্রপাত (খুব বিরল ব্যতিক্রম বাদে)।

 সাবজেক্ট চয়েস করা হতে শুরু করে জীবনের মোড নির্ধারন করার সবচেয়ে কার্যকর ও উপযুক্ত সময়টা তখন। আমি সেটা পারিনি। তার অন্যতম কারন উপযুক্ত মেনটরের অভাব এবং সমাজ/পারিবারিক বাস্তবতা।

আপনাদের যাদের এখনো সেই সুযোগ আছে, তারা ভাবতে পারেন। যাদের সেই পাট চুকে গেছে, কিংবা মাত্রই গ্রাজুয়েশন করলেন, তারাও পড়তে পারেন। একটা কথা আগেই বলি। যারা এখনও বিভিন্ন বেসরকারী স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, অথবা শিগগিরই ভর্তি হবেন-তারা প্লিজ, আপনাদের পিতামাতার লগ্নিকৃত কষ্টার্জিত বিপুল টাকার বিপরীতে আপনাদের প্রাপ্য নিজ গরজে উদ্যোগে বুঝে নিন। না, মনুষ্যত্ব, প্রজ্ঞা, বোধ-শিক্ষা কার্যক্রমের এসব প্রাপ্য আর খুঁজতে বলব না। ওগুলোর আশা শেষ। অন্তত ডিগ্রী শেষে বেসরকারী চাকরি পাবার জন্য যা যা এইসব প্রতিষ্ঠান হতে টাকার বিনিময়ে পাবার কথা-সেটা কড়ায় গন্ডায় বুঝে নিন। আপনার টাকায় কেনা এগুলো।

কেন বলছি?

আমাদের কাছে কর্পোরেটে যারা পাশ করেই আসছেন-তারা কমপ্লিটলি অপ্রস্তুত (#সবাই১না)। তাদের সিংহভাগের কাছেই বিক্রয়যোগ্য এমপ্লয়্যাবিলিটি শূন্য। তারা ঠকেছেন।

নিজের কেনা পণ্যের পুরোটা বুঝে নিন। অন্যথায় বিপদে পড়বেন।

পাবলিক ইন্সটিটিউট আর পাবলিক জবের কথা বলব না। ওটার ওপর আর আমাদের তো দাবীই নেই।

ওপরে ওঠার জন্য, অথবা, জীবনের তথাকথিত ‘সফলতা’ পাবার জন্য বেশ কয়েকটি বিকল্প মাজহাব আছে। (’মাজহাব’ শব্দটি শুনেই যদি কোনো ‘কাঠগোল্লা’র চেতনাদন্ড জাগ্রত হয়ে যায়, তাহলে বলব, এটি স্রেফ একটি শব্দমাত্র, যার বাংলা হল পথ ও পন্থা।) আপনি যদি ওপরে উঠতে চান (না, ওপরে মানে একেবারে দেহত্যাগ নয়), অথবা ‘সফল’ (বিশেষত সফল পুরুষ) হতে চান, তাহলে কার্যত এরই যে কোনো একটি মাজহাব ধরে চলতেই হবে। তবে এই মাজহাবে সত্যিকারের ওপর (মানে উর্দ্ধাকাশের) জগতের নির্বান জড়িত নয়। এই নির্বান নেহাতই ’কামানা-পাকানা-খানা-পাখানা-পয়দানা-আর শো যানা’ জগতের নির্বান। ওপরের বা ওপাড়ের জগতের নির্বান খুঁজলে মুনমুনুল হকের সাথে গিয়ে জেলে দেখা করুন।

মোটা দাগে প্রতিষ্ঠা ও সফলতার মাজহাব ৪টি: –

ক. মাআরেফাত বা আধ্যাত্মিক লাইন: এই লাইনে যেতে হলে আপনার খুব বেশি ঝামেলা নেই। ওপরের সাথে ’ডায়রেক’ কানেকশন বানান। পীর-পয়গম্বর হয়ে যান। দরবেশ-সাধু-সন্ত-ঠাকুর-ঠাকুরাইন বনে যান।  সত্যিকারে হলে ওপরওয়ালাই আপনার দায়ীত্ব নেবেন। ঘরে তাকিয়ায় বসে থাকবেন, আকাশ হতে আঙুর এসে মুখে ঢুকে যাবে। যেমনটা আওলিয়া-দরবেশদের ইতিহাসে আমরা পড়েছি। ইদানিং ফেকবুক আর লিংকডইন নামে কী যেন একটা বেরিয়েছে, সেখানেও অনেকে হরহামেশা নাকি বলেন, যে, ঘরে বসে থেকেও খাওয়া, শোয়া মিলে যাবার পথ নাকি মারফতি লাইনে মেলে। শোনেননি, আমাদের হাই-প্রোফাইল মাজারগুলোর পীরে মোদাচ্ছেরগণ কেউ মাছের পিঠে চড়ে চলতেন, কেউ আবার জ্বীনকে কচ্ছপ বানিয়ে দিতে পারতেন। এমনকি আপনি ভেকধারী পীর হলে ওপরের ঈশ্বর আপনাকে ব্যাকআপ না দিলেও, আপনার ফূঁ পাওয়ারের দাপটে নিচের দো-পেয়েদের জগত আপনাকে মাথায় তুলে রাখবে। উভয় ধরনেই নির্বান। আপনার রুজি, রুটি, ক্ষমতা নিশ্চিত।

খ. তরিকত: এই মাজহাব বেশ সহজ তবে মারাত্মক কার্যকর। এই পথে চলতে হলে আপনাকে পাওয়ার-পলিটিক্যাল পাওয়ার, গ্যাঙ পাওয়ার, মানি পাওয়ার, চাপা পাওয়ার, মাসল পাওয়ার-যে কোনো একটি হাসিল করতে হবে। বাকিটা ওরাই যা করার করে দেবে। মাঝখান হতে ওগুলোর যেকোনো একটির হাত ধরে আপনি মগডালে পৌছে যাবেন। হ্যা, শুরুতে ওগুলো হাতাতে আপনাকে কষ্ট করতে হবে। তবে চাপার পাওয়ারের বিকল্পও আছে। সেটার নাম ’পাওয়ার অয়েল’। কী? শুনেই গরম হয়ে গেলেন? না, তেল পড়া বুঝে নেবেন না। তেল পাওয়ার বা ম্যাসাজ পাওয়ার বলেছি। আপনার ভিতরে তেল দেবার গুন হাসিল করুন। সময়, সুযোগ, পরিস্থিতি বুঝে তেল দেবার (গ্রিজও হতে পারে) ক্ষমতা রপ্ত করুন ও প্রয়োগ করুন। দুই ফাইলই যথেষ্ট। এই পথেও বহু মানুষ ব্যপক সফল হয়েছে। বাংলাদেশের কথা যদি বলেন, আমি এই মাজহাবের মুরীদই বেশি দেখি। সফলতার হারও মারাত্মক। 

গ. হাকিকত: এই পথ বা মাজহাব হল  “চেয়ে চেয়ে দেখলাম……..আমার বলার কিছু ছিল না” পথ। এখানে আপনাকে কিছু করতে হবে না। বা, আপনার কিছু করবার নেই। চুপচাপ পড়ে থাকবেন। জীবন যেমন যখন সামনে আসে, সেভাবেই কাটিয়ে দেবেন। কখনো বাপের হোটেলে, কখনো শশুরের হেশেলে, কখনো কপালে না জুটলে ফুটেলে (মানে ফুটপাতে)। বোহেমিয়ান জীবন বেঁছে নিন। ভাবনা নেই, টেনশন নেই, চাপ নেই, দায় নেই, টারগেট নেই, কিছু করবারও নেই। এই মাজহাবের নাম আসলে কপাল, কপালের নাম গোপাল। কপাল ভাল হলে ছক্কা পেটাবেন। ভাল না হলে ঊষা’র বাপ হবেন। আমার বাবা-মা যখন প্রথম জীবনে ঝালকাঠি থাকতেন, সেখানে একজন বুয়া তাদের কাজ করতেন, যার মেয়ের নাম ঊষা। তো, ঊষার বাবা কোনো কাজ করতেন না। সারাদিন মদ গেলা, গাঁজা সেবন আর ঘরের দাওয়ায় পড়ে পড়ে নিদ্রা। ঊষার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পেতেন, তা নিয়ে যেতেন। ঊষার বাবা ঘুম ভেঙে গোগ্রাসে সেই বাসি, পঁচা এঁটো পেট ভরে খেয়ে আবার হয় শুঁরিখানা, অথবা পায়খানা। এভাবেই চলছিল। কিছুদিন পরে ঊষার বিয়ে হল। মনে হল সুখের দিন বোধহয় এলো। না, বিধি বাম। ঊষার জামাইও শশুরের শিষ্য। কিছুকাল পরে দেখা গেল, সে-ও কাজকর্ম করে না। তাকে তার বাড়ি হতে খেদিয়ে দিল। ঊষা তার জোয়ান জামাই নিয়ে বাপের ভিটায়। এখন ঊষা আর ঊষার মা একইসাথে বুয়ার কাজ করে। আর ঊষার বাবা আর জামাই দু’জনে সেই পয়সায় শুরা খায়, ঘুরা খায়, ঘুমিয়ে দিন কাটায়।

কপাল বা মনুষ্য গোঁপালের ওপর ভর করে এরকম জীবন কাটানোর কথাও ভাবতে পারেন। ব্যাপক সুখ।

ঘ. শরিয়াত: এই পথ একটু কঠিন এবং সফলতার হার আহামরি নয়। ওপরের তিনটাতে যদি ফেল মারেন কিংবা ওই পথে না যেতে চান, তাহলেই কেবল এই বন্ধুর পথে নামুন। তবে নিজ দায়ীত্বে, ফেল মারলে আমি দায়ী নই। তাছাড়া আবার বেশি ‘শরিয়াত বয়াতী’ বনে গেলে রাষ্ট্রের সহযোগীতায় মাইর খাবার সম্ভাবনাও থাকে। এই পথকে নিজের পথ করতে চাইলে নিয়মতান্ত্রীক হতে হবে। অতীতের রথি-মহারথিগণ যেভাবে যেই গুণ ও যোগ্যতা অর্জন করে, যেই শ্রম দিয়ে, যেই কীর্তি গড়ে সফল হয়েছেন, যেই পথ তারা বাতলে দিয়ে গেছেন, সেগুলো পড়ে, বুঝে, মেনে, করেই আপনাকে সফল হতে হবে। আর হবে তো হবে, আপনাকে ওই গুন ও যোগ্যতায় অতি অবশ্যই সুপার হতে হবে। হাফটিকিট বা সিকি হলে ভাত নেই। এই মাজহাব হয় হিরো অথবা জিরো, করো অথবা মরো, নাউ অর নেভার। এই পথ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ। একটু ব্যাকডেটেডও বটে। জীবন ত্যানা ত্যানাও হয়ে যেতে পারে। এই মাজহাবের সফলতার হারও তত নয়। এই পথে সবাই রবার্ট ব্রুস হন না। তবে এই পথটায় চললে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি আছে।

ক্যারিয়ার, ক্যারিয়ার গ্রোথ, রাইজ, শাইন-এই আলোচনার একটা গ্রামার বা স্বরলিপি আপনাদের শেয়ার করি। যথারীতি এই গ্রামার বা তত্ত্ব হারভার্ড অথবা অক্সফোর্ড হতে রেটিফায়েড নয়। আমার কাছে আপনি কোনো বিশুদ্ধ জ্ঞান পাবেন না। সবই চোরা মার্কেটের মালের মতো। পড়লে ও পড়ে মরলে নিজ দায়ীত্বে মরবেন।

গ্রামারটা একটা মোটামুটি ছক মেনে তৈরী ও বিন্যাসকৃত।

সেটা হল, আপনি ক্যারিয়ারে কেমন করবেন, কতটা আগে বাড়বেন, ক্যারিয়ারের কতটা উঁচুতে পৌছাবেন, সেটা আবার কেমন করে, কীসের বদৌলতে, কী থাকলে, কী ঘটলে, কী করলে, কী না করলে, কোন তরিকায় ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অ্যাচিভমেন্ট সম্ভব, কতটা সম্ভব, তার একটা স্বরলিপি বলব এখন।

স্বরগ্রাম বা স্কেল-১:

এই তবকায় স্টিভ জবস, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, মেসি, জীবনানন্দ প্রমূখরা বিরাজ করেন। মানে, আপনি যদি ভেতরে ভেতরে তাদের মতো হন, মানে যাদের ভেতরে ’গড গিফটেড’ প্রতিভা বা মেধা থাকে, তারা যেকোনো গ্রামার বা ব্যাকরনের সীমা বা ছন্দ্যের উর্দ্ধে। কোনো রকম গ্রামার, নিয়ম, রীতি, পদ্ধতি, ছককে কাঁচকলা দেখিয়ে তারা জীবনে, মানে ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ চুড়ায় আরোহন করেন বা করবেন। এই গ্রুপটা বাউন্ডুলে হোক, স্কুল পলাতক হোক, প্রথাবিরোধী হোক, গাঞ্জুটি হোক, মদ্যপ হোক, বহুগামী হোক, জুয়ারি হোক-এরা যার যার ট্রেডে ফাটিয়ে দেবেন। এঁরা সাধারনত ক্ষেপাটে, উদাসীন, ঝোঁকগ্রস্থ, বোহিমিয়ান টাইপ হন। সবরকম নিয়ম, হিসেব, অভিজ্ঞতাকে কাঁচকলা দেখিয়ে এরা শাইন করবেন। আপনি যদি ভেতরে ভেতরে এদের মতো কেউ হন-তাহলে আপনার হবে বস।

স্বরগ্রাম বা স্কেল-২: এই দলে দুটো সাব-গ্রুপ: –

২.১.
এঁরা মেডিওকার বা, তার আরেকটু বেশি। তবে প্রথম তবকার মতো নন। এঁদের সক্ষমতা, দক্ষতা, ক্ষমতা, বুদ্ধি চলনসই। চেষ্টা থাকে, তদবির থাকে, চাপ থাকে। এরা এফার্ট দেন ওপরে উঠতে। খোদা প্রদত্ত যতটা প্রতিভা আছে, সেটাকে আরেকটু শানিয়ে তারা ক্যারিয়ারে ওপরে যেতে পারেন। তবে এরা বর্তমান বাজারের তেজি আরবী ঘোড়া নন। এনাদের ক্যারিয়ার শনৈ শনৈ করে আগে বাড়বে, এরা নিশ্চিতভাবে সব সেগমেন্টে আগে বাড়বেন, আজীবন রাজ করবেন-সেটা গ্যারান্টেড না। এনাদের একই গতি বজায় রেখে ক্যারিয়ার শেষ করবার গ্যারান্টি কম। ভাগ্য খুব সহায় হলে একটি সম্মানজনক পজিশন এঁরা অর্জন করেন। সেখানেই শেষ করেন। আবার, এনাদের একটি বড় অংশ মাঝপথে বা শেষ দিকে এসে বারংবার হোঁচট খেতে থাকেন।

২.২.
এঁরা প্রতিভাবান, তবে সেটা গতানুগতিক একটা ট্রেইটে বা স্কিলে বা অ্যাবিলিটিতে না। এদের যাবতীয় কেরেদ্দারী চাপা, শো-অফ, সার্কুলেশন, মার্কেটিং, ব্র্যান্ডিং, জ্যাক, কানেকশন-এসবকে বানাতে, বাড়াতে ও কাজে লাগানোতে। চাপাতে এদের প্রচন্ড দখল। নিজে যা নন-নিজেকে সেটা দেখানোতে এরা পারঙ্গম। পটকা মাছ যেমন নিজেকে ফুলিয়ে দশগুন আকার দেখায়, এদের ধরনটা তেমন। চাপা, জ্যাক ও ব্র্যান্ডিং কাজে লাগিয়ে উদ্দেশ্য হাসিলে এরা সুপার। যে কারনে, ক্যারিয়ারে শাইন ও রাইজ করবার চান্স এদের প্রচন্ড। এদের ঝুঁকি ও ফলও কম। বাজারে অ্যাকসেস প্রচন্ড।

স্বরগ্রাম বা স্কেল-৩:

এই দলে আছেন বিলো এভারেজ অথবা নন-মিডিওকাররা। তবে এঁরা একেবারে অযোগ্য নন। একটা দুটো ট্রেইটে এরা ভাল, বুদ্ধিমত্তায় আন্ডারেটেড, বেশ কিছুটা ইন্ট্রোভার্ট, জীবনে উচ্চাশা কম। এঁরা এদের জীবন ও প্রত্যাশাকে একটা নির্দিষ্ট গন্ডিতে বেঁধে ফেলে। ফলে, এরা মারাত্মক রাইজ করেন না (বা করতেও চান না), আবার, এরা বাজারের সবথেকে নিরাপদ গোষ্ঠী, কারন, এদের বাজার খুব বড়, আর, এই লেভেলের হায়ারিংয়ে কোনো এমপ্লয়ারই খুব বেশি মারাত্মক সিলেকটিভ থাকেন না। এরা খুব বড় হন না, আবার, খুব বেশি বিপদেও পড়েন না। জবলেস হবার হার কম, আবার, হলেও থাকার মেয়াদ কম।

এই লেভেলগুলোর মধ্যে আবার, আপনি যদি স্কেল-১ এবং স্কেল ২.২ এর কম্বিনেশনে একজন হাইব্রিড হন, এবং বাজারের একটা ব্র্যান্ড হন, তাহলে আপনি জব মার্কেটের সবচেয়ে পাওয়ারফুল জাতক। আপনি বাজারে রাজ করবেন-কোনো সন্দেহ নেই। আজীবন আপনি ড্রাইভিং সিটে থাকবেন এবং আপারহ্যান্ড থাকতে পারবেন। বেছে বেছে চাকরি করবার ভাগ্য এদের বেশি। বাজারে আগুন লাগুক, এদের গায়ে তার আঁচ কম লাগে।

আর আপনি যদি ২.১ হন, তাহলে ৫০/৫০ চান্স। আপনি বেশ ভাল করতে পারেন। আবার, একটা বড় সংখ্যক ক্ষেত্রেই আপনি মাঝপথে, অথবা চুড়ায় পৌছানোর অল্প কিছুদিন পরেই পড়ে যেতে পারেন। আপনি জব মার্কেটের দুলদুল বা আরবী ঘোড়াটি নন।

তবে, সেফ বা ট্রেন্ড যদি বলি, তাহলে বর্তমান কর্পোরেট বাজারে ২.২ এর মানুষেরা সবথেকে গেইনার ও সেফার গ্রুপ। এঁরা বেশ সহজেই, অনায়াশেই এবং নিজেদের পছন্দমতোই এ ডালে, ও ডালে উড়ে বেড়িয়ে বেশ অনেকটা হেসেখেলেই রাইজ করছেন এবং জীবন উপভোগও করছেন। এই গ্রুপটার মূল শক্তি নলেজ, স্কিল, অ্যাবিলিটি ও অ্যাট্রিবিউটসের কম্বো নয়। চাপা, জ্যাক, বায, কানেকশন, চানক্য বুদ্ধি, সপ্রতিভ স্বভাব ও ভাগ্য হল এদের মূল পাওয়ার।

জীবন আপনার। পথ বেঁছে নেবার দায় ও অধিকারও আপনার। ভেবে, চিন্তে পথ বেঁছে নিন। বাছার সময় একটু হিসেবী, সতর্ক, চুজি ও স্বার্থপর হোন। এই পথ বাছার সময়টাতে কেবলমাত্র নিজের চয়েজ, ভবিষ্যত, বাস্তবতা ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নেবেন। আর কিছু না। এই একটাই সময়, যখন আপনি নিজেকে ছাড়া বাকি সবকিছুকে উপেক্ষা করবেন।

বিশেষত ‘নৈতিকতা’ নামের ফালতু হাইমেনকে একদম পাত্তা দেবেন না। মনে রাখবেন, নিজের বাদে অন্য যাদের নিয়েই ভেবে নিজের ক্যারিয়ার প্ল্যান করবেন, আপনার ক্যারিয়ার সত্যি সত্যি যখন হবে, তখন কিন্তু তাদের অস্তিত্বশীল কিংবা ফ্যাক্টর হিসেবে থাকার সম্ভাবনা অনেক কম, অন্তত আজকের হতে।

১. যদি সম্ভব হয়, তবে দেশের জব মার্কেটের একটি নিজস্ব এনালিসিস দাড়া করান। কোন সেক্টর, কোন জব, কোন ট্রেড, কোন স্পেশালাইজেশন বা প্রফেশনাল ট্র্যাক অদূর ভবিষ্যতে দেশকে লিড করবে, কোন জবের বাজার বড় হচ্ছে, কোন সাবজেক্টের চাহিদা বাড়বে আগামী ১০ বছরে তার একটি গ্রাফ নিজেই করে ফেলুন। পাবলিক কী খাচ্ছে, বাজার কাটতি কী-সেসব দেখুন, তবে বিবেচনা করুন খুব সতর্ক হয়ে। সেই মতো করেই নিজের বিভাগ/সাবজেক্ট বাঁছুন। স্পেশালাইজেশন বা প্রফেশনাল ট্র্যাক অর্থাৎ কোন ডিপার্টমেন্টকে বেছে নেবেন-সেই অনুযায়ী যেমন পড়াশোনার ধরন বাছাই করে নেয়া উচিত, আবার, সেটা না হলেও, যেটা পড়েই যে ডিগ্রীই নিয়ে আপনি ক্যারিয়ার প্ল্যান করতে বসে থাকুন, আপনার উচিত ট্র্যাক বাছাইয়ে একদম গোড়া হতে ভাবতে বসা। সবসময় মনে রাখবেন, সেলস, ম্যানফ্যাকচারিং এবং ফিল্ড জবের বাজার, সম্ভাবনা, সুবিধা ও কদর সবসময় যে কোনো বিচারে সবার ওপরে।

২. বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সত্যিকারে কত মানুষ বেকার তার সত্যি তথ্য কোথাও নেই। তারপরও কাজ চালানোর জন্য প্রাপ্ত তথ্য হতে বলছি, মোট ৪ কোটি ২০ লক্ষ বেকার যা মোট জনসংখ্যার ২৫% প্রায়। ভয়াবহ। এর মধ্যে ২৬ লক্ষ হল গ্রাজুয়েট বেকার। মানে যারা কমপক্ষে বিএ পাশ আর কোনো প্রথাগত পেশায় নেই।

আমার ধারনা, এর মধ্যে প্রায় ৭০% হল বিবিএ হোল্ডার। যাদের প্রায় সবার স্বপ্ন কোট-টাই পরে, এসি গাড়িতে চড়ে, এসি অফিসরুমে বসে অফিস করবেন।

কিন্তু মুশকীল হল, বাংলাদেশ তো কোন ছাড়, আমেরিকার মতো দেশেও বছরে ওই রকম জব সৃষ্টি হয় মোট নতুন জবের মাত্র ১০-১২%। তার মানে কী দাড়ালো?

সিস্টেম্যাটিক্যালী আমরা নিজেরাই নিজেদের বেকার করে তুলছি।

৩. বাংলাদেশে হুজুগ মেনে চলার খুব প্রবণতা আছে। সবাই যা করছে, আমিও তাই করব-এটা খুব আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত।  ’সবাই নিচ্ছে’ কিংবা, ‘এটা খুব চলছে’তে কান দেবেন না। মনতো না-ই। মেজরিটিকে ফলো করার সুবিধা হল, ফ্লজ কম, চ্যালেঞ্জগুলো চেনাজানা থাকা আর দলে অনেক লোক পাওয়া। ডলা খেলে অনেকের ওপর দিয়ে যাবে। আর অসুবিধা হল, প্রতিযোগী অনেক। আর, বাংলাদেশের মতো দেশে মেজরিটি বা পপুলার মেজরিটি বেশিরভাগ সময়ই ভুল করে।

৯০ এর দশকে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ার একটা হিড়িক পড়েছিল। পড়ে দেখা দেল, ওই বিজ্ঞানীদের একটা বড় অংশেরই কোনো জব বা কাজের সুযোগ হয়নি। হুজুগে না মেতে এনালিসিস করুন। নিজে না পারেন, মেনটরেরর সহায়তা নিন। হ্যা, মেনটর চয়েস যেন বিজ্ঞভাবে করেন।

৪. যদিও এই দেশে কোনো অথেনটিক ডাটা নেই, তাই কথা বলা খুব মুশকীল। তবু ধারনা ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলব, বাংলাদেশে এই মুহুর্তে সাবজেক্ট চয়েজ নিয়ে যদি আমাকে কেউ জিজ্ঞেস করে, তবে আমি কাউকে অন্তত আগামী ১০ বছর বিবিএ, সামাজিক বিজ্ঞান ও কলা অনুষদের কোনো সাবজেক্ট পারতপক্ষে করতে না করব (ওই অনুষদের লোকেরা আবার মানহানির মামলা করে বসবেন না।

আমি ওই সাবজেক্টগুলোর বিরোধী বা অসম্মান করি না। আমি বাস্তবতার কথা বলছি। হ্যা, সব সাবজেক্টেরই দরকার আছে। তবে সেটার পরিমান জানতে হবে।)। তার বদলে ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনিক্যাল সাবজেক্টে পড়তে বলব। কনভেনশনাল ডাক্তার বা উকিলদেরও কাজের ক্ষেত্র কমে গেছে।

সবাই কী পড়ছে বা বেশিরভাগ কী পড়ছে-সেটার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়, কোনটা খুব শিগগীরই মার্কেটে বেশি দামী হবে বা হতে পারে-সেটাকে গেস করে পড়ুন। তবে সাবজেক্ট নিয়ে সিলেকটিভ হতে বলবার পরও আমি এ কথাও বলব, আপনার সত্যিকারের ড্রিম, ডেসপারেশন, ড্রাইভ, জিনিয়াস থাকলে সাবজেক্ট ম্যাটার করবে না। আপনি সত্যিকারের জিনিয়াস হয়ে থাকলে আপনার সাবজেক্ট কোনো ফ্যাক্টর হবে না, আপনি শাইন করবেনই। তবে সত্য হল, আমরা অধিকাংশ মানুষ জিনিয়াস না, আমরা গড়পড়তা মানুষ। তাই আমাদের জন্য সাবজেক্ট ম্যাটার করে। যাহোক, যা বলছিলাম, গেস করতে হলে যথেষ্ট স্ট্যাডি করতে হবে।

৫. তবে, বাংলাদেশে সাবজেক্ট বেসড চাকরি পাবার হার অত্যন্ত কম। কারন আছে অনেক। তার মধ্যে আমাদের সিস্টেম প্রধানত দায়ী। আমাদের যে মোট ৭ লক্ষ গ্রাজুয়েশন সীট আছে, তার সাবজেক্টওয়াইজ বন্টন দেশের চাকরির বাজার এনালাইজ করে কোটা নির্ধারন হয়নি। মানে হল, কতটি বিবিএ’র সিট থাকবে, কতটি এপ্লাইড ফিজিক্সের, কতটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের তার কোনেরকম নিয়ন্ত্রন নেই। যেই বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে পারছে, সেইভাবে কোর্স ও কারিকুল্যাম বিক্রী করছে। তাই আপনি বাধ্যতামূলক বেকারত্বের দিকে এগোচ্ছেন। এমপ্লয়মেন্টের সৃষ্টি ও বিকাশ হয় নিজের মতো। শিক্ষাব্যবস্থার সাথে এলাইনড হয়ে তো আর জব মার্কেট চলবে না। সে বড় হয় নিজের মতো করে। যদিও, সেই গ্রোথটা এক্সট্রিমলি আনবাউন্ড না। দেশে কোন জ্ঞান ও দক্ষতার সাপ্লাই কেমন-কর্ম ও ব্যবসা সৃজন তাকে কিছুটা হলেও দাম দেয়।

(হ্যা, আমার একটি ব্যক্তিগত দর্শন আছে, যেটা বলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা চাকরির বাজারমুখী হওয়া অনুচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার থীম ভিন্ন। আর সাবজেক্ট বেইজড জব বলে কিছুর জন্য মরতে আমিই না করি।)

তার মানে আমি বলছি না, সাবজেক্ট চয়েস নিয়ে মাথা না ঘামাতে। তবুও অবশ্যই ঘামাবেন। কারন মোটে রেডি না থাকার চেয়ে রেডি হয়ে যুদ্ধজয়ের চেষ্টা কি ভাল না?

৬. বলবেন, চান্স পাওয়াই যেখানে বড় কথা, সেখানে সাবজেক্ট চয়েস? হ্যা, নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্দু ও পালি না পড়ে জেলার কলেজে বা ঢাকার কোনো কলেজে স্ট্যাটিসটিকস, ফার্মেসি, টেক্সটাইল পড়াও ভাল। হ্যা, সবসময় চেষ্টা করবেন ঢাকায় থাকতে। ক্যারিয়ার মানেই ঢাকা। ঢাকা মানে গাজিপুর বা মানিকগঞ্জ না। ঢাকা মানে ঢাকা শহর।

৭. শুধু একাডেমিক সাবজেক্ট ও রেজাল্ট দিয়ে বৈতরনী পার হয়ে যাবেন, এমনটা ভাবলে আপনি শেষ। তাই আপনি তৈরী হতে থাকবেন যে বিষয়গুলোতে, আমরা আমাদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মোটামুটি ৫ ধরনের বিদ্যা হাসিল ও ইউটিলাইজ করি, তা হল: ক. লাইফ লারনিং তথা ডোমেস্টিক ও লাইফ স্টাইল জনিত দক্ষতা এবং কমোন সেন্স খ. একাডেমিক ইনসাইট গ. এক্সক্লুসিভ প্রফেশনাল ইনসাইট ও স্কিল ঘ. নানা রকম কমোন হার্ড স্কিল ঙ. ইউনিভার্সাল সফট স্কিল। চাকরি পাবার জন্য যে এমপ্লয়েবিলিটির কথা আমরা বলি, তা মূলত মোটা দাগে তিন রকম-হার্ড স্কিল, সফট স্কিল আর পারসোনালিটি ও মাইন্ডসেট। ক. লাইফ স্কিল-ডোমেস্টিক ও লাইফ স্টাইল জনিত এবং কমোনসেন্স খ. একাডেমিক ইনসাইট গ. এক্সক্লুসিভ প্রফেশনাল ইনসাইট ও স্কিল ঘ. নানা রকম কমোন হার্ড স্কিল ঙ. ইউনিভার্সাল সফট স্কিল

শিখে নিন, জেনে নিন, আয়ত্ব করে নিন-

ক.ইংরেজিসহ আরও কয়েকটা ভাষা

খ.I&CT-ওয়ার্ড/এক্সেল/ডাটা ম্যানেজমেন্ট/পাওয়ার পয়েন্ট/ইলাস্ট্রেটর/গ্রাফিকস/মেইলিং/ইন্টারনেট ইউজিং/টেকনোলজি

গ.নেটওয়ার্ক/লিংক সৃষ্টি

ঘ.প্রেজেন্টেশন

ঙ.ইন্টারপারসনাল স্কীল

চ.ম্যাথ

ছ.রাইটিং

জ.ইন্টারভিউ ফেসিং

৮.একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি কোনো কোর্স করবেন কিনা-সেই প্রশ্ন প্রায়ই অনেকে করেন। আমি এর বিস্তারিত উত্তর এক লেখায় দিয়েছি। তবু বলব, যদি যেই বিষয়ে পড়ছেন সেই বিষয়জনিত জব ছাড়া কিছুই করবেন না বলে ডিটারমাইন্ড থাকেন, তবে ওই বিষয়ের সাথে জড়িত ট্রেইনিং/পিজিডি করতে পারেন। আর তা যদি না হয় কিংবা মনে করেন, চাকরি করবেন অন্য বিষয়ে, তবে চাকরি হবার আগে কোনো সাবজেক্ট ভিত্তিক ট্রেনীং বা কোর্স নয়।

হ্যা, সফট স্কীল বা সাইড স্কীল ট্রেইনিং করুন। তবে কোনোভাবেই এলোমেলোভাবে কোনো কোর্স করবেন না।

৯. কখনোই, “শুধু চাকরি’র জন্য নিজেকে রেডি না করে নিজের কিছু করবেন-এমন প্রস্ততি নিয়ে এগোন। তাহলে দুটো দিকই খোলা থাকবে। চাকরিতে যত ভালই থাকুন, নিজের একটি সেকেন্ড সোর্স অব ইনকাম পাশাপাশি চালিয়ে যাবেন, যেটি মূল চাকরির সমান আয় না হলেও অন্তত তার ২৫%-৪০% দিতে পারে।

১০. নতুনদের জন্য আমার সবসময় একটাই সার কথা: নিজেকে স্মার্ট করুন, রেডি রাখুন। আর কানেকটেড রাখুন। শুধু ছবি আপলোড আর মুভি না দেখে ফেসবুক ও ইউটিউবকে নিজের গ্রূমীং এর কাজে ব্যবহার করুন।

লাইফ অথবা ক্যারিয়ার। ব্যালেন্সড লাইফ ও ক্যারিয়ার আসলে কখনো কখনো আমার মনে হয় একটা মিথ মাত্র। ক্যারিয়ার চাইলে লাইফে স্যাকরিফাইস করতেই হবে। ক্যারিয়ারকে সময় দিতে হবে। ক্যারিয়ারের জন্য সময়, এফোর্ট, টাকা ও কনসেনট্রেশন ইনভেস্ট করতেই হবে। সেটা করতে হলে যখন যেটা করতে হবে-সেটা দিতে গেলে লাইফের অংশে টান ধরবেই।

আমি যখনই কোনো জবের ভাইবা নিই, ক্যানডিডেটদের একটা প্রশ্ন করি। সেটা হল, আপনাকে যদি কখনো এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়তে হয়, যখন আপনাকে পরিবার ও ক্যারিয়ার হতে যে কোনো একটা বেছে নিতে হবেই, তখন কোনটা নেবেন। প্রায় সিংহভাগই বলেন পরিবার। হা হা হা।

আমি কখনো কখনো মানুষকে বলি, ৪০ বছর বয়স হবার আগে বিয়ে-শাদি করে পরিবার না বানাতে। ততদিন ক্যারিয়ার সাজাতে বলি। কারন, আসলেই ২৫ এ ক্যারিয়ার শুরু করে পরের বছর দশেক ক্যারিয়ারের পেছনে ইনটেনসিভলি কাজ করতে হয়। এই দশ বছর ক্যারিয়ার সেটল, গ্রোথ ও সাসটেইনেবল করতে লারনিং, এক্সপিরিয়েন্স, নেটওয়ার্কিং, স্কীল, এক্সপোজার-অর্জন করতে হয় প্রচুর। প্রচুর সময়, টাকা, এফোর্ট, কনসেনট্রেশন খরচ করতে হয়। নিবিড়ভাবে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে হয়। সবরকম চাপ ও বাঁধন হতে মুক্ত থেকে সেটা করতে পারলে বেস্ট। পরিবার থাকলে আপনি সেটা কখনোই ১০০ ভাগ দিতে পারবেন না। কমপ্রোমাইজ হবেই।

মানে, বলতে চাইছি, ক্যারিয়ার গ্রোথের গ্রামার ডিজার্ভ করে যে এই আরলি বছরগুলো আপনি এবসলুটলি ক্যারিয়ারকে নিয়েই থাকুন, এই সময়টা আর কিছুতে ফোকাস না করুন। ক্যারিয়ারকে পুরোটা দিলে ক্যারিয়ার সেভাবেই গ্রো করে। সেখান হতে যতটা আপনি লাইফের জন্য শেয়ার করবেন, স্যাকরিফাইস করবেন, যতটা কম করবেন-গুনে গুনে ক্যারিয়ার ঠিক ততটাই ইমপ্যাক্ট হবে। ট্রেড অফ।

মনে রাখবেন, আমি আপনাকে বিয়ে-শাদি না করতে, পরিবার না গড়তে, লিভ-ইন করতে বলছি না। আমি আপনাকে অংকটা দেখাচ্ছি। চয়েজ আপনার। অ্যাবসলুটলি ক্যারিয়ার গড়বেন, নাকি ব্যালেন্স করবেন, করলে কতটা ব্যালেন্স করবেন-তা আপনার বিষয়। তবে মনে রাখবেন, আমি বলেছি, এই বয়সটা ক্যারিয়ার গড়বার। ক্যারিয়ার চাইলে সেটাকে প্রায়োরিটি দিন। আর যদি আপনি ব্যালেন্স করতে চান, তাহলে সেটার মধ্য দিয়ে যা আসে-সেটা মেনে নিতে হবে।

আপনি যদি আন্ডারগ্রাজুয়েট এবং ফ্রেশার গ্রাজুয়েট হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার ক্যারিয়ার প্রস্তুতি কীসের ওপর ভর করে নিতে হবে, বা এরকম একটি পূর্ণাঙ্গ কোর্স যদি ডিজাইন করতে হয়, তাহলে যেসব টপিক অন্তর্ভূক্ত হতে পারে:

1. Basic idea on career and all its aspects. 

2. Goal setting for career.

3. Career planning-definition, proper time of planning, components of planning.

4. Methods & mechanisms of career preparation.

5. Employability features and the competencies which are preferred by private employers.

6. Preparation of a modern & appropriate resume & cover letter.  7. Methods & techniques of job searching. 

8. Appropriate manner of job application. 

9. Interview hacks & cracks-A-Appearance, documentation, get up, punctuality and type of interviews 

10. Interview hacks & cracks-B-Common questions & their answers, manner of facing interview, tricks to win the heart of interviewer, tricks of answering etc. 

11. Professional approaching for building network/job link.

12. Effective communication techniques & technologies.

13. Public speaking and business presentation.

14. Mechanisms/Hacks to utilize LinkedIn & FB for career.

15. Professional networking.

16. Time & task Management. 

17. Money Management.

18. Office etiquette and workplace norms.

19. Knowing the common personality traits of human being. 

20. MS Office, advanced excel and graphics designing.

আবার, এসব পার করে ও ব্যবহার করে ভাগ্যক্রমে ভাগ্যের শিঁকে ছিড়ে নতুন একটি Job এ ঢুকলে একজন মানুষকে কোন কোন বিষয় আয়ত্ব করবার দিকে বেশি নজর দেয়া উচিত? অথবা, বলা যায়, যে, একজন নতুন কর্মীকে নতুন চাকরিতে থিতু হবার জন্য কোন কোন বিষয় নিয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়?

একজন সুহৃদের জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে আমি একটি তালিকা করবার চেষ্টা করেছিলাম। সেটি যদি অন্যদের ভাবনার কাজে লাগে, খারাপ কী?

১. Office politics মোকাবেলার মানসিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি।
২. Diversity’র সাথে সমন্বয়ের প্রস্তুতি।
৩. Cultureকে জানা, বোঝা, উপলব্ধি করা ও মানিয়ে নেবার প্রস্তুতি।
৪. History ও Legacy জেনে তার আলোকে নিজের Discourse মিলিয়ে নেয়া।
৫. Business acumen তথা প্রতিষ্ঠানের Business’র ধরন-ধারন ও চরিত্রটাকে জানা।
৬. Adaptability in an allround mode নতুন অফিস মানে একজন CEO’র জন্যও নতুন সব। তাই সবকিছু, হ্যা, সবকিছুর সাথে Adapt করার, Adjust করবার প্রস্তুতি নিতে হবে।
৭. Resilience হাসিল করতে হবে। খুব দ্রুত।
৮. প্রথম 100 day planningটা খুব জরুরী।
৯. Boss management শিখুন। বসেরা আজীবনই রাবণ। বস খারাপ দেখেই চাকরি বদলাবেন আর কত? বরং, তাকে বদলাবার বিদ্যা শিখুন।
১০. Team alignment করে নিন। বার্সেলোনা হতে রিয়ালে খেলতে এলেও।
১১. KYC বলে একটা বেদবাক্য আছে। যে বিভাগে কাজ করবেন, তার সম্ভাব্য সকল Customerদের জেনেবুঝে নেবার পেছনে সময় দিন।
১২. Interpersonal relationship অতি জরুরী। হ্যা, অতি My dear হতে যাবেন না। আবার, অতি ভাবিস্টও না। Relationship build up করতে যত্ন নিতে হবে।
১৩. Peer group generate করতে হবে। অফিসে যদিও বন্ধু হয় না, তবুও, কাকে বন্ধুভাবাপন্ন ও কাকে শত্রুভাবাপন্ন ধরে এগোতে হবে, কে হবে আপনার Mission complete করবার হাতিয়ার-তাকে চিনে নিতে সময় দিতে হবে।
১৪. Mission ও Vision realizationটাও জরুরী। এটা প্রায় সবখানেই Vague থাকে। তাকে টেনে বের করতে হবে। নিজেকে ও টিমকে এটা মুখস্ত, ঠোটস্থ ও মগজস্থ করাতে হবে।
১৫. SWOT analysis করে নিন। করবার জন্য খাটুন।
১৬. দায়ীত্ব বুঝে নেয়া ও Reporting channel ও Culture বোঝার দিকেও নজর দিন। সবই করবেন। অথচ এই দুটো না জানলে ফল কাকে খাবে।
১৭. Up skilling & re-skilling need Analysis করুন। অস্ত্রশস্ত্র শান দিয়ে নিন।


নতুন চাকরিতে জয়েন করার সময়কার বিবেচ্য আরেকটি ছোট্ট বিষয় বলি।

নতুন প্রতিষ্ঠান, সে যে-ই হোক, আর যেমনই হোক, চাকরির বাজারের সাথে সামঞ্জস্যহীন কিছু পজিশন/ডেজিগনেশন/পদবী/রোল আপনাকে দিতে পারে।
আমি নাম বলছি না। বলব না। ধারনা করে নিন।

এই আনকমোন পজিশন বা ডেজিগনেশন প্রতিষ্ঠান নানা যৌক্তিকতায়ই ব্যবহার করে।

তবে মুশকীলে পড়বেন আপনি, যখন আপনি এখান হতে অন্য কোথাও সুইচ করতে চেষ্টা করবেন।

কারন, কাউকে হায়ার করার সময়ে তার বর্তমান পজিশন/ডেজিগনেশন একটা বিবেচ্য থাকে। সেটা যদি আনকমোন হয়, বাজারের সাথে সামঞ্জস্যহীন হয়, তাহলে,

একস্ট্রা অর্ডিনারী হতে গিয়ে আপনার উল্টো বিপদে পড়বার সমূহ সম্ভাবনা আছে। বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিন। জাতীয় পার্টিতে চিফ এ্যাডভাইজার পজিশন নামে একটা পদ তৈরী করা হয়েছিল। অথবা, ধরুন মিয়ানমারের চীফ স্টেট কাউন্সিলর।

যখন নতুন প্রতিষ্ঠান আপনার বর্তমান দায়ীত্বের মাত্রা ও ওজন নিরুপন করতে যাবেন, তখনই খাবি খাবে। আর তখন ঝামেলায় পড়বেন আপনি।

আপনাকে যদি সিনিয়র এ্যাডিশনাল ডেপুটি ডিরেক্টর পদবী অফার করা হয়-তাহলে আরেকটু ভাবুন। বাকি পদগুলোর নাম আপনি একটু চিন্তাশীল হলেই বুঝতে পারবেন। এমনিতে HR Generalist, HRBP বা এরকম আরও কিছু পজিশন নিয়ে আমি নিজেই ধন্দে পড়ে যাই।

চাকরির প্রস্তুতিকে কাজে লাগিয়ে যারা মাত্রই চাকরি শুরু করেছেন বা করবেন, তারা ধাপে ধাপে পরবর্তি ৫ বছরের জন্য একটি রুট ম্যাপ বা গ্রোথ ম্যাপ বা আউটলাইন মাথায় সাজিয়ে নিতে পারেন:

ক. মোটামুটি ৬ বছরে ক্লাস ওয়ান ধরে ১৭ বছরের একাডেমিক লাইফ শেষ করতে করতে আপনার বয়স হবে ২৩ বছরের মতো। তার সাথে সেশন জট ও চাকরি পেতে দৌড়াদৌড়ি-সব মিলিয়ে আমি স্ট্যান্ডার্ড ধরলাম ২৫ বছর বয়সে চাকরি শুরু করবেন। প্রথম চাকরিতে চেষ্টা করুন অন্তত ১,০০০ দিন কাজ করতে। খুব বেশি জাহান্নামি অবস্থাতে পড়লে ভিন্ন কথা। যত ঝামেলাই হোক, প্রথম চাকরিতে মটকা মেরে পড়ে থেকে কাজ শিখুন, সেই সাথে চাকরি করতেও শিখুন। দুটো কিন্তু ভিন্ন জিনিস।

খ. প্রতি ১ বছর পরে একবার করে নিজেকে প্রশ্ন করুন, যে কাজ করছেন, সেটি আপনার ভাল লাগছে কিনা, এনজয় করছেন কিনা, এবং, আপনার উন্নতি হচ্ছে কিনা। উন্নতি মানে সবসময়ই আর্নিং গ্রোথ ও লারনিং গ্রোথ। এবং, কাজটা বা ট্র্যাকটা আপনার জন্য কিনা। ১ বছর পরে ‍যদি দেখেন, যে, এই কাজ এনজয় করছেন না, কিংবা, কোপ করতে বা বাগে আনতে পারছেন না, তাহলে সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করুন, প্যাশন ও স্কিলের সমন্বয় সাধন করুন। আরও ১ বছর পরে আবার বিচার করুন। ২ বছর শেষেও যদি অবস্থা একই থাকে, তাহলে সমন্বয়, সমাধান ও ট্র্যাক বদলের চেষ্টা যুগপৎভাবে চালানো শুরু করুন। এভাবে ৩ বছর বা ১,০০০ দিন শেষ করুন।

নিজের #network #নেটওয়ার্ক ও জ্যাক বাড়াতে থাকুন। সেটা এরকম হবে, যেন, আপনি অন ও অফলাইন মিলিয়ে অন্তত ২০০ মানুষকে কাছ হতে চেনেন, তার মধ্যে ১০০’র সঙ্গে নিয়মিত বাৎচিত হয়, যাদেরকে জবের বিষয়ে অনুরোধ করলে ৫০ জন রেজুমি চান, তাদের দিলে ২০ জন অন্তত দশ যায়গায় পাঠান-এরকম নেটওয়ার্ক গড়তে থাকুন।

গ. ১-৩ বছর তক ছোট ছোট কোর্স ও ট্রেইনিং করুন। এই কোর্স হবে কনটেমপোরারী ও মোস্ট রিকয়ার্ড সফট স্কিলের। আর আপনার কাজের সাথে জড়িত ডিরেক্ট বা ট্রান্সফরমড হার্ড স্কিলের। সেসব বিষয়ই চুজ করবেন, যেগুলোকে এমপ্লয়াররা মূল্য দেবেন। কনটেমপোরারী চয়েজগুলো বুঝতে হলে আপনাকে চারপাশে নজর রাখতে হবে, অনেক কিছু পড়তে হবে। ৩ বছর হয়ে গেলে যদি সেটল হন, তাহলে ৬ মাস হতে ১ বছরের লং কোর্স বা সার্টিফিকেট কোর্স করুন। এমন প্রতিষ্ঠান হতে করবেন, যাদের সার্টিফিকেটের ওজন আছে। সেখানেও, কোর্স টপিক বাঁছাই করবেন সফট ও হার্ড স্কিল-উভয় প্রান্ত হতে।

ঘ. ৩ বছর শেষ করে যদি ৫ বছরও একই ট্র্যাকে থাকেন, তাহলে ৫ বছরের শেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, যে পথে এগোচ্ছেন (সেক্টর, ট্রেড, ট্র্যাক ও বিভাগ), সেটি ঠিক আছে কিনা এবং আপনার লানিং ও আর্নিং গ্রোথ যথাযথ হয়েছে কিনা। এবং, সেই যাচাইটি দু’জন ক্যরিয়ার কোচের সাথে ক্রসচেক করে নিন। যদি ঠিক মনে হয়, তাহলে এবার একটি প্রফেশনাল এম.বি.এ করুন। ভাল স্থান হতে। জ্ঞান ও এক্সপোজার-দুটোকেই টার্গেট করে। এর সাথে নিয়ম করে বছরে অন্তত ১টি সার্টিফিকেট বাড়ান। ৫ম বছর হতে ৮ম বা ৯ম বছর নাগাদ এম.বি.এ’র বাইরে অন্তত ৩টি প্রফেশনাল সার্টিফিকেট বাগান। হ্যা, এই সময়কালে আপনাকে খুব বিবেচনার সাথে ঠিক করে ফেলতে হবে, যে, আপনি ৫ বছরের পরে আপনার প্রফেশনে জেনারেলিস্ট হবেন, নাকি স্পেশালিস্ট হবেন। দুটোরই ভাল-মন্দ দিক আছে। জেনারেলিস্টের বাজার বড়, স্পেশালিস্টের ছোট। ৩ বছর হতে ৫ বছরের সময়টাতে আপনাকে এমনভাবে নিজেকে প্রস্তুত ও ক্ষেত্র প্রস্তুত রাখতে হবে, যেন, আপনি নিয়ত করা মাত্র পরের ৬০ দিনে একটা জব হয়ে যায়।

ঙ. ১০ বছরের ক্যারিয়ার, যখন আপনার বয়স ৩৫, তখন হিসেব করুন, যে, ৩ বছরে, ৫ বছরে ও ১০ বছরে যে পজিশনে (বেতন পদবী, পাওয়ার, নেটওয়ার্ক, এক্সপোজার, রিজগনিশন) থাকার কথা, যতটা গ্রোথ হবার কথা-ততটা হয়েছে কিনা, যে স্ট্যাটাসে থাকার কথা, সেটা হয়েছে কিনা, যেমনটা আর্থিক অবস্থান ও প্রস্তুতি থাকার কথা, তা হয়েছে কিনা, যেসব সার্টিফিকেশন থাকার, তা আছে কিনা, আপনার বাজার মূল্য ও চাহিদা যথেষ্ট আছে কিনা ।

প্রতি বছর একটা ছোট গ্রোথের সাথে সাথে প্রতি জব টু জবে গ্রোথ (৩০% আদর্শ), আর সেই সাথে ৩-৫-১০ বছরের মাথায় একটা বুস্টারসহ ধারাবাহিকভাবে ২০-২৫% এর মতো এন্ড গ্রোথ ধরে রাখতে হবে। না হলে বারবার রিভিউ ও কারেক্ট করুন আপনার ডিসকোর্স। ১০ বছর শেষে ভাবতে বসুন, আপনার ট্র্যাক ও সেক্টর আশু কলাপস করবার কোনো ভয় আছে কিনা। এবং, আপনি আর কত বছর চাকরি করবেন। যদি মনে করেন, আদর্শগত ভাবে আপনি আর ১৫ বছর চাকরি করবেন এবং তারপর ক্যারিয়ারের ২৫ ও বায়োলজিক্যাল বয়স ৫০ হলে পরের ১০ বছর কনসালট্যান্সি বা ফ্রিল্যান্স সার্ভিস সেলসের প্রফেশনে যাবেন-তাহলে তার প্রস্তুতি শুরু করুন। ক্যারিয়ারের ১১তম/বায়োলজিক্যাল ৩৬ হতে পরের ৫ বছর গ্রাউন্ড প্রস্তুত করুন। তারপরের ৫ বছর হালকা পাতলা প্রাকটিসে নামুন। তার পরের ৪/৫ বছর পুরোদমে চাকরির পাশাপাশি সেটাকে পিকে তুলুন। যেন, বয়স যখন ৫০, ক্যারিয়ার যখন ২৫ বছরের, তখন আপনি নিজের কিছু একটার মালিক থাকেন। যখন প্যারালালি নেক্সট ক্যারিয়ার আর মূল ক্যারিয়ার চলমান হবে, দেখবেন, সেই সেকেন্ডারীটা হতে আয় আসুক, বা কম আসুক, সেটা যেন ছড়াতে থাকে। আর এই সময়ে, মানে ক্যারিয়ার ৫ বছর হলেই সেকেন্ডারী ইনকামের একটা কিছু করতেই হবে, যেটা মূল জবের বা প্রফেশনের আয়ের অন্তত ২৫% যেন দিতে পারে। বয়স ৬০ হলে অবসরে যাবেন। জীবন এনজয় করবেন। জমানো সব খরচ করতে থাকবেন। কারো ভাগ্য রেখে যাওয়া আপনার কাজ না। আপনাকে পুরো চাকরির জীবনে আয় অনুযায়ী ব্যয়-সেটাও করতে হবে। তবে বুদ্ধিমান ও অগ্রসর মানুষেরা ভাবেন এভাবে-ব্যয়ের প্ল্যান ও চাহিদা মোতাবেক আয়। এই ব্যয়ের মধ্যে জীবনধারন যেমন আছে, তেমনি থাকতে হবে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়, লারনিং কসট, এনজয়মেন্ট, নেটওয়ার্কিং কসট, চাকরি চলে গেলে তার ব্যাক আপ ইত্যাদি।

ঙ. চলমান প্রতিষ্ঠানে যদি ৩ বছর পরে আর্নিং, লার্নিং ও টার্নিং (মানে পজিশন ও রোল) না বাড়ে, তাহলে বিকল্প চাকরি দেখবেন। আর যদি ও দুটো রিমার্কেবলি বাড়ে, তাহলে আর ২ বছর থাকবার কথা ভেবে দেখতে পারেন। তবে ৫ বছর পরে কিছুতেই আগের প্রতিষ্ঠানে নয়। স্বর্গে থাকলেও না।

চ. সবসময় মনে রাখবেন, চাকরি আপনি তখনই ছাড়বেন, যখন আপনি ছাড়তে চাইবেন, অথবা, প্রতিষ্ঠান আপনাকে জোর করে ছাড়াতে চাইবে। অর্থাৎ, কিক আউট, যা আপনার হাতে নেই, আর আপনার ধীরে সুস্থে প্ল্যান করে জব চেঞ্জ, যা আপনার স্বার্থ রক্ষা করবে। হুট করে রাগের মাথায় বা ঝোঁকের মাথায় চাকরি ছাড়া নয়। সে আপনি যতই বাপের বেটা হোন। না, আমি আপনাকে স্পাইনলেস হতে প্ররোচনা দিচ্ছি না। স্পাইন থাকুক, তবে সেটার প্রয়োগ বুদ্ধিমানের মতো হোক। চাকরি জোগাড় করুন, তারপর রাগ দেখান।

তারপরও, যদি কোনো কারনে জবলেস হয়ে পড়েন তাহলে: –

ক. প্রথম ৩ মাস আগের থেকে শ্রেয়তর এবং অ্যাপল টু অ্যাপল বা হেড টু হেড জবে, মানে সিমিলার ক্যাটেগরী জবে যাবার চেষ্টা করুন।

খ. ৩ মাসে কিছু না হলে পরের তিন মাস, মানে ৬ মাস তক অ্যাপল টু অ্যাপল সিমিলার জবের চেষ্টা চালু রাখুন, তবে হায়ার স্যালারী না হলেও সমান স্যালারীকে মেনে নিন।

গ. ৬ মাস পার হলেও যদি কিছু না হল, পরের ৩ মাস সিমিলার জবে, তবে দরকার হলে লোয়ার বেতনে যাবার জন্যও রাজী থাকুন।

ঘ. ৯ মাস পার হলে যে কোনো রকম জবে যে কোনো বেতনে যাবার জন্য চেষ্টা করুন।

ঙ. ১২ মাস পার হয়ে গেলে এবং তখনো কিছু না হলে আপনি জবে ফেরার চেষ্টা বাদ দিন। ভিন্ন কিছু করুন।

মনে রাখতে হবে, এই ১২ মাসের প্রেসক্রিপশন পালন করবেন তখনই, যখন আপনার ১২ মাসের পূঁজি, মানে জীবন চলবার মতো সেভিংস থাকবে। অন্যথায় প্রেসক্রিপশন ৬ মাসে কমপ্রেস করে আনবেন। অফিসার থাকাকালীন আপনার কাছে অন্তত ২ মাস চলবার টাকা, ম্যানেজার অবস্থায় ৬ মাস আর টপ লেভেলে হলে ১২ মাস চলবার টাকা রানিং ক্যাপিটাল হিসেবে থাকতেই হবে।

এই ক্যারিয়ার প্ল্যানের সাথে একর্ডিংলি আপনার ব্যক্তিগত জীবন প্ল্যান এলাইন করতে হবে। কারন, দুটোই একসাথে এলাইনড না হলে কোনোটাই ভাল চলবে না। এই ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স শুনতে ভাল, করতে পারলে আরো ভাল। তবে বাস্তবতা হল, আদর্শ জগতের মতো ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্স একটা মিথ মাত্র, ট্রুথ নয়। ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবন-দুটোকেই সমানভাবে সময় দেয়া ও সমান তালে ফ্লারিশ করা দাড়িপাল্লার দুই অংশের মতো। ভারসাম্য কাম্য, তবে দূরহ। একটাতে ফোকাস দিতে গেলে আরেকটাতে টান পড়বেই।

আমি একটা মেক শিফট বা কাজ চালাবার মতো মডেল বলছি।

আগের প্ল্যান অনুযায়ী ২৫ বছরে আপনি চাকরি বা পেশায় ঢুকে পড়বেন। ১০ বছরে ২-৩টি জব বদলে সেটি করবেন। এতদিনে আপনি মোটামুটি সেটলড। আয়ও একটা ভাল পর্যায়ে।

তখন আপনি ৩৫ বছর। এবার আপনি সংসার পাততে পারেন।

৫ বছর নিজেরা দু’জন দু’জনকে বুঝুন, জানুন, মানুন, মানান, জীবন উপভোগ করুন। আয়ের একটা অংশ ব্যসিকে খরচ করুন, একটা অবসর ও অভিভাবকত্বের জন্য জমান, বাকিটা উড়ান। উড়ান মানে দু’জনের জন্য সুন্দর স্মৃতি জমাতে খরচ করুন। এই এনজয়মেন্ট ও ভাল সময়ের পুঁজি আপনাদের পরের জীবনের জন্য পাথেয় ও প্রাণসঞ্চারী হবে।

আমি ধরছি, মোটামুটি ৩০ বছর বয়সেই সবাই বিয়ে করেন। দেখবেন, গড়পড়তা ৮০% পরিবারেই দাম্পত্যের প্রথম ৫ বছর গেলে সম্পর্ক ফরমাল ও হালকা হতে শুরু করে। ১০ বছর হলে চার্ম কমে। ১০-১৫ তম বছরেই (যখন বয়স ৪০-৪৫) বেশিরভাগ ব্রেকআপ আসে, কারন ততদিনে একত্রে জীবন-যাপন করবার মতো আর কোনো লজিক ও সূত্র পাওয়া যায় না। ১০-২০ তম (যখন বয়স ৪০-৫০) বছর পার হলে আবার বিপদ কমে আসে। ততদিনে দু’জন আবার একসাথে থাকাটাকে নিজ স্বার্থেই কামনা করতে শুরু করে। দাম্পত্যের এই ১০-২০ তম বছরের ফারাটা কাটাতেই রসদের কাজ করে সেই যে প্রথম ৫ বছর স্মৃতি জমিয়েছেন, সেটা।

যাহোক, আমার ফর্মুলায় ৩৫ এ বিয়ে করে ৪০ বছরে পৌছালে বাবা-মা হবার জন্য সব রকম শিক্ষা ও মানসিক পরিপক্কতা অর্জনে সময় দিন। অবশ্যই আর্থিকভাবেও প্রস্তুত থাকবেন।

বয়স ৪০। বাবা-মা হতে চাইলে এবার হতে পারেন। সন্তানকে এমনভাবে প্রতিপালন করুন, যেন সে সত্যিকারের মনুষ্যত্ব পায়। নান্নু মুন্নু না হয়, সাবালক হয়, আত্মনির্ভর হয়, প্রকৃত শিক্ষাটা পায়। যে শিক্ষা বাপের পয়সায় বড়লোক হবার দীক্ষা দেয় না।

তার বয়স ১৮ (যখন আপনার বয়স ৫৮) হওয়া তক তাকে প্রোভাইড করুন। তার বয়স ১৮ হলে তাকে নিজের খরচ নিজে চালাবার জন্য তাগাদা ও প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করুন। তার ১৮-২৫ জীবনটা সে নিজেকে চালাবে। লাগলে বড় জোর ১৮-২০ তক আরও ২ বছর তাকে সাপোর্ট দিন।

তার বয়স ২০, তখন আপনার বয়স ৬০। ব্যস, এবার আপনার অবসর নেবার ও পূর্বের প্ল্যান মতো বাকি সময়টা সখ ও প্যাশন পূরণের সময়। কখনোই আপনার সব অর্জন, সক্ষমতা, সময় ও অর্থ সন্তান বা অন্য যেকোনো কিছুর পেছনে এককভাবে খরচ করবেন না। সন্তানদের জন্য সাম্রাজ্য রেখে যাবার দায় আপনার নেই। তার নিজের জীবন ১৮ হতে নিজেকে চালাতে শেখান। নিজের ভবিষ্যত নিজে গড়ে নিতে উদ্বুদ্ধ করুন। আপনার সারাজীবনের অর্জন দিয়ে তাকে জমিদার করে রেখে যাবার চাপ নিয়ে নিজের জীবনকে কেঁচো করে রাখবেন না। তাতে আপনারও ভাল হবে না, তারও না। এই পুরো প্ল্যানটা হাইপোথেটিক্যাল বাট লজিক্যাল জেনেরিক রেসিপি। এতে নিজের নিজের মতো মসলা, লবণ, স্পাইস দিয়ে নিজের মতো কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন। তবে হ্যা, এতে যতটা কম্প্রোমাইজ করবেন, ততটাই পে-অফ করতে হবে, জীবনেও, ক্যারিয়ারেও।

#careerplanning #LifePlanning #careerpreparation #subjectchoice #educationplanning #traininggrooming #fresher #under graduate #marrying #weddingplan #beingjobless #PotentialOfCareer #TypeOfCareer

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *