এই গল্পটির ভিতরে আপনি দুটি বার্তা পাবেন। কোনটিকে আপনি নেবেন, সেটি আপনার পছন্দ।
কর্পোরেটে, বিশেষত এইচআরে কাজের সুবাদে, আর জব লিংকিং নিয়ে কাজ করার কারনে প্রায়ই চাকরীপ্রার্থীরা আমাকে বার্তা পাঠান, “ভাই, অমুক প্রতিষ্ঠানে অফার পেয়েছি। ওখানে যোগদান করা কি ঠিক হবে?” কিংবা “প্রতিষ্ঠানটি কেমন একটু বলবেন?” এমন সব প্রশ্নের উত্তরে যতটা জানি, সাহায্য করতাম। আজও করি। এদেরই মধ্যে কালেভদ্রে কেউ কেউ আমার নিজ প্রতিষ্ঠান ’অনন্ত কোম্পানীজ’ সম্পর্কেও খোঁজ নিত। হয়তো তাকে কোনো পদের জন্য ডাকা হয়েছে। হয়তো সে আমাকে সিভিটা দিয়েছিল কোনো একসময় চাকরীর জন্য, আর আমিই আবার দিয়েছি আমার প্লেসমেন্ট অফিসারকে।
তো বলতাম, “চোখ বন্ধ করে চলে আসুন। অনন্ত আপনার আকাঙ্খার চেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান।”
অনেকে বলতে পারেন, “হ্যা, নিজে চাকরী করতেন তো, ভাল না বলে কোথায় যাবেন?”
ঠিক আছে, সেজন্য আজ বলছি, “চোখ বন্ধ করে চলে আসুন।
অনন্ত আপনার আকাঙ্খার চেয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান।” কারন আজ বললে আপনি আর ওই আগের অপবাদটা দিতে পারবেন না। কেন পারবেন না? ওই যে, বললাম না, আমার এই গল্পটিতে আপনি দুটো বার্তা পাবেন। একটু বুদ্ধি খাটান। আর জানেনই তো, “আমার সবকিছুতেই ভঙ, সবকিছুতেই ঢং, সবসময় রং।”
আমি আমার চাকরীজীবনে খুব কম প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। অনেকটা কচ্ছপ টাইপ। ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়ে সবসময় আমার কাছে জব স্যাটিসফ্যাকশন বড় হয়ে কাজ করে। জব স্যাটিসফ্যাকশন যদি আপনার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে থাকে, আপনি “চোখ বন্ধ করে চলে আসুন অনন্ত কোম্পানীজ” নামক খোলা জানালায়।
এত কথা কোন জোরে বলি? একটি বিশাল প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার যখন খুব জুনিয়র কাউকে ব্যক্তিগতভাবে রিটেনশন কাউন্সেল করেন আর সেটা ব্যর্থ হওয়াতে বলতে পারেন, “তোমার জন্য দরোজাটি তবু খুলে রাখলাম। যখন ভাল মনে করবে, চুপ করে ঢুকে ফেরত আসবে।”
এটা বলার মতো কালচার ও সাহস খুব কম প্রতিষ্ঠানের আছে। আমার খুব আনন্দ হয়, যখন আমি এটা ভাবতে বসি, এই চমৎকার পরিবেশ আর আন্তরিক কালচারটা বিগত বছরগুলোতে যখন গড়ে ওঠে, সেই স্বর্ণযুগটাতে আমি অনন্ত কোম্পানীজের সাথে ছিলাম, আর এই বিনির্মানে আমিও কিছু অবদান রাখতে পেরেছি। আর সৃষ্টি করতে পেরেছিলাম “One of the best available HR TEAMs in RMG”।
আপনি কি আপনার বার্তাটি পেয়ে গেছেন?
পেয়ে থাকলে আপনার নতুন আরেকটি প্রশ্ন মনে উঁকি দিচ্ছে নিশ্চই, “আপনি কি তবে?” কিংবা, “এখন তবে আপনি…..?” ওটা থাক উহ্য। হবে আবার কখনো।
আপনি জেনে রাখুন, অনন্ত আমার জীবনে চিরদিনই একটা বিশেষ সময় হয়ে থাকবে, আমিও আশা করি আমি অনন্ত’র হৃদয়ে থাকব আজীবন।
আমাকে একবার একজন জানতে চেয়েছিল, “আপনি গার্মেন্টসে কেন চাকরী নিলেন?”
“জ্বি, কারন গার্মেন্টসে জিন্স পরে অফিস করা যায়।”
কেন ছেড়ে যাব এই প্রতিষ্ঠান-এটাও জানতে চাচ্ছেন? হা হা হা।
সবচেয়ে বড় কারন…. উত্তরাতে একটাও মনমতো চায়ের দোকান নেই, নেই দুপুরে গোগ্রাসে গিলবার মতো পুড়ি ও সিঙারার দোকান। এত বছরেও পেলাম না। তাই মুচমুচে ভাল সিঙ্গারা আর চায়ের খোঁজে উত্তরা ছেড়ে যেতেই…………………….
[ইয়ে, এত কথা যাকে নিয়ে, তাকে নিয়ে প্রায়ই মানুষ কনফিউজড হন। এর গালি ওকে, তার মালা একে দিয়ে দেন। জেনে রাখা ভাল, আমার প্রতিষ্ঠান ’অনন্ত কোম্পানীজ’ উত্তরা, আশুলিয়া ভিত্তিক। অনন্ত জলিল স্যারের এজেআই বা আরো একটি প্রতিষ্ঠান অনন্ত গ্রূপের সাথে এর কোনো সংযোগ নেই।]
#resignation #brandname #quitAnanta