রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক কে? অ্যারিস্টোটল? তিনি ছিলেন গ্রিসের লোক। গ্রিক ভাষায় তিনি রাষ্ট্রের যে সংজ্ঞা দিয়েছিলেন তার পাশে ব্র্যাকেটে একটা কথা লেখা ছিল, “ইহা গার্মেন্টসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।” তবে যেহেতু এটি গ্রিক ভাষায় লেখা তাই বাংলাদেশের পণ্ডিতরা যখন এটিকে বাংলাদেশের বইয়ে অনুবাদ করে লেখেন তখন তারা অপ্রয়োজনীয় ভেবে বাদ দেন কারণ তারা ভেবেছিলেন অ্যারিস্টোটল ইয়ার্কি করে এটি লেখেন আর তখন যেহেতু গার্মেন্টস নামক কোনো বস্তুর সাথে বাংলাদেশ পরিচিত ছিল না তাই ভেবেছিলেন ইরিলিভ্যান্ট হওয়ায় এটি বাংলাদেশে সংজ্ঞায়নে কেটে দেওয়া যেতেই পারে। আর এই ভুলের জন্য ভাগ্যক্রমে আমরা বাংলাদেশে অ্যারিস্টোটল প্রদত্ত রাষ্ট্রের সংজ্ঞা পেয়েছি। অন্যথায় গার্মেন্টস প্রধান এই দেশে রাষ্ট্রের সংজ্ঞায় অ্যারিস্টোটলের তত্ত্ব তারা অপ্রযোজ্য মনে করে অন্য সংজ্ঞা দিতেন।
গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় আব্রাহাম লিংকন যখন লিখেছিলেন, “অফ দ্যা পিপল, ফর দ্যা………..পিপল” তখনও ওই ব্র্যাকেট, “ইহা……… এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়”। আর সেই একই রকমভাবে বাংলাদেশের পণ্ডিতরা ব্র্যাকেটের অংশ বাদ দেন আর পরিণতিতে আমরা গণতন্ত্রের সংজ্ঞা পেলাম। এই লাইনে আরো অনেক কিছু যোগ হতে পারে। কম্পিউটার আবিষ্কার করেও এর গায়ে এই লেবেল এঁটে দেওয়া হয়েছিল, “ইহা………. ক্ষেত্রে ব্যবহার্য নয়।” কিন্তু কোনো এক অর্বাচীন মফিজ এটিকে গার্মেন্টসে কিভাবে কিভাবে যেন সিস্টেম করে ফেলে।
গার্মেন্টসে ফুটবল চলে না, ক্রিকেট চলে না, ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব চলে না, অ্যাডাম স্মিথের ইকোনমিকসের মৌলিক তত্ত্ব চলে না, গ্রেসামের মুদ্রা তত্ত্ব অচল, পিথাগোরাসের জ্যামিতি তো অথর্ব। নিউটন ভুলে গিয়েছিলেন “ইহা……… এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়” এই অংশটি লিখতে তবে তার হয়ে বাংলাদেশের পণ্ডিতরা এ কাজটি করেছিলেন বলেই……..। ম্যানেজমেন্ট থিওরির মৌলিক বুনিয়াদি তাত্ত্বিক ফেয়ল, টেইলর, হার্জবার্গ, মাসলো, নাইগ্রো সবাই একইভাবে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া তাদের তত্ত্বকেও গার্মেন্টসের আওতামুক্ত করার কথা বলে গেলেও চামে চামে তা কেন যেন গার্মেন্টসে ঢুকেই ছেড়েছে।
একটা কথা প্রায়ই শুনতে পাই, “আরে ভাই আপনাদের ওসব তত্ত্ব, নিয়ম, সিস্টেম, আধুনিক ব্যবস্থা আমাদের গার্মেন্টসে চলে না। গার্মেন্টসে ৭/৮ বছর পার করেও এখনও শুনতে হয় “আপনাদের তত্ত্ব/আমাদের গার্মেন্টস” যেন আমরা এ জগতের লোক না বাইরের কেউ। গার্মেন্টসে এই হয় না, গার্মেন্টসে ওই হয় না, এটা চলে না, ওটা করা যাবে না, এটা করলে চলে না, ওটা না হলে হয় না। যেন দুনিয়ার ভালো যা কিছু আছে তার কোনোটা্ই গার্মেন্টসে চলবে না। ভালো কোনো নিয়ম, যুগোপযোগী কোনো সিস্টেম, কার্যকর কোনো ব্যবস্থাপনা, মৌলিক কোনো উদ্যোগ, স্বচ্ছ কোনো তথ্য ব্যবস্থাপনা—কোনো কিছু গার্মেন্টসে অচল। এমনকি দুই দু’গুণে চার—এই তত্ত্ব পর্যন্ত। এখানে শুধু চলবে পুরানোর রাজত্ব, কোনো রিনোভেশন, মডার্নাইজেশন, রেক্টিফিকেশন এখানকার জন্য নয়।
আমার একটি গার্মেন্টস ডিকশনারি দরকার। কারও কাছে আছে? ও স্যরি, আরেকটা গার্মেন্টসের কনভার্টার লাগবে”—এটা ছিল কালকের বিজ্ঞাপন। মনে হয় কেউ বোঝেন নি, তাই থাকলেও পাঠাতে পারেন নি। তাই আরেকটু বিস্তারিত করছি। জীবনের এ যাবৎকালে শেখা যাবতীয় বিদ্যা, জ্ঞান, দক্ষতা, টেকনিক, তত্ত্ব, মূলনীতি—ইত্যাদিকে গার্মেন্টস-এ ট্রান্সলেট করা ও কনভার্ট করা যায় এমন একটা ডিকশনারি আর কনভার্টার দরকার। যেমন— “ইফিশিয়েন্সি”-র প্রচলিত অর্থ দক্ষতা কিন্তু গার্মেন্টসে এর মিনিং কী হবে? সারা পৃথিবীতে পেশাগত দক্ষতা হল চাকরি করার প্রধানতম পূর্বশর্ত তবে গার্মেন্টস-এ তা নয়। তাহলে এখানে কী হবে? এসব কারণে আমার গার্মেন্টস ডিকশনারি আর কনভার্টার দরকার। আছেন কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যিনি আমাকে দিতে পারেন?
(সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: এই লেখা ………. এর লোকেদের পড়বার জন্য নয়)
#garmentsector #RMGsector #professionalism #managementapproach #corporateculture #entrepreneurship #formationofCompany #determination #vision