রেজুমে তৈরী রাখুন: #jobready #resumeready
১.সবসময় তৈরী থাকুন। সবসময় মোবাইলে, গুগল ড্রাইভে, ক্লাউডে নিজের একটি রিজুমির ওয়ার্ড+জেপিজি+পিডিএফ-তিন ফরম্যাটের সফট ফাইল আপলোড করে রাখুন। যখনি কেউ সিভি চাইবে, সাথে সাথে দেবেন। যেখানে যে ফোরামে বা মিডিয়ামে দিতে বলে, সাথে সাথে দিতে পারবেন। প্রতিমাসে গড়ে ১০ টা রিগ্রেট পাই, “স্যার, মেজেঞ্জারে তো সিভির ওয়ার্ড ফাইল লোড করা যাচ্ছে না” কিংবা, “সিভিতো ল্যাপটপে। রাতে বাসায় গিয়ে দেব।” বা “মেইলে দিই”। কাউকে সিভি দেব, তিনি বলে বসেন, দাদা, মেইলে দিন। মেসেঞ্জারে সিভি রাখার বা দেবার উপকারিতা কত, সেটা কী করে বোঝাই।
২.নিজেকে আপডেট রাখুন। সুদীর্ঘকাল এক জায়গায় কাজ করার অনেক বেনেফিট আছে। আবার গজবও আছে। সেটা হল, আপনি আরামে থাকতে থাকতে চ্যালেঞ্জ নেয়া ভুলে যাবেন। পোর্টফোলিওর গতরে মেদ জমে যাবে। আর আপনি ভুলে যাবেন যে, আপনাকে কোনোদিন চাকরি হতে গলাধাক্কা দেয়া হতে পারে। যেদিন দেবে, সেদিন দেখবেন, বছরের পর বছর, আপনি একদমই নিজেকে আপডেট করেননি। আর আপনি সেদিন একদম অপ্রস্তুত। একজনকে পেলাম আজ, ১৫ বছর এক জায়গায় জব করেছেন। নিজের সিভি রেডি না। নিজের সিভি অনলাইনে রাখা নেই। বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। তো? সবক হল, সবসময় মাথায় রাখুন “চাকরি ছাড়তে হতে পারে” আর নিজেকে রোজ আপগ্রেডেড করুন।
ভাল রিজুমি বানান:
রিজুমি যারা বানাতে হেল্প চান, তাদের জন্য https://www.canva.com/ এই সাইটটি অসামান্য বললেও কম হয়। আমাকে শেয়ার করে বাধিতে করেছেন জনাব Syedul Islam। প্রেজেন্টেশন বানানো ও দেখানো নিয়ে আমি খুব আনাড়ি। পিপিটির বদলে যদি ভিন্ন কিছু ভাবতে চান, প্রেজেন্টেশনটা যদি শো করতে হয় বা ব্র্যান্ডিং পারপাস (অর্থাৎ একাধিক ভিডিও, ইমেজ, অডিও তে বার বার জাম্প করা লাগবে বলে মনে করেন), তাহলে ব্যবহার করুন স্লাইড ডগ [https://slidedog.com/]। এই চমৎকার রিসোর্সটির সন্ধান দিয়েছেন জনাব Rizvan Hasan (আমার খুব পছন্দের ক্রিটিকস)। বুড়া বয়সেও কত কি শেখার আছে। আর তাও না পারলে এক্সপার্ট সিভি রাইটিং গুরুর সাহায্য নিন।
কাকে দিয়ে রেজুমে বানাবো? #resumemaking
অনেকেই জানতে চান, রিজুমি কি পেশাদার বিশেষজ্ঞ দিয়ে বানালে ভাল, নাকি নিজে বানানো উচিত? যেই বানান, সেটা যেন আপনার বৃত্তান্ত হয়। এমন না হয়, রিজুমিতে আপনি যেন টম ক্রূজ অথচ বাস্তবে ও ইন্টারভিউতে আপনি সূরুজ। নিজের বিক্রয়যোগ্য সেরা যোগ্যতাগুলো একজন নিয়োগদাতার প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে সেরা সেবা দেবে-তার স্মার্ট উপস্থাপনই ভাল রিজুমি। একজন সিভি মেকার আপনাকে বিউটিশিয়ানের মতো সাজিয়ে দেবে, ভ্যালু অ্যাড করবে, কিন্তু সেটাকে ভিতরে ধারন করা আপনার কাজ। অনেক অনেক জেষ্ঠ্য যারা, তারা মনে করেন, এই বিশাল প্রোফাইলের লোকের সিভি লাগেনা। ভুল। যত বড় হবেন, সিভি তত খুঁটিয়ে দেখা হয়। এত বড় হলেও যদি চাকরি এখনো করতেই হয়, তাহলে উপযুক্ত রিজিমিও থাকতে হয়।
#englishpower #careerready #careercare
১.নির্ভুল ইংরেজিতে বলা ও লেখার বিদ্যা রপ্ত করুন। আর যদি খুব বেশি বিপ্লবী হতে চান, তবে অনলাইন ও অফলাইনে বাংলা ফন্ট ব্যবহার করে বাংলা লেখার ও নিজের বক্তব্য গুছিয়ে যথাযথভাবে উপস্থাপনের অভ্যাস গড়ে তুলুন। আমাদের কাছে আসা একটা বড় সংখ্যক মানুষের প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা, সাহায্য প্রার্থনা, উপদেশ, ঝাড়ি-ইত্যাদি জগাখিচুড়ী ইংরেজি কিংবা অসংলগ্ন বাংলার কারনে আমরা বুঝতেই পারি না। এমনও হয়েছে, সাজেশন প্রার্থীকে তিনবার জিজ্ঞেস করেছি, “আপনি আমার কাছে ঠিক কী জানতে চান, স্পষ্ট করে বলুন।”
২.ক্যারিয়ার চাইলে এক বা একাধিক ক্যারিয়ার কোচের সাথে ট্যাগ হোন। তার থেকে ক্যারিয়ার গ্রুমিং এর পাঠ নিন। এলোমেলো না দৌড়ে স্টেডি হোন। শুধু জব চেয়ে বসে না থেকে তার থেকে মেনটরিং হেল্প নেয়াটা বেশি কাজের হবে।
৩.জীবনে কখনো কারো কাছ হতে যদি জবের বিষয়ে কারো সাহায্য নিয়ে থাকেন, বা চেয়ে প্রত্যাখ্যাতও হয়ে থাকেন, তবে, জীবনে অন্তত একজন মানুষকে হলেও জবের বিষয়ে সাহায্য করুন। বিশেষত যদি ভাল পজিশনে নিজে থেকে থাকেন। কারন, জানা নেই, কবে, কখন, কী কারনে, কোন অবস্থায় আপনারও একই দরকার হতে পারে। আপনি একজন সাবেক জব সিকার ও হেল্প সিকার। জব হয়ে গেছে। ভাল আছেন। আপনি না হয় বেঁচে গেছেন। বাকিদের কথা ভেবে কিছু করুন।
৪.কোনো সোস্যাল মিডিয়াতে কোনো এমপ্লয়ার বা তার প্রতিনিধিত্ব করেন এমন কারো সাথে কূতর্কে লিপ্ত হবেন না। বা অনাকাঙ্খিত ভাষায় কথা বলবেন না। কারন শ্রোতা বা পাঠকদের ভেতরেও আপনার সম্ভাব্য ভবিষ্যত সহকর্মী বা এমপ্লয়াররাও আছেন। প্রতিদিনের নানারকম প্রোফেশনাল লেখা, জব পোস্ট, কোচিং পোস্টের ওপর কিছু কিছু জব সিকার এত বাঁকা মন্তব্য করেন, যা দেখে মনে হয়, পারলে ফেসবুকেই তারা একটা বিপ্লব করে ফেলবেন। এমপ্লয়ারদের তুলোধুনো করা থেকে শুরু করে আমরা যারা ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ করি, আমাদের তক। জব পোস্ট করলে নানা কটাক্ষ। ভাইয়েরা, আপনারা এই কীবোর্ড বিপ্লব আপনাদের ও অন্য ক্যারিয়ারিস্টদের লাভের বদলে ক্ষতি করছে। এমপ্লয়ার ও এমপ্লয়ির দূরত্ব আরো বাড়াবে।
৫.ক্যারিয়ারের স্বার্থে স্যোশাল মিডিয়া, অনলাইন বা অফলাইন মাধ্যমে আপনার সিনিয়র/মেনটর/টার্গেটেড কর্পোরেট পারসনকে “ভাইয়া/ব্রো/বস” আর “আপু/আপি/সিস” ডাকা হতে বিরত থাকুন। হয় স্যার/ম্যাডাম/; কিংবা ভাই/আপা/না হলে মিঃ/মিস-ব্যাক্তির প্যাটার্ন বুঝে এ্যাড্রেস করুন।
#doingMBA
১.এমবিএ/মাস্টার্স কখন করবেন? গ্রাজুয়েশন করে ক্যারিয়ার শুরু করুন। কমপক্ষে ৫ বছর কাজ করে ক্যারিয়ার সেটল করুন। তারপর পোস্ট গ্রাড। ওহ, যেই MBAটা করবেন, সেটা যেন MBAই হয়। সেটা যেন মাস্টার্স ডিগ্রীর কমার্স ভার্সন না হয়। [যারা বিষয়টির সাথে একমত হবেন না বা বিস্তারিত জানতে চান, তারা এই বিশেষজ্ঞ আর্টিকেলটি একটু পড়বেন: https://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/41336।]
২.নিজের প্রকৃত কোয়ালিফিকেশন কতটা-সেটা কোনো সংস্থা, কোচ বা মেনটরকে দিয়ে একবার যাঁচাই করে নিন। প্রায়ই এমন মানুষ পাই যারা এতদিন ধরে জেনে এসেছেন, তিনি নিজে সুপার। কিন্তু দেখা গেল বাস্তবে তিনি ফ্লপ।
কমপারেটিভ হোন: #jobswitching
মনে করুন আপনি পৃথিবীর সব থেকে পঁচা ও জঘন্য চাকরিটি করেন। ঘেন্না ধরে গেছে-এমন। কিন্তু তারপরও আপনার এই চাকরি থাকাটি একজন বেকারের চেয়ে ভাল। অন্তত এই চাকরিটি হতে এট লিস্ট আপনি যেটা পাবেন, তা হল, “একটি ব্যানার-”আমি অমুক কোম্পানীতে কাজ করি।” মানে হল, সিভি ভরার মতো কিছু ভ্যালু আর আরেকটা জব খোঁজার মতো আর্থিক সংস্থান। তো? কী করবেন, ভেবে দেখুন।
#careerism #jobswitching
ক্যারিয়ারিজম ও ক্যারিয়ারিস্ট শব্দ দুটো মনে রাখুন। কর্মস্থলে নিজের শিকড় গজাবেন না। বর্শা গেড়ে কাজ করলেও হাঁটু গেড়ে নয়। যত চমৎকারই হোক, চিরস্থায়ী কর্মস্থল বলে কিছু নেই। তার মানে আবার এই নয়, সারাক্ষণ পালাই পালাই করবেন। কৌতূহলী হোন। প্রশ্ন করুন। প্রতিটি ঘটনার কারন ও ফলাফল জানার চেষ্টা করুন। নিজেকে নিরপেক্ষভাবে যাঁচাই করুন। প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে নিশ্চিত হোন, যে ঠিক পথে এগোচ্ছেন কিনা।
কোথায় করবেন ট্রেইনিং: #trainingcenter #sourcesoftraining
ঢাকা শহরে যাত্রাবাড়ি হতে গাজিপুর চৌরাস্তা, মেরাদিয়া হতে মিরপুর পর্যন্ত রাস্তার, গলির দুপাশে আপনি হাজার হাজার ট্রেইনিং ইন্সটিটিউট, পলিটেকনিক, সার্টিফিকেশন ইন্সটিটিউট দেখতে পাবেন। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাদের এইচআর, মার্চেন্ডাইজিং, CAD, প্যাটার্ন, কোয়ালিটি, অফিস ম্যানেজমেন্ট, একসেল, গ্রাফিকস, শেয়ার বিজনেস, হোটেল ম্যানেজমেন্ট, এয়ার হোস্টেস, বুটিক, ব্লক, পেইন্টিং, IE, ফ্যাশন ডিজাইনিং, প্রিন্টিং, গার্মেন্টস প্রোডাকশনসহ অসংখ্য বিষয়ে ট্রেইনিং দেবার অফার দেবে। এগুলো এবং এর সাথে সাথে আপনি মেইল, ভাইবার, মেসেজ, টেলিগ্রাম, মেসেঞ্জার, ফেসবুক, হোয়াটসএ্যাপ, পত্রিকায়, লিংকডইনে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রেইনিং এর বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। যেখানে সফট ও হার্ড-উভয় রকমের স্কীলে ১-৩ দিনের কোর্স হতে সার্টিফিকেট কোর্স, ডিপ্লোমা, পিজিডি কোর্স থেকে শুরু করে আজকাল মাস্টার্স করারও অফার আসছে। নানা মেয়াদে, নানা খরচে, নানা ঢঙ্গে। কোনোটাকেই খারাপ বা ভাল বলব না। শুধু আপনাদের বলব, যারা ফ্রেশার, চাকরিরত, চাকরির বাজারে নিজের যোগ্যতা বাড়াতে চান, আর সেজন্য একটা কোর্স করতে চান। দয়া করে, যেকোনো ট্রেইনিং এ ভর্তি হবার আগে কয়েকটা কাজ করুন:-১.একজন অভিজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সিনিয়রের সাথে আলোচনা করুন। ২.প্রতিষ্ঠানের আদ্যোপান্ত ও ট্রেইনিংরত শিক্ষার্থীসহ অতীতে যারা ট্রেইনিং করেছেন ওখান থেকে, পারলে তাদের কাছে খোঁজ নিয়ে নিন। ৩.কোনো সাবজেক্টে যেকোনো কোর্স করার আগে সেটি আপনার জন্য ইফেকটিভ হবে কিনা, তা ক্যারিয়ার কোচদের কাছে যাঁচাই করে নিন। ৪.ফ্রড হতে সাবধান হোন।
জব সার্কুলার খুব মন দিয়ে পড়ুন: #jobcircular #jobadvertisement
প্রতিমাসে গড়ে ৪-৫ টা রিগ্রেট পাই, “বস, কীভাবে এ্যাপ্লাই করব?” কিংবা “ভাই, কীভাবে আবেদন করব, তাতো বলা নাই।” অথচ সার্কুলারে খুব স্পষ্ট করে মেইল আইডি দেয়া আছে, কিংবা কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা দেয়া আছে। মন দিয়ে সার্কুলার না পড়ার ফল। একটা বিরাট সংখ্যক মানুষ প্রশ্ন করেন, “ভাই, সার্কুলারে কোম্পানীর নাম নেই/লোকেশন জানেন?/স্যালারী কত?/ অমুক যোগ্যতার লোক আবেদন করতে পারবে না?/ডেডলাইন কবে?” ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাই ও বোনেরা: ওই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি আমরা জানতামই কিংবা দিতে পারতামই, তবে কি সেটা সার্কুলারে দিয়ে দিতাম না?
কর্মক্ষেত্রকে নিজ দৃষ্টিভঙ্গী এবং পছন্দের উর্দ্ধে রাখুন: #impersonality
ইমপারসোনাল ও কিছুটা ইনডিফারেন্ট হোন। কর্মক্ষেত্রের সমস্যা বাসায় নিয়ে না যেতে চেষ্টা করুন। আবার তেমনি, বাসার সমস্যা কর্মক্ষেত্রে না আনার চেষ্টা করুন। নিজ ব্যক্তিগত জীবনের ছায়া কর্মক্ষেত্রে পড়তে দেবেন না। তেমনি কর্মক্ষেত্রের সমস্যা বা খবরাখবর বাসায় কম নিয়ে গেলে ভাল করবেন। ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি ও পছন্দকে নিজের পেশায় প্রতিফলিত কম হতে দিন। বরং পেশাদারিত্ব, আনুষ্ঠানিকতা ও যৌক্তিকতাকে গুরুত্ব দিন।
কর্মক্ষেত্রকে নিজ খাসলত হতে উর্দ্ধে রাখুন। কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কে জড়ানো হতে বিরত থাকুন। কর্মক্ষেত্রে বন্ধু সৃষ্টি করুন, দাস নয়; প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করুন, প্রতিযোগী নয়; সমালোচক সৃষ্টি করুন, সমালোচনা নয়; শুভাকাঙ্খী সৃষ্টি করুন, মোসাহেব নয়; দল সৃষ্টি করুন, দলবাজি নয়; কাজ সৃস্টি করুন, কাযিয়া নয়; ভালবাসা সৃষ্টি করুন,…. কীয়া নয়। কর্মক্ষেত্রের সাথে যেকোনো রকম লেনদেন, ব্যক্তিগত ব্যবসা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। *এটি কোনো বিশেষজ্ঞ মতামত কিংবা সার্বজনীন বিধানও নয়। তথাকথিত ক্যারিয়ার টিপসও নয়, স্রেফ নিজস্ব ভাবনা বলতে পারেন।
প্রতারক হতে সাবধান থাকুন: #fraud #cheating
আজকাল চাকরি পেতে সহযোগিতা কিংবা চাকরি পাইয়ে দেয়া কিংবা চাকরি দেবার নাম করে একদল ‘ডিজিটাল দাজ্বাল’ বের হয়েছে।
যারা প্রতারনা করে সর্বস্ব নিয়ে নেবে। চাকরি সহযোগিতায় কিংবা চাকরিতে যোগ দিতে কেউ বা কোনো প্রতিষ্ঠান টাকা চাইলে একশো হাত দূরে থাকুন। আরেকদল দাজ্বাল চাকরি দেবার সুযোগে বিশেষত নারীদের নানাভাবে হেনস্তা আর সুযোগ নেবার চেষ্টা করে। অনৈতিক প্রস্তাব হতে শুরু করে ভার্চুয়াল পারভারশন, ইনবক্সিং যন্ত্রনার নজিরও আছে। উপকার করা ভাল। তবে নেবার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
ভিজিল্যান্ট থাকুন: #vigilant
আপনি যদি একজন প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবি হন, তাহলে যেমন শিকড় গেড়ে বসতে না করি, তেমনি চাকরি বদল করবার আগে নতুন প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিন। পারলে ওখানে কাজ করেন-এমন কারো হতে। বেশি বেতন আর উঁচু পদ দেখেই চলে যাবেন না। প্রায়ই কিছু জেষ্ঠ্য পেশাজীবির সাথে কথা হয়, যারা বড় প্রতিষ্ঠান এবং বড় বেতন দেখে, মিষ্টি কথায় ভুলে নিজের প্রতিষ্ঠিত চাকরি ছেড়ে বিপদে পড়েছেন। বিশেষভাবে সর্বোচ্চ পদে কাউকে চাকরিতে আমন্ত্রণ জানালে, প্রতিষ্ঠানের উচিৎ তার সাথে খোলামেলা সব বিস্তারিত আলাপ করা, যেখানে ব্যবস্থাপনা নীতিও অন্তর্ভূক্ত। এমনকি সর্বোচ্চ পদে নিয়োগ দেবার আগে একবার সশরীরে প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং উক্ত প্রার্থী কর্তৃক আপনার প্রতিষ্ঠান ও তার নিজ বিভাগসহ তার বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্বলিত একটি বিশ্লেষনী প্রতিবেদন ইন্টারভিউয়ের অংশ হওয়া উচিত।
সবজান্তা নয়: #knowingall #knowingeverything
ইন্টারভিউ বোর্ডে যাই প্রশ্ন করুক, তার সব উত্তর ফটফট করে দিতে পারতেই হবে, না পারলে চাকরি হবে না-বিষয়টা এমন নয়। ইন্টারভিউয়ার আপনার পেশাগত বা শিক্ষাগত জ্ঞান যেমন যাঁচাই করতে চান, তেমনি চান আপনার মোকাবিলার ক্ষমতা, উপস্থাপন ক্ষমতা, চ্যালেঞ্জ নেবার ক্ষমতা, বিশ্লেষন ক্ষমতা, বুদ্ধিদীপ্ততা দেখতে। প্রতিদিন ইন্টারভিউ দেবার মহড়া করুন। ইউটিউব দেখে, কিংবা দল বেঁধে। নার্ভাসনেসের জন্য বড় সংখ্যক প্রার্থী সবরকম যোগ্যতা স্বত্বেও বাদ পড়েন। এক চিমটি ক্যারিয়ার: আপনি যদি জেষ্ঠ্য ও অভিজ্ঞ পেশাজীবি হয়ে থাকেন, আর মনে করে থাকেন, এত বছর কর্ম করার অভিজ্ঞতা থাকায় আপনি বাকি জীবনে আর কোনো কিছু না করে কেবল কাজটা করে গেলেই যথেষ্ট, তবে থামুন। সবসময় নিজের কর্মজীবন শুরুর দিককার দিন ও অবস্থাটা মনে রাখুন। তখন আপনি কীভাবে ভুল করতেন, কত কত ভুল পথে চেষ্টা করতেন, সেটা মনে রাখুন। আজকে জেষ্ঠ্য হবার পরে কনিষ্ঠ বা নবীনদের সামান্য ভুল হলেই যে বকাবকি শুরু করেন, সেটা বন্ধ করুন। বকার আগে, আপনি তাদের শিখানোর জন্য এ যাবত কতটা কী করেছেন তার হিসাব নিন। এখন আর কেবল নিজে একা কাজ ভাল করে গেলে চলে না। নিজেকে মেনটর বানাবার চেষ্টা নিজের জন্যই দরকার। আর নিজের ব্যবহার ঠিক করুন। আমি বহু সর্বোচ্চ ক্যারিয়ারের মানুষকে দেখেছি, শুধু ব্যবহারের জন্য বারবার চাকরি হারাতে, ব্যবসা হারাতে। সারাক্ষণ খ্যাঁকখ্যাঁক করলে অফিসের পিয়নও শেষতক পাবেন না।
#joblinking #properjobapproaching
লিংকডইনে “ভাই, শুনলাম আপনার প্রতিষ্ঠানে ’একটা’ ’লোক’ লাগবে। আমার প্রোফাইলটা দেখেন।”-এই ধরণের জব হান্টিং মেসেজ বা বার্তা দিলে শতকরা ৯০ ভাগ জব লিংকার আপনার লিংকডইন প্রোফাইল ঘুরে তো দেখবেন না ই, উপরন্তু বিরক্ত হয়ে রেসপন্ড নাও করতে পারেন। হয়তো বলবেন, “দুইটা চাকরি দিতে পারেন বলে ধরা কে সরা জ্ঞান করেন কেন?” কিংবা, “আপনাদের বেশি বেশি ভাব।”জ্বি, আপনার অনুযোগ খুব ফেলে দেবার মতো নয়। আমরা যারা একটু জাতে উঠি, তারা অচীরেই হাবের চেয়ে ভাব নিতে বেশি আগ্রহ দেখাই, সত্যি।কিন্তু সেই সত্যি কথনে বা সত্য স্বীকারে আপনার তো কোনো প্রাপ্তি নেই। সারা দুনিয়ার সবরকম অসঙ্গতির বিরুদ্ধে জেহাদ করা তো আপনার উদ্দেশ্য না। আপনার উদ্দেশ্য তো চাকরি। সেটা পেতে গেলে তো বাজার যেটাতে নড়ে, আপনাকে সেভাবেই নাড়াতে হবে।
১.কোথায় কীভাবে জবের জন্য এপ্রোচ করতে হয় তা শিখুন। যত্রতত্র যেকোনো পোস্টে জব চেয়ে বসলে আপনার ক্ষতি ছাড়া লাভ নেই। কাল একজন আর্টিকেলের কমেন্টে পুরো কভার লেটার পেস্ট করে দিয়েছেন। একজন ক্যান্সারের সাহায্য চেয়ে করা পোস্টে চাকরির অনুরোধ করেছেন। একজন কারো জব চেয়ে করা পোস্টে তার ডিজিটাল সাইন ব্যবসার বিজ্ঞাপন কমেন্টে দিয়েছেন।
২.কেউ একটা জবের এ্যাড দিলেন। দরকার এ্যাডমিন অফিসার। আপনি বললেন, ভাই, ল্যাব অফিসারের জব আছে? ভাই, সেটা থাকলে তো তিনি দিতেনই।
৩.কেউ মার্চেন্ডাইজিং জবের এ্যাড দিলেন। আপনি বললেন, ভাই, কখনো পারচেজ অফিসার লাগলে নক দিয়েন। কীভাবে ভাই? তিনি হাজার হাজার লোকের মাঝে আপনাকে মনে রাখতে পারবেন? সত্যিই?
৪.কাউকে সিভি মেইল করতে কীভাবে মেইল লিখতে হয়, কোথাও জবের আবেদন পাঠাতে কীভাবে মেইল করতে হয় তা শিখুন।
৫.হোয়াটসএ্যাপের আপনাকে লিংকইনে দেখলে চেনা যায় না। ফেসবুক, লিংকডইন, জিমেইল এর সব ইউজার নেম/ডিসপ্লে নেম, মেইল আইডি নিজের পুরো নামে করুন। আর সবগুলো অনলাইন ফোরামে নিজের একই ছবি দিয়ে ইউজার প্রোপিক বানান। ভাল হয় যদি ফেস লুকের ছবি দেন। সানগ্লাস পড়া না। এপ্রোচ ম্যাটারস।
#softskill
ক্যারিয়ার শুরু করেছেন বা করতে যাচ্ছেন, যেমনই হোক, কিছু স্কীল বা দক্ষতা কিংবা সদ্গুন আছে, যা সারাজীবন যেকোনো ক্যারিয়ারে কাজে দেবে-সেগুলো অর্জন, বৃদ্ধি এবং শানিত করুন। যেমন? বিশ্লেষণী ক্ষমতা, নন-জাজমেন্টাল এটিচুড, দুরদর্শিতা, দ্রূত কিন্তু নিখূঁত সিদ্ধান্ত প্রনয়ণ ক্ষমতা, মাল্টিডাইমেনশনাল থিঙ্কিং, ডাইনামিজম, পারমিসিভনেস, ধৈর্য, থট বা মাইন্ড রিডিং ও এরকম আরো কিছু। এগুলো আপনাকে চাকরি বা ব্যবসা বা প্রমোশন পাইয়ে দেবেই-এমন নয়। আবার এগুলোর অভাবে আপনি পদে পদে হোঁচট খাবেন, তাও মনে রাখুন। নিজের জীবনবৃত্তান্ত নিজেই বানান কিংবা কোনো পেশাদার সিভি রাইটারকে দিয়েই বানান, সবার আগে জরুরি, রিজুমির গুনমান যে যেকোনো বয়সের পেশাজীবির জন্য গুরুত্বপূর্ন, সেটা অনুধাবন করা। যেই ফরম্যাটেই বানান, যেই বানান, যত পাতাই বানান, রিজুমি যেন অবশ্যই এমন হয়, যেন সেটিতে একজন অতিব্যস্ত রিক্রূটার প্রথম দেখায় আকর্ষিত হন এবং রিজুমিটি যেন আপনার বিক্রয়যোগ্য সেরা যোগ্যতাগুলোকে সহজ কিন্তু আকর্ষকভাবে উপস্থাপন করে।
#commitment #mindfull
ওয়াদা রক্ষা করুন। যেকোনো মূল্যে। রাখতে পারবেন না বুঝতে পারলে আগেই দশবার স্যরি বলুন। প্রথম পরিচয় কিংবা প্রথম বার্তাটি চাকরি চেয়ে না হয়। সময় নিন। পরিচয় বাড়ান। ঘনিষ্ঠতাও। নিজেকে নানা কাজ, কথা, সৃষ্টি, প্রশ্ন দিয়ে আগে পরিচীত করান। ক্যারিয়ার সংক্রান্ত নানা খুঁটিনাটি জানুন তার থেকে। একসময় তাকে গুছিয়ে নিজের দরকারটি বলে রাখুন। মানছি, চাকরিটি আপনার ভয়ানকভাবে দরকার। কিন্তু ব্যথা যতই হোক, মলম যদি ব্যতিব্যস্ত হয়ে ঘরের খুঁটিতে মাখেন, কোনো লাভ হবে কি?
#origination #sourceofproblem #appropriation
একবার এক লোক হাটুতে ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার তাকে একটা মলম দিয়ে বলে দিলেন, যেখানে ব্যথা পেয়েছেন, সেখানে লাগাবেন। ৭দিন পরে তিনি আবার ডাক্তারের কাছে গিয়ে ব্যথার বিষয়ে অভিযোগ করলে ডাক্তার তার কাছে জানতে চান, মলম কোথায় লাগিয়েছেন। তিনি জানালেন, পুকুর ঘাটের খুঁটিতে। ক্যারিয়ারের আসলে কোথায় ব্যথা, ক্যারিয়ার নিয়ে আহাজারি করার আগে সেটা আবিষ্কার করা খুব জরুরি। প্রচুর মানুষ নিজেই জানেন না, তার মূল সমস্যাটা কোথায়। শুধু ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মানুষের পোস্টে হতাশা, ক্ষোভ, ঘৃনা, হিংসা, নেগেটিভিটি প্রকাশ করেই একশা। আরেকটা কথা। বাংলাদেশের সার্বিক বাস্তবতায়, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় লেখা, পড়া, বলা, বোঝার গুরুত্ব আছে কি নেই-সেটার বিষয়ে শুরুতেই নিজের দৃষ্টি ঠিক করে নিন। বিপ্লবী হওয়া ভাল। তবে পতিত বিপ্লবী হবার সম্ভাবনা থাকলে মুশকীল। বাংলাদেশের সিংহভাগ পেশাজীবি মানুষ মনে করেন, ক্যারিয়ারে ইংরেজি জানা একটি ‘ফালতু’ বিষয়।
#seniorship #mentorship
ক্যারিয়ারে সিনিয়র হয়ে গেলে আপনার ব্যস্ততা বাড়বে-সেটা খুবই স্বাভাবিক। তার মধ্যেও আপনাকে কিছুটা সময় বের করতে হবে জুনিয়র, টীমমেট, ইয়ংদের জন্য। অনেকেই আছেন, নিজের সমকক্ষ বা সিনিয়র কিংবা হাই প্রোফাইল পেশাজীবিদের সাথে অতি ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখলেও জুনিয়র বা তুলনামূলক লো প্রোফাইলের কারো সাথে দুমিনিট কথা বলা, বা তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে খুবই অনিচ্ছুক। একেতো বিষয়টি অভব্য। তাছাড়া আপনি জানেন না, জগতে কবে কে কোন কাজে লেগে যায়। সুবিশাল জাহাজও সামান্য বরফের আঘাতে ডুবে যায়। জুনিয়রদের কাছে এমন কিছু আছে, যা আপনার মধ্যে নাও থাকতে পারে।
#lovingself #knowthyself #selfbased
অধিকাংশ মানুষই গড়পড়তা একটি জীবন কাটিয়ে হাসিমুখে চলে যেতে পছন্দ করে। আমরা পাশের লোকেরা তাকে কখনো অতি সুখি ভেবে ইর্ষান্বিত হই। কখনো বা তাকে একজন ভাদাইমা ভেবে ক্রূদ্ধ। যেমনটাই হোক, আপনি নিজেকে নিজে কোন চোখে দেখছেন, নিজেকে নিজে কীসে পূর্ণ ভাবছেন, নিজেকে কোনটাতে সুখি করতে পারছেন, সেটাই আসল কথা। নিজের ইচ্ছেটাকে সবার আগে জানুন, শুনুন, বুুঝুন। একটা গোটা জীবন আমরা বলতে গেলে নিজেকে অন্যের পছন্দের মানুষ, অন্যের বানানো মানুষে রুপান্তর করতে কাটিয়ে দিই। নিজের মনের মানুষটাতে নিজেকে গড়ে তুলতে পারাটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আত্মত্যাগ এক মহান গুন। যুগে যুগে সব দেশে সব মানুষই, সব মহাপুরুষই আত্মত্যাগের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। আত্মত্যাগ করুন অবশ্যই। পরের জন্য কিছু করতে পারার সুখই আলাদা।কিন্তু মাঝে মধ্যে নিজেকে নিয়েও একটু ভাবুন। নিজেকে নিজে ট্রিট দিন, নিজেকেও একটু ক্রেডিট দিন। নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও একটু ভাবুন। নিজেকে সময় দিন। সর্বস্ব ত্যাগ করে পরিবার, বন্ধু, সমাজ, সুহৃদ, ভাই-বোন সবার জন্য কিছু না কিছু করবেন, তাদের জন্য জান লড়িয়ে দেবেন অবশ্যই। তার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যত বিষয়টাকে একটু হলেও মাথায় রাখুন। সর্বস্ব উজাড় করে দেবার সময় নিজেকেও একটু ওই তালিকায় রাখুন। আপনি বেঁচে থাকলে তবেই না প্রিয় মানুষগুলোর জন্য লড়বার শক্তি পাবেন। প্রচুর মানুষ পাবেন, যারা কাছের মানুষদের কথা ভাবতে ভাবতে নিজের জন্য সামান্য কিছুও কেনেন না, উপভোগ করেন না দুটাকার এক খিলি পানও। অফিসের সামান্য টিফিনটাও বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু দিনশেষে আপনারও একটু কিছু পাওনা আছে নিজের কাছে। হলেন না হয় একটু স্বার্থপর।
#relevantsubject #subjectorientedjob #relevance #relevantjob
মনে করুন, আপনি ফিজিক্সে মাস্টার্স। চাকরির বাজারে নামা উচিৎ ছিল সেই থার্ড ইয়ারে (পার্ট টাইম, ভলান্টারি, ফ্রীল্যান্সিং টাইপ)। তা না হলে অন্তত গ্রাজুয়শন শেষেই। যাহোক, তা করেননি। অন্তত এবার শুধুমাত্র “আমার সাবজেক্টের চাকরি” বাদ দিয়ে যেকোনো চাকরি খুঁজতে নামুন। যেকোনো মানে বোঝাচ্ছি সাবজেক্ট ওরিয়েন্টেড না হলেও। বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে এটা এখন বাস্তবতা। যদিও আমি নিজে সাবজেক্টে থাকার সমর্থক, কিন্তু বাস্তবতা বড় কঠোর। প্রতিটি সাবজেক্টে যতজন গ্রাজুয়েট প্রতিবছর তৈরী হয়, তার সাথে মিল রেখে চাকরি এদেশে সৃষ্টি হয়না। আবার চাকরির ট্রেন্ড এনালিসিস করে সাবজেক্ট ও গ্রাজুয়েশনের সিট সংখ্যা নির্ধারন হয়না এদেশে। ‘অমুক’ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনোরকম যেকোনো রেটিং এর সাবজেক্টে কোনোমতে ভর্তি হব, পরে দেখা যাবে-এমন ভাবনা এখন অচল।
#relevantsubject #relevantjob #relevance
যেই বিষয়টি নিয়ে আপনি স্নাতক করেছেন, সেই বিষয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কোনো চাকরি করতে হবে-সেটি ভাল কথা। দেশের এতে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। তবে বাংলাদেশের চলমান বেকারত্ব ও সার্বিক বাস্তবতায় বিবেচনা করলে, এটাকে কঠোর ব্রত না করলেই ভাল। আর তাছাড়া, কে কোন বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর-সেটি কর্মজীবন ও সফলতার জন্য অতিআবশ্যকীয় নয়। আজও একজন বস্ত্রপ্রকৌশলীর সাথে কথা বললাম। তিনি বস্ত্রপ্রকৌশলী হয়েও একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিপনন ও বাজারজাতকরণ বিভাগে কাজ করেন। এবং ভালোবেসেই করেন। কোনো একটি খাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা করা ব্যক্তির কাজ করা উভয়ের জন্য মঙ্গল। তবে একইসাথে ভিন্ন বিষয়ের ব্যক্তিদের ওই খাতে কাজও অনেক ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। আমি নিজে এইচআরে সবরকম বিষয়ের ব্যক্তিদের সংযোগকে সমর্থন করি।
#careerready #careerpreparation
ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করে ও উন্নত করে এমন কিছু বিষয়কে যথাক্রমে পরিত্যাগ ও আপন করুন:আবেগ নয়, প্যাশন-ক্রোধ নয়, সম্বরন-লোভ নয়, উচ্চাকাঙ্খা-অতিবিশ্বাস নয়, ভরসা-আত্মকেন্দ্রীক নয়, আত্মবিশ্বাস-জাজমেন্টাল নয়, বিশ্লেষক-সমালোচক নয়, পর্যালোচক-প্রতিযোগী নয় সহযোগী-আত্মপ্রচার নয়, সেলফ ব্র্রান্ডিং-নিন্দা নয়, প্রশংসা, ধমক নয়, মেনটরিং-কর্মক্ষেত্রকে ভালোবাসুন। কিন্তু যেন তার প্রেমে পড়ে না যান, অবসেজড হয়ে না যান। যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন বা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন-তাকে নিয়ে অবশ্যই গর্বিত হবেন। কিন্তু আবার একই সাথে তাকে নিয়ে অহংকার করবেন না; কিংবা সেটাকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভেবে অন্যদের অচ্ছুৎ পরিগনিত করবেন না। যেকোনো বানিজ্য প্রতিষ্ঠান ও যেকোনো বিদ্যাপিঠেই মেধাবী ব্যক্তিবর্গ থাকেন। হয়তো কম বা বেশি।
#TVserial #SultanSulaiman
সুলতান সুলেমান দেখুন। ক্যারিয়ার ও ভাবনার অনেক কিছু পাবেন। এতে একটি জিনিস দেখবেন। সুলতানের হারেমে অসংখ্য সুন্দরী দাসী, বাদী। তারা নিজেরা (একরকম) নিগৃহিত ও সুলতানের পরিবারের সবার বিনোদনের সামগ্রী। তারপরও তাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার দাসী হতে রাণী হয়। তো এই দাসীরা সবসময় চেষ্টা করে নতুন করে কোনো দাসী যেন সুলতানের নজর না কাড়ে, সঙ্গ না নেয়, হেরেমে যাতে সুন্দরী কোনো দাসী না আসে। কারন তাতে তাদের পজিশন হারাতে পারে।একই কাজ আমরা অনেকেই কর্পোরেটেও করি। নিজের টীমে বা অফিসে যোগ্য নতুন লোক আসতে বা টিকতে দিই না। নিজের পজিশন সেফ রাখার জন্য। নিজের যদি সত্যিই উপকার করতে চান, নিজ টীমে, চারপাশে যোগ্যতাসম্পন্ন সহকর্মী দিয়ে সাজান।
কর্মস্থলে জিদ (ইগো) পরিহার করুন: #egoistic #selfego
ইগো। আপনি মানুষটা ছোট জনাব হোন বা বড়, আপনার ক্যারিয়ার বরবাদ করার জন্য যথেষ্ট। আত্মসম্মান ও ইগো এক নয়। মনে করুন, অফিসে আপনার বস আপনার থেকে বয়সে ছোট, বা ক্যারিয়ারে কনিষ্ঠ, তবুও তাকে মেনে নিন, মান্য করুন। “আমি ক্লাস লোকজন না হলে পুঁছি না।”-এটা ইগো। “আমি কোনো সময় কারো সাথে ক্লাসলেস কথা বলিনা”- এটা আত্মসম্মান।
আলগা আত্মসম্মান পরিহার করুন। জাত্যভিমান পরিহার করুন। দেশে উন্মুক্ত যোগাযোগ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বাড়াবাড়ি হওয়ায়, উন্মুক্ত ও উলঙ্গভাবে মানুষকে সম্মানহানী করার, ব্যক্তি আক্রমন করার মচ্ছব শুরু হয়েছে। একদল জেষ্ঠ্য পেশাজীবি তীব্র ইর্ষাবশত ও অবস্থান হারানোর ভয়ে তরুণ ও উদীয়মান নতুন পেশাজীবিদের কারণে অকারণে অস্থানে অযৌক্তিক ও অভব্য উপায়ে আক্রমণ করার যেমন হার বেড়েছে। তেমনি বেড়েছে নবীণ কিংবা হঠাৎ বাজার পেয়ে যাওয়া নবাগত পেশাজীবি কর্তৃক জেষ্ঠ্য পেশাজীবিদের প্রতি বিষোদগার, কটাক্ষ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও ‘হ্যাতে কীতা জানে’ ধরনের আক্রমনাত্মক ব্যবহার। উভয়ই পরিহার্য। উভয় দলেরই বোঝা উচিৎ, মেধা, যোগ্যতা, সৃষ্টিশীলতা-এসব বয়সের সাথে অবশ্যম্ভাবীভাবে জড়িত নয়। কিন্তু আবার, একটু জানাশোনা হলেই, জনপ্রিয়তা পেলেই বিভিন্ন খাতে দীর্ঘকাল কাজ করে আসা, দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন খাতকে সমৃদ্ধ ও নির্মানে অবদান রাখা জেষ্ঠ্যদের নির্বিচারে হেয় করা, পতিত কিংবা পিছিয়ে পড়া বলে অসম্মান করা, ঠাট্টা মশকরা বা যেকোনো রকম অসম্মান করাও অগ্রহনযোগ্য। পেশাজীবিদের দল, মত, সমিতি, দেশ, জেলা, প্রতিষ্ঠান, বয়স, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খাত, এলাকা, শিল্প-এই সবকিছুর উর্দ্ধে উঠে পরস্পরকে সম্মান, সমীহ, শ্রদ্ধা ও প্রশংসা করার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে হবে। যারা বিভিন্ন মাধ্যমে কনিষ্ঠ্য কিংবা জেষ্ঠ্যদের অযৌক্তিকভাবে অসস্মান করেন, বাকিরা তাদেরকে দেখে রাখছে। মনে রাখবেন, যৌক্তিক পর্যালোচনা, সমালোচনা, কুৎসা ও ইর্ষাজনিত বিষোদগার-চারটি ভিন্ন ভিন্ন বিষয়।
#lifetimelearning
ক্যারিয়ারের যে পর্যায়েই থাকুন না কেন, দুটি অভ্যাস ছাড়বেন না-পড়া ও প্রশিক্ষণ। অনেক জেষ্ঠ্য হয়ে গিয়েছি, এই পর্যায়ে এসে আর কী পড়ব, কীই বা শিখব-এটি আত্মঘাতি দৃষ্টিভঙ্গি। প্রচুর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে দেখি, বড় বড় মানুষেরা হয় বসে বসে মোবাইলে ফেসবুকিং করেন, পাশের জনের সাথে গল্প করেন, আর না হয়, নিজের উপস্থিতি জানান দিতে হাবিজাবি প্রশ্ন করে সবাইকে ব্যস্ত রাখেন। প্রশিক্ষনের সময় নানা রকম ফ্লায়ার, হ্যান্ডআউট, পিপিটির সফট কপি পাবার জন্য শুধু ব্যস্ত না হয়ে পরে সেগুলো একটু দেখেও নিন।প্রশিক্ষণে গেলে সেটি কতটা মানসম্মত সেটি জেনে যান।
#mentoship #cult
কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দিলে বা আগে হতেই কর্মরত থাকলে একটি জিনিস খেয়াল রাখুন। যেকোনো প্রতিষ্ঠান, হোক সেটি যেমনই, সেখানে যোগ দেবেন বা কাজ করবেন নিজস্ব যোগ্যতা, দক্ষতা, উদ্যম, অধ্যবসায়, ক্যারিয়ারিজম এর উপর ভর করে। কোনো একক ব্যক্তিত্ব, বস, সাবেক বস, গুরু, পীরসাব, মেনটর, তাত্বিক এর ভরসায় কোথাও যোগ দেবেন না। কিংবা কারো ওপর ভর করে, কারো খুঁটির জোরে কোথাও কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা বা সেখানে রামরাজত্ব কায়েম করবেন না। কারন-পৃথিবী গোল এবং সেখানে জোয়ার ভাটা হয়।
#followingism
ক্যারিয়ার ও পেশায় পীরতন্ত্র ও ইজমতন্ত্র ছাড়ুন। কখনোই একক কোনো ব্যক্তি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠানকে নিজের ক্যারিয়ারের জন্য পীর বানিয়ে ফেলবেন না। একক কারো মতামত, দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশল, পরামর্শ অন্ধের মতো অনুসরন করবেন না। একাধিক জেষ্ঠ্য পেশাদারের মতামত নিন। তারপর তুলনা করুন, তারপর নিজের বুদ্ধিবৃত্তি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।তেমনি একান্তভাবে কোনো সংগঠন, ইন্সটিটিউট, দল, সমিতির বদ্ধমূল অনুসরন হতে নিবৃত্ত থাকুন। জগতে কেউই নিরঙ্কুশ নন। কেউ ফেরেশতা নন।
#mentorship #patronizer
ক্যারিয়ারে গুরুর সাহায্য নিতে পারেন। চাকরি পেতেও। তবে সতর্ক থাকুন। চাকরি বা উন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে, কিংবা ফাঁদে, গর্তে ফেলে অনৈতিক সুবিধা নেবার মতো ক্যারিয়ার পীরও কম নেই। টাকা পয়সা থেকে শুরু করে সম্ভ্রম – এই দুরাচার পীররা সবই দক্ষিণা হিসেবে নেন। সতর্কতার সাথে গুরু নির্বাচন, সঙ্গদান, স্বত্বদান, সম্প্রদান করুন।
#careerapproaching #joblinking
চাকরি খুঁজছেন, চাকরি বদলের চিন্তা করছেন-এমন হয়ে থাকলে বিভিন্ন সাইটে, যেখানে আপনার প্রোফাইল আপলোড করা আছে, বিশেষত লিংডইনে, সেখানে আপনি যে চাকরি বদলে আগ্রহী এমন স্ট্যাটাস অন করে দিন। নেটওয়ার্ক বাড়ান। নেটওয়ার্কের সম্ভাবনাময় প্রোফেশনালদের ডিসেন্টলী এপ্রোচ করে মেসেজ দিন। আপনার লক্ষ্যে থাকা প্রতিষ্ঠানের এইচআরকে সিভি পাঠাতে পারেন। সার্কুলার না থাকলেও। নিজেই ফলোআপ করুন। আর হ্যা, একবারও যদি কারো কাছ থেকে চাকরির ব্যাপারে সাহায্য পেয়ে থাকেন, তাকে ভুলে যাবার আগে দশবার ভাবুন।
#flattery #admiration #appreciation
বস হিসেবে যদি ”জ্বি হুজুর” গোছের কর্মীদের আপনার কাছে যোগ্য ও উপযুক্ত মনে হয়, অথচ স্মার্ট ও দক্ষ হওয়া স্বত্বেও আপনাকে “জ্বি হুজুর” না করায় আপনার কাছে কাউকে ”ফাউল” মনে হয়, তবে আপনি নিজের কতটা করছেন-তা পরিষ্কার না হলেও, প্রতিষ্ঠানের সর্বনাশ করছেন তা নিশ্চিত। আর আপনি যদি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করেন, আপনার ক্ষতিও কেউ ঠেকাতে পারবে না। ব্যক্তিগতভাবে মানুষের স্বাভাবিক চরিত্রের অংশ হিসেবে আমরা প্রশংসা ও তোষামোদ পছন্দ করি। আমি প্রচুর ঘটনাতে দেখেছি, অধঃস্তন কর্মী, এমনকি অন্য বিভাগের কনিষ্ঠ কর্মী বড় স্যারকে স্যার স্যার হুজুর হুজুর না করলে, মাঠে ময়দানে তার ইভ্যালুয়েশনে নেগেটিভ মন্তব্য বা প্রভাব বিস্তার করেন কিছু কিছু নামপ্রত্যাশী বস। কিন্তু একই সাথে তোষামোদীত্ব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোকের অবমূল্যায়ন এবং পরিণতিতে তাদের বিতাড়নের রাস্তা খুলে দেয়। আর বিভাগের যোগ্য লোক চলে গেলে আপনার ক্যারিয়ারও শুলে চড়ার সম্ভাবনা থাকে।বস হিসেবে গণতান্ত্রীক, উদার, নিরপেক্ষ, ভিশনারী, র্যাশনাল, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন, নন-জাজমেন্টাল, নন-ইজম হোন। জনপ্রিয় বস হবার চেয়ে যোগ্য বস আগে হোন।
#womenempowerment #practice #womenatwork
অনেক সময়ই এমন হয়, একজন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় চাকরিজীবি নারী, সংসার, জীবন ও সামাজিক চাপে, কিংবা ইচ্ছা করেই কর্মজীবন হতে একটু বা লম্বা বিরতি নেন। হয়তো পরিকল্পনা থাকে, আবার শীগগীর ফিরবেন। অথবা, কেউ কেউ তার স্বামী বা পিতার সচ্ছলতার কারনে একবারেই কখনো কোনো আয়ের চেষ্টায় থাকেন না। যাহোক, আপনি চাকরি করবেন কি করবেন না, কোনো আয় রোজগারমূলক কাজে জড়িত হবেন কি হবেন না-সেটি আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। তবে মনে রাখবেন, সময় বদলায়। জীবন ও সমাজও বদলায়। চেনা মানুষ অচেনা হয়। জীবনে এমন পরিস্থিতিও আসতে পারে, যখন আপনাকে অসময়ে আবার রাস্তায় নামতে হবে। ততদিনে দীর্ঘ বিরতি ও অনভ্যাসে আপনি আপনার জানা জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, গতি, ইচ্ছা, উদ্যম, সাহস হারিয়ে বসে আছেন। তাই, আপাতত কর্মজীবন হতে সরে গেলেও মাঝের সময়টা অনলাইন ও অফলাইন পড়াশোনা, গবেষনা, বিশ্লেষন, গ্রূপওয়ার্কসহ নানা মাধ্যম ও কর্মকান্ডের ভিতর দিয়ে একটু করে হলেও নিজেকে শানিত, হালনাগাদ ও “এ্যাট পার” রাখুন। বিপদে কাজে দেবে।
#interviewcall #jobopportunity
ক্রমাগত আবেদন করে যাচ্ছেন, অথচ ইন্টারভিউ ডাক পাচ্ছেন না। দিন দিন হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাচ্ছেন। প্রথমত বলি, হতাশাগ্রস্থ হবেন না। কারন, সেটা আপনার সমস্যার সমাধান তো করবেই না, বরং আরো বাড়িয়ে দেবে। হতাশ না হয়ে প্রকৃত কারন অনুসন্ধান করুন। হতে পারে, আপনার চেষ্টাটা সঠিক, কিন্তু পদ্ধতিটি ভুল। হয়তো, আপনি ভাবছেন, সবই তো ঠিক আছে, খালি ডাকটাই পাই না। অথচ, হয়তো ডাক না পাবার পেছনে আপনি নিজেও দায়ী। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, বাজারে ৪.৮ কোটি প্রার্থী। একেকটি বিজ্ঞপ্তিতে রেজুমে জমা পড়ে হাজার হাজার। একেকজন কর্পোরেট পারসনের কাছেও অনুরোধ আসে শত শত। তাদের ভিতরে আপনি নিজেকে বিশেষ কিছু হিসেবে উপস্থাপন করতে না পারলে কীভাবে প্রতিযোগীতায় টিকবেন?
পেশাদার হোন: #professionalism
মানে প্রোফেশনাল হোন। না, আপনাকে আবার বলছি, আপনাকে পেশাজীবি হতে বলছি না, পেশাদার হতে বলছি। এক কথায় যদি বলি, প্রোফেশনাল হওয়া কেমন? যেমন ধরুন, মিজ আলিয়া ভাট যদি মি. মহেশ ভাটের ফিল্মে নায়িকা হন, তবুও তিনি ২ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেবেন। তারপর আবার হয়তো সেই টাকায় বাবাকে বিবাহবার্ষিকীতে গাড়ি গিফট করবেন। কিন্তু পারিশ্রমিক নেবেনই। নিজস্ব চিন্তা, বিশ্বাস, ভাবাবেগ, দৃষ্টিকোণ, স্বার্থ, সম্পর্ক, ইত্যাদিকে উপেক্ষা করে সত্য, ন্যায়, সঠিক, উচিত, প্রয়োজনীয়তা, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ, পরিস্থিতির করণীয় এসবকে প্রাধিকার দেয়ার নাম পেশাদারিত্ব।
#jobswitching #jobjumping
লাফালাফি কম করুন। কী? অবাক হলেন? আরে কম কম জাম্প করা বোঝালাম। মানে জব সুইচিং। মনে করুন, আপনার ক্যারিয়ার মোট ১২ বছর। আপনি এই ১২ বছরে ১১ টা কোম্পানী বদল করেছেন। প্রতিবারই বেতন, পদ উন্নত হয়েছে। হয়তো একবারও কেউ জানতে বা বুঝতে চান নি, কেন আপনি প্রতিবছরেই চাকরি বদল করেছেন। কিন্তু একটা সময়ে ঠিকই আপনি এই প্রশ্নের মুখোমুখি হবেন কিংবা নিয়োগকর্তারা এটা নিয়ে ভাবতে শুরু করবেন। বিশেষত জেষ্ঠ্যদের ক্ষেত্রে। ”ঘন ঘন” চাকরি বদল করার অতীত থাকলে নিয়োগকর্তারা তার ওপর আস্থা রাখতে চান না। তারা মনে করেন, তিনি তার প্রতিষ্ঠানে বেশিদিন থাকবেন না। আর আমাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক, নিয়োগদাতাদের বেশিরভাগ যেটা মনে করেন, সেটাকে উপেক্ষা করা কঠিন। তারা এমনকি একটু কম যোগ্য হলেও স্থির ও স্থায়ী লোকটাকে বেশি পছন্দ করেন। চাকরি বদল করা কোনো অপরাধ না। কতটা দ্রূত বদল করা উচিত বা উচিত না-তারও কোনো গৎবাঁধা নিয়ম নেই। তবে “গড়পড়তা” বা “প্রচলিত প্রথা” বলে যে জিনিসটা আছে, তা বলে, বছর তিনেক অন্তত একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা উচিৎ।
মার্চেন্ডাইজার হতে চান? #beingmerchandiser
merchandising/মার্চেন্ডাইজার হতে চান-এমন ব্যক্তিবৃন্দ পড়লেই হবে। যদি আপনি সত্যিই তৈরী পোষাক খাতে কর্মজীবন গড়তে চান, তবে আগে হতে শোনা সব প্রিজুডিসড চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন। আমাদের কাছে যত নবীন প্রার্থী আসেন তাদের মধ্যে তৈরী পোষাক খাতে কাজ করার স্বপ্ন যারা দেখেন, তারা প্রায় সবাই মার্চেন্ডাইজার হতে চান। তাদেরকে জানানো হয়েছে, তৈরী পোষাক খাতে মার্চেন্ডাইজিংই একমাত্র ’হোয়াইট কলার জব’ এবং শুধু এখানেই দ্রূত বড়লোক ও প্রচন্ড ক্ষমতাবান হওয়া যায়। আপনি ভুল জানেন। সৎ, মেধাবী ও পরিশ্রমী হলে তৈরী পোষাক খাতে অসংখ্য স্থান আছে, যেখানে যে কেউ কাজ করতে পারেন। আর সেখানে থেকে কর্মজীবনও বানাতে পারেন। আর অতি দ্রূত বড়লোক হবার যে যাদুর কথা আপনি বাইরে হতে শুনেছেন, সেটাও অসৎ, ধান্দাবাজ ও চতুর হলে যেকোনো বিভাগে বসেই করা যায়। তাই, তৈরী পোষাক খাতে আসতে চাইলে, যথাযথ বিশ্লেষেণ করে তারপর আসুন। কোন অংশে কেমন চাকরি আছে, কেমন সুযোগ, কেমন ভবিষ্যত, তা ভাল করে বিশেষজ্ঞদের থেকে জেনে নিন। এখানে অসংখ্য বিভাগে প্রচুর উচ্চশিক্ষিত মানুষ কাজ করেন। এমনকি এখন সরাসরি উৎপাদন নিয়ে কাজ করেন-এমন স্থানেও অনভিজ্ঞ বা নবীনদের নেয়ার সংস্কৃতি চালু হয়েছে।
#communicationskill #context #communicationgap #activelistening
এই যে, আপনি অহরহ নামের শেষে আর রেজুমির আগে বলে দেন, কমিউনিকেশন এক্সপার্ট;
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, যে, কমিউনিকেশনের দক্ষতার ও পরিপক্কতার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হল কনটেক্সট?
যে কোনো কমিউনিকেশন এপ্রোচের প্রাইম ফ্যাক্টর হল, সেই কমিউনিকেশনের কনটেক্সট আপনি বুঝতে বা বোঝাতে পারলেন কিনা-সেটা। Facebookসহ যেকোনো উন্মুক্ত মাধ্যমে কারো লেখা পড়লে পাঠকের উচিৎ হল সেটির ফোকাস, মেসেজ ও কনটেক্সট নিয়ে ভাবা, মনোযোগ দেয়া। যেটা বোঝা সম্ভব এবং দরকার।
HR department কিংবা HR professionals দের নানা সফলতা, ব্যর্থতা নিয়ে আপেক্ষিক বিতর্ক চলতেই পারে।
তবে একটি কমোন বিষয়ে HR ও অন্য যেকোনো টিমের সদস্যরা (টপ টু বটম) ডাহা ফেল করবার একটা মিল আছে। সেটা হল পালস বোঝা আর বোঝানো।
আমি বা আমার কোম্পানী কী চাইছে-সেটি আরেকজনকে বোঝাতে পারা আর তিনি কী বলতে চাইছেন-সেটি অনুভব করবার ক্ষেত্রে একটা বিরাট ফাঁক আছে। আমরা মনে করি, ফাঁকটা নেই, আসলে সেটা আছে, এবং, বিপুলায়তনে।
খুব সম্প্রতি আমি আমাদের একজন ‘স্যাম্পলম্যান’ এর সাথে কথা বলছিলাম। তিনিই কথা বলতে এসেছেন। আমার ডেস্কে যে কেউ যাতে কথা বলতে আসে-সেই আহবান আমরা বারবার করি।
তো, তার বক্তব্য শুনবার পরে আমি তাকে প্রায় ১ ঘন্টা আমাদের পয়েন্ট অব ভিউ এবং অবস্থান ব্যাখ্যা করলাম। খুব ধীরে-সুস্থে, এবং, আমার ধারনা অনুযায়ী তার বোধগম্য টোনে ও ভাষায়। ভাবলাম, তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন, যে, আমি কী বোঝাতে চেয়েছি।
ও আমার খোদা, তিনি আমার বক্তব্য শুনে যে রিঅ্যাকশন বা প্রতিউত্তর করলেন, সেটা শুনে আমি বুঝলাম, তাকে এতক্ষণ ঠান্ডা মাথায় যা বলেছি, তিনি ঠিক তার উল্টোটা বুঝেছেন।
আমি একটা জিনিস অনুধাবন করলাম। আমার বলা সবচেয়ে ঠান্ডা, স্থির, স্পষ্ট ও যৌক্তিক বর্ণনাও অনেকের বোধগম্য নাও হতে পারে। ব্যক্তি টু ব্যক্তি মাথার ভাবনা ট্রান্সফার সহজ কাজ না। বরং, অনেকটাই কঠিন। পালস, টোন, কালচার ও লেভেল মাপতে পারা তার জন্য খুবই দরকার। এর বাইরেও জানতে হবে, কোন ক্লাসের মানুষ কেমন ভাষার মর্মে ঢুকতে সক্ষম। অন্যথায় দূরত্বই বাড়বে। ঝামেলা বাড়বে।
মিস কমিউনিকেশন ও ডিস কমিউনিকেশন কর্মক্ষেত্রে ঝামেলা হবার অন্যতম বড় কারন।
বাঙালি করে উল্টো।
এঁরা পড়ে যায় লেখকের ইনটেনশনের পেছনে। যেটা বোঝা কোনোদিনই সম্ভব না, দরকারও নেই।
তখন যেটা হয়, তার নাম এঁড়ে তর্ক। আর বিভিন্ন লেজবাহী প্রাণীর নর্তনকুর্দন।
এবং, আরো মজার বিষয় হল, কমিউনিকেশনের দুটো দিক-বলা/বোঝানো/ডেলিভারি এবং বিপরীতে শোনা/বোঝা/রিসিভিং-এই দুটোর মধ্যে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ প্রথমটা না, মানে বলা নয়, বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হল দ্বিতীয়টা, অর্থাৎ শোনার দক্ষতা, বোঝার ক্ষমতা।
শোনা ও বোঝাতে দক্ষতা তো অনেক দূর, বাঙালি শুনতেই তো রাজি না। তাতে আবার আমরা সবাই নাকি কমিউনিকেশন এক্সপার্ট।
কমিউনিকেশন বা যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ান। যোগাযোগ দক্ষতা মানে কেবল ইংরেজি বলতে পারা বা মেইল করা নয়। আপনার নিজের কথা, তথ্য, বক্তব্য, চিন্তা, ধারনা, বিশ্বাস, ব্যাখ্যা – এসবকে অন্যের কাছে পৌছাবার, উপস্থাপন করবার পন্থা, পদ্ধতি, কার্যক্রমই হল যোগাযোগ। সেই যোগ্যতা বাড়ান।
শুধু জ্ঞান থাকলেই হয় না। সেটাকে বাজারজাতকরণও করা জরুরি। আর কভার মেইল, নাকি কভার লেটার-সেই দ্বন্দ্বে না পড়ুন। মেইলে আবেদন করলে, ওই মূল মেইলটিই কভার লেটার হিসেবে যথেষ্ট, যদি না আলাদা করে সেটা চাওয়া হয়ে থাকে। বাদবাকি ক্ষেত্রে, নিষেধ না করে থাকলে কভার লেটার দিন, যদি নাও চাওয়া হয়ে থাকে। কভার লেটার বা মেইলের ভাষা স্মার্ট ও যুগোপযোগী রাখুন।
#buyerseller #bargaining
চাকরির বাজারে আপনি নিজেকে ক্রেতা বা বিক্রেতা-দুইভাবেই উপস্থাপন করতে পারেন। যদি এমন হয়, যে কোনো প্রকারে আপনার এখুনি একটি চাকরি পেতেই হবে আর আপনার যোগ্যতা অতি উচ্চমানের বা ব্যতিক্রমধর্মী নয়-তাহলে নিজেকে ক্রেতার অবস্থানে পাবেন। আর যদি এমন হয়, চাকরিটি আপনার পরমাকাঙ্খা (প্যাশন অর্থে) অথবা আপনার ভিতরে অতি উচ্চমানের বা ব্যতিক্রমধর্মী কোনো যোগ্যতা আছে, তবে নিজেকে বিক্রেতার অবস্থানে পাবেন। এই ক্রেতা ও বিক্রেতার আসনের তাৎপর্য হল, চাকরির বাজারে দর কষাকষি ও কর্তৃত্বের সুযোগ। মনে রাখবেন, বাজারে প্রায় ৫ কোটি বেকার। এত লোকের ভিতরে একটি সুযোগ করে নেবার জন্য আপনাকে ব্যতিক্রমধর্মী (এক্সট্রা অর্ডিনারি) হতেই হবে।
#backgroundchecking
যেকোনো প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবার আগে, পারলে নিয়োগ পরীক্ষায় যাবার আগেই, ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিন। তাদের আর্থিক অবস্থা, কর্পোরেট নীতি, সংস্কৃতি, এইচআর সংস্কৃতি, ইতিহাস এসব সম্পর্কে জেনে যান। পারলে ওখানেই কাজ করেন-এমন কারো সাথে কথা বলে জেনে নিন। বড় বেতন-পদ-গাড়ি পাবার প্রতিশ্রুতি পেয়েই যুক্তিশুন্য হয়ে চলে যাবেন না। হ্যা, আপনি অবশ্যই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে নাও পারেন। কিংবা সবদিক হতে ভাল নাও পেতে পারেন। কিন্তু যতটা জানা সম্ভব জেনে তারপর বিশ্লেষণ করুন, যে, কী পাবেন আর কী হারাবেন।
#officepolitics #corporatepolitics
যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, সেখানে রাজনীতি, গুটিবাজি, দলবাজি, এলাকা ইজম, গিরীঙ্গি-ইত্যকার কর্মকান্ড হতে বিরত থাকুন। নিজের কাজ ও কর্তব্য সুচারুভাবে করুন। অন্যের পেছনে পড়া হতে বিরত থাকুন। অন্যের কাজের বা প্রাপ্তির দিকে নজর না দিন। অন্যের কাজে বা কর্মদক্ষতা নিয়ে নিজের সময় নষ্ট না করুন। অন্যের সর্বনাশ করার চেষ্টা করলে আপনারও যে সেটা হবে-সেই বিষয়ে ২০০% নিশ্চিত থাকুন।
#integrityskill
পৃথিবীর তাবৎ লোককে ৪টি ভাগ করা যায়: সৎ ও দক্ষ সৎ ও অদক্ষ অসৎ ও দক্ষ অসৎ ও অদক্ষ প্রথম সারির লোকেরা শ্রেষ্ঠ। শেষ সারির লোকেদের কথা নাই বা বললাম। আপনাকে নিজেকে ঠিক করতে হবে, আপনি কোন শ্রেনীর মানুষে নিজেকে পরিণত করবেন। প্রতিটারই রয়েছে নিজস্ব ধরণ, বাস্তবতা ও পরিণতি। তবে অনেকেই মনে করেন, সততা মানে হল শুধু ঘুষ না খাওয়া। দুঃখিত। সততা হল: যা আপনার পাওনা নয়, অধিকারে নয় কিংবা যা আপনার এখতিয়ারে নয়, এমন যেকোনো কিছু অর্জন, গ্রহন, প্রতিপালন কিংবা বাস্তবায়ন করা। সেই দিক হতে, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা দায়ীত্বের অবহেলাও অসততা। আবার অনেকের ধারনা কেবলমাত্র কৌশল বা প্রকৌশলগত অভ্যস্ততা, কিংবা দীর্ঘদিন একটি কাজের অভ্যস্ততা থাকা কিংবা স্রেফ ইংরেজি বা কম্পিউটার জানার নাম হল দক্ষতা। দুঃখিত। দক্ষতা একটি বিশাল ধারনা। সংক্ষেপে বললে, যেকোনো বিষয়, ধারনা বা কাজে আপনার জ্ঞান ও তথ্য থাকা আর সেটিকে সময়োপযোগী ও কার্যকর একটি ফলাফলে রুপান্তরের সুযোগ তৈরীর মতো সক্ষমতা থাকার নাম দক্ষতা। যেমন ধরুন, ১৯৮০ সালে টাইপিং জানা থাকা ছিল একটি দক্ষতা। ২০১৯ সালে সেটিকে আর দক্ষতা হিসেবে দেখা হয় না। আপনি একটি আলোচনার টেবিলে সুদক্ষভাবে দরকষাকষি করতে পারেন কিনা, বিরোধিপক্ষকে কথার বা যুক্তির মাধ্যমে মুগ্ধ করতে পারেন কিনা, আনু্ষ্ঠানিক ও নিয়মতান্ত্রীকভাবে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন কিনা, প্রতিষ্ঠান বা নিজের কাজকে বা প্রকল্পকে সুন্দর করে প্রদর্শন করতে পারেন কিনা, যেকোনো কাজের বা বিষয়ের গোছালো প্রতিবেদন বানাতে পারেন কিনা-এসবও দক্ষতার মধ্যে পড়ে।
#selfconfidence #selfexteem #caliber
নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা নিয়ে সচেতন ও সতর্ক হোন। নিজের যোগ্যতা নিয়ে অতি আত্মবিশ্বাসি হবেন না। কিংবা, সব শিখে গিয়েছি কিংবা আর কী ই বা শিখব-এমন মনোভাব ঝেড়ে ফেলুন। তবে একই সাথে, নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা, অবস্থান, জ্ঞান, কর্মজীবনের অবস্থান, সামাজিক অবস্থান-এসব নিয়ে ইনফেরিরিটি সিনড্রোমেও ভুগবেন না। আশপাশে থাকা বড় বড় মুরব্বী, নেতা, গুরু, গরু, কী-নোট স্পিকার, গেস্ট অব অনার, চিফ, হেড, টেল-এই সব বিশাল বিশাল হাস্তিদের রাজা উজির মারা দেখে নিজেকে চকির তলার মানুষ ভেবে মরমে মরে যাবেন না। নিজেকে নিয়ে নিজে গর্বিত হোন। আর অন্যের জ্ঞানের বা বিদ্যার বহর (প্রকাশ) দেখে ঘাবড়ে যাবেন না, দমে যাবেন না। আপনার নিজের যোগ্যতা নিয়ে আত্মবিশ্বাস রাখুন। সাহসটা এমন, ইন্টারভিউতে ঢোকার আগে নিজেকে বলুন, আজ যদি একজন মানুষেরও চাকরি হয়, সেটা আমার। তাছাড়া এমনিতেও, বাজারে যতটা গর্জে, ততটা সবাই বর্ষে না। হাই TRP প্রোফেশনাল মানেই বিরাট দিগগজ না। *ক্যারিয়ার নিয়ে এই কথাগুলো কোনো সার্বজনীন, বিশেষজ্ঞ মতামত বা প্রচলিত ক্যারিয়ার টিপস নয়। লিপিকারের নিজস্ব মতামত বলতে পারেন। অনুসরন করার আগে যাঁচাই করে নিন। অন্ধ অনুসরন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়।
#Careertips #shorttips #careerhack #careeradvice #একচিমটিক্যারিয়ার