Skip to content

কানুনগো মহোদয়দের একচোখা বাইবেল

  • by

বাংলাদেশের খুব কম সংখ্যক ওয়াশ/ডাইয়িং কারখানাকেই এমন পাবেন যাদেরকে কখনো না কখনো নদী বা পানি দূষণের অপরাধে বিশাল অংকের জরিমানা গুনতে হয়নি। বা সিলগালা নামের মহাহাইস্যকর কুতকুত খেলার অংশ হতে হয়নি।

রাজকীয় কানুনপ্রয়োগ কর্তারা কারখানাতে যান, দোষ থাকুক, বা (অনেক সময়) নাই থাকুক, জরিমানার খড়গ নেমে আসে। সামাজিক মাধ্যমে আমরা সেই কঠোর বাইবেলীয় আইন প্রয়োগে কর্তাদের মহান ব্রত দেখে সুবানাল্লা মাশাল্লা করি আর দেশের সমস্ত গার্মেন্টস সেক্টরকে আরেক দফা মন খুলে গালাগালি করি, “শালারা দেশটাকে ধ্বংস করে দিল।” মুখের সুখ আর কি। যদিও কোনো এবসলুট কাট টু প্যাক গার্মেন্টসে তরল বর্জ্য আসলে হয় না। ইটিপি থাকা বা না থাকার দায়টা ওয়াশ কিংবা ডাইয়িং এর। মুশকীল হল, সরকারী সংস্থা ওয়াসা (যদিও নামটা WASA, যা বাংলাতে হবার কথা ডব্লিউএএসএ) তার কয়েক হাজার কিলোমিটারের পাইপ লাইনের অপরিশোধিত স্টর্ম ও সুয়ারেজ ওয়াটার দিব্যি হেসেখেলে বুক ফুলিয়ে ৬৮ টি পয়েন্ট দিয়ে হরিবোল হরিবোল বলে ঢাকার নদীতে ফেলে হাত ধুয়ে ফেলে।

গার্মেন্টস (আসলে ওয়াশ বা ডাইয়িং)কে জরিমানা করা বীর পুরুষরা রাজকীয় সংস্থা ওয়াসাকে কেন জরিমানা বা সিলগালা করে না-সেটা এক বড় প্রশ্ন। ও হ্যা, ওনারা বলেছেন, ওনাদের সব গান্ধা, ময়লা, হাগু মুতু মিশ্রিত ওসব লিকুইড ওয়েস্ট পুরোপুরি পবিত্র করে নদীতে ফেলবার মতো কাবেলিয়াত অর্জন করতে আরও দশ বছর লাগবে। তার মানে ২০২৯। ততদিন ওনাদের ওইসব রাজকীয় হাগুমুতু পানি হয়, পবিত্র জ্ঞানে দেখতে হবে, কিংবা চোখ বন্ধ করে নাকে রুমাল দিয়ে মানব-উট হতে হবে। কথা হতে পারে, যে, তারা দেশ মাতৃকার মহান সেবায় নিয়োজিত এবং তাদের জনবল/অর্থ সংকট আছে। তাই তাদের কিঞ্চিত রেহাই দেয়া যেতেই পারে। হ্যা, তা বটেই তো। তা বটেই তো।

মুশকীল হল, রাজকীয় সংস্থার অপারগতাকে যদি আমরা স্নেহের নজরে দেখতে পারি, তাহলে একটি বা কয়েকটি ব্যক্তিগত কোম্পানীর ওপরে কেন খরগহস্ত হবার নৈতিক অধিকার রাজকীয় কানুনপ্রয়োগ কর্তারা পেয়ে থাকবেন?

#environment #doublestandard #state #pollution

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *