Skip to content

কমপারেটিভ চয়েজ, অলটারনেটিভ পারসোনালিটি ট্রেইট ও বাঙালীর দ্বিচারিত্ব

  • by

এই ছন্নছাড়া লেখাটি আপনার জন্য নয়, যদি আপনি কাটখোট্টা শিরোনাম দেখেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। মানুষের মনোজাগতিক বিন্যাস ও গতিপ্রকৃতি নিয়ে জানা ও কাজ করাতে আমার ব্যক্তিগত আগ্রহ, উদ্ধৃত বিষয়টি নিয়ে আমার বহুদিনের টুকরো টুকরো ভাবনা এবং এসব নিয়ে প্রাজ্ঞজনের ভাবনাকে একত্র করে লিপিবদ্ধ করার প্রয়াসে এই লেখার জন্ম। তবে, আমি মনে করি, এটা পড়ার চেয়ে কক্সবাজার বয়কট যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক-তা নিয়ে রগঢ় করা ভাল হবে। কাঁচা বাদাম বা ভাজা বাদাম নিয়েও কথা বলা যেতে পারে।

এই লেখাটা ক’দিন লেখার মাঝেই একদিন সকালে দেখলাম, খোদ রাজধানী শহরের বুকে জনৈক বাস রাগ করে আত্মহত্যা করতে রাস্তার Island এ ঝাঁপ দিয়ে উঠে পড়েছে। অন্তত একটি পত্রিকার বয়ান দেখে তাই মনে হল। এখন Talk of the town এগুলো। এরকম একটা গরম সময়ে Human psychology ও Social discourse নিয়ে কথার ’বেইল’ কই? তবু চেষ্টা করে দেখাই যাক।

এক;

Comparative & compulsive choice:  এটা খুবই স্বাভাবিক, যে, আমরা সবসময় সবকিছুর সেরাটি বা নিজের সুবিধাজনক দিকটিই নিজেদের জন্য চাইব। সবকিছুতে ভাল দিকটি, নিজের পছন্দের দিকটিকেই পেতে চাইব। চাওয়া-পাওয়ার গোল বাঁধে তখন, যখন, যেটা চাইছি, তার অবিচ্ছেদ্য অংশটিকে আবার উপেক্ষা করতে বা এড়িয়ে যেতে চাইব।  তবে, তা তো হবার নয়। বাস্তব জীবনে বা Virtual এ Alternative কথাটির অস্তিত্ব যেমন আছে, তেমনি আছে Inevitable বা Unavoidable অর্থাৎ, অনিবার্য, অনতিক্রম্য অথবা অবিচ্ছেদ্য-এই কথাগুলোর উপস্থিতি। সেই সাথে আছে Bi-product বা উপজাত বলে একটি শব্দ। অনেকটা ওই ধরুন, মূলা খেলে গ্যাস ফ্রি হবার মতো। ব্যাপারটা ঠিক কেমন? 

ব্যাপারটা অনেকটা এমন, যে,  আপনি যদি ঐশ্বরিয়ার মতো Miss Universe বউ চান ও পান, তাহলে অবশ্যম্ভাবিভাবে বিশ্বপ্রেমিকা কিংবা কাঁচুলি পরা ঐশ্বরিয়ার অস্তিত্বও মেনে নিতে হবে। সে তখন হিজাবী মালালা হবে না। ঘোল খাবেন অথচ মোচ ভেজাবেন না-তা তো হবার নয়, তাই না?  অথবা, নারী হয়ে যদি জন এব্রাহামের মতো সুপুরুষকে নিজের বর হিসেবে চান, তার মতো বরকেই আদর্শ বর ধরে নেন, তাহলে আপনাকে দরকারে Live-in দাবীকেও মেনে নিতে হতে পারে। সুলতান সুলেমানকে চাইলে তার শত বিবি ও দাসীর হারেমের জ্বালাটাও হজম করতে হবে। ঠিক যেমন, কড়া রামের স্বাদ নিতে হলে অল্প বয়সে Liver পঁচে মরবার স্বাদও নিতে আপনি বাধ্য। 

বিষয়টা এখনো বুঝে না এলে একটা বাস্তব গল্প বলি।

একদিন আমার গিন্নিকে নিয়ে শীতের সকালে গেছি বেড়িবাঁধের নদীর পাড়ের এক বাজারে। শীতে দু’জনেই জবুথবু হয়ে জিনিসপত্র দেখছি। আসলে স্ত্রী সদায়পাতি করছেন আর আমি নদীর ছবি তুলছি। পাশেই একজন “পুরুষ” বিছানার চাদর গায়ে জড়ানো অবস্থায় এক দোকানীর কাছ হতে ঢেঁরস কিনছেন। একটা একটা ঢেঁড়স টিপে টিপে কচি কিনা তা পরখ করে তিনি 1/2 KG ঢেঁড়স কিনে গৃহে প্রত্যাগমন করলেন। আমার স্ত্রী আমায় নিয়ে পড়লেন। “তুমি এমন করে ”পুরুষের” মতো বাজার করতে পার না? তুমি দেখে বুঝে কিনতে পারলে তো আমার কষ্টটা কমত।”

আমি আমার স্ত্রীকে বললাম, ”দেখো, যেসব ’পুরুষ’ মানুষ একটা একটা ঢেঁড়সের বোটা টিপে, লেজা চিপে কচি ঢেঁড়স কিনতে পারেন, তারা ’পুরুষ’ হিসেবে খুবই কাবেল-তাতে কোনো সন্দেহ নেই; তবে ’মানুষ’ হিসেবে তারা অত্যন্ত কুচুটে টাইপের হয়। তো তুমি যদি অমন ঢেঁড়স Expert ”পুরুষ” স্বামী চাও তাহলে কুচুটে স্বামীও মেনে নিতে হবে।”  আমার স্ত্রী আমাকে তাড়া লাগান, “রিক্সা ডাকো”।

দুর্মুখেরা বলে, ১ লাখ টাকায় I-phone কিনলে তার Packet টাও ওই দামেই কিনতে হবে, যেমন, কলা কিনলে তার খোসাও কিনতে আপনি বাধ্য। তিন টাকার কলমের Cap হারালে শুধু Cap কিন্তু কেনা যায় না, সেই কলম ও ক্যাCap দুটোই আবার একসাথে কিনতে হবে, যদিও আপনার কেবলমাত্র Capটিই দরকার ছিল। এই পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার আরও কিছু বাস্তব উদাহরন যদি দেখি-আপনি যদি ধনী বিধবাকে সম্পত্তির জন্য বিয়ে করেন, আপনাকে তার ১৩ বছর বয়সী Ready বাচ্চার Ready পিতৃত্বও মেনে নিতে হবে। আপনি যদি কান টানেন, তাহলে মাথাও আসবে। অর্থাৎ, ব্যক্তি, সমাজ, সমাজব্যবস্থা, সামাজিক বিন্যাস, চয়েজ, ব্যবস্থাপনা-যার কথাই ধরি, সবকিছুরই Inevitable Correlation বলে কিছু থাকে, থাকে Bi-product, যাকে এড়ানো অসম্ভব এবং এড়ানোর চেষ্টাও অবান্তর। তাকে সহজভাবে ও সহজাতভাবেই মেনে নিতে হয়।

নিউটন বলেছিলেন-Action is equal to re-action যাকে বাঙালরা বলে আপনি যদি ইটটি মারেন, তাহলে পাটকেলটিও খেতে হবে। আপনি যদি Caring husband চান, তাহলে Possessive husbandও মেনে নিতে হবে। দুর্মূখেরা যেমনটা ফেসবুকে বলে, যারা Genius হয়, তারা নাকি Arrogantও হবে। (মানে, Match winner সাকিবকে ভালোবাসলে নাকি Arrogant সাকিবকেও হজম করতে হবে।) অনেকটা যেমন, তুমি যদি ধোঁয়া দেখো, তুমি ধরে নেবে, সেখানে আগুনও আছে।  এটাই নাকি নিয়তি। কতটা সত্যি জানি না। সমস্যা হল, আমরা চলি স্রোতের বিপরীতে, কলাটা ঠিকই চাই, মুলাটা চাই না। আমরা চাই অনেকটা যাকে বলে, ফুল নেব, কাঁটা নেব না।

আমরা পুরুষরা চাই, ঐশ্বরিয়ার মতো সুন্দরী বউ, যে, আবার রাবেয়া বসরীর মতো ধর্মপ্রাণ হবে। নারীরা চায় হৃত্তিকের মতো Lover boy যে আবার মন্টুর বাপের মতো Caringও হবে। নারীরা মাইক শুমাখারকে বিয়ে করবে তার গতির বুনোতার মোহ ও প্রেমে পড়ে। কিন্তু, বিয়ের পরেই বলবে, এমন বিপজ্জনক কাজ করতে গিয়ে তুমি মরলে আমার কী হবে। অতএব, Race ছাড়ো। আমরা স্বর্গে যেতে চাই, কিন্তু, সেখানে যাবার জন্য মৃত্যু চাই না।ব্যক্তিগতভাবে আমার reflex বেশ কম। Reflex কম থাকায় আমি কখনো ক্রিকেটে ভাল করতে পারিনি। Reflex কম থাকায় আমি বেশ কিছু বিষয়ে বেশ অসুবিধায় পড়ি। আবার, reflex কম থাকায় আমি বেশ কিছু সুবিধাও উপভোগ করি। কম reflex’র জন্য আমি বাকপটু হইনি। আফসোস। আবার আমি সেই একই drawback এর কারনে লেখার ক্ষমতা পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।

জীবনে চলতে ফিরতে এই গণদাবী নিশ্চয়ই আপনি শুনেছেন, ”আপনার সবদিকই তো ভাল, সবই চমৎকার, শুধু যদি ওই দিকটা একটুউউউউ ঠিক করে নিতেন, যদি অমুক দিকটা একটুউউউউ শুধরাতেন, তমুকটা যদি আরেকটুউউউউ ভাল করতেন-তাহলে আপনি সেরা হয়ে যেতেন।” এমনটা কেবল কল্পনাতেই সম্ভব। বাস্তবে, আপনি একজন সার্বিক মানুষ। আপেক্ষিক ওইসব বিচ্যুতি নিয়েই আপনি আপনার আপনি। মানুষকে customize করা যায় না। ফরমায়েসী মানুষ বলেও কিছু নেই। দুধ হতে যেমন cream আলাদা করা যায়, মানুষ ও তার সমাজকে তেমন করে বিশুদ্ধতম ও ফরমায়েসী কোনো চরিত্র হিসেবে marginalize, customize ও rationalize করা যায় না। সবটা নিয়েই, সবরকম ভাল-মন্দ নিয়েই মানব ও মানব সমাজ।

#JudgingHuman ভাল বা মন্দ, ন্যায় বা অন্যায়, ঠিক বা বেঠিক, উচিত বা অনুচিত-এই বিবেচনা ও বিচারগুলো খুব বেশি বাইনারি জাজমেন্ট। আপেক্ষিকতার এই জগতে সরাসরি ভাল আর খারাপ বলে কিছু হয় না।

আমি তাই ভাল না মন্দ-কোনো কিছুকে নিয়ে বা কোনো কাউকে নিয়ে এরকম বাইনারি জাজমেন্টের ধন্দে পরি না।

আমার ওয়ে অব থিংকং হল সে আমার যে কনটেক্সট ও রিকয়ারমেন্ট, তার সাথে কমপ্যাটিবল কিনা। ব্যাস। সে ভাল না খারাপ-সেই জাজমেন্টেই যাই না। কমপ্যাটিবল হলে তার সাথে ডিল করি, না হলে বিদায়।

তারপরও, যদি প্রশ্ন হয়, বলুন তো, লোকটা কেমন, বা জিনিসটা কেমন অথবা এই ঘটনাটা কেমন-আমি তখন নির্দিষ্ট কমপ্যাটিবিলিটি ফ্যাক্টরের বিপরীতে সেটাকে যাচাই করি। শুধু সেই ট্রেইটটার রেজাল্ট দেখে মন্তব্য করি।

মানুষকে যাচাই করতে হলে আমি যেই ফ্যাক্টর বা ট্রেইটগুলোর নিক্তিতে তাকে মেজার করি সেগুলো বলি: –

ক. তিনি মিথ্যা কথা বলতে অভ্যস্ত কিনা।
খ. তিনি চিন্তার অসততায় অভ্যস্ত কিনা।
গ. তিনি লোভী, নাকি নির্লোভ।
ঘ. তিনি গণতান্ত্রীক, নাকি স্বৈরাচার।
ঙ. তার চিন্তার প্রক্রিয়া ও ধরন সুষ্ঠু কিনা।
চ. তিনি বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা।
ছ. তিনি পারভার্ট কিনা।
জ. তিনি কপোট কিনা, মানে ভান করেন কিনা।
ঝ. তিনি বুদ্ধিমান কিনা।

এগুলোর কোনোটায় তিনি নেগেটিভ হলে সেটার ইমপ্লিকেশন যেখানে আছে, সেগুলো বিষয়ে তাকে এড়িয়ে যাব।

ধরুন, দেখা গেল তিনি লোভী। তখন আমি শুধু বলব, লোকটা লোভী (লোকটা মিথ্যুক ভাবব না)। আর তার কাছে তখন ১ লাখ টাকা জামানত রাখব না।

বা, যদি জানি লোকটা মিথ্যা বলে, তাহলে বাকিগুলোতে তাকে পজিটিভ ধরে নিয়ে শুধু বলব, লোকটা মিথ্যাবাদী, আর তখন তার কাছে কোনো ক্রূশিয়াল তথ্য বা সত্য জানতে চাইব না, বা, তার কথায় আমল করব না। ব্যাস, এতটাই।

মানুষটা ‘ভাল’ বা ‘খারাপ’-এই বাইনারি জাজমেন্ট করব না। বলব না।

ভাল মানুষ, বা, খারাপ মানুষ না, মানুষ আসলে নির্ধারিত কনটেক্সটে কমপ্যাটিবল বা নন-কমপ্যাটিবল মাত্র।

মনে রাখবেন, আমি বলছি না, দশটা ভাল দিক থাকলে তার ১১ তম খারাপ দিকটি গ্রহনযোগ্য হয়ে যাবে। আমি বলছি, মানুষের ব্যক্তিত্বের একটি ফিচার বা ট্রেন্ড বা বৈশিষ্ট আরেকটি ফিচারকে কো-অপট করে, কোহেরেন্ট করে। আমি বলছি critical correlations’ কথা, Bi-product’র কথা, Reaction’র কথা, co-existance’র বাস্তবতার কথা, inevitable relation’র কথা, যা গড়পড়তা একটি common phenomenon। ব্যক্তি জীবন হতে, ব্যক্তিক আঙ্গিক হতে এবার সমষ্টিক প্রেক্ষিতে দেখি। পশ্চিমা নোংরা ও উচ্ছিষ্টের ভাগাড় আমাদের সমাজ ও সমাজচিন্তা। স্বভাবতই আমরা জানি ও মানি, যে, মানুষ অনুকরণ প্রিয়, অনেকটা বাঁদরদের মতো। মনে পড়ে, সেই যে, বাঁদরদের টুপি চুরি ও ফেরতের গল্প?

’পশ্চিমা’ নামে একটি শব্দ এই দেশে প্রচলিত আছে। এ দেশের যা কিছু খারাপ, অসঙ্গত, অন্যায্য ও আপাতঃ অগ্রহনযোগ্য-তার সবকিছুরই জন্ম ও আগমন ’পশ্চিম’ নামের কোনো এক utopians গ্রহ হতে। তো সেই পশ্চিম হতে আমরা culture, fashion, lifestyle, education, approach to life ধার করি। পশ্চিমারা যা করে, আমরাও চোখ বুজে সেটাই করি। ওরা pop গান শোনে, আমরা আমাদের জারি, সারিকে রাতারাতি ’ক্ষ্যাত’ আখ্যা দিয়ে pop এ মাতি। ওরা jeans পরে, আমরা লুঙ্গিকে বিদায় জানাই। ওরা ফেসবুক বানিয়ে দিল, আমরা তাতে তুমুলভাবে মেতে উঠি। পশ্চিমারা অবাধে প্রেম করে, আমরাও সেটাকে model ধরে নিয়ে রমনার ঝোঁপে প্রেম নামের প্রণয়ে লিপ্ত হই। পশ্চিমে লোকে বিয়ে করে না-বাচ্চার জন্ম দেয়, ব্যাস, আমরাও বয়স, সমাজ বাস্তবতা, পরিণতি-কিছুই না ভেবে ঝাঁপাই। তার পরিণতিতে school hour এ রমনা পার্ক, কাঁশবন, বেঁড়িবাঁধ, super mall কিংবা food court এ class 5/6 এর বাচ্চারা স্কুল ফাঁকি দিয়ে বা কোচিংয়ের নামে প্রেম বা afair নামের লিলায় মত্ত হয়।  এই পশ্চিম প্রীতি ভাল না খারাপ সেই আলোচনা করার মতো যোগ্য কেউ আমি নই। শুধু জানি, যদি আপনি পশ্চিমাদের মতো, ১৮ বছর হলেই সন্তানকে বাসা বের করে একা করে দেয়া বা ১৮ হলেই বের হয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি ভাল মনে করেন, তাহলে আপনাকে ৮০ বছর বয়সে একা একা ধরের মধ্যে পড়ে থাকাকেও মানতে হবে। বাপ-দাদার সম্পত্তির জোরে জমিদার হয়ে যাওয়ার লালসাও ত্যাগ করতে হবে।

যদি আপনি পশ্চিমাদের মতো ১৩ বছর বয়সেই free-sex কে যথাযথ মনে করেন, তাহলে আপনাকে বিনা obligation এ যে কোনো সময় pregnant আপনাকে ছেড়ে চলে যাবে আর তখন আর আপনার “বিয়ের প্রলোভনে sex’ এই অভিযোগ করা চলবে না। তাদের মতো বিয়ে, sex ও অতঃপর বিচ্ছেদকে সহজভাবে তাদের মতো মেনে নিতে হবে। প্রেমিকের বাড়ির সামনে গিয়ে অনশন করা চলবে না। একটি সংস্কৃতির ভাল বা সুবিধাটা নেবেন, আর অসুবিধা নেবেন না-তা কি হয়? অনেক সময় বাজারে দেখবেন, একটি কিনলে একটি free। সেখানে কোনো চয়েজ থাকে না। যেটা ফ্রি, সেটাই নিতে হবে।

জীবন ও সমাজব্যবস্থাও তেমনি। এখানেও জোড়া সিস্টেম। যেমন lifestyle ও philosophy বেছে নেবেন, তার ভালটা যেমন ঘটবে, খারাপটাও ঘটবে। নিরেট আশির্বাদ বলে কিছু নেই। পশ্চিম হতে ধার করেই হোক আর নিজেদের আবহমান কালের ক্ষয়িত সংস্কৃতি হতে অর্জন করেই হোক, যেই culture ও social approach আজকে নিজের জন্য বেঁছে নেবেন, কাল বা পরশু তার positive ও negative-উভয় ফলই মেনে নিতে হবে। তার জন্যও প্রস্তুত থাকুন। ইতিহাস বলে, বাঙালীরা অন্যের জিনিস অন্ধের মতো copy করতে যতটা ওস্তাদ। অন্যের থেকে ভাল ও মন্দ ছেঁকে নিয়ে শুধু ভালটা আত্মস্থ করতে ততটাই অপারগ।

দুই;

Perceptual distortion/preconceived notion/predetermined concept/pre-guided perception: এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি অনেকদিন। ভাবি, গুছাই আবার এলোমেলো হয়ে যায়। প্রান্তিক জনে, বিজ্ঞ জনে জ্ঞান ধার করি, বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ভাবনা শুনি। এই সেদিনও বেশ কয়েকজনের সাথে আলাপে বিষয়টার একটা হদ্দমুদ্দ করতে চেষ্টা করলাম। শুনে মনে মনে একটা খসড়া দাড়া করালাম কিন্তু পরক্ষণেই আবার তালগোল পাকিয়ে ফেললাম। আচ্ছা, আপনি কি কখনো Pre-designed thought process, pre-guided চিন্তার কথা কখনো শুনেছেন? না শুনে থাকলেও ক্ষতি নেই। বাদ দিন, তার চেয়ে বলুন তো, আমাদের perception কীভাবে তৈরী হয়? আমাদের perception’র একটি বড় অংশই আসলে pre-fixed। কেমন?

আমরা যদি শুনি কেউ বড় শিল্পপতি, ধরেই নিই, সে তো ব্যাংকের টাকা চুরি করে। যদি কাউকে নতুন গাড়ি কিনতে দেখি, ধরেই নিই, সে তো ঘুষ খায় অহরহ। কারো বাড়ি উত্তরবঙ্গ, তাহলে ধরেই নিই সে তো গাড়ল হবেই। কেউ একজন বারে চাকরি করে, চোখ বুজে ধরে নিই, সে তো মদ্যপ হবেই। কোনো একজন পুরুষ, divorce পেয়েছেন, আমরা ধরেই নিই, সে নিশ্চয়ই নপুংশক। নারী divorce পেলে ধরে নিই, সে বোধহয় চরিত্রহীন। একই ধারায় আমরা ধরে নিই- পুলিশে চাকরি করে মানেই অসৎ, গরীব মানেই ভালো, গ্রামের মানুষরা সব সহজ সরল। মাদ্রাসার ছাত্র মানেই ধর্মান্ধ। মেয়ে employee মানেই সন্ধ্যার পর অফিসে থাকবে না, পরিশ্রম করতে চাইবে না। এই যে, আগে হতে জানা perception কে hello effect’র সাথে মিলিয়ে নিজের নিজের perception তৈরী করা, যে কোনো কিছুর ওপর আগে হতে জানা তথ্য বা অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে নতুন কোনো কিছুকে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা, তা মানুষের মধ্যে আছে যুগ যুগ ধরে।

আপনি কি একজন ‘তাইলে কি’ মানব? নাকি নন? ’তাইলে কি’ হল,….আপনাকে কোনো ইস্যুতে কিছু একটা তথ্য, সত্য বা তত্ব বলা হল। আপনি সেটা বুঝুন বা না বুঝুন, ইস্যুর ১৮০ ডিগ্রী উল্টো করে আকাশপাতাল না ভেবেই ঠিক তার একটা বাঁকা মানে ধরে বললেন, “তার মানে কি আমনে এইডা কইতে চাইলেন?” আপনাকে বল হল, আজ আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে। আপনি উত্তর করলেন, “তাইলে কে আপনে কইতে চাইলেন, এতদিন আমারে অসুন্দর লাইগত?” নাকি আপনি একজন ”যা হওয়ার হইছে” মানুষ, যিনি খুব সহজেই যেকোনো জটিলতা বা পরিস্থিতিতে ব্যাক অফ করতে ও পূর্বাপর জটিলতা মুহূর্তে মন হতে ঝেরে ফেলতে পারেন? আরেকটি দিক আছে। সেটি হল, আপনি একজন ”তাইলে এমনটাই” মানব। মনে করুন, আপনার বস আপনাকে ডেকে বললেন, “আপনি কি কাল লাল শার্ট পরে এসেছিলেন?” আপনি বললেন, “না তো বস।” তিনি বললেন, “আচ্ছঅ, ঠিক আছে, আপনি যান।” আপনি চলে যেতে গিয়ে আবার থমকে দাড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “বস, এ কথা কেন জিজ্ঞেস করলেন?” তিনি বললেন, “নাম এমনিই।” এখন আপনার পক্ষে কি সত্যিই নিজেকে মানিয়ে নেয়া সম্ভব, বা কৌতুহল মুহূর্তে ঝেরে ফেলে বিশ্বাস করা সম্ভব, যে, না, ওটা সত্যিই এমনি ছিল? 

Hello effect বোঝেন তো? তবে, Hello effect কে নিজের চিন্তার ও judgement’র ওপর প্রভাব রাখতে দেয়া উচিত না-এমনটা আমরা বলে থাকলেও, Hello effect ছাড়া চিন্তা করাটা আবার এত সহজও না। বিশেষত অনুমান যখন আমাদের নিত্য চিন্তার অন্যতম অঙ্গ। এই জটিলতার একটি সহজ উদাহরন দিই। ধরুন, আপনি interview নিতে বসেছেন। চাকরি প্রত্যাশী রুমে ঢুকলেন। তার চুল উস্কোখুস্কো, পরনে sandal। আপনি ধরে নিলেন, এই লোক serious না, এবং স্বভাবতই আপনি ধরে নেন, যে, সে চাকরি পাবার যোগ্য না। Interviewতে যেহেতু sandal পরে এসেছেন। এখন, sandal পরে এসেছেন বিধায় তিনি non-serious এবং অযোগ্য-এই judgement একদিক দিয়ে Hello effect জনিত ভুল। কারন, সামান্য বহিরাবরন দেখেই judgement করে ফেলা হয়েছে।

আবার, হ্যা, আমরা আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা হতে জানি, যে, interviewতে sandal পরে আসার প্রায় কথাই না। সেখানে যদি কেউ সত্যিই পরে আসেন, তিনি হয় প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী এবং এই কাজটির সাথে জুতার design সংশ্লিষ্ট না-তিনি এই বিশ্বাসে বিশ্বাসী; নয়তো, ধরে নিতে হবে, তিনি serious নন এবং updated নন, যে, interviewতে কীভাবে আসতে হয়। চিন্তার এই দিকটাও সত্যি। অনুমানকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে প্রাত্যহিক জীবন চালানো এত সহজ না। অনুমানের দরকারও আছে। হ্যা, আমরা যেটি করতে পারি, Hello effectকে খুব সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা। আপেক্ষিকতাকে মাথায় রেখে তাকে ব্যবহার করা। 

আমরা আসলে সেটাই দেখি, যেটা আমরা দেখতে চাই।

আবার,

আমরা আসলে সেটাই দেখি, যেটা আমাদের দেখানো হয়।

যা কিছুই দেখুন, যা কিছুই শুনুন, নিজস্ব থটস/ন্যারেটিভ নির্মানে সতর্ক হোন। কারন তো বললামই, যা নিজের চোখে দেখছেন, যা নিজের কানে শুনছেন, সেটাও নিশ্চিতভাবে সত্য নয়। এবং, সত্য হলেও, তার কনটেক্সট বিশ্লেষণ করতে না পারলে, সেটা সত্য হলেও ভুল।

আপনার চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, অ্যাভেলেবল তথ্য, সত্য, তত্ব, উপাত্ত, শব্দ, ছবি, সাহিত্য, জ্ঞান-এর সবকিছুই এর সৃষ্টিকর্তার বায়াস হতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি ক্লোজড সাইলেন্ট আনসিন গ্রুপের বায়াস, ইন্টারেস্ট, ভিশন ও ভিউ পয়েন্ট হতে উৎসারিত।

আমরা অক্সফোর্ড, হারভার্ড, কেমব্রিজ, সক্রেটিস, আইনস্টাইন, ফুকো, সাঈদ, রুমী, ইকবাল, গান্ধী, চার্চ, ভ্যাটিক্যান, দেওবন্দ, বৃন্দাবন হয়ে হালের ফেসবুক, লিংকডইন অথবা চ্যাটজিপিটিতে যা দেখি, শিখি, বুঝি, শুনি-সেগুলো বায়াসে পূর্ণ। হারভার্ড যে জ্ঞান উৎপাদন করে, সেটা কি বায়াস মুক্ত?

বায়াস একটি অলঙ্ঘ্য বাস্তবতা। আবার, এই অলঙ্ঘ্য সত্য তারপরও ভুল। বায়াসড বিশ্বাস সত্য হলেও ভুল।

আপনি কি বায়াস, প্যারাডাইম, ন্যারেটিভ, কনটেক্সট নিয়ে সচেতন?

এই ধারাবাহিকতায় আমি মি. জাহেদ উর রহমান এর এই লেখাটিকে উদাহরন হিসেবে প্রায়ই বলি। [cognitive bias VS confirmation bias: মানুষের এমন আচরণ ব্যাখ্যা করতে হলে বুঝতে হবে মানুষের এক মানসিক বৈশিষ্ট্যকে। বাস্তব জীবনে মানুষ যেসব বিষয়ের মুখোমুখি হয়, সেগুলোর মূল্যায়নে মানুষ পুরোপুরি নিরপেক্ষভাবে কখনো বিচার করতে পারে না। এগুলোর মূল্যায়নে মানুষ তথ্য, যুক্তিজ্ঞানের বাইরে গিয়ে বোধ-বিশ্বাসের সঙ্গে মিলে তার বাস্তবতা তৈরি করে। মনোবিজ্ঞানের আলোচনায় এটাকেই cognitive bias বলে। অনেক রকম bias আছে, কিন্তু যে biasটি প্রায় সব মানুষের মধ্যে কমবেশি পাওয়া যায় সেটি হচ্ছে ‘confirmation bias’। Confirmation bias বলে, কোনো বিষয়ে আমরা সেসব তথ্য খুঁজি, বিশ্বাস করি, মনে রাখি, কাজে লাগাই, যেগুলো আসলে আমাদের আগের বোধ-বিশ্বাসকে সমর্থন করে। আমরা আসলে আমাদের পূর্ববর্তী বিশ্বাসকেই পোক্ত করতে চাই। একই বিষয়ে আমরা আমাদের ভেতরের চিন্তা, চাওয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কোনো তথ্য, সত্যকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। বিবর্তন মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষ এই পর্যায়ে আসার পথে মানবমস্তিষ্ক সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা থেকে ধাপে ধাপে সরে এসে কতগুলো pattern এ ফেলে দিতে শুরু করে। এই pattern’র সঙ্গে মিলিয়ে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা তাকে অনেক বিপদ থেকে বাঁচিয়েছে, তাকে টিকিয়ে রেখেছে। কারণ, এভাবে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করাটা সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করার চেয়ে অনেক দ্রুত হয়।]

বলছিলাম pre-designed, pre-guided চিন্তা, কাজ, সৃষ্টির কথা। একজন লেখক, সৃষ্টিশীল শিল্পী, নির্মাতা, প্রগতির কর্মী, বিপ্লবী-যে কেউই এই pre-designed, pre-guided, তথা ফরমায়েসি সৃষ্টির চোরাকাঁটার ফাঁদে পড়তে পারেন। সেই ফাঁদের নাম ভয় ও লোভ। অর্থ, সুনাম, ভাবমূর্তি, স্বীকৃতি, ভক্তকূলের লোভ ও তাকে হারানোর ভয়-এগুলোই একজন সৃষ্টশীল ব্যক্তিকে শেষ করে দেবার জন্য যথেষ্ট।  এরই সাথে যোগ হয় বায়াস-সে cognitive bias বা confirmation bias-যেটিই হোক। ফলাফল, আমরা আমাদের bias ও pre-determined perception আরেকটু ঝালিয়ে বা বাজিয়ে দেখে, খানিক অনুমান, খানিক যাচাই, খানিক সত্য, খানিক অসত্য-মিলিয়ে ককটেল করে ব্যক্তি, বস্তু, সময়, ঘটনা, phenomenon সম্পর্কে আমাদের রায় দিয়ে দিই।

তালুকদার বংশ বা রায় বাহাদুর বংশের প্রতি মানসিক আনুগত্য, মানসিক দাসত্ব তথা, বংশপ্রীতি তো আমাদের নতুন নয়। অমুক বংশের পোলা বা মাইয়া-মানেই বংশীয় ভাল পোলা-মাইয়া। বিয়ের বাজারে ব্যাপক কাটতি। বাঙালীর জীবনে ও সমাজে খানদান, তকমা, হিস্ট্রী, রিভিউ, ’লিগ্যাসী-এসবের প্রচন্ড কদর। অমুক বুয়েটে পড়েছে-সে নিশ্চয়ই প্রচন্ড মেধাবী হবে। অমুক আর্মিতে ছিল-সে নিশ্চয়ই খুব ডিসিপ্লিন্ড হবে। অমুক থাইল্যান্ডে থাকে-সে তো নিশ্চয়ই চরিত্রহীন হবে। অমুক ওয়ালটন ফোন ব্যবহার করে-সে তো নিশ্চয়ই কৃপণ হবে। অমুক ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ এর কাছে গান শিখেছে-সে তো নিশ্চয়ই সংগীতজ্ঞ হবে।

অমুক হারভার্ড হতে ডক্টরেট পেয়েছে-সে তো নিশ্চয়ই খুব উঁচু দরের স্কলার হবে। অমুক মুভি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে-ওই মুভিটাতো নিশ্চয়ই উঁচু মার্গের হবে। অমুক খবরটা সংবাদপত্রে ছেপেছে-ওই খবরটা নিশ্চিতভাবেই সত্য হবে। এই সূত্র ধরে আমরা বায়াসে আক্রান্ত হই। বায়াস মুক্ত হোন। আপনি একটি আপেল গাছের তলে বসে আছেন, একটি আপেল আপনার কোলের মধ্যে খসে পড়ল। আপনার মাথায় সবার আগে কোন চিন্তাটি উঁকি দেবে?

ভাবতে থাকুন। পেয়ে গেলে লিখুন।

তবে, গড়পড়তা ৯৮% বাঙালীর মাথায় প্রথমই চিলিক দেবে, “ইশশশশশ, আরেকটু হইলেই গেছিলাম। যদি মাথায় পড়ত?” (৯৮% অতিরঞ্জিত হয়ে গেছে মনে হলে ওটাকে ১৮% এ আটকে নিন।)

তার পরপরই মাথায় যে চিন্তাটা আসে, সেটা হল, “যাই, কেউ দেখে ফেলবার আগেই এটাকে ঘরে বা সেফ স্থানে লুকোই। যাতে অন্য কেউ দাবী না করে বসে।”

কিন্তু, এই ঘটনাটিই যখন নিউটনের সাথে ঘটেছিল, তার মাথায় প্রথমেই যেই প্রশ্নটি বিদ্যুৎ ঝলকের মতো দেখা দিয়েছিল, তা হল,

”আপেলটি গাছ হতে খসে গেল কেন? আর, যখন গেলই, তাহলে সেটি নিচেই কেন পড়ল, ওপরে চলে গেল না কেন?”

তার এই এক ভিন্নধর্মী জিজ্ঞাসা ও জিজ্ঞাসু মনই পৃথিবীর ইতিহাস ও ভবিষ্যত নির্মান করে দেবার মতো আবিষ্কার এনে দিয়েছিল,

”দ্য, ল অব গ্রাভিটি।” F = G * (m1 * m2) / r^2

আপনার (আসলে আমার) চিন্তাই আমাদের ডিফাইন করে দেয়-আমি কে ও আমি কী। একজন সঠিক চিন্ত্যক হয়ে ওঠা সহজ না।

ভুল কাজ করলে মাফ আছে। ভুল কাজের প্রতিবিধানও আছে।

ভুল বিশ্বাস কখনো কখনো ভাংবার সম্ভাবনা আছে।

কিন্তু, ভুল চিন্তা? তার কি কোনো শেষ আছে? আছে কি কোনো সমাধান?

#innatelonging #aspiration #ultimateobjective #wailing #coreobjective #innergoal #innerobjective

১.আপনি আগে নিয়ত ঠিক করুন। সিদ্ধান্তটি আপনি কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিচ্ছেন-সেই লক্ষ্যটি আগে স্থির করুন। নিয়ত শুধু নামাজ পড়তেই লাগে না। নামাজের নিয়তের মধ্য দিয়ে বিধাতা আমাদের প্রাত্যহিক ইহলৌকিক জীবনের অনেক শিক্ষাই দিয়ে দিয়েছেন। আপনি একটি ভাল ও স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সবার আগে ভেবে নিন, আপনি যে বিষয়/সমস্যা/ইস্যূটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন-সেটি আপনি নিশ্চিত কিনা।

মাঝে মাঝে বাংলা ও ইংরেজির কিছু শব্দের মধ্যে আন্তঃবিনিময় করতে গিয়ে খুব সমস্যা হয়। কিছু কিছু ইংরেজি ধারনার হুবহু বাংলা শব্দ পাওয়া যায় না। একইভাবে বাংলা ধারনার ইংরেজি করাও কঠিন হয়।

ঠিক যেমন Innate longing এবং vested reason এই দুটো compound শব্দ দিয়ে আমি যা বোঝাতে চাচ্ছি, তার একদম উপযুক্ত বাংলা করতে পারছি না। যেটা অনেকটা সুপ্ত ইচ্ছা আর গূঢ় কারণ হতে পারে। অথচ আমি যা বোঝাতে চাই, সেটি হল, একজন মানুষের মনের গহীন কোণে লুকোনো কোনো বাসনা, যেটা সে দেখায় না, প্রকাশ করে না। বা, যেটা সে চায়, প্রকাশ করে তার হতে ভিন্ন কিছু।

কিছু না পেয়ে আমি Ultimate Objective দিয়ে কাজ চালাই।

অবজেকটিভ ও আলটিমেট অবজেকটিভ বলে দুটো বিষয় আছে। আপনি ঘরে ঢুকে বললেন, “এই, মা কই রে?”

এখানে সরাসরি অবজেকটিভ হল, মা কোথায় সেই জিজ্ঞাসার নিবৃত্তি।

কিন্তু, যদি আলটিমেট অবজেকটিভ অব দ্য কোয়েরি বলেন, সেটা হল, হয়তো আপনার ২০০ টাকা লাগবে। তার হতে নেবেন। তো, সেই ২০০ টাকাই হল আপনার ওই প্রশ্নের আলটিমেট অবজেকটিভ।

একইভাবে আপনার খুব ক্ষিধে পেয়েছে। পকেটে টাকা নেই। আপনি পথের মাঝখানে দাড়িয়ে জোরে জোরে বলছেন, “আমি যে না খেয়ে আছি, এটা কি খোদার চোখে পড়ে না?” আপনার এপারেন্ট বা প্রজেকটেড অবজেকটিভ হল, খোদার দৃষ্টি আকর্ষণ। কিন্তু, আলটিমেট অবজেকটিভ ভিন্ন। সেটা হল, রাস্তার কারো নজরে পড়া আর তার বদান্যতায় খাবার যোগান।

আপনার জীবনে কোনটা অবজেকটিভ, কোনটা পারপাস, আর, কোনটা মিডিয়াম-ভাল করে বুঝে নিন।

আমরা প্রায়শই অবজেকটিভ আর মিডিয়ামকে গুলিয়ে ফেলি।

যেমন টাকা। টাকা কখনোই জীবনের অবজেকটিভ হতে পারে না। টাকা কেবলই একটি মিডিয়াম। সচ্ছলতা হল টাকা নামক মিডিয়ামের মধ্য দিয়ে কাম্য পারপাস।

আর সচ্ছলতা নামক পারপাস সার্ভ হবার মধ্য দিয়ে অর্জন করতে চাই ডিগনিটি, কমফোর্ট ও সেফটি নামক অবজেকটিভ।

তাই, কিছুর পেছনে পড়বার আগে একটু ভেবে নিলে ভাল, যে, সেটা কি আমার মিডিয়াম, না অবজেকটিভ, নাকি পারপাস।

আমরা যা কিছুই করি, নিঃস্বার্থতম বা এমনকি উদ্দেশ্যহীনও, সেটার পেছনে খুব সূক্ষ্ণভাবে কি একটি উদ্দেশ্য থাকে না, যে, “শোনে সবাই, দেখো সবাই, আমার কাছে কিন্তু এটা আছে, ওটা আছে, আমি এই, আমি ওই, আমি পারি, আমি আছি”? জগতের নিঃস্বার্থতম কাজটিরও একটি স্বার্থ নিহীত থাকে, সেটি হল, ‘নিঃস্বার্থ’ স্বীকৃতি।

হ্যা, স্বীকৃতি মানুষের টাকা, পজিশন, পাওয়ার, ইন্দ্রীয়সুখ, সম্পত্তি অর্জন হয়ে গেলে রয়ে যাওয়া আলটিমেট লক্ষ্য ও ধ্যান। জগতের সকল মানুষের, সকল কাজের, সকল দৌড়ঝাঁপের চুড়ান্ত লক্ষ্য বা অবজেকটিভ আসলে এই পঞ্চতন্ত্রই-

টাকা>সম্পত্তি>ক্ষমতা>অবস্থান>ইন্দ্রীয় সুখ>স্বীকৃতি। একটা পাওয়া হয়ে গেলেই সেটার কথা আমরা ভুলে যাই। তখন অন্যটা হয়ে ওঠে আমাদের লক্ষ্য, অবজেকটিভ। আর তখনই আমরা ফ্রাস্ট্রেশনে পড়ি। ওটা নেই কেন-সেজন্য কষ্টে ভুগি। অথচ, দু’দিন আগেও আমার হাহাকার ছিল ভিন্ন কিছুর জন্য।

যেমন, একজন বেকার। তার কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা ও ধ্যানজ্ঞান, যে কোনো রকম একটা চাকরি। তার যাবতীয় কাজের অবজেকটিভ চাকরি, সেটা কেমন, কী রকম-কিছু যায় আসে না।

চাকরি পাওয়া মাত্রই তার নতুন চাওয়া। নতুন ফ্রাস্ট্রেশন-ইশ, বেতনটা বেশি কেন না? শুরু হয় নতুন অবজেকটিভ-বেশি বেতন। সেরকম চাকরি হবার পরে কালক্রমে একদিন সে ধনী হয়। তখন তার আক্ষেপ হয়, ইশ, বউটা কেন আরও সুন্দরী না, সে কেন তরুণী না, অমুকের বউটা খুব জোস। ইত্যাদি। এই ফ্রাস্ট্রেশন তাকে নিয়ে যায় পরকীয়ার পথে। এভাবে ইন্দ্রীয় সুখ মিললেও আরেক আরাধ্য ‘সুখ’ ও ‘শান্তি’ মেলে না। অতঃপর, পরিণত বয়সে তাকে পায় স্বীকৃতির নেশায়। তখন আর টাকা, ইন্দ্রীয়সুখ সব তুচ্ছ মনে হয়। মনে হয়, মানুষের কাছে হ্যাডাম দেখাতে না পারলে, সমাজে দশজন আমাকে না চিনলে কীসের কী? সব বেকার। তখন তার অবজেকটিভ বদলে যায়।

আসলে, মানুষে নিজেও জানে না, কী তার অবজেকটিভ। বা, আলটিমেট অবজেকটিভ।

ফেসবুকে একটি গল্প খুব জনপ্রিয়। গল্পটি যে যার মতো করে পুনঃর্লিখন করে করে পোস্ট করে থাকেন। আমিও করলাম।

সেই অনুযায়ী, এক সাহেব মেক্সিকোতে একবার জেলেদের এলাকায় বেড়াতে গিয়ে দেখেন, জেলেরা একবার জাল ফেললে প্রচুর মাছ ওঠে। কিন্তু, তারা সারা দিনে মাত্র একবার জাল ফেলে যা মাছ পায়, সেটাই বিক্রী করে টাকা পকেটে পুরে সারাদিন হয় ঘুমায়, না হয় পরিবার নিয়ে মৌজ মাস্তি করে।

সারাদিনে আর মাছ ধরা কিংবা অন্য কোনো জীবিকার কাজে জড়ায় না। তো, সাহেব তাদের বলে, তোমরা তো চাইলে এক দিনে আরও অনেকবার জাল ফেলতে পারো, সেটা কেন করো না?

তো, জেলে তাকে শুধায়,

>অনেকবার জাল ফেলব কেন?

<অনেক মাছ পেতে।

>অনেক মাছ কেন দরকার?

<অনেক টাকা পাবে।

>অনেক টাকা দিয়ে কী করব?

<অনেক এনজয় করবে।

>তো সেই এনজয়মেন্ট তো এখনই চুটিয়ে করছিই। তাহলে আমার আরও কাজ কেন করতে হবে? কেন অনেক টাকাই বা লাগবে?

মোদ্দা কথা, আপনার যেটা আলটিমেট টারগেট, আলটিমেট অবজেকটিভ, আলটিমেট কনটেন্টমেন্ট, সেটিকে বুঝুন, সেটিকে ধরুন।

আমরা যা কিছুই করি, বলি, ভাবি, তার পেছনে (যাকে বাংলায় বলে) একটা গূঢ় কারণ থাকে। সেই গূঢ় কারন বা নিয়ত বা লক্ষ্যটিই আমাদের অবচেতনে আমাদেরকে ওই পথে চালায়।

যে কোনো কিছু করতে বা বলতে ওই আলটিমেট অবজেকটিভ বা গূঢ় নিয়তটি আগে জেনে নিন। তাহলে কাজের পথ ও পরিণতি নিয়ে আপনার ভাবনাকে সাজানো ও মানানো আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে।

”সারাজীবন এত লেখাপড়া করে, ডিগ্রী নিয়ে, শিক্ষিত হয়ে, বিদ্যা হাসিল করে কী লাভটা হল? একটা ’অডিনডি’ও তো কিনতে পারলাম না। অথচ আউলফাউল কাম কইরা কতজনে দামী দামী ‘ভাইডি’, ‘মারচিডিজ’ কিনা হালাইল।”

বলে আফসোসে মরে যাওয়া ভাইজান ও বুবুজানরা আসলেই এই আফসোসে মরাটা ডিজার্ভ করেন।

কারন, তাদের শিক্ষা ও বিদ্যা আসলে পুরোটা জলেই গেছে। শিক্ষার মূল লক্ষ্য বা মোটোটা না জেনেবুঝেই তারা সার্টিফিকেটটা অর্জনের পেছনে জীবনটা বোকার মতো বরবাদ করে ফেলেছেন।

কারন, শিক্ষা, শিক্ষাক্রম, জ্ঞান ও বিদ্যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য টাকা আয় করা না। টাকা এনে দেয়া না। শিক্ষার কাজ মনুষ্যত্ব ও বোধ তৈরী করা। সেই লক্ষ্যের বাই-প্রোডাক্ট হল কিছু লাইফ স্কিল, যা টাকা এনে দিতে পারে। তার মানে এই না, যে, বেশি বেশি ও উচ্চ রেজাল্টধারী লেখাপড়া শিখলে আনুপাতিক হারে প্রচুর টাকা আসবেই।

লেখাপড়া না করে হিপহপ, টিকটক, ডিগডগ করলেই ভাল হত-বলে যদি বেশি আফসোস হয়, তাহলে আর টিকটক কেন? তার চেয়ে আরও লাভজনক, আয়জনক কাজ আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।

আমেরিকার Reality তারকা মিজ. Stephanie Matto আক্ষরিক অর্থে তার **পাঁদ জারে ভরে বিক্রী করে দেড় কোটি টাকা কামাই করেন। টাকা ও সম্পত্তি আয় নিয়ে এতই আফসোস থাকলে, বিদ্যা জলে যাওয়া নিয়ে এতই আফসোস থাকলে লেখাপড়া বাদ দিয়ে ওই কাজ করুন।

অস্ট্রেলিয়া বা নেদারল্যান্ডসে কিছু ব্রোথেল আছে, যেখানে শুয়ে ঘন্টায় ৩০০ হতে ৫০০ ডলার কামাই করা যায়। মানে অবিশ্বাস্য রকম ইনকাম। টাকাই যদি লক্ষ্য ও আফসোস হয়, তাহলে লেখাপড়া না শিখে *পাঁদ বা *পোঁদ বিক্রী করলেই বরং ভাল। অনেক ইনকাম।

লেখাপড়া করে স্কুল শিক্ষক হয়ে মাসে ৫৮৭০ টাকা কামাই করে কী হবে?   জীবনেও একটা ‘ঘাঁড়ি’ কিনতে পারবেন না।

*অনার্য ভাষাশৈলী সৃষ্টিকর্মের স্বার্থে। ইহা লেখকের নিয়মিত রুচি নহে।

#SelfExplanation নিজেকে সবসময় তিনটি প্রশ্ন করুন, আর ওই তিনটি প্রশ্নের জবাব নিজের সব কাজ, সব কথা, সব ভাবনার বিপরীতে প্রস্তুত রাখুন, নিজের জন্য, অন্যেরও জন্য। নিজের কাছে ওই তিনটি প্রশ্ন নিয়ে নিজে পরিষ্কার থাকুন। গভীরভাবে নিজেকে প্রশ্ন করুন-

>আপনি ultimately কী চান?

>আপনি যা চান, সেটি কেন চান?

>আপনি যেটা সত্যিই ও নিশ্চিতভাবেই চান, আর, কেন সেটি চান-সে ব্যাপারেও পরিষ্কার থাকেন, তাহলে সেটি কীভাবে পেতে চান?

আপনার জন্য তখন যেকোনো কিছুকে সহজ ও পরিকল্পিতভাবে ভাবা, বিশ্লেষণ করা, বিশ্বাস করা বা না করা ও বাস্তবায়ন করাসহ, করে ফেলবার পরের কনসিকোয়েন্স সহজেই মেনে নেয়া সম্ভব হবে।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইয়্যীদ এর একটি উক্তি আমার খুব প্রিয়-”আমরা সবাই সফলতার পেছনে দৌড়াই, কিন্তু, কেউ স্বার্থকতার পেছনে দৌড়াই না।”

অর্জন, সফলতা ও স্বার্থকতার মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। আপনার সব অর্জনই সফলতা নয়। সব সফলতা স্বার্থকতা তো অবশ্যই নয়। ভাববার বিষয় হল, আপনি কোনটি চান? কোনটি আপনার আসল লক্ষ্য? আপনার যেই অর্জন শুধুমাত্র আপনাকেই উপকৃত করে-সেটি নেহাতই আপনার অর্জন, সেটি সফলতা নয়। আপনার যেই সফলতা কেবল আপনারই, অন্য বৃহত্তর জগত, মানবের জীবনকে যদি তা সমৃদ্ধ না করে, তাহলে সেটিকে আমি সফলতা মনে করি না। স্বার্থকতা তো অবশ্যই নয়।

আমার কাছে সফলতা ও অর্থপূর্ণ জীবন আসলে কী?

আমি জীবনে যখন যা হতে চেয়েছি, হা হতে পারা; যেমনটা হতে চেয়েছি ঠিক তেমনটা হতে পারা; নিজেকে যেমনটা দেখতে চেয়েছি-ঠিক তেমনটা দেখতে পাওয়াই সফলতা।

আর, আমি আমার জীবনকে, নিজেকে যেমন সফল দেখতে চেয়েছি, অন্যের জন্যও সেটা চাইতে পারা আর অন্যের কাছে তেমনটার স্বীকৃতি পাওয়া হল স্বার্থকতা।

থ্যাংকস গড, তিনি অনেকের আরাধ্য জীবন আমাকে দেন নাই। তিনি আমাকে আমার বোধের জীবনটা দিয়েছেন।

এই ধারাবাহিকতায়, judgemental approach নামে আরেকটি concept নিয়ে না জানলেই নয়। তবে, সেটির আলোচনা খুবই বিশাল বিধায়, আজ আর লিখছি না।

 #comparativechoice #alternativepersonality #ambiguity #compulsivechoice #Perceptualdestortion #preconceived notion #predeterminedconcept #proguidedperception #bias #coopt #coherent #success #fullfilment #meaningfulness #tradeoff #biproduct #engenderedconsequence #CognitiveBias #ConfirmationBias

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *