একজন প্রতিষ্ঠান মালিক কিংবা বিভাগীয় প্রধান হিসেবে নিশ্চই আপনাকে প্রতিদিন প্রচুর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেটা হতে পারে অপারেশনাল, হতে পারে স্ট্র্যাটেজিক, কিংবা হতে পারে নীতিগত সিদ্ধান্ত। আবার ব্যক্তিগত জীবনেও আমাদেরকে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনো সিদ্ধান্ত নেবার প্রেক্ষাপট থাকে খুবই সহজ ও সাদামাটা। আবার কখনো সেই প্রেক্ষাপট হয় খুবই জটিল, মিশ্র, মাল্টিডাইমেনশনাল। হয়তো কখনো কখনো আপনি সিদ্ধান্ত নেবার জন্য যথেষ্ট ব্রিদিং টাইম পান। কিন্তু আবার সেই আপনাকেই কখনো কখনো সিদ্ধান্ত নিতে হয় দ্রূততম সময়ে। যেমনটাই হোক, সিদ্ধান্ত নেয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি কাজ। সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার উপরে নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির ভবিষ্যত গতিপথ। একটি সঠিক ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে দৃশ্যপট। আবার ভুল সিদ্ধান্ত ধ্বংস করে দিতে পারে একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে।
জানেন কিনা? প্রতিষ্ঠানের টপ পজিশনের ব্যক্তিরা কিন্তু মূলত সিদ্ধান্ত প্রণয়নের জন্যই বেশিরভাগ দায়ীত্বপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। সিদ্ধান্ত প্রণয়ন নিয়ে আমরা একাডেমিতে রীতিমতো আস্ত একটি কোর্সই করেছিলাম। সেই কাটখোট্টা একাডেমিক পড়াশোনা আর আমার একযুগের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আজ খুব সংক্ষেপে ধাপে ধাপে বলার চেষ্টা করছি, কীভাবে সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করতে হয়:-
#innatelonging #aspiration #ultimateobjective #wailing #coreobjective #innergoal #innerobjective
১.
আপনি আগে নিয়ত ঠিক করুন। সিদ্ধান্তটি আপনি কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিচ্ছেন-সেই লক্ষ্যটি আগে স্থির করুন। নিয়ত শুধু নামাজ পড়তেই লাগে না। নামাজের নিয়তের মধ্য দিয়ে বিধাতা আমাদের প্রাত্যহিক ইহলৌকিক জীবনের অনেক শিক্ষাই দিয়ে দিয়েছেন। আপনি একটি ভাল ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সবার আগে ভেবে নিন, আপনি যে বিষয়/সমস্যা/ইস্যূটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন-সেটি আপনি নিশ্চিত কিনা।
মাঝে মাঝে বাংলা ও ইংরেজির কিছু শব্দের মধ্যে আন্তঃবিনিময় করতে গিয়ে খুব সমস্যা হয়। কিছু কিছু ইংরেজি ধারনার হুবহু বাংলা শব্দ পাওয়া যায় না। একইভাবে বাংলা ধারনার ইংরেজি করাও কঠিন হয়।
ঠিক যেমন Innate longing এবং vested reason এই দুটো compound শব্দ দিয়ে আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি, তার একদম উপযুক্ত বাংলা করতে পারছি না। যেটা অনেকটা সুপ্ত ইচ্ছা আর গূঢ় কারণ হতে পারে। অথচ আমি যা বোঝাতে চাই, সেটি হল, একজন মানুষের মনের গহীন কোণে লুকোনো কোনো বাসনা, যেটা সে দেখায় না, প্রকাশ করে না। বা, যেটা সে চায়, প্রকাশ করে তার হতে ভিন্ন কিছু।
কিছু না পেয়ে আমি Ultimate Objective দিয়ে কাজ চালাই।
অবজেকটিভ ও আলটিমেট অবজেকটিভ বলে দুটো বিষয় আছে। আপনি ঘরে ঢুকে বললেন, “এই, মা কই রে?”
এখানে সরাসরি অবজেকটিভ হল, মা কোথায় সেই জিজ্ঞাসার নিবৃত্তি।
কিন্তু, যদি আলটিমেট অবজেকটিভ অব দ্য কোয়েরি বলেন, সেটা হল, হয়তো আপনার ২০০ টাকা লাগবে। তার হতে নেবেন। তো, সেই ২০০ টাকাই হল আপনার ওই প্রশ্নের আলটিমেট অবজেকটিভ।
একইভাবে আপনার খুব ক্ষিধে পেয়েছে। পকেটে টাকা নেই। আপনি পথের মাঝখানে দাড়িয়ে জোরে জোরে বলছেন, “আমি যে না খেয়ে আছি, এটা কি খোদার চোখে পড়ে না?” আপনার এপারেন্ট বা প্রজেকটেড অবজেকটিভ হল, খোদার দৃষ্টি আকর্ষণ। কিন্তু, আলটিমেট অবজেকটিভ ভিন্ন। সেটা হল, রাস্তার কারো নজরে পড়া আর তার বদান্যতায় খাবার যোগান।
আপনার জীবনে কোনটা অবজেকটিভ, কোনটা পারপাস, আর, কোনটা মিডিয়াম-ভাল করে বুঝে নিন।
আমরা প্রায়শই অবজেকটিভ আর মিডিয়ামকে গুলিয়ে ফেলি।
যেমন টাকা। টাকা কখনোই জীবনের অবজেকটিভ হতে পারে না। টাকা কেবলই একটি মিডিয়াম। সচ্ছলতা হল টাকা নামক মিডিয়ামের মধ্য দিয়ে কাম্য পারপাস।
আর সচ্ছলতা নামক পারপাস সার্ভ হবার মধ্য দিয়ে অর্জন করতে চাই ডিগনিটি, কমফোর্ট ও সেফটি নামক অবজেকটিভ।
তাই, কিছুর পেছনে পড়বার আগে একটু ভেবে নিলে ভাল, যে, সেটা কি আমার মিডিয়াম, না অবজেকটিভ, নাকি পারপাস।
আমরা যা কিছুই করি, নিঃস্বার্থতম বা এমনকি উদ্দেশ্যহীনও, সেটার পেছনে খুব সূক্ষ্ণভাবে কি একটি উদ্দেশ্য থাকে না, যে, “শোনে সবাই, দেখো সবাই, আমার কাছে কিন্তু এটা আছে, ওটা আছে, আমি এই, আমি ওই, আমি পারি, আমি আছি”? জগতের নিঃস্বার্থতম কাজটিরও একটি স্বার্থ নিহীত থাকে, সেটি হল, ‘নিঃস্বার্থ’ স্বীকৃতি।
হ্যা, স্বীকৃতি মানুষের টাকা, পজিশন, পাওয়ার, ইন্দ্রীয়সুখ, সম্পত্তি অর্জন হয়ে গেলে রয়ে যাওয়া আলটিমেট লক্ষ্য ও ধ্যান। জগতের সকল মানুষের, সকল কাজের, সকল দৌড়ঝাঁপের চুড়ান্ত লক্ষ্য বা অবজেকটিভ আসলে এই পঞ্চতন্ত্রই-
টাকা>সম্পত্তি>ক্ষমতা>অবস্থান>ইন্দ্রীয় সুখ>স্বীকৃতি। একটা পাওয়া হয়ে গেলেই সেটার কথা আমরা ভুলে যাই। তখন অন্যটা হয়ে ওঠে আমাদের লক্ষ্য, অবজেকটিভ। আর তখনই আমরা ফ্রাস্ট্রেশনে পড়ি। ওটা নেই কেন-সেজন্য কষ্টে ভুগি। অথচ, দু’দিন আগেও আমার হাহাকার ছিল ভিন্ন কিছুর জন্য।
যেমন, একজন বেকার। তার কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা ও ধ্যানজ্ঞান, যে কোনো রকম একটা চাকরি। তার যাবতীয় কাজের অবজেকটিভ চাকরি, সেটা কেমন, কী রকম-কিছু যায় আসে না।
চাকরি পাওয়া মাত্রই তার নতুন চাওয়া। নতুন ফ্রাস্ট্রেশন-ইশ, বেতনটা বেশি কেন না? শুরু হয় নতুন অবজেকটিভ-বেশি বেতন। সেরকম চাকরি হবার পরে কালক্রমে একদিন সে ধনী হয়। তখন তার আক্ষেপ হয়, ইশ, বউটা কেন আরও সুন্দরী না, সে কেন তরুণী না, অমুকের বউটা খুব জোস। ইত্যাদি। এই ফ্রাস্ট্রেশন তাকে নিয়ে যায় পরকীয়ার পথে। এভাবে ইন্দ্রীয় সুখ মিললেও আরেক আরাধ্য ‘সুখ’ ও ‘শান্তি’ মেলে না। অতঃপর, পরিণত বয়সে তাকে পায় স্বীকৃতির নেশায়। তখন আর টাকা, ইন্দ্রীয়সুখ সব তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয়, মানুষের কাছে হ্যাডাম দেখাতে না পারলে, সমাজে দশজন আমাকে না চিনলে কীসের কী? সব বেকার। তখন তার অবজেকটিভ বদলে যায়।
আসলে, মানুষে নিজেও জানে না, কী তার অবজেকটিভ। বা, আলটিমেট অবজেকটিভ।
ফেসবুকে একটি গল্প খুব জনপ্রিয়। গল্পটি যে যার মতো করে পুনঃর্লিখন করে করে পোস্ট করে থাকেন। আমিও করলাম।
সেই অনুযায়ী, এক সাহেব মেক্সিকোতে একবার জেলেদের এলাকায় বেড়াতে গিয়ে দেখেন, জেলেরা একবার জাল ফেললে প্রচুর মাছ ওঠে। কিন্তু, তারা সারা দিনে মাত্র একবার জাল ফেলে যা মাছ পায়, সেটাই বিক্রী করে টাকা পকেটে পুরে সারাদিন হয় ঘুমায়, না হয় পরিবার নিয়ে মৌজ মাস্তি করে।
সারাদিনে আর মাছ ধরা কিংবা অন্য কোনো জীবিকার কাজে জড়ায় না। তো, সাহেব তাদের বলে, তোমরা তো চাইলে এক দিনে আরও অনেকবার জাল ফেলতে পারো, সেটা কেন করো না?
তো, জেলে তাকে শুধায়,
>অনেকবার জাল ফেলব কেন?
<অনেক মাছ পেতে।
>অনেক মাছ কেন দরকার?
<অনেক টাকা পাবে।
>অনেক টাকা দিয়ে কী করব?
<অনেক এনজয় করবে।
>তো সেই এনজয়মেন্ট তো এখনই চুটিয়ে করছিই। তাহলে আমার আরও কাজ কেন করতে হবে? কেন অনেক টাকাই বা লাগবে?
মোদ্দা কথা, আপনার যেটা আলটিমেট টারগেট, আলটিমেট অবজেকটিভ, আলটিমেট কনটেন্টমেন্ট, সেটিকে বুঝুন, সেটিকে ধরুন।
আমরা যা কিছুই করি, বলি, ভাবি, তার পেছনে (যাকে বাংলায় বলে) একটা গূঢ় কারণ থাকে। সেই গূঢ় কারন বা নিয়ত বা লক্ষ্যটিই আমাদের অবচেতনে আমাদেরকে ওই পথে চালায়।
যে কোনো কিছু করতে বা বলতে ওই আলটিমেট অবজেকটিভ বা গূঢ় নিয়তটি আগে জেনে নিন। তাহলে কাজের পথ ও পরিণতি নিয়ে আপনার ভাবনাকে সাজানো ও মানানো আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।
#SelfExplanation নিজেকে সবসময় তিনটি প্রশ্ন করুন, আর ওই তিনটি প্রশ্নের জবাব নিজের সব কাজ, সব কথা, সব ভাবনার বিপরীতে প্রস্তুত রাখুন, নিজের জন্য, অন্যেরও জন্য। নিজের কাছে ওই তিনটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে পরিষ্কার থাকুন। গভীরভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন-
>আপনি ultimately কী চান?
>আপনি যা চান, সেটি কেন চান?
>আপনি যেটা সত্যিই ও নিশ্চিতভাবেই চান, আর, কেন সেটি চান-সে ব্যাপারেও পরিষ্কার থাকেন, তাহলে সেটি কীভাবে পেতে চান?
আপনার জন্য তখন যেকোনো কিছুকে সহজ ও পরিকল্পিতভাবে ভাবা, বিশ্লেষণ করা, বিশ্বাস করা বা না করা ও বাস্তবায়ন করাসহ, করে ফেলবার পরের কনসিকোয়েন্স সহজেই মেনে নেয়া সম্ভব হবে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইয়্যীদ এর একটি উক্তি আমার খুব প্রিয়-”আমরা সবাই সফলতার পেছনে দৌড়াই, কিন্তু, কেউ স্বার্থকতার পেছনে দৌড়াই না।”
অর্জন, সফলতা ও স্বার্থকতার মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। আপনার সব অর্জনই সফলতা নয়। সব সফলতা স্বার্থকতা তো অবশ্যই নয়। ভাববার বিষয় হল, আপনি কোনটি চান? কোনটি আপনার আসল লক্ষ্য? আপনার যেই অর্জন শুধুমাত্র আপনাকেই উপকৃত করে-সেটি নেহাতই আপনার অর্জন, সেটি সফলতা নয়। আপনার যেই সফলতা কেবল আপনারই, অন্য বৃহত্তর জগত, মানবের জীবনকে যদি তা সমৃদ্ধ না করে, তাহলে সেটিকে আমি সফলতা মনে করি না। স্বার্থকতা তো অবশ্যই নয়।
আমার কাছে সফলতা ও অর্থপূর্ণ জীবন আসলে কী?
আমি জীবনে যখন যা হতে চেয়েছি, হা হতে পারা; যেমনটা হতে চেয়েছি ঠিক তেমনটা হতে পারা; নিজেকে যেমনটা দেখতে চেয়েছি-ঠিক তেমনটা দেখতে পাওয়াই সফলতা।
আর, আমি আমার জীবনকে, নিজেকে যেমন সফল দেখতে চেয়েছি, অন্যের জন্যও সেটা চাইতে পারা আর অন্যের কাছে তেমনটার স্বীকৃতি পাওয়া হল স্বার্থকতা। থ্যাংকস গড, তিনি অনেকের আরাধ্য জীবন আমাকে দেন নাই। তিনি আমাকে আমার বোধের জীবনটা দিয়েছেন।
২.সিদ্ধান্ত নেবার চুড়ান্ত কর্তৃত্ব কার-সেটি নির্ধারন করুন। সিদ্ধান্ত নিতে কার কার সাহায্য বা মতামত নেয়ার আনুষ্ঠানিক নিয়ম রয়েছে-তা নির্ধারন করুন।
৩.সিদ্ধান্তটি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও তার সুবিধাভোগী-সবগুলো বিভাগের প্রতিনিধিদেরকে সিদ্ধান্ত প্রণয়ন প্রক্রিয়াতে অন্তর্ভূক্ত করুন। প্রয়োজনে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ আনান।
৪.গণতান্ত্রীকভাবে সিদ্ধান্ত নিন। যারা সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ার বৈধ স্টেকহোল্ডার, তাদের মতামত নিন, বিশ্লেষণ করতে বলুন আর তারপর সেগুলোকে আমলে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিন।
৫.ইস্যূটির ইতিবাচক ও নেতিবাচক-উভয়রকম প্রভাব বিশ্লেষণ করুন। চিন্তার অবারিত দ্বার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীন পরিবেশ সেজন্য নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আপনি আপনার টীমের থেকে ভুল পরামর্শ পাবেন।
৬.খুব বেশি জরুরী বা ব্যস্ততা না থাকলে কিংবা স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, বাস্তবায়নের আগে কমপক্ষে একদিন অপেক্ষা করুন। হতে পারে, এর মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার কোনো উপযুক্ত কারন হাতে পেয়ে যাবেন।
৭.সিদ্ধান্ত গৃহীত হবার পরে, সিদ্ধান্তটি লিখে সংশ্লিষ্ট সকলের সাক্ষর নিতে পারলে সবচেয়ে ভাল হয়। যাতে ভবিষ্যতে সেই সিদ্ধান্তের দায় সকলের কাঁধে বর্তায়। ৮.ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্তটি নথিবদ্ধ রাখুন যাতে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত হয়। সংশ্লিষ্ট সকলকে সিদ্ধান্তটি মেইল/চিঠি/মুদ্রীত কপি আকারে পাঠান। ৯.প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেবার আগে তার পটভূমি, বিষয়টির আর্থ-সামাজিক ও মানবীয় দিকগুলো ও তার প্রভাব বিবেচনায় রাখুন। শুধুমাত্র যেই প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্ত নেয়া, সেই দিকটি এককভাবে দেখবেন না।
১০.সিদ্ধান্তটি কেমন হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন শুরুর কিছুদিন পরে মূল্যায়ন করুন। তাতে সিদ্ধান্ত পরিমার্জন করতে পারবেন।
১১.সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়ে গেলে, সকলে তার ওপর সার্বজনীন ভোট নিতে পারাটা সবচেয়ে ভাল একটি অভ্যাস। বিশ্লেষণ ও বিতর্কের পরে সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়ে গেলে সকলে তার ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
১২.সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকলে, সেই সিদ্ধান্তের ইতিবাচক ফলাফলে সবাইকে ক্রেডিট দিন। তেমনি বিপরীতক্রমে কোনো নেতিবাচক ফলাফল হলে তার দায় সবাই একত্রে নিন। কারো একার ওপর চাপিয়ে দেবেন না।
১৩.সিদ্ধান্ত নিতে মিটিং করতে চাইলে, (যদি সেটি জরুরী না হয়) কমপক্ষে ১ দিন সময় দিয়ে অগ্রপশ্চাতের সব তথ্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করে তার ওপর নিজস্ব বিশ্লেষণ তৈরী করে সভায় আসার সংস্কৃতি অনুসরন করুন।
১৪.সবচেয়ে বড় কথা, দ্রূত সিদ্ধান্ত নিন। স্মার্ট সিদ্ধান্ত মানেই দ্রূত সিদ্ধান্ত। তবে হ্যা, দ্রূত মানে, সিদ্ধান্ত নেবার সবকটি প্রক্রিয়া নিয়ম মেনে দ্রূত শেষ করা। দ্রূত মানে এটা নয়, ওই প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রূত সিদ্ধান্ত নেয়া।
১৫.সিদ্ধান্ত গ্রহন একটি শিল্পও। যারা সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়াতে জড়িত, তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষন দিন। তাদের ইতিবাচক মোটিভেশন নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ভাল সিদ্ধান্ত প্রণয়ন করতে হলে সিদ্ধান্ত গ্রহনকারীকে অবশ্যই নিরপেক্ষ, আপডেটেড, ভাবাবেগমুক্ত ও নন-বায়াজড হতে হবে। সবশেষে বলি, একটি পুরোনো কথা আছে-ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। বিজ্ঞজনেরা বলেছেন, অতি রাগান্বিত ও অতি খুশি অবস্থাতে সিদ্ধান্ত নেবেন না। কারন ওই অবস্থায় ভুল সিদ্ধান্ত বেশি হয়।
#DecisionMaking #Decisiveness