Skip to content

ভালোবাসার মৌসুম বদল: বাংলাদেশ ক্রীকেট টীম

  • by

তোমরা তো আসলে জেতো বা হারো না। হারা বা জেতা-দুটোই হয় আমাদের-বাংলাদেশের। তোমরা জেতো বা হারো কিছুই আসে যায় না। আমরা জানি তোমরা আমাদের জেতাতে খেলো। আমাদের জেতাতে তোমরা জজ, ব্যরিষ্টার, বিসিএস, পলিটিশিয়ান, ডাক্তার না হয়ে বনে বাদাড়ে, তীব্র রোদে, বৃষ্টিতে ভিজে নিজের ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে ক্রিকেটার হয়ে উঠেছ। খুবই ঝুকিপূর্ন জীবন বেছে নিয়েছ নিশ্চিৎ সুখের ভবিষ্যত পাশ কাটিয়ে। শুধুমাত্র ক্রিকেটকে ভালবেসে। দেশকে ভালবেসে।

আমরা যখন নিরাপদ ভবিষ্যতের পথ বেঁছে নিয়ে ডাক্তার, উকিল, বিসিএস ক্যাডার হয়েছি তখন তোমরা হতে চেষ্টা করেছ ক্রিকেটার। কী বোকামি করেছ তোমরা! তোমাদের বাবা-মাও নিশ্চই চাইতেন তোমরা বিসিএস ক্যাডার হও। তাদের কষ্ট দিয়ে তোমরা হলে ক্রিকেটার। বিনিময়ে যতটুকু আর্থিক প্রতিদান তোমরা পাও সেটা তোমাদের প্রাপ্য। যদিও সেটা দেখে আমাদের চোখ টাটায়।

তাই জেতো বা হারো-জয় আসলে তোমাদেরই, আর আমাদের। এই চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকা দেশে কিছু একটা নিয়ে মেতে থাকার উপলক্ষ্য তো তোমরাই। তাই তোমরা জেতো বা হারো-আমরা তোমাদেরই বিজয়ী মনে করব। (এই পোষ্টটি কাল বাংলাদেশ ভার্সেস ইংল্যান্ড খেলায় বাংলাদেশ ২৩৮ অলআউট হয়ে গেলে উপর পর্যন্ত লেখার পর জরুরী কাজে চলে যাওয়ায় আর শেষ করতে পারিনি। অতটুকু রেখেই ল্যাপটপ প্যাক করে রাখি। ভেবেছিলাম অতটুকুই হয়তো শেষ কথা হবে। কিন্তু এই ব্রাকেট অংশটা যখন রাত ১১টায় লিখছি তখন বাংলাদেশ ইতিহাসের আরো একটা পাতা লিখে ফেলেছে।

আমার কাছে মনে হয়, ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও ক্রিকেটীং সিস্টেমে ও কাঠামোর পেছনে আমাদের দেশের যে পুওর সার্বিক ইনভেস্টমেন্ট আর খেলোয়াড়, খেলাপাগলা কিছু কোচ ও অন্য লোকদের একান্ত ব্যক্তিগত চেষ্টায় ক্রিকেট সাফল্য আসায় ক্রীকেট বানিজ্যের রাস্তা খোলার পর হতে ক্রীকেটের প্রতি হঠাৎ করে বহু আলগা পিড়িতি সম্পন্ন অক্রীকেটীয় আতেলের যে মারাত্মক লোভের দৃষ্টি-তাতে ক্রীকেটাররা যতটুকু আমাদের দেয় ততটুকুই অনেক।) আজ হতে মাস চারেক বা মাস তিনেক আগে বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ টীম ঘোষনা হয়।

আমার যতটা মনে পড়ে, অন্তত শ’দুয়েক লোককে দেখেছি সেই টীম পোস্ট সমানে শেয়ার করতে। টুকটাক টীম নিয়ে যা একটু কথা টথা হতে দেখেছি, তার কোনোটিতেই মাশরাফি ছিল না। টীমের ক্যাপ্টেন ও মাশরাফিকে নিয়ে কোনো দ্বীমত, অমত, বাঁকা কথা, আপত্তি যতটা মনে পড়ে, একটাও চোখে পড়েনি। বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ড গেল। সারাদেশে একটাই রব, এইবার বাংলাদেশের সেরা টীম গেছে। বাংলাদেশের শক্তিশালি টীম গেছে। বিশ্বকাপ জেতার মতো টীম গেছে। তারপর কী হল, জানি না।

বিশ্বকাপ শুরু হল। প্রথম ম্যাচে জেতার পর বাংলাদেশের ফেসবুক ক্রূসেডাররা পারলে ম্যাককালামকে ফাঁসি দেয়। অনেকটা “লড়কে লেঙে পাকিস্তান” কিংবা “আমারে আর কে পায়” টাইপ। তখনো মাশরাফিকে নিয়ে কোনো কথা নেই। তারপর টপাটপ দুটো ম্যাচে হার। প্রথম ম্যাচে হারার পরই মাশরাফি খারাপ। চরম খারাপ। এক বদমাশ লিখেছে, “ল্যাংড়া ঘোড়া” দিয়ে কি আর রেস জেতা যায়। কী নিদারুন অসভ্য কথা, নোংরা কথা, অরুচীকর কথা। এমন অসভ্যদের জন্য বিশ্বকাপ জিতে এনে কী করবেন মাশরাফি. সাকিব.মুশফিক.রিয়াদ.?

মাশরাফিকে নিয়ে অধুনা জাগ্রত ফেসবুক ক্রূসেডারদের বিরাগের যত যুক্তি আর কারনই থাকুক, তার ৯০% এর কারন হল, মাশরাফি একজন আওয়ামী লীগ এমপি। বিশ্বাস করেন না? একমত নন? হয়েন না। আমি কে আর আমার সাথে একমত হতেই হবে কেন? ওহ, সাকিবেরটাও বলি। সাকিবকে নিয়ে বঙ্গ ফেসবুক ক্রূসেডারদের তীব্র আক্রোশের কারন তার খেলা বা বেয়াদবী না। কারনটা হল, তার স্ত্রী উম্মে শিশির একজন ইর্ষনীয় সুন্দরী নারী, আর মফস্বলের ’গাঁইয়া’ সাকিবের মাত্র 32 বছর বয়সে প্রায় ১০০ কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া। বোদ্ধারা অবশ্য বলেন, শিশিরের বোরকা না পড়াও একটা কারন।

অসুস্থ এক জাতি আমরা।

চিন্তায়, চেতনায়, বিশ্বাসে, কর্মে অসুস্থ, পরিকল্পনা করেই গড়ে তোলা এক বিশৃঙ্খল জাত।

কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের দুই দেশের ফুটবলে ফাইনালে খেলার উত্তেজনা নিয়ে এই জাতের মাতামাতি রীতিমতো অসুস্থতার পর্যায়ে পড়ে। খোদ ওই দুই দেশেও এত উন্মাদনা নেই।

পরের জিনিস নিয়ে মাতামাতিতে একটি জেলার মানুষরা যাতে ঢাল সড়কি নিয়ে রাস্তায় না নামে, তার জন্য পুলিশকে লকডাউন বাদ দিয়ে গ্রাম্য লড়াই আটকাতে ব্যস্ত থাকতে হয়।

ওদিকে রোজ সরকারী হিসেবেই আড়াইশো্ করে মানুষ মরছে বেঘোরে। আড়াইশ ঘরে রোজ গগনবিদারী আওয়াজ। আড়াইশো নতুন এতিম। আড়াইশো নতুন বিধবা। আড়াইশো নতুন মা হারা সন্তান। মাত্রই কাল ৫২টি প্রাণ এই দেশের ফরেন কারেনসি রিজার্ভকে আরো বড় করতে গিয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেল।

এই জাতের তাতে কিছু আসে যায় না। এই জাত হলুদ নীলের শ্রেষ্ঠত্বে মেতে থাকে।

না। জগতে মহামারি চললে সবাই হাত পা ছড়িয়ে কাঁদবে, সবাই খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে ঘরে খিল দিয়ে কাঁদবে-অতটা হয়তো কাম্য নয়।

কিন্তু, এই মাত্রায় মানুষ রোজ মরছে-সেখানে এই অর্থহীন উন্মাদনাও ঠিক যায় না। ঠিক যায় না এটা।

#cricket #Bangladesh #patriotism

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *