এই লেখাটি এলেবেলে, ফালতু, আজারিয়া, প্যানপ্যানানি, দুঃখবিলাসে ভরপুর এক বস্তাপঁচা গারবেজ। ঈদের ছুটির মাস্তির মধ্যে এই ট্র্যাশ পড়ে সময় নষ্ট করবেন না।
আমি আমার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে প্রত্যেক ঈদে এক দীর্ঘ ঘ্যানঘ্যান রচনা লিখি। ঈদে মানুষ হরিষে, আনন্দে, উদ্যমে, ফূর্তিতে সময় কাটায়। আমার কেন যেন হয় উল্টো। এই উৎসবগুলো………কেন যেন তারা বয়ে আনে একরাশ বিষাদ, আমার ডায়রিতে যার নাম ইচ্ছে বিষাদ।
প্রত্যেক উৎসবের দিনেই, সাত তড়াতাড়ি দরকারী কাজগুলো গুছিয়ে আমি কী-প্যাডে বসে পড়ি। উৎসব ঘনিয়ে আসা দিনগুলোতে জমানো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনা, কথা, স্মৃতিকে জোড়া দেয়া শুরু করি। আজ বৈশাখের এই ভর দুপুরে ব্যলকনি হতে নিচের খলবল করে বেড়ানো জনারণ্যের প্রাণপ্রবাহ দেখতে দেখতে, রান্নাঘরের জানালা দিয়ে ভুরভুর করে ঢুকতে থাকা পোলাও, কাচ্চি আর গরুর গোশের লোভনীয় গন্ধের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে প্রচন্ড গরমের এই দুপুরে তাই লিখতে বসে গেলাম ঈদের আখ্যান।
এক ভ্রমে ভরা, এক এলোমেলো অভিজ্ঞতা আর স্মৃতিতে ভরা আখ্যান। অর্থহীন এক আখ্যান।
এক: চান রাত, চান কপাল;
চান রাত নিয়ে কত ফ্যান্টাসী দেখি ফেসবুকে। অন্যসব সোশ্যাল হ্যান্ডেলে। আজকালকার ছেলেরা নাকি চানরাত ছাড়া কেনাকাটা করতেই পারে না। চানরাত এক ক্রেইজের নাম। তা থাক সে উচ্ছাস, ট্রেন্ড। মফস্বলে জন্মানো ও হালের শহুরে কেরানি আমরা যারা, তাদের অবশ্য সেই কেরেইজ থাকবার জো নেই। আমাদের জীবন আটপৌরে বাস্তবতায় বাঁধা। তবুও চানরাতে বাধ্য হয়ে বেরিয়েছিলাম। চান কপাল নিয়ে সবাই এই মাটির ধরায় আসে না।
চান রাতে বেরিয়েছিলাম দু’জনে। দরকারে। দরকার শুনলে হাসবেন। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, পান-সুপারি আর ওষুধ কিনতে। আমাদের এই নিম্নমধ্যবিত্ত পাড়াটা বিগত ১০ বছরে অনেক বদলে গেছে। প্রথম প্রথম যখন এখানে বসতি গাড়ি, তখন ছিল একটা পতিত এলাকার মতো। অনেকটা শহরতলিই বলা চলে। সন্ধ্যে হলে কাঠের আর তুষের চুলার ধোঁয়া বেরিয়ে চায়ের টঙগুলো একেকটা দেশীয় পানশালার মতো গমগম করত। ধোঁয়া আর কুয়াশার মতো হালকা একটা রহস্য পাড়াটাকে অন্যরকম একটা রূপ দিত। দশ-বারো বছরে সেটা অনেকখানি মিশ্র রূপ নিয়েছে। পাড়া জুড়ে বড় বড় আকাশচুম্বি টাওয়ার উঠেছে। তাদের ঝা-চকচকে গ্যারেজ, বড় টানা গেইট, দামী টাইলস মোড়ানো পর্চ। দামী ফটকের গরাদের ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ে দামী দামী গাড়ির ঝলক। বাইরে হতে পয়সার জোরে মুরগীর খোপ ক্রেতারা বসতি গেড়েছেন এই এককালের শহরতলির পাড়াটায়। এক প্রান্তে বড় বড় কয়েকটা বস্তি। সবে মিলে এ এক খিচুড়ি পাড়া। আকাশে মাথা উঁচু করে দাড়ানো মুরগীর খোপের টাওয়ার, তার ঝলমলে আকাশের কাছের ফ্ল্যাটগুলোতে ঈদের আগমনি, নিচের রাস্তায় পাড়ার ছোটলোকদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা, সেলুনগুলোতে কেশবিন্যাসে রত ছেলে-বুড়োদের ভীড়, ইফতারের মৌসুমি ব্যবসার দোকানগুলোতে ভাঙনের সূর-ঘুরে ঘুরে আমরা দেখি।
পাশ দিয়েই এক পিতা আর তার অপত্য ছেলে হাতে কিছু সওদা নিয়ে ফিরছিলেন শশব্যস্তে। বাবাকে বলতে শুনি, “মুরগী লাগবে না।” অপত্য বাচ্চাটি বলে ওঠে, “মুরগী ছাড়া ঈদ হবে!”
ঘরে অনেক দিন আগে (সস্তার যুগে) কেনা কয়েক ছটাক সেমাই ছিল। সেটাকে পাকাতে সামান্য দুধ দরকার। বিধাতার কী এক খেয়াল, গত রাতে মিরপুরের এই গরীব-ধনী খিচুড়ি পাড়ায় দুধ ফুরিয়ে গেছিল। মুদী দোকান হতে সুপার শপ-সবখানে ঢুঁ মেরেও কয়েক ছটাক দুধ পাওয়া গেল না। পেঁয়াজ আর কাঁচামরিচ নিয়ে ঘরে ফিরলাম।
দুই: আমাদের ছ্যাড়াব্যাড়া, কাঁজিবাড়া, মিপ্পুঁ;
এই ডাকটা আমার না। মিরপুর টু গুলিস্তান বাসের হেলপারদের কাছ থেকে ধার করা। আমাদের মিপ্পুঁতেও ঈদ এসেছে। ঈদ, মযেখানে ধনী আর গরীবের ভেদরেখা মিলে যাবার কথা পূরাণে লেখা আছে। যদিও এই ডিজিটাল যামানায় আমি ঈদকে চরম শ্রেনীবৈষম্যে, জাতপাতে বিভক্ত হয়ে কারো ড্রয়িং রুমে, তো কারো দহলিজে, আবার কারো কারো চৌহদ্দিতে বিরাজ করতে দেখি।
আগের রাতে গিয়েছি মিরপুর-১ এর বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা মারকেট এলাকায়। মিরপুর এক নম্বর আসলে অনেক বড় একটা এলাকা। কলওয়ালাপাড়াও এক নম্বর, বিশিলও এক নম্বর, রাইনখোলাও। কেন যেন লোকের কাছে এটা একটা এলাকা না, অঞ্চল। আমাদের মিরপুর-১।
মুক্তিযোদ্ধা মারকেট আর তার সংলগ্ন অংশে গোটা দশেক মারকেট। তারই ফুটপাত আর রাস্তায় রাস্তায় হকারদের বসানো হাজার হাজার দোকান। সারাবছর তারা অনেক কিছুর সওদা করলেও ঈদের এই সময়টায় সবাই হয়ে যায় পোষাক আর ঈদ পণ্যের বিক্রেতা।
যথারীতি সেই বাজারে লক্ষ লক্ষ মানুষ। আমার আর নিটোলের ধারনা, বিশেষ দিনগুলোতে মিরপুর-১ এর মারকেটগুলো ভেসে যায় আর পার্শ্ববর্তি অঞ্চলের মানুষদের দখলে, তাদের নিজেদের মতো করে মধ্য বা নিম্নমধ্যবিত্তের এক ’বসুন্ধরা শহর’ কিংবা ’যমুনা অতীত উদ্যান’ হিসেবে। আমরা যখন গেলাম, তখন মিরপুর-১ রীতিমতো জনসমুদ্র। রাইনখোলা, বিশিল, আমিনবাজার, রুস্তমপুর, বিরুলিয়া, সাভার, কলওয়ালাপাড়া, রুপনগর, দোয়ারিপাড়া-সব এলাকার একটু কম ধনী (আসলে নিম্নবিত্ত)রা কাতারে কাতারে ময়দানে সমবেত হয়ে ঈদের পোশাক কিনবার শেষ মুহূর্তের চেষ্টায় ন্যস্ত। এ যেন হাশরের মাঠ। মিরপুর-১ এর এই চিত্র যে নিজে দেখেনি, তাকে লিখে বোঝানো কঠিন। মানুষ মানুষের মাথা খাচ্ছে। না দোকানী, না ক্রেতা, কারোরই বিস্তারিত ভাবার সময় নেই। কি কিনছে, কততে কিনছে, ফাইনালি কোনটা প্যাকেটে দিচ্ছে, এপাড়ে কাঁচাবাজার, ওপাড়ে পোশাকের, ফুটপাতে, রাস্তায় গায়ে গায়ে ধাক্কা লাগা মানুষ।
দেশের তাবৎ মানুষ কোভিড আর ইউক্রেনের সম্মিলিত আক্রমণে গরীব হয়ে গেছে শুনেছিলাম। আমি ’মিপ্পুঁ’র এই ঈদ বাজারের ব্যস্ততা, উন্মত্ততা দেখে তাকে মিলাতে পারি না।
আমরা দু’জন ফুটপাতের একটা দোকান হতে একটা সওদা কিনবার চেষ্টা করি। জনৈকা বোক্কাওয়ালি নারী ভীড়ের মধ্যে নিটোলের গাঁয়ের মধ্যে পড়ে দোকানীকে কিছু একটা আদেশ করে। ঠেকে ঠেকে শেখা নিটোল আর আমি সতর্ক ছিলাম। বোক্কাওয়ালিকে একটু দূরত্ব রেখে দাড়াতে বলা হল। তার মধ্যে বিকার নেই। সে আরো ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করে। নিটোল গলা চড়ায়। মহিলা শেষ একটা মরিয়া চেষ্টা করে অতঃপর বাউলি কেটে চলে যায়। আমরা দু’জন একটা সম্ভাব্য পকেটমার ঘটনা হতে বেঁচে দ্রুত নিজেদের সওদা নিয়ে ভীড় কেটে বেরোনোর চেষ্টায় রত হই।
মিপ্পুঁর এই ঈদ বাজারে কতজন যে সেই রাতে তাদের পকেট আর পকেটের টাকার ব্যাগ, মোবাইল হারিয়েছেন-মনে মনে আন্দাজ করবার চেষ্টা করি।
তিন: ঈদের জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন;
আজ সকালে দরকারী একটা কাজে বের হয়েছিলাম। রাজধানীর কসমোপলিটান অংশ উত্তরায় গিয়ে আবার সাততাড়াতাড়ি ফিরে এলাম। আমাদের মহল্লায় কাল রাত হতেই মসজিদের মাইকে মুহুর্মুহূ ঘোষনা হচ্ছিল ঈদের জামাতের সময়সূচী। যদিও আমার মাথায় ঢোকে না, সারাবছর ৫ ওয়াক্তিয়া আর জুম’আ’র ফরজ নামাজে মানুষকে ডাকার জন্য এরকম ব্যস্ততা ও ব্যগ্রতা আমি উপসনালয়গুলোতে দেখি না। না, আমি মোটেও ভাবতে চাই না, ঈদের জামাতে বেশি হতে বেশি পকেটভারীদের আগমন নিশ্চিত করণ, অতঃপর…………..পকেট হস্তান্তরযোগ…………….না না না, এসব ভাবছি না।
যাহোক, কসমোপলিটান এলাকা হতে নিজ মহল্লায় ফেরত আসতে আসতে দেখলাম, উত্তরা টু মিরপুর-অনেক এলাকায় ঈদের নামাজ ৯ টাতেও হচ্ছে। যদিও আমাদের মহল্লায় সকাল সাড়ে সাতটাতেই ল্যাঠা চুকে গেছে। সকাল ৯ টার ঠাটানো রোদে ঈদের নামাজ আয়োজন কি নেহাতই কাকতালীয়, নাকি শহুরে বাৎসরিক মৌসুমী নামাজিদের আরেকটু ঘুম পুষিয়ে আয়েসি ভঙ্গিতে আনন্দের ‘ঈদেন্নামাজ’ সুযোগ করে দিতে-চকিতে ভাবনাটা মাথায় এলেও আমি ডুবে যাই অন্য ভাবনায়। এলাকায় অনেকগুলো মসজিদ আর ঈদগাহ। আমি সকাল হতে ফেরার সময়টা তক রাস্তায় কোথাও আমাদের মিপ্পূরের ’ঐতিহ্য’ উঠতি বয়সী মেয়েদের ছেলেদের সাথে পাল্লা দিয়ে ঈদ পোশাকে দলবেঁধে ঘুরতে দেখলাম না। দেখলাম না একটা মসজিদ বা ঈদগাহেও নারীদের ঈদ জামাতের আয়োজনের। বিষয়টাও কাকতালীয়। রাস্তায় শুধু পুরুষ-বাচ্চা পুরুষ, টিন-এজ পুরুষ, উঠতি পুরুষ, পুরুষ, যুবা পুরুষ, বুড়া পুরুষরা। যাদের নামাজ শেষ হয় নাই, তারা মসজিদে দৌড়াচ্ছেন। যাদের শেষ, তারা মহল্লার চায়ের টঙগুলোতে চা ও বিড়ি দুটোরই পেসাদ নিচ্ছেন। বুড়োরা বাচ্চাদের বিড়ি ফোঁকার জটলার কারণে দোকানে দাড়াতে পাড়ছেন না। হয়তো মনে মনে “দেশটা রসাতলে গেল’ গাল পেড়ে বাসার পানে যাচ্ছেন। সবার হাতে হাতে বড় বড় জাম্বো সাইজের পেপসি, কোক, এচপেরাইট, সেবেনাপ। আরেকহাতে পিচ্চি পোলা।
না, কোথাও কোনো নারীকে বা মেয়েকে দেখিনি। বাঙালি এখানেও বোধহয় জেন্ডার ডিসক্রিমিনেট করে রেখেছে। তারা এই সময়টাতে ঘরে ঘরে পুরুষ ও মেহমানদের জন্য সেমাই, পায়েস, জর্দা, মাংস, কাবাব, সালাদ, পোলাওয়ের আয়োজনে ও আয়োজনে সাহায্য করতে ব্যস্ত।
থাকুক তারা। বেডি মানুষ নামাজ পড়ে করবেটা কী, তারা তাদের পতিদেব ও পূত্রদেবদের রান্নাঘরই সামলাক। আমার কী? তবে বিকেলে যখন হাঁটতে বেরোবো লাভ রোডে, তখন অবশ্য বরাবরের মতো টিনেজ বা চ্যাংরা বয়সি বাচ্চা পুরুষ ও বাচ্চা নারীদের হল্লায় মহল্লার রাস্তায় হাঁটতে পারব না আমরা দুই মধ্যবয়সী নারী ও নর দম্পতি-সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। ইদানিং জনৈক হাপিষ হোডেলের হাত ধরে এলাকায় কিশোর-কিশোরী-যুবক-যুবতীরা লোকারণ্যের মধ্যেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ধুমপানের সুশীল পরিবেশ কায়েম করেছেন। তাদের ধাক্কায় সন্ধ্যায় লাভ রোডে তিস্টোতে পারব না। আমি তাই লিখতে লিখতে নিটোলকে তাগাদা লাগাই, চলো, দুপুরের রোদে হাঁটতে বের হই। মানুষ দেখি।
মানুষ ঈদে সিনেমা দেখে, টিভি দেখে, আত্মীয় দেখে, স্বজন দেখে, পোলাও দেখে, পায়েস দেখে, সমাজ দেখে, মেয়ে দেখে, শরীর দেখে, লাল-নীল কত কী দেখে। আমরা দু’জন মানুষ দেখি।
পার্টনার আমাকে ঝাড়ি লাগায়। “বাইরে ৩৯ ডিগ্রী গরম। মাথাটা কি একেবারে গেছে।” আমি লেখার গতি বাড়াই।
চার: জাগোরে মুসলমান;
আমার এক জুনিয়র কয়েকদিন আগে একটা পোস্ট করেছিলেন। তার বাসা ও মহল্লার দারোয়ান, ময়লার গাড়ির কোচোয়ান, পিচ্চিরা নাকি হঠাৎ করে ‘শ্লামালিকুম’ এর বাড় বাড়ন্ত করছে। ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট। এই বাড়বাড়ন্ত’র রহস্য সহজেই অনুমেয়।
মহল্লায় কয়েকটা গ্যাঙ আছে। এই গ্যাঙে আকাশচুম্বি টাওয়ারের পয়সাওয়ালাদের ছাওয়াল (ও মাইয়াছেলেরাও) আছে, ঢালের বস্তিগুলোর ছেলেরাও আছে। এই গ্যাঙ সারা বছর কী কী করে-তার বর্ণনা আজ থাক। গ্যাঙে কয়েকটা মেয়েও আছে। তারা বাকি গ্যাঙকে বিনোদন যোগায়, গ্যাঙ তাদের স্বাধীনতা ও কল্কির যোগান দেয়। পারস্পরিক মিথঃস্ক্রিয়া। এরা সারাটা মাস অনাহুত, রবাহুত ও অনর্থক শেষ রাতে ‘সাহরী’র জন্য মানুষজনকে ডেকে বেড়িয়েছে। যদিও এই ডিজিটাল জামানায় এই ডাকাডাকি আর খুব একটা কাজে দেয় না। মানুষ, যাদের ওঠার, তারা নানা মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে উঠে যায়। গ্যাঙের সদস্য, ময়লার গাড়ির কোচোয়ানরা চানরাতসহ এর আগের অব্যবহিত কয়েকদিন এসে মহড়া দিয়ে গেছে।
কীসের মহড়া? না, তেমন কিছু না। সারামাসের পরিশ্রমের সামান্য হাদিয়া। আমাদের বাসায় কিচেন গারবেজ নেবারও কয়েকটা সিন্ডিকেট আছে। সারাবছর এরা নিজেদের মর্জিমতো আসে। ঈদ আসলে আমি এই গ্যাঙদের হতে পালিয়ে পালিয়ে থাকি। না, বাবাজিদের দাবীর লেভেলটা দুই দশটাকা হলে ভাগতে হত না। গ্যাঙ ও ব্যঙ বাবাজিরা হাজারের নিজের নোট দেখলে “শালা, তোকে দেখে নেব”-চোখে এমন দৃষ্টি নিয়ে মুখে “না ভাই থাক, আমরা বরং আসি” বলে বিদায় নেয়। কাল দুপুরে, সারা সকাল ছুটির দিনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি কিছু জমে যাওয়া কাজ করতে। দুপুরে একটু চোখ বুজেছি। তখন এক গ্যাঙ এসে কলিং বেল বাজিয়ে বাজিয়ে ঘুমের তেরোটা বাজিয়ে দিয়ে গেছে। সফলতার হার আন্দাজ করে নিন। এই মরার দেশে যার যার দায়ীত্ব পালন করলেও বকশিশ দিতে হয়। যার যেটা কাজ না-সে সেটা করে দাবী করলেও হাজার টাকার নোট গুনাগারি দিতেই হয়। অন্যথায়, পাড়ার গলিতে তারা দেখে নেয়। হাদিয়াটা কোন সৎকার্যে ব্যয় হয়-সেটা বললতে গেলে ভাসুর বেজার হবেন।
পাঁচ: ভাঙা গড়ার খেলা;
ঈদের আগ দিয়ে কিছু ভাইটাল অথচ ক্রুশিয়াল ডিসিশন নিয়েছি আর বাস্তবায়ন করেছি। জীবন নিয়ে আমাদের কত পরিকল্পনা থাকে। অথচ বিধাতা সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেন। কারন, তিনি মহাপরিকল্পনাকারী। ফলে, জীবন আসলে তকদীরের এক পাবন্দ অনুসারী। তাই তার হাতেই সঁপে দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন আর প্রয়োগ করেছি। সেই সিদ্ধান্তে ভাঙা-গড়া আছে, উত্থান-পতন আছে। জোড়া-ছাড়া আছে। বিচ্ছেদ আছে, আশা আছে, হতাশার ছায়াও।
তবে আমার মনে হয়, মাঝে মাঝে সম্পর্কে ঝাঁকুনি দিতে হয়। সম্পর্কের নিরন্তর যাত্রায় কোন বাঁধনগুলো আলগা হয়ে গেছে, কোন বাঁধন কেটে দেবার সময় হয়েছে-সেটা জানা যায়। যে বাঁধন আলগা হয়ে বসে আছে, কেবল একটা আনুষ্ঠানিকতার সূক্ষ্ণ সুতোয়, তাকে ছিড়ে ফেলাই উচিত। ফেলেছিও।
ঈদ ঘনিয়ে এলেই ইনবক্সে বা ফোনের আলাপনিতে সবার একটা কমোন প্রশ্ন থাকে, “এবার ঈদ কোথায় করছেন?” যদিও সেই শৈশব হতেই জানি না, ‘ঈদ করা’ আবার কেমন জিনিস।
সবাইকে মজা করে একটাই কথা বলি, আমরা আমাদের সেই আটপৌরে জীবনেই থাকব। এই মরা শহরে, চৈত্রের খরতাপে দগ্ধ এক রুফটপের ঘরে বসে বৈশাখের তপ্ত দিনগুলোতে চাপিয়ে দেয়া ছুটি শেষ হবার দিন গুনব। দেশের বাড়ি, বাপের বাড়ি, নাড়ির টান, বাড়ির টান, শেকড়-এসব শব্দের সাথে পরিচয় থাকলেও আলাপ নেই বহুকাল।
মৃত এই মহানগরেই লিখেছি ললাট লিখন।
শেকড়হীন শেকড় প্রোথিত করেছি এ নগরেই।
তাই থেকে গেছি এখানেই।
আমার আর কোথাও যাবার নেই।
”আমাদের কোথাও কোনো শাখা নেই।”
#EidCelebration #Melancholy #Depression #Festival #Enthusiasm #Broken #Distressed