কয়েকদিন আগে ফেসবুক ও লিংকডইনে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা এবং সিরিয়াস ইন্টারভিউ এর যৌক্তিকতা নিয়ে একটা প্রশ্ন করেছিলাম। প্রচুর মানুষ তাতে রিপ্লাই করেছেন। একটা বড় অংশই ছিলেন যারা মনে করেন ইংরেজিতে দক্ষতা থাকাটা তেমন জরুরী না কিংবা সব জবের জন্য এসেনশিয়াল না। কেউ কেউ ইংরেজির দক্ষতা চাওয়াটাকেই অহেতুক মনে করেন। সবাইকে ধন্যবাদ মন্তব্য করার জন্য।
সবাইকে আলাদা আলাদা উত্তর না দিয়ে ভাবলাম সবগুলোকে নিয়ে একটা পোষ্ট দিই। আপনারা পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি দিয়েছেন। সবার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি ওই বিষয় দুটোর প্রতি আমার মতামতটি বলছি।
একটা পুরোনো মুভি দেখেছিলাম-ইংলিশ ভিংলিশ। শ্রীদেবী’র বোধহয় এটা সেরা মুভিগুলোর একটা যেখানে তিনি ইংলিশ না জানায় নাস্তানাবুদ হওয়া আর শেখার বিভিন্ন সংগ্রাম করেন। ইংরেজি শেখার গুরুত্ব-আমার খুব বোরিং একটা খাসলত যা নিয়ে বহু মানুষ আমার উপর বিরক্ত।
বহুকাল আগে একবার একটা কোম্পানীর মার্কেটিং এর লোকেরা তাদের একটি টেকনোলজি সংক্রান্ত প্রোডাক্ট’র ডেমো দেবার জন্য এলো। সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্টের সব অফিসার তাদের বসসহ প্রেজেন্টেশনে হাজির। ঘন্টাখানেক ইংরেজিতে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিলেন বিদেশী প্রেজেন্টার। আমি খেয়াল করলাম পুরো পেজেন্টেশনে পিনপতন নিরবতা। শ্রোতারা সব গভীর মনোযোগে কথা শুনছে। এমনিতে নামাজের মধ্যেও মানুষ দেখি কাশি টাশি দেয়। অথচ এই পুরো একঘন্টা কেউ একটা কাশিও দেয়নি। আমি মুগ্ধ হলাম তাদের মনোযোগ দেখে।
প্রেজেন্টেশন শেষ হবার পর বিদেশী প্রশ্ন করল-এনি কোয়েশ্চেন? রুমে পিনপতন নিরবতা। আবার প্রশ্ন-এনি কোয়েশ্চেন? রুমে এবার কবরেরও নিরবতা। তো প্রশ্নকর্তা এবার নিজেই তার প্রেজেন্টেশনের খুটিনাটি সম্মন্ধে শ্রোতাদের মতামত জানতে চাইলেন। শ্রোতারা এবার একে অন্যের মুখের দিকে তাকাতে শুরু করলেন।
এতক্ষণে কাহিনী বোঝা গেল রুমের অস্বাভাবিক নিরবতার। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের কেউই ইংরেজিতে দেয়া প্রেজেন্টেশনের ছিটেফোঁটাও বোঝেন নি। ইংরেজি প্রশ্নও নয়। কী বিচিত্র এই দেশ? ন্যুনতম ইংরেজি জ্ঞান না থাকার পরও বিভাগীয় প্রধান।
ওবামা প্রেসিডেন্ট হবার পর জাপানি প্রধানমন্ত্রী তার সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হতে ওয়াশিংটন যাবেন। কিন্তু তিনি ইংরেজী পারেন না।তো প্রধানমন্ত্রীর দোভাষীরা তাকে দু’টো ইংরেজি শিখিয়ে দিয়ে বললেন আপনি এই দুটো কথা শেষ করে চুপ করে যাবেন বাকিটা আমরা চালিয়ে নেব। আপনি যখন ওবামার সাথে প্রথম হ্যান্ডশেক করবেন তখন জিজ্ঞেস করবেন “How are you” আর যখন ওবামা এর উত্তর দেবেন তখন আপনি বলবেন “Me too”। ব্যাস আপনার কাজ শেষ। যাহোক নির্দিষ্ট দিনে ওবামার সাথে জাপানি প্রধানমন্ত্রির মোলাকাত হল।
বাট প্রধানমন্ত্রী একটা ছোট ভুল করে ফেললেন। তিনি “How are you” এর বদলে ওবামাকে জিজ্ঞেস করলেন,
“Who are you”?
প্রশ্ন শুনে ওবামা তো আকাশ থেকে পড়লেন। যাহোক তিনি প্রধানমন্ত্রীকে লজ্জায় না ফেলে কিছুটা কৌতুক করে বললেন,
“Well, I am Michel’s husband”.
প্রধানমন্ত্রী মনে করলেন তিনি ঠিক পথে আছেন। উত্তরে তিনি শিখিয়ে দেয়া দ্বিতীয় বাক্যটি ঝাড়লেন
“Me too”.
অতঃপর ওবামার হার্টফেল।
ইংরেজি নিয়ে এরকম কৌতুক আরও আছে। কৌতুকের পাত্র স্থান-কাল-পাত্র অনুযায়ী বদল হয়। এই গল্পে পাত্র হল জনৈক ক্রিকেট ক্যাপ্টেন।
তো কোনো এক ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে। ক্যাপ্টেন ——– ও সেঞ্চুরী করেছেন। তো কমেন্টেটর ম্যাচ শেষে তার কাছে আসলেন ম্যাচ জয় ও সেঞ্চুরির প্রতিক্রিয়া নেবার জন্য। ঘটনাক্রমে ক্যাপ্টেন সম্প্রতি বাবা হয়েছেন। তাকে কমেন্টেটর ইংরেজিতে জিজ্ঞেস করলেন “কংগ্রাচুলেশান ক্যাপ্টেন, হোয়াট ইজ ইওর রিঅ্যাকশান বিইং এ প্রাউড ফাদার”? ইংরেজিতে অকাট মুর্খ ক্যাপ্টেন ——- ভাবলেন নিশ্চই তাকে ম্যাচ উইনিং নিয়েই প্রশ্ন করেছেন। তিনি উত্তর দিলেন ”মি এ্যান্ড মাই টীম ইজ সো হ্যাপী। ইনফ্যাক্ট ইট ওয়াজ এ টীম ওয়ার্ক।” স্পেশালি দি ওপেনারস ডিড ভেরী গুড।” কমেন্টেটর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন।
অনেক মানুষ আমার উপরে খুব বিরক্ত হয় যখন আমি মানুষদের ইংরেজি জানার জন্য জোর দিই, ইংরেজি শেখার কথা বারবার বলি। কেন বলি নিশ্চই বুঝতে পারছেন? তবে দুর্মূখেরা উল্টো বলে, দেখেন, ইংরেজিতে সামান্য দাড়ি কমা ভুল করাতেই না বাংলাদেশ ব্যংকের রিজার্ভের সব টাকা ডাকাতরা হ্যাক করে নিতে পারল না। তাই ভূল ইংরেজিই তো ভাল।
একজন ইকোনোমিক্সে মাস্টার্স হোল্ডার এসেছিলেন ইন্টারভিউ দিতে। ইন্টারভিউ শুরু করতেই তিনি বললেন, আমাকে ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে পারব না, ইংরেজিতে লিখতে পারব না। কথা না বাড়িয়ে সংক্ষেপে বলি কেন দরকার ইংরেজির দক্ষতা:
১. ইংরেজি দরকার কি দরকার না-সেটা নির্ভর করে পজিশনের উপরে। আপনি যদি এমন একটা পজিশনে চাকরি করতে চান যেখানকার কাজের ধরনটাই হল ইংরেজি লাগে (বিশেষত এক্সিকিউটিভ হোয়াইট কলার জব) তবে আপনার জন্য ইংরেজিটা সারভাইভাল, কম্পিটেন্সি, প্রতিযোগীতা ও প্রেস্টিজ ইস্যু। দেশের ১০০ ভাগ মানুষকে ইংরেজিতে সুদক্ষ হতে হবে না। শুধু যাদের জব বা ব্যাবসার ন্যাচার অনুযায়ী দরকার তাদের কথা বলা হচ্ছে।
২. বিভিন্ন বায়ার অডিট ফেস করা এবং নিত্যনতুন মডার্ন প্রাকটিসের জন্য যে পরিমান কনটেন্ট লিখতে হয় সেটা করতে কতটা বেশি শুদ্ধ ইংরেজি জানা দরকার? ক্লারিক্যাল কাজ হতে ডেভেলপমেন্টাল কাজের মুল্যায়ন বেশী হয়ে থাকে। ডেভেলপমেন্টাল কাজ করতে কনটেন্ট ডেভেলপ করা তথা ইংরেজি লাগে।
৩. ইংরেজিতে যথেষ্ট দক্ষতা না থাকলে পড়ার জগত বা শেখার আগ্রহটা কমে যায় অটোমেটিক্যালি কারন এখনো আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে ইংরেজির মার্কেট শেয়ার বেশি। নলেজের উৎসের সিংহভাগ ইংরেজিতে। যদি ইংরেজি না জানি, তাতে করে জানার জগতটা ছোট হয়ে যাবে এবং স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাওয়ার আগ্রহটা সীমিত হয়ে যাবে। যদি কারো কোল্ড এলার্জি থাকে, স্বাভাবিকভাবেই তিনি আইসক্রিমের বিজ্ঞাপন দেখলে আগ্রহ বোধ করবেন না। আগ্রহ না থাকলে সংগ্রহও কমে যায়।
৪. একদম মারমার কাটকাট করে যদি বলি ইংরেজি কেন দরকার তাহলে বলব-কমিউনিকেশন, করেসপনডেন্স, কনটেন্ট রাইটিং, রিপোর্টিং, ফরেন ডিপেনডেন্সি, ফরেন নেটওয়ার্কিং, ফরেন ট্যুর, ডাটা মেইনটেইনিং, প্রেজেন্টেশন/ডেমোনেস্ট্রেশন, প্রোগ্রামিং, নেগোশিয়েশন-এই কাজগুলোর কোনোটা যদি আপনার জবের সাথে রিলেটেড হয় তবে আপনাকে ইংরেজি জানতে হবে।
৫. অনেকে মাতৃভাষার জন্য আমাদের রক্তদানের কথা স্মরন করিয়ে বলতে চান, যদি ইংরেজিই সব হয় তবে কেন ভাষা আন্দোলনে জীবন দিলাম কিংবা সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের দাবীর তাহলে কী হবে? ভাষা আন্দোলন করেছিলাম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা বহাল রাখার জন্য। বাংলা কেন্দ্রীক জাতিসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। মায়ের ভাষার সম্মান ধরে রাখতে। ইংরেজিকে বিতাড়িত করতে নয়। আর বাংলাকে সর্বরকমে প্রমোট করব এমনিতেই। তার জন্য ইংরেজিকে অস্বীকার করার সুযোগ তৈরী হয়না। বাংলাকে দরকার আমাদের আত্ম-পরিচয়ের স্বার্থে, বাঙালিত্ব’র স্বার্থে। ইংরেজির দরকার সম্পূর্ন কমার্শিয়াল স্বার্থে। ভাষা আন্দোলনের থীমের সাথে ইংরেজি জানার কোনো বিরোধ নেই। বাংলাকে পূর্ণ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার দিয়েও ইংরেজি শিখতে হবে।
‘সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার’-এই বিষয়টার একটা খুব ভুল ট্রান্সলেশন ও প্রয়োগ হয় এদেশে। যার একটা হল গাড়ির নম্বর প্লেট বাংলায় লেখা। একটি রাষ্ট্র এখন আর কেবলই একটি নিজস্ব গন্ডিতে আবদ্ধ রাষ্ট্র হবার সুযোগ থাকে না। তাকে চাইতে বা না চাইতেও আন্তর্জাতিক বডি হতেই হয়। গাড়ির নম্বর প্লেটের মতো আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যেখানে তাকে ইংরেজির মধ্যে থাকতে হয়।
যাহোক AI এবং অন্য যাবতীয় সফিসটিকেটেড টেকনোলজির সুপার ফাইন ইন্ট্রোডাকশন, ইউটিলাইটেশন ও ক্যাপিটালাইজেশনে বাংলাদেশে যদি সত্যিকারের ইমপ্যক্ট ফেলতে হয়, তাহলে সবকিছুর আগে দুটো জিনিস দরকার হবে বলে আমার মনে হয়-
১. হয় খুব শিগগীরই একটা সময় ন্যুনতমভাবে ভারতীয়দের মতো হলেও ইংরেজি বলা, বোঝা ও লেখায় দক্ষ করে তুলতে হবে।
২. আর না হয়, যাবতীয় প্রযুক্তির সাথে বাংলার মৌখিক, লেখ্য রূপের বিপুল রকম, সহজতম ও কার্যকর ইন্টার্যকশন নিশ্চিত করতে হবে।
যেমন ধরুন, ভয়েস কমান্ডে বাংলা লেখার সুপার সফিসটিকেটেড সিস্টেম, বাংলা হতে ইংরেজি বলবার বা লিখে দেবার সফটওয়্যার বা টেকনোলজি লাগবে। অন্যথায় টেকনোলজির ম্যাসিভ ইউটিলাইজেশন এখানে হবে বলে মনে করি না। সেই সাথে আরেকটা জিনিস দরকার-সেটার নাম অতি সস্তা ও শক্তিশালী মোবাইল ইন্টারনেট। ব্রডব্যান্ড এই যাত্রায় খুব একটা ভাল বিকল্প না। স্টারলিংকও না।
অন্যথায়, সারা পৃথিবী AI এর নতুন নতুন সংস্করণ আবিষ্কার করে ফাটিয়ে দিতে থাকবে। আর তখন আমরা ৭ ভাগে কোরবাণীর মতো করে ১৭ ভাগে সস্তায় লিংকডইন প্রিমিয়াম কিংবা চ্যাটজিপতির প্রমট লিখবার কোর্স বেচা জাতিতে পরিণত হব।
৬. আন্তর্জাতিক মার্কেটে ভাষা হিসেবে ইংরেজির মার্কেট সবচেয়ে বেশি এবং এটি সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে কমোনলি এভেলেবল ভাষা। তাই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যবসা, বানিজ্য, যোগাযোগ, বিনিময়, শিক্ষা, গবেষনা-এগুলোর দরকারে ইংরেজি জানা লাগে। ঠিক যেমন ইউএস ডলারের প্রয়োজনীয়তা। সারা পৃথিবীতে ওটার ব্যবহার।
৭. কেউ কেউ চায়নিজ, কোরিয়ান বা জাপানীজদের ইংরেজি না জানা স্বত্ত্বেও উন্নতি করাকে যুক্তি হিসেবে দেখান। ওয়েল, আমি কখনোই বলি না, উন্নতি (অর্থনৈতিক) করতে হলে ইংরেজি জানতেই হবে বিশেষত সারা দেশের সব মানুষের। ইংরেজি জানতে হবে নির্দিষ্ট কিছু দরকারে এবং নির্দিষ্ট কাজের মানুষদের। চায়নিজরা ইংরেজি না পেরেও অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ার হয়েছে ঠিকই কিন্তু তারাই কিন্তু যখন ইংরেজি ভাষী কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশের সাথে বিজনেস ডিলের প্রশ্ন আসে তখন দোভাষী অবশ্যই সাথে নেয়। তো ইংরেজিকে কিন্তু তারা অস্বীকার করতে পারছে না। আর সমস্ত চায়নিজরা বাই ডিফল্ট ইংরেজি নির্বাসনে দিয়েছে এ কথা কে বলল ভাই?
৮. কেউ কেউ বলেন, ইংরেজি লাগবে না। কমিউনিকেশন করতে পারলেই হল। “আরে ভাই ধুমাইয়া মার্কেটিং জব করছি, ইংরেজি না জেনেই, জাপানীদের সাথে কাজ করি ইংরেজি না জেনেই” ইত্যাদি। ওয়েল, যদি আপনাকে ইউএসএতে বা অষ্ট্রেলিয়ায় মার্কেটিং করতে হয় তখন কী করবেন? বাংলায় করবেন? আর চায়নিজদের সাথে যদি আপনি ইংরেজি না জেনেই কাজ করে থাকেন তো তাদের সাথে কথা বলেন কোন ভাষায়? তারা বাংলায় বলে, না আপনি চায়নিজ বলেন? যদি তারা বাংলায় বলে বা আপনি চায়নিজে, তবে তো আপনি মেনেই নিলেন যে বিদেশী ভাষা জানার দরকার আছে। আর সেক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রচলিত বিদেশী ভাষা হিসেবে ইংরেজিই যদি শেখেন তো ক্ষতি কী? আর যদি বলেন, কোনো ভাষাতেই না, বাংলা ইংরেজি চায়নিজ, ইশারা-সবকিছু মিলিয়ে একরকম যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ চালাই তাহলে ভাবুন, সব কাজই কি ওভাবে চালাতে পারবেন?
৯. কাজ বোঝাতে পারলেই তো হল, কাজ উদ্ধার হলেই তো হল, কমিউনিকেট করতে পারলেই তো হল, ইংরেজি বড় কথা নয়-এমন যুক্তি দেন অনেকে। হ্যা, কাজ উদ্ধার হওয়া নিয়েই কথা। তবে কাজটা যদি এমন হয় যেখানে আপনাকে ইশারায় কাজ চালালে হবে না, যেমন মনে করুন, আপনাকে আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের উপর একটা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিতে হবে বিদেশী বায়ার বা ডেলিগেটসের সামনে, তখন কী করবেন?
১০. ডাটাবেসের প্রয়োজনীয়তা তো জানেন? তো যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য একসেল শীটেও ডাটা রাখেন সেটা কি বাংলায় রাখতে পারবেন? ইংরেজি লাগবে না?
১১. ইংরেজি জানা বলতে আপনাকে ইংরেজির জাহাজ হতে বলা হচ্ছে না। সুপার IELTS or GMAT স্কোর চাওয়া হচ্ছে না। শুধুমাত্র ইংরেজিতে স্পোকেন, লেখা, ইংরেজি পড়া ও বোঝার দক্ষতাকে বোঝানো হচ্ছে।
১২. ”ইংরেজীতে দক্ষ এবং সিরিয়াস ইন্টারভিউ তে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ও অনেকে কাজ পারে না”-এই যুক্তি দিয়েছেন কেউ কেউ। ওয়েল, সেটা কি ইংরেজি জানার দোষে? তার জন্য কি ইংরেজি শেখা বন্ধ করে দেব? আর আপনাকে কে বলল, শুধু ইংরেজি জানাই দক্ষতার একমাত্র ইন্ডিকেটর বা ইন্টারভিউয়ার শুধু ইংরেজি জানলেই প্রার্থীকে যোগ্য বলে মনে করেন? ইংরেজি জানা অনেক যোগ্যতার একটি মাত্র। সাথে আরো যোগ্যতা লাগে।
১৩.কেউ কেউ মনে করেন তারা রবীন্দ্রনাথের পিতামাতামহের দৃষ্টান্ত অনুসরন করবেন “আগে চাই বাংলা ভাষার গাঁথুনি, এরপর ইংরেজির পত্তন।” ওকে, এখানে কিন্তু ইংরেজি শিখতে না করা হয়নি। আগে বাংলাকে শিখে তারপর ইংরেজিতে দক্ষতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তার গীতাঞ্জলি কাব্যের বাংলা রূপের জন্য নোবেল পাননি। পেয়েছেন যখন ইংরেজিতে কনভার্ট করে লেখা হয়েছে (আমার ভুলও হতে পারে)। ভাই, সহজ ব্যাপার, আপনি যদি শুধু বাংলা শেখাকেই যথেষ্ট মনে করেন, তবে আপনি চাকরির বাজারে শুরুতেই প্রতিযোগীতায় পিছনে পড়বেন কারন এখনকার দিনে ছেলেমেয়েরা রীতিমতো ২/৩ টি ভাষা রপ্ত করছে যার মধ্যে ফ্রেঞ্চ, জার্মানও আছে।
১৪.অনেকে বলবেন, ইংরেজি তো জাস্ট একটি ভাষা, ইংরেজিতো জ্ঞান নয়, নিজের মাতৃভাষা বাদ দিয়ে ইংরেজি নিয়ে কেন পড়লাম? তাছাড়া কেউ কেউ বলেন, ইংরেজি নিয়ে এত মাতামাতি করার জন্যই কি ভাষা আন্দোলন করেছিলাম? ভাই, আমি চাকরির বাজারের বাস্তবতার কথা বলছি। আবেগ বা নৈতিকতা নয়। যিনি বা যেই কোম্পানীরা চাকরি দেবে তারা যদি ইংরেজিতে দক্ষতা খোঁজেন আর আপনি মাতৃভাষার দোহাই দিয়ে অভিমান করে ইংরেজিকে দুরে সরাতে চান-তাহলে কী করার?
১৫.সবশেষে, একজন বলেছেন, ”যে দেশে মানুষের পেটে ভাত জোটে না, সেদেশে ইংরেজি শিখে কী হবে?” ভাই, পেটে ভাত যোগাতে যা যা করতে হবে সেগুলো করতে গেলে অনেকগুলো কাজেই ইংরেজি লাগবে।ইংরেজিতে দক্ষতা বিকাশ করার জন্য ভাষাটির চারটি অংশ-পড়া, লেখা, বলা এবং শোনাতে দক্ষ ও নির্ভুল হতে হবে।
যা করতে পারেন তা হল:-
১.ইংরেজি শুনুন (ইংরেজী সংবাদ, অডিও গল্প, সঙ্গীত, চলচ্চিত্র ইত্যাদি।
২.ইংরেজিতে চিন্তা করুন এবং বাংলা শব্দগুলি (যেগুলি আপনি ইংরেজী অর্থ জানেন না) লিখুন এবং বাংলা টু ইংরেজি অভিধান থেকে ইংরেজি অর্থ অনুসন্ধান করুন। বিশেষ করে বাংলা একাডেমির বাংলা টু ইংরেজি অভিধানে।
৩.ইংরেজি সংবাদপত্র, গল্পের বই, জার্নাল ইত্যাদি পড়ুন। যেটি আপনার জন্য সুবিধার মনে হয়। শুরুতে ছোট অনুচ্ছেদের ব্যবহার করুন। অনুচ্ছেদের অজানা শব্দ সংগ্রহ করুন এবং পরে অভিধান থেকে অর্থ খুঁজে বের করুন এবং একটি ছোট পকেট নোটবুক/ডিকশনারী বা মোবাইলে গুগল ট্রান্সলেটরের সহায়তায় অর্থ জেনে নিন।
৪.প্রতিদিন কোন একটি বিষয় নিয়ে অনুচ্ছেদ লিখুন এবং আপনি ভাল ইংরেজী জানে-এমন কারো থেকে সংশোধন করে নিন।
৫.একটি গ্রূপ করে একসঙ্গে কথা বলা অনুশীলন করুন। এটা সর্বদা শেখার একটি গ্রূপ হতে হবে। এইভাবে সহজে শিখতে পারবেন ও ফ্লুয়েন্সি আসবে।
৬.ইউটিউব একটি খুব ভাল উৎস। ইংরেজি অনুশীলন এবং শিক্ষণের টিউটোরিয়াল, podcast দেখুন ও চর্চা করুন।
৭.আপনি অনেক ইংরেজি শেখার মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পাবেন, যার মাধ্যমে আপনি স্বাধীনভাবে অনুশীলন করতে পারেন।
৮.ভুল হতে পারে বা আপনি ভুল করেন-এমন ভেবে বিরত থাকবেন না। ভুল করুন এবং সংশোধন থেকে শিখুন।৯.ব্যকরণগত উৎকর্ষের জন্য আপনি রেমন্ড মারফির Essintial English Grammar ব্যবহার করতে পারেন।
১০.ভোকাবুলারি বাড়াবার জন্য ”English Vocabulary in use” by McCarthy and O’Dell.
১১.উচ্চারণ এবং শোনার দক্ষতা বিকাশের জন্য, অডিও সিডি সহ ”Ship or Sheep” কিনে বাসায় প্রাকটিস করুন।
আপনি যদি তারপরও চান, তবে শেখার জন্য যেতে পারেন:-
১.British Council (Expensive)২.Mentors’৩.S@ifur’s৪.Bhuiyan Computers। এই সেগমেন্টের কন্টেন্ট প্রস্তুত করতে আমার সহকর্মী জনাব হাসান আমাকে অনেকটা সাহায্য করেছেন।
#learningEnglish #interviewskill #EnglishProficiency