Skip to content

একটি প্রমোশনের গল্প

  • by

গল্পের প্রথমে ছোট্ট অবতরণিকাটুকু করার কারন এটা নয়, যে, আমি দেখাতে চাই, আমি কত্ত কত্ত মহান আর উঁচু চিন্তার। বরং আমার উদ্দেশ্য একদম ভিন্ন। সেটা আপনি এই ছোট্ট গল্পটা শেষতক পড়লে এখুনি টের পাবেন।

আমার বর্তমান ভাড়া বাসায় যখন ৩ বছর আগে আসি, তখন একটা ঝামেলা হল। দ্বিতীয় দিনেই এই পুরোনো মডেলের বাসাটার বাংলা টয়লেটটা জ্যাম হয়ে পানিসহ ফুলে উঠে একাকার। গিন্নীর প্রচন্ড শুদ্ধতার অভ্যাস। প্রথমবারের মতো বাইরে হতে একজন ধাঙর ডেকে সমস্যা সমাধান করা গেল। আমার অর্ধদিনের অফিসও সেই সুবাদে উড়ে গেল।

কিন্তু ঠিক পরের দিনই আবার দিগুন উৎসাহে সেই টয়লেট আবার জ্যাম। এবার আরো মারাত্মক। কমোডের বান ডাকা জমা জলে বাসন্তি রঙা দলা দলা পেলব বস্তুগুলো হে হে হে করে দাঁত কেলিয়ে হাসছে। চিরকাল ঘেন্নাবোধটা কম থাকা আমার পর্যন্ত সেই দৃশ্য দেখে গা গুলাতে লাগল।

নিটোল স্রেফ একবার ”আল্লাগো” বলে সেই যে ঘরে গিয়ে বমন রোধে ব্যস্ত হল, সে আর দরোজার এপাড়ে উঁকিও মারে না। আন্দাজ করলাম, সম্ভবত আমাদের উঠবার আগে যে রিকন্সট্রাকশনের কাজ হয়েছে বাসাটায়, সেসময়ে কমোডের ভেতর হয়তো কিছু বালু বা অন্যকিছু পড়ে জ্যাম হয়ে ছিল।

তো একাদিক্রমে দ্বিতীয় দিন এমনটা হয়ে পড়ায় আমার রোখ চেপে গেল। গুদাম হতে বড় একটা পলিব্যাগ নিয়ে বাম হাতের কনুই পর্যন্ত বাঁধলাম। অতঃপর সেই ধন্বন্তরি বাম হাত বাসন্তি রঙা মাখন জলের তলায় চালান করে কমোডের মুখের প্রতিবন্ধকতা হাতিয়ে হাতিয়ে খোঁজা আর অবমুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে গেলাম পরবর্তি আধাঘন্টা। গিন্নী নিটোল ঘুমিয়ে ছিল বিধায় আমাকে বাঁধা দেবার কোনো সুযোগ পায়নি।

প্রতিবন্ধকতা না কাটলেও আমার ভিতরে অবশিষ্ট থাকা যৎসামান্য ঘেন্নাবোধও উবে গেল সেই সুযোগে। পলিব্যাগের গায়ে ক্ষুদ্রক্ষুদ্র বাসন্তি পুরিষ ততক্ষনে চেপে বসেছে। অতঃপর আমি ডান হাত বাম হাত করে কোনমতে শুদ্ধ হলাম। বাকিটা ইতিহাস।

নিটোল আমাকে ওইদিন ৮ বার হাত ধোয়া আর ৩ বার গোসল করিয়ে তবে ঘরে তুলেছে। তারপরে বহুদিন পর্যন্ত লেগেছে তার হাত ধরে হাঁটার অধিকার ফিরে পেতে।

এবার গল্পের মাজেজা বলি। অবতরণিকা দিলাম, যাতে এখন যেটা বলব, সেটাকে খুব সামান্যভাবে নিতে, সেটাকে স্রেফ একটা খবর বলে ভাবতে আপনার সহজ হয়। অবশ্য দুর্মূখেরা বলে, “ব্যাটার সবকিছুতেই ঢং, সবকিছুতেই ভং।”

খবরটা হল, ক্যারিয়ারের ১৩ বছর পার করে সম্প্রতি “সাধারন ব্যবস্থাপক” হয়েছি।

হ্যা, আমার কাছে বিষয়টা ওই “সাধারন ব্যবস্থাপক”ই। আমাদের প্রতিষ্ঠান অনন্ত কোম্পানীজ আমাকে মানব সম্পদ বিভাগের “সাধারন ব্যবস্থাপক” হিসেবে দায়ীত্ব দেবার উপযুক্ত মনে করেছেন সম্প্রতি। এই খুব ছোট্ট বিষয়টা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে চাইলাম।

নাহ, আমার চরিত্রে, স্বভাবে, ব্যক্তিত্বে, আচরনে, লাইফস্টাইলে কোনো নতুনত্ব আসেনি। আজও আমি আর নিটোল লাভ রোডে পান খেতে খেতে লোহিত রাঙা ঠোট আর দন্ত বিকশিত করে হাত ধরাধরি করে হাঁটি। এখনো স্যুট পরা শিখিনি। দুই ফিতার স্পঞ্জের স্যান্ডেল পড়ে হাঁটু অব্দি ধুলো মেখে আমি অগ্যস্ত হাঁটতে বের হই আজও। এই গতকালও পাবলিক বাসের ঘিনঘিনে ব্যাক কভারে মাথা রেখে খানিক ঘুমিয়ে নিয়েছি।

আমি এখনো ”বিদ্যুৎ ভাই”ই আছি, ‘বিদ্যুৎ সাপ’ হয়ে যাইনি।

পদ ও পদবীর উর্দ্ধগমনের সাথে নজর ও নজরানা উঁচু হওয়া খুব জরুরী মনে হয় না আমার কাছে। হ্যা, মানসিকতা ও মানবিকতা বাড়াটা জরুরী। আমি কে-সেটা খুব গুরুত্বপূর্ন বিষয় না। বরং আমি কী-সেটা বেশি দরকারী।

আমাকে আপনি আগের মতোই এককাপ মরিচ চা দিয়ে কিনতে পারবেন। আর যদি “সাধারন ব্যবস্থাপক” পদায়নের জন্য ট্রীট চান, তবে আসুন, লাভ রোডে। শুধু মরিচ চা খাওয়াব।

কারন মানিব্যাগের সামর্থ্যও আমার আগের মতোই আছে।

#promotiontoGM #simplicity #generosity #promotionatAnanta

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *