Skip to content

একুশ কেন আসে?

  • by

একসময় ২১শে ফেব্রূয়ারী ছিল ভাষা শহীদ দিবস। ঠিক কবে, কী কারনে, কোন বিবেচনায় সেটা শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে গেল (আর ভাষা শহীদ দিবস ডিলিট হয়ে গেল), জানিনা। আমার কাছে তো আগের থীমটার মর্যাদা কোনো অংশেই ঢাকা পড়বার কারন নেই।

একুশে ঢাকা শহর ঘুরতে ঘুরতে অবস্থা দর্শন করে মনে হয় না শোক বা শ্রদ্ধাটা আমরা আদৌ খুব একটা আর অনুভব করি। আপাতত ২১ ফেব্রূয়ারী মানে ৮ ফাল্গুনের মানে যা দেখছি ২১ মানে দুইয়ের পিঠে এক। ২১ মানে ফেব্রূয়ারীতে তৃতীয় দফা ফুলের ব্যাপক বানিজ্য।

একুশ ঢাকাবাসি কর্পোরেটদের জীবনে আশির্বাদ হয়ে এসেছে। কারন ২১ মানে আরেকটা ছুটির দিন। ২১ মানে তিনদিন টানা ছুটিতে পর্যটনে গমন কক্সবাজার, বান্দরবন আর সাজেক।

২১ মানে গরুদের জন্য আত্মদানের নতুন উপলক্ষ্য। (প্রভাত ফেরিতে না, পাশের বাসার লোকজন সাতসকালে উঠেই শুরু করেছে গরুর মাংস কষানো)।

২১ মানে জুটিদের ভ্যালেন্টাইন পালনের ঘাটতি পোষানোর মচ্ছব।

২১ মানে ফ্যাশান হাউজগুলোর বানিজ্য ধান্দা।

২১ মানে মোবাইল কোম্পানীর এস এম এস ধান্দা।

২১ মানে পতিতা পলিটিকস, টকশোতে দেশ পরিবর্তনের বিপ্লব।

২১ মানে ১১ মাস ২৯ দিন ইংরেজিতে বাতচিত করা ইংলিশ পোলাপানের জড়ানো কন্ঠে বাংলা বলার চেষ্টা,

২১ মানে রেডিও জকিদের ফেভিকল চর্চিত কন্ঠে সারাদিন উৎফুল্ল স্বরে শোকগাঁথা গেয়ে বায়ান্নর আত্মদানকে অপমানিত করা।

২১ মানে দিনে “আমি কি ভুলিতে পারি” রাতে “মুন্নি বদনাম হুয়ী”।

২১ মানেই অবশ্যম্ভাবিভাবে পাদুকা দলন বিতর্ক।

২১ মানে কড়া মেকআপে চর্চিত কৃত্রিম শোকাকূল মুখ।

২১ মানে ছুটির দিনের সকালের আয়েশি ঘুম। মাফ করবেন।

এজন্য একুশ না। এটা একুশ না। এমন একুশ সালাম চান নি। বরকত এই একুশ দুঃস্বপ্নেও ভাবেন নি। ভাষা শহীদ রফিক ২১ তারিখ মিছিলে যাবার সময় সাদাকালো পাজামা পাঞ্জাবী পড়বেন, নাকি রঙিন-তা নিয়ে ভাবেন নি। দামী অর্কিড তখন পাওয়া যেত কিনা জানি না। আজকাল তো বড় মানুষেরা দামী ফুল ছাড়া শ্রদ্ধা প্রকাশ করতেই পারেন না। শফিউর মিছিলে যাবার সময় জানতেন না, মিছিল শেষে, ভাষাকে উদ্ধার করে, দেশোদ্ধার শেষে নিরব হোটেলে কষা মাংষ আর ৭ পদের ভর্তা দিয়ে পার্টি দেবেন আর সেল্ফী দেবেন সবার আগে।

৫২’র একুশ আর এখন একুশে কত তফাত! সেদিনও সবাই মিছিলে ধাক্কাধাক্কি করছিলেন, মিছিলের আগে থেকে বুকের রক্ত আগে দিতে। আজও ধাক্কাধাক্কি হয়, প্রভাতফেরীর সামনে থেকে ক্যামেরায় ছবি তুলতে, নেতার সাথে ছবিতে থাকতে।

আমি জাপানের হিরোশিমা দিবসের শোক মিছিল দেখেছি। লক্ষ লক্ষ মানুষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। একটি টুঁ শব্দ কোথাও নেই। হুল্লোড় নেই, ধাক্কাধাক্কি নেই।

একে একে সব ভাষাশহীদ চলে গিয়েছেন প্রায়। এখন পর্যন্ত একটা নামকাওয়াস্তে তালিকাও হল না, ভাষাসংগ্রামীদের নিয়ে, শহীদদের নিয়ে।

২০৫২ সালে প্রজন্ম যদি সমস্বরে বলে, “গো আযম প্রধান ভাষা সংগ্রামী ছিলেন”-লজ্জায় আত্মহত্যা করতে চেয়ো না যেন বঙ্গমাতা। একটা অনাহুত প্রশ্ন-১৯৫২ তে শহীদ মিনারের পেছনে মরহুম বাবা তেলশাহ’র মাজারটি কি আজকের মতো ছিল?

#Ekush #21stFebruary #hypocrisy #hypocritenation #showoffatitsbest #exhibitionism #patriotism

Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *