Skip to content

আমি যখন আমার ভাবমূর্তির দাস

  • by

উপাধ্যায়-১: ভাবমূর্তি

আমি, আপনি, তিনি-আমরা কেউই আর নিজের নিজের ইচ্ছার অধীন মনুষ্য নেই। আমরা সবাই আমাদের ‘ভাবমূর্তি’র বৃত্তে বন্দী। আমরা কেউ একটু পরিচীতি পেলেই হল। একটু পরিচয় হলেই হল। ব্যাস, কখনো নিজেই নিজেকে সেন্সর করাই। ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবার ভয়ে। পাবলিক সেন্টিমেন্টকে, ফ্যানবেজকে আহত করে ফ্যানবেজ নষ্ট হবার ভয়ে। ”মানুষ কী বলবে?”; ”না, একজন সর্বজনশ্রদ্ধেয় মানুষ হিসেবে আমার এই কথা বলা সাজে না।”;

অথবা, পপুলার মেজরিটির চোখের মণি হয়ে থাকার লোভ, নেটিজেন ও ভিউয়ারদের কাছে জনপ্রিয় ও আদৃত হয়ে থাকার উদগ্র লোভ, আবার, ফ্যান ও ফলোয়ার হারানোর ভয়, ’এই কথাটা সবাই কীভাবে নেবে? তমুক কথাটা না বললে বোধহয় ধাক্কাটা একটু কম হবে, অমুক কথাটা মানুষ সহজভাবে নেবে কি? এই লেখাটা লিখলে কি মানুষ আমাকে খারাপ চোখে দেখবে?”—ইত্যকার ভয় আজকাল মালাকুল মওতের ভয়ের চেয়েও বড় আতঙ্ক। এই আতঙ্ক ও লোভ আমাদেরকে সেলফ সেন্সরশীপ আরোপ করায়। নিজের সত্ত্বা ও নিজস্বতাকে প্রভাবিত করে পপুলারিটি ও পপুলার মেজরিটির অদৃশ্য চোখ রাঙানীতে নিজেকে এড্যাপট করায়-সমঝোতা ও লিবারেলিজমের নাম ধরে।

আবার, কখনো জাগ্রত বিবেক জনতা আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে দেয়-“আপনি আজ হতে জনতার প্রোপার্টি, জনতার দেবতা। আপনি আর নিজের ইচ্ছার অধীন নন। আপনি আর নিজের মতো ভাবতে পারবেন না, নিজের মতো বলতে পারবেন না, নিজের মতো চলতে পারবেন না, যেমনটা চান, তেমনটা করতে পারবেন না। আপনার পা ভাবমূর্তিতে বন্দী। আপনার স্বাধীনতা রুদ্ধ।”

নিজেরাও ওই “মহান ভাবমূর্তি” ধরে রাখতে নিজেকে নিজে বৃত্তবন্দী করি। কথা বললে ফিসিফিস করে বলি। পাছে ভাবমূর্তিতে আঘাত লাগে। পাছে জনতার মনে আঘাত লাগে। পাছে কেউ বলে বসে, “তুমি না মহান ভাবমূর্তির মানুষ?”

ভাবমূর্তি বাঁচাতে আমার নিজের মুক্তপ্রাণ আনচান করে। শ্বাসরূদ্ধ হয়ে মরে আমার গোপন ইচ্ছেরা। গুমরে কাঁদে আমার উড়াল দিতে চাওয়া মনটা। কিন্তু পা জড়িয়ে রাখে ভাবমূর্তির লোভ। আমরা আমাদের নিজেদের অনেক কিছুই মনে করি যে, ভাল জানি। আসলে ভুল জানি। আমি এটা খুব এনজয় করি, যে, অনেকে আমাকে জানেন দেওতা। তারা ভুল। আবার, অনেকে ভাবেন আমি দানবাসূর। তারাও ভুল। মানুষের এই ভুল জানা আমি এনজয় করি।

আপনি কি মনে মনে আমাকে দেবতার আসনে বসিয়ে রেখেছেন? আমার পাঁড় ভক্ত? আমাকে মহামানব পর্যায়ের কিছু ভেবে বসে আছেন? এমনটা করে থাকলে আজই তওবা করুন।

আমরা সবাইই ভেতো বাঙালি। বাঙালির সবরকম চরিত্র আমার মধ্যেও আছে। আর দশজন বাঙালের মতো আমিও কোঁচা মেরে বাজার সদাই করি, আমিও মাঝবয়সী বাঙালের মতো আলুর দোষে দুষ্ট হয়ে থাকব, জনসম্মখে আমিও সস্তা বিরানি খেয়ে অঁউ করে অভদ্রের মতো ঢেঁকুর তুলি। বয়সের ফেরে আমাদেরও কিছু চরিত্রাবনতি হয়ে থাকবে। আপনার নিজের কল্পিত কমিক চরিত্রে আমাকে বসানোর দায় সম্পুর্ন আপনার। কখনো যদি আবিষ্কার করেন, আমারও পশ্চাতে একটি লেজ আছে, তাহলে মোহভঙ্গের জন্য আমাকে দায়ী করবেন না জনাব। What is FREEDOM of speech?

আমার মতে, যা ইচ্ছে, যখন ইচ্ছে, যেখানে ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে তাই বলবার স্বাধীনতা।

বলবেন এটা তো স্বেচ্ছাচার।

তাহলে একটু তাবির বলি।

বাকস্বাধীনতা হল-শ্রোতা ও জনতা বিশ্বাস করবে, যে, যে-কেউ যে-কোনো কিছু বলবার অধিকার রাখে, এবং সে যাতে সেটি নির্ভয়ে ও নিঃশঙ্কোচে বলতে পারে, সেটা দেখা আমাদের দায়।

ওদিকে বক্তা বিশ্বাস করবে যে, আমার যা খুশি বলবার সাপোর্টিভ পরিবেশ ও সামাজিক মান্যতা থাকলেও আমি স্থান, কাল, পাত্র বুঝে কথা বলব।

বোঝা গেল?

বাকস্বাধীনতা হল জনতার তরফের, শাসকের তরফের, শ্রোতার তরফের করণীয়। আর বক্তার তরফের দায়বদ্ধতা।

যেটা এখন হয়ে গেছে উল্টো। জনতা ভাবে বক্তার মতো, আর বক্তা নিয়েছে জনতার পার্ট।

মজার কথা হল, বাকস্বাধীনতা মানে কেবল কথা বলবার স্বাধীনতাই না, বরং ইচ্ছে না করলে কথা না বলবারও স্বাধীনতা।

ভুল জানা অপরাধ নয়। ভুল করাও নয়।

অপরাধ হল, ভুল হতে পারে-এটা ভাবতে না পারা। এটা মানতে না পারা। চারপাশে এমন মানুষের সংখ্যা অসংখ্য। ফেসবুকে দেখে দেখে যদি কাউকে মনে মনে দেবতার আসনে বসাও, তাহলে তার চরণে হত্যে দিয়ে মরার আগে একবার অন্তত তার সাথে চাক্ষুস দেখা করো। সশরীরে সাক্ষাত ধন্য হবার চেষ্টা করো। দেবতার স্বরূপ অনেকটা প্রস্ফূট হয়ে যাবে। তোমার চোখে থাকা মুগ্ধতার রঙীন অন্ধ কাজলও অনেকটা ধুয়ে মুছে যাবে। কাউকে যদি মনে মনে, নিজে নিজেই, নিজের হৃদয় সিংহাসনে দেবতার আসনে বসান, তার দায় তো সেই অপদেবতার নয়।দেবতা কক্ষচ্যুত হয়েছে-এই আত্মব্যাখ্যা তৈরি করে যদি নিজে নিজেই সেই দেবতাকে অপদেবতার অপবাদ দেন, সেই দায়ও তো দেবতার না।

উপাধ্যায়-২: গৃহ সুশীল:

আমরা যারা নিজের খেয়ে ’মনের বোষ’ বা ‘বনের মোষ’ তাড়াই, বিশেষ করে আমাদের ভিতরে যারা সেলেব তবকার, তাদের নিয়ে, লোকের ধারনা হয়ে থাকতে পারে, যে, এনারা বোধহয়:-

১. বাসায় ও সমাজে বিশুদ্ধ রাবিন্দ্রীক বাংলায় কথা বলি।

২. প্রতিদিন নিয়ম করে কিছুক্ষণ সংবাদপত্র পড়ি।

৩. নিজ নিজ পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবের সাথে আঙ্কেল টমের মতো করে বিনয়াবনত হয়ে কথা বলি।

৪. নিজ নিজ স্ত্রী বা স্বামীদের সাথে আমরা অতি মানবীয় ব্যবহার করি।

৫. আমাদের বাসায় বোধহয় রোজ সকালের নাস্তায় বিশুদ্ধ তিতা করল্লার রস পরিবেশন করা হয়।ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।

বাস্তবতা হল, আমরা যখন লিখতে বসি, তখন:-

১. দুই হাতের দশ আঙুলে ঠুলি লাগাই

২. চোখে টীনের চশমা পড়ি।

৩. মুখে ডাবর মধু ঢেলে নিই।

৪. কলমের কালিতে এক্সট্রা গ্লিটার মিশিয়ে নিই।

৫. আর তারও পরে লেখার টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ‘মানুষের’ মুখোশটা পড়ে বিসমিল্লাহ বলে লেখা শুরু করি। তাই আমাদের, মানে লিখিয়ে ও ফেসবুক বিপ্লবীদের নিয়ে যদি কোনো অলীক স্বপ্ন আপনি দেখে ভুল করেন, সেটা নিতান্তই আপনার করণীক ভুল।

বাস্তবতা হল-

১. আমরা নিয়মিত কাঁচা বাজারে লুঙ্গী বা তেপাট্টা টাইট করে পড়ে কাদা মাটি মেখে কচু ঘেঁচু কিনি।

২. নিয়ম করে আমরাও বউ বা জামাইদের সাথে লাঠালাঠি হবার মতো ঝগড়া করি।

৩. মাসের অন্তত ৮ দিন আমাদের রাত্রের খাবারে টান পড়ে।

৪. ছুটির দিনে আমাদেরও ঘর ঝাড়ু হতে শুরু করে বাচ্চার ন্যাপি ধোয়ার কাজ নিষ্ঠার সাথে করতে হয়।

৫. পাশের বাসার প্রতিবেশীর বউ বা সিক্স প্যাক জামাই আমাদেরও নজর কাড়ে।

৬. রিক্সাওলাকে দুই টাকার ভাড়ার বেশি চাওয়ায় আমরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শ বর্গীয়, চ বর্গীয় ও বহুবর্গীয় ভাষা ব্যবহারে লিপ্ত হই।

উপাধ্যায়-৩: বিড়ালের গলায় ঘন্টা

আপামর জামজনতা বাঙালির প্রাচীন পুরুষেরা কী ছিল-তা নিয়ে বলা গবেষনার ব্যাপার। হবে হালের ফেসবুক বিপ্লবী গণতান্ত্রীক জনতা নিঃসন্দেহে আইডলক্ত, মানে আইডোল ভক্ত।

এদের সবকিছুতে একজন আইডল লাগে-বিপ্লব করতে, প্রার্থনা করতে, ভাল করতে। আবার মন্দ কাজে, বিদ্রোহ, বিক্ষোভ কাজেও একটা আইডল লাগে, শয়তানের খাম্বার মতো।

এই যেমন, গণতন্ত্রের জন্য হেঁদিয়ে মরা, সুশাসনের জন্য পেঁদিয়ে মারা জনতা কিছু একটা ঘটলেই আইডল খোঁজে-”কই, অমুক স্টার, অমুক ষাঢ় তো এই বিষয়ে এখনো কিছু বলল না। জাতির বিবেক এখন নিরব কেন?”

আবার, এই হৃতকাম জনতা তাদের যাবতীয় গণতান্ত্রীক চ্যাতোনা, ক্ষোভ, বিক্ষোভ, বিদ্রোহ, অনুযোগ, ক্রোধ এবং সরকার বিরোধীতা প্রকাশের জন্য সব সময় জ্বীনের মতো আইডলের কাঁধে ভর করে। তারা তাদের মনের খাহেশের বাইরে, মনপসনদ এর বিপরীত কাউকে পেলে, মিজরিটির পছন্দের সাথে ভিন্নমতাবলম্বি কাউকে দেখলেই তাকেই শয়তানের খাম্বা আইডোল বানিয়ে তার ওপর দিয়েই সব ঝাল উগড়ে দেয়। ওই আইডোল হয়ে ওঠেন জাতির বিপ্লব প্রশমনের খাম্বা।

এই আইডল বনা হতে সাবধান। এই অধুনা জাগ্রত সচেতন তৌহিদি জনতার মার হতে রেহাই নেই। খোদ রবী বাবু অথবা বিপ্লবী ক্ষুদিরাম হতে শেরে বাংলা অথবা খাজা মইনুদ্দীনও এখানে এখন জন্ম নিলে ফেবুপ্লবী (ফেসবুক বিপ্লবী) জনতা তাকে কোনো না কোনো দিন শয়তানের খাম্বা বানিয়ে হিস্যু ও হিস্যানুযায়ী পেঁদিয়ে সরকার বিরোধী বিপ্লবের হতকাম উসুল করে নিত।

এই যে জামজনতার উন্মত্ত ক্রোধের নির্বিচার প্রয়োগ, নির্বিচারে আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা-সবাইকে ঘৃনার অগ্নিতে দগ্ধ করা, জীবিত-মৃত কাউকেই ক্ষোভের আগুন হতে রেহাই না দেয়া, এই যে, যাকে মনে চায়, তাকেই সরকারের কুশপুত্তলিকার আসনে বসিয়ে তার খতনাকরণ, এই কূ-আবর্তনের গূঢ় শেকড় অন্যখানে।

এথনিক্যালি ভীতু ও সুবিধাবাদী একটি জাতি, হালে সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যানে বিপ্লবী বনে যাওয়া জাগ্রত জনতাময় জাতি তাদের যাবতীয় অনুযোগ, বঞ্চনা, ক্ষোভ, হতকাম বিদ্বেষ উগরে দিতে উদোর পিন্ডি বুঁধোর ঘাড় হিসেবে, যেখানেই বাঙালিত্ব, তথাকথিত আ.লীগ ঘেঁষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য নিয়ে কিছু পায়, তাকেই শয়তানের খাম্বার মতো ঢিল ছুড়ে সরকার বিরোধী বিপ্লবের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছে। এদের সামনে রবী ঠাকুরও শ্রেনীশত্রু, নজরুল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের কন্ঠ, এমনকি প্রয়াত মহাত্নরাও দালাল। আর এঁদের চোখে হালের টকটকার, উটুবাররা বিপ্লবি, পারলে জাতির ড্যডি।

সাধু সাবধান। তার চেয়ে বরং আসুন আমরা বড় বাপের পোলায় আর ছোট বাপের মাইয়ায় খাই। লুঙ্গির কোচরে ভরে লয়া যাই।

দেশে নতুন একটা গালি এসেছে, “আসাসুখসুমজাই” (আয়মানসাদিক+সুখন+সুমন+জাফরইকবাল)। কাউকে নিজের মনগড়ামতো ভিরুতা বা নপুংশকতা বা ভন্ডামীর সন্দেহে এই চোস্ত মডার্ন‍ গালি দেয় নয়া জাগ্রত জনতা বঙ্গ নেটিজেনরা।বঙ্গজনতা মনে করে, দেশে যদি কোনো বাচ্চার প্রস্রাবও আটকে যায়, কিংবা দেশের কোনো কোণায় কোনো এক বুড়া বেটার জননাঙ্গ জিপারে আটকে দেশে আন্দোলন শুরু হয়, তাহলেও ওনাদের প্রত্যেককে অবশ্যই একটা লম্বা এসটেটাস দিতেই হবে। তা না হলে ওনারা প্রত্যেকে “আসাসুখসুমজাই” নামক পাপ করে ফেলবেন। এটাই জনতার দাবী।

বাংলাদেশে জনতার দাবী বড় ভয়ঙ্কর দাবী। এটা সেই দেশ, যেখানে একটি টিভি চরিত্রের ফাঁসি আটকানোর দাবীতে আন্দোলন হয়। তো? দাবী চলুক। সুখন, সাদিক, সুমন, জাফর ইকবাল স্যারকে অবশ্যই লিখতে হবে। যে যেভাবে চাইবে, তাদের লিখতে হবে। হবেই। ওনারা লিখবেন, মাঠে নামবেন। আর আমরা তখন আইপিএল দেখব, নতুন মূভির রিভিউ লিখব, বাচ্চাকে নিয়ে ড্রিম হলিডে পার্কে যাব, ইউটিউবে ব্যস্ত থাকব, আর তা না হলে চ্যটিং এ ব্যস্ত থাকব। আর একটা দল এমপিথ্রি গাইড পড়ায় ডুবে থাকব।

বঙ্গজনতার দাবী বলে কথা। কেন লিখবেন না ওনারা? বেতন দিই না আমাদের ট্যাক্সের টাকায়? কেন যে ওনারা বলেন না, লেখেন না, সেটা আমরা ভাল করেই জানি। কাজের সময় কাজি, কাজ ফুরোলে পাজি-এটা তো আমাদের নিয়েই বলা হয়। অথবা, যার জন্য করি চুরি, সেই কয় চোর-এটাও তো আমাদেরই চরিত্র। আর, অনিচচ্ছুক জাতির হয়ে কথা বলে, অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীনতা এনে দেবার মূল্য বঙ্গবন্ধু ও জাতির পিতা কীভাবে চুকিয়েছেন-সেই জ্বলজ্বলে সত্য তো আমাদের চোখের সামনে। তারপরও বাঙালি কীভাবে আশা করে যে কেউ তাদের হয়ে কথা বলবে? যিনি যেটার মানুষ, তার কেবল ততটাতেই সীমিত থাকলে ভাল। আগ বাড়িয়ে তার জাতিকে উদ্ধার করার বাহানা না করাই ভাল। এই জাতি আপনাকে উস্কাবে, জনতার অভিভাবক হতে। তারাই আবার বলবে, আপনি অমুকের দোসর। বিশেষ করে, যিনি যেটার আওকাত ধারন করেন না, তার সেটা নিয়ে কথা বলার অধিকার থাকলেও তাকে বলব, ”না বলুন।”

আরেকজন মানুষ, তিনি যে-ই হোন, তিনি কী ভাববেন, কী ভাববেন না; কী কথা বলবেন বা বলবেন না; কীভাবে কথা বলবেন বা কীভাবে বলবেন না; কখন বলবেন বা কখন বলবেন না-সেটা যখন আমি নির্ধারিত করে দিতে চেষ্টা করি, সরাসরি আদেশে অথবা আমার তৈরীকৃত কৃত্রিক কোনো আবহের দ্বারা, আমার মতে সেটাই হল ফ্যসিজম। আমি কখন কথা বলব ও কখন কথা বলব না-সেটা নির্ধারনের নিরঙ্কুশ অধিকার একমাত্র আমার। নিরবতা নাকি ফ্যাসিজমের ভাষা। আমি বলব, হ্যা, নিরবতা যেমন ফ্যাসিজমের ভাষা, তেমনি, আমার নিরবতা জোর করে ভাঙানোও ফ্যাসিজমের কথকতা।

আপনি জানেন কি, পরের মুখে তামুক খাওয়া একটি উগান্ডান জাতীয় চরিত্র? আমরা প্রায়ই পরের মুখে তামুক খাই। তামুক খেতেও মন চায়, কিন্তু মুখে গন্ধ হবে-সেই ভয়ে অন্যের মুখে খাই। আবার, আমরা অন্যের মতামতকেই নিজের মতামত, অন্যের কাছে পাওয়া তথ্যকেই নিজের তথ্য হিসেবে চালিয়ে দিই। অন্যের রিভিউকেই নিজের রিভিউ ধরে নিয়ে নিজেদের মতামত ও সিদ্ধান্ত দাড়া করিয়ে ফেলি। অন্যের কথাকে নিজের কথা বলে চালাই। এবং, সবচেয়ে মারাত্মক হল, নিজেই আবার সেটাকে বিশ্বাসও করি।

কারো কাছে জিজ্ঞেস করুন, ভাই, অমুক সাবানটা কেমন? ওই লোক কালবিলম্ব না করে বলে দেবে, “জঘন্য”। কারন, হয়তো, তার বউ তাকে একবার বলেছিল, ওই সাবানটা জঘন্য। যদি বলেন, আপনি শিওর? সে বলবে, ”শিওর শিওর। আমি নিজে দেখছি।” একইভাবে, মানুষ বিচার করে ফেলে, অমুক জিনিসটা জাস্ট মারভেল, তমুক লোকটা তুখোড়। সিম্পল ম্যাথ। সবই পরের কথায়। আবার, এই উগান্ডাবাসীকে শুধু জিজ্ঞেস করবেন, ভাই, অমুক কোম্পানীটা কি ঢাকায় নাকি চট্টগ্রাম? সে শুরু করবে-”ভাই, ওই কোম্পানীতে যাবেন না। ওটা অমুক নেতার বানানো। ওদের বিল্ডিংটা জঘন্য লাল রঙের। ওখানে সময়মতো বেতন দেয় না। ওখানে সেমাইয়ের প্যাকেট দেয় না। ওখানে নাইট ডিউটি করতে হয়। ওখানে প্রত্যেক বছর আনরেস্ট হয়। ওরা গ্রীন ফ্যাক্টরী হলেও বাগানে একটা গাছও নেই। ওই কোম্পানী পিকনিক করতে নেয় না। ……………………………………… এই সবের অনেক অনেক পরে…………………………..ওহ, ভাই, ওটা ঢাকায়।”আর সুখের বিষয়, এই পুরো রিভিউটাই তার অন্যের কাছে শোনা। কিন্তু, বলবে এত কনফিডেন্টলী, যে, আপনার মনে হবে, তিনি নিজে থ্রিডি চশমায় সব দেখে এসেছেন।

ওপরের সারকাজমভিত্তিক লেখা দুটো অনেক আগের। তবে সময় বয়ে চললেও, ওই থীমের খুব একটা বাত্যয় ঘটেনি।  এরই মধ্যে ঘটে যায় ঐতিহাসিক এপ্রিল ২০২১ এর ঘটনা-”চলো না বসুন্ধরায় যাই”। না, আমি ওই ঘটনা নিয়ে প্যাঁচালে বসব না। ভাইরাল নিয়ে লেখা বা বলার খাসলত আমার নেই। আর, দুই পক্ষের বক্তব্য না শুনে, না তলিয়ে দেখে জাজমেন্ট করবার খাসলত অনেক কষ্টে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে থাকি।

আজ বলব, ওপরের লেখার প্রবাহমানতার সূত্র ধরে। ওই ঘটনার পরপরই, আমাদের বঙ্গদেশ বরাবরের চিরবিভক্ত পশ্চাতদেশের মতোই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল। একদল সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকতা পেশাকে একদম ধুয়ে ফেলল। নিজেদের অবদমিত কাম, সুপ্ত ক্রোধ, লুপ্ত প্রতিবাদীসত্বার অভিঘাত, অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর চরিত্র-সব মিলিয়ে এপ্রিল টালমাটাল। তারই মাঝে আমি ছোট্ট করে একটি লেখা লিখি। তার সূত্র ধরে আজ বাকি লেখার মুসাবিদা। কী লিখেছিলাম?

[তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ। কোনো একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকরি চলমান অবস্থায়, সেই কোম্পানীর মালিককে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত বা প্রশ্নবানে জর্জরিত বা উন্মুক্ত মাধ্যমে তার সমালোচনা করার মতো বুকের পাটা আছে-এমন একজন দুর্লভ বীরকে খুঁজছে বঙ্গফেসবুক দেশ। আছেন কেউ? ** যদি না ই থাকেন, তাহলে বেহুদা একমাত্র সাংবাদিকদের অপারগতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হতে বিরত থাকুন। ]

বাড়িতে ডাকাত পড়লে আমরা যেমন একে অন্যকে ঠেলি, “ওই, তুই যা, হামলা ঠেকা”-ঠিক তেমনি করে, গোটা দেশ সাংবাদিককের ওপরেই সব ভরসা ও দায়ীত্ব চাপিয়ে দিল, ওই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ ও বাপকা বেটা ধরনের অ্যাকশনে যেতে এবং না যাওয়ায় তাদের ধুয়ে দিতে। তর্ক করা আমার স্বভাব না। একজন অত্যন্ত বিজ্ঞ ও যুক্তিবাদী সুহৃদ ও আমি ওইদিন ওই পোস্টে বেশ কিছু যৌক্তিক বক্তব্য, পাল্টা যুক্তি ও যুক্তি খন্ডন নিয়ে কথা বলি। ওই তর্ক আমি খুব এনজয় করেছি। একদিন মনে হল, ওই বিতর্ক ‍ও যুক্তিগুলো এই লেখার লেজ হয়ে থাকা দরকার। তাই জুড়ে দিলাম।

[Abu Zabar Rezvhe>> Very wrong statement… I must say insensible statement. Everyone should be honest with profession. The owners are regardless. However what about the opposition!!!!!

Md. Walidur Rahman Biddut>> Rezvhe, নিজে যা পারিনা, সেই একই ব্যর্থতার জন্য শুধুমাত্র সাংবাদিককে দোষারোপকে আমি সুই ঝাঝরের কাহিনীই মনে করি।

Abu Zabar Rezvhe>> Biddut, যদি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে না পারি তবে সে পেশায় থাকার অধিকার কি ! আমি সেলসম্যন , বিক্রি করতে না পারলে এ পেশা আমার নয়। আমি মার্কেটার, মার্কেটিং ঠিকমত না করতে না পারলেও সে পেশা আমার নয়। একইভাবে যদি আমার পেশা হয় সাংবাদিকতা তবে আমার কাজ কি !! দায়িত্ব ও কর্তব্য শব্দগুলো ডিকশনারী থেকে তুলে দিলে আমি আর কিছু বলব না। 

Md. Walidur Rahman Biddut>> Rezvhe, আমার লেখা গোড়া হতে আবার পড়ো। প্রথম লাইন আরো পড়ো। না পড়লে কেটে পড়ো।

Abu Zabar Rezvhe>> Md. Walidur Rahman Biddut তুমি তোমার লেখার শেষ লাইনটা পড়। ভালো করে পড়। যদি নিজের মনের কথা লিখতে চাও ব্যক্তিগত ডায়েরীতে লিখে রাখ কিন্ত যদি পাঠকের জন্য / সামাজিক মাধ্যমে লেখ তবে পাঠকের বোধগম্য করে লিখ.. পাঠকের বুদ্ধি সবসময় একটু নিম্নসতরের।

Abu Zabar Rezvhe>> আর হ্যা, আমি সাহস রাখি , তেমন উদাহরণও আছে। দেশের নামকরা বড় প্রতিষঠানের সাথেই ঘটেছে। কি হয়েছে? চাকরি ছেড়েছি , বিনিময়ে খুব ভালো আছি।

Md. Walidur Rahman Biddut>> Rezvhe, তুমি গতকাল ও আজকের বঙ্গফেসবুক দেখলেই বুঝবে। অভিযুক্ত ও ভিকটিম-দুইকে নিয়ে দুঃসাহসি ভূমিকা নিতে না পারায় বাঙালদের সব ক্ষোভ সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমের ওপর। যেন বাদবাকি বাঙালরা সব তিতুমীর। আপত্তিটা সেখানে। সত্য বলার দায় কোনো একক পেশার না। এরপরও কথা বলাতে চাইলে এবার আমি লাচার।

Md. Walidur Rahman Biddut>> Rezvhe, সেটা তোমার ব্যক্তিগত ইস্যু নিয়ে ডিবেট ও ডিফেন্স। জাতীয় ইস্যুতে বস বা কোম্পানীর আকাম নিয়ে না। যেমন তোমার প্রাণ আরএফএল। এর কর্মীরা কখনো এর মালিককে বলতে পেরেছে, আপনি রাজাকার? তো, তাদের কেউ আজ বন্ধু Mazhar Milon কে বলতে পারেনা, ওই মিয়া, তুমি খুনি-খুন ইস্যুতে মুখ খুলে তুলোধুনো কেন করো না? তুমি ভীতু! তুমি না সাংবাদিক? তুমি না জীবন বাজি রেখে সাংবাদিকতাকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছিলে!

Abu Zabar Rezvhe>> Biddut, এখানে ব্যক্তি সাংবাদিক কোন ইস্যু না কিন্ত সংবাদমাধ্যম এর দায়বদধতা কি নেই ? আমি তো কোন সাংবাদিক কে ব্যক্তি আক্রমন করছি না কিন্ত কাদের ভয়ে দেশ কাপে !!বসুন্ধরায় যারা চাকরি করে তাদের কথা বাদ দিলাম কিন্ত কোন পত্রিকা বসুন্ধরা নামটাই নিতে পারে না। এটা কিসের লক্ষণ একবার চিন্তা করে দেখ। লোকজন কি বলল সেটা বিষয় নয় , কিন্ত সাংবাদিক বা সংবাদমাধ্যম একটা সংবাদ প্রকাশ করতে পারে না !! বসুনধরা কিভাবে এত বড় ভেবে দেখেছ কখনো। ঠান্ডা মাথায় ভাবো তাহলে বুঝবা যে তুমি একদিন গুম হয়ে যাবা আর তোমার পরিবার সারাজীবন বেল বাজলে মনে করবে তুমি এসেছ ……….পানি নাকের উপর বন্ধু ….

 Md. Walidur Rahman Biddut>>Rezvhe, তুমি বলছ যদিও, আমি সারাদিনই পড়েছি, সংবাদ মাধ্যম যেমন, তেমনি সাংবাদিকদের গালাগাল করা হয়েছে। নাম ধরে। আপত্তিটা সেখানে।

Abu Zabar Rezvhe>> Biddut, আমি ফেসবুকে দিনে সর্বোচ্চ ১৫ -৩০ মিনিট সময় দেই যদিও আজ তোমার সাথে ব্যটিং করতে একটু বেশি সময় থাকলাম, তাই এতটা বলতে পারব না। ব্যক্তি আক্রমণের বিরুদ্ধে আমিও। কিন্ত সংবাদমাধ্যম , প্রশাসন, শিক্ষা খাতের দায়িত্ব অবহেলার সুযোগ নেই এবং সাধারন জনগন বিষয়টাতে সোচচার না হলে ভয়াবহ বিপদ। এতক্ষন এটাই বলার চেষ্টা করছিলাম।

Mazhar Milon>> আমি থার্ড পার্টি হয়ে একটা কমেন্ট থ্রেডে কথা বলা অপছন্দ করি। কিন্তু করতে হচ্ছে প্রাসঙ্গিকতার কারণে। আমি কাউকে ব্যক্তি আক্রমণ না করেই বলতে চাই, একটা দেশের জনগণের প্রত্যেকটা আত্মকেন্দ্রিক ইউনিট যখন নিজেদের অধিকারবোধ সম্পর্কে সজাগ থাকে কিন্তু বিপরীতে আশা করে জাতি কিংবা সমাজের অন্য কোন দায়িত্বশীল অংশ তার অধিকার এনে মুখে পুরে খাইয়ে দেবে, তখন তারা এমন দিশেহারার মত মন্তব্য করতে থাকে। এক্ষেত্রে তাই হয়েছে। তারা মনে করে, পুলিশ বলার আগেই তারা ভিকটিম কিংবা সাসপেক্ট খুনীর নাম বলে দেবে, তারা মনে করে, পুলিশের যে ইনভেস্টিগেশন করার কথা, সাংবাদিক সেটা আগ বাড়িয়ে করে দেবে, এমনকি সাংবাদিক বিচারটাও করে দেবে। এই ইউনিটগুলো আলাদাভাবে কিংবা সামগ্রিকভাবে ভুলে গেছে যে, যে রাষ্ট্রে বাস করে তারা অধিকারহীন হয়ে পড়ছে সবখানে-সবদিকে, গণমাধ্যমও সেই রাষ্ট্রের অংশ। জনগণের মালিকানার রাষ্ট্রের মালিক অন্য কেউ সেজে বসে আছে, সে অন্য সবার টুটি চেপে ধরে বসে আছে… আইন-আদালত-পুঁজি-ধনতন্ত্র এসব টুটি চেপে ধরার একেকটি হাতিয়ার মাত্র… তখন তারা শুধুমাত্র গণমাধ্যমের কাঝে জবাবদিহিতা আশা করে। নিজেদের মালিকানার রাষ্ট্রে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ একটা জনগোষ্ঠীর তাবৎ দায়িত্ববোধ তখন অন্য কারো ওপর চাপিয়ে নিজের পলায়নপর আত্মকেন্দ্রিকতার দায় থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে থাকে। এগুলো হল সোশ্যাল সাইকোলজি। খুবই কষ্ট হয় মানতে কিন্তু উপায়ও তো নাই। Rezbhe সাহেবের কাছে জানতে চাই, নাগরিক দায়িত্বের কতটা আপনি নিজে পালন করেন? গত ইলেকশানে ভোট দিতে গিয়েছিলেন? আপনার কেন মনে হয়, গণমাধ্যম আপনাদের এই রামরাজত্বে নিজেই এমন এক কোনঠাসা অবস্থায় আছে যে, রাষ্ট্র এবং তাদের সহযোগী-সহকারিদের বিরুদ্ধে কিছু বলার অবস্থায় আছে? আপনি আপনার নাগরিক দায়িত্ব পালন করে শক্তিশালী জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র পালন করেছেন যেখানে আপনি অন্যের দায়বদ্ধতা এবং জবাবদিহিতা আশা করেন..!  হ্যাঁ গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়াটা একটা উপায়। তাহলে যদি আপনাদের মনের জ্বালা মেটে। তাহলে রাষ্ট্র-সরকার-লুটেরাদের যতটুকু রাখঢাক ছিল, সেটাও থাকে না। রামরাজত্বের ষোলকলা পূর্ণ হয়। আপনার মত আমরাও এই চুতিয়া গণমাধ্যম বন্ধ করার দাবি জানাই।

Md. Walidur Rahman Biddut>> Rezvhe, পাবলিকের অসভ্যতার মাত্রা দেখো “বাংলাদেশের সাংবাদিকদের শুধু এ-কারণেই ভালোলাগে যে উনারা দালালীকে একটি ‘ক্লাসিক্যাল- এস্থেটিক’ পর্যায়ে নিয়া যাইতে পারছেন।”

Mazhar Milon: আমি আমার কাজ করি। সেজন্যই গলা উঁচু করে কথা বলছি। গণমাধ্যম এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যতটুকু সম্ভব করছে। নিশ্চয়ই সব দায়িত্ব পালন করছে না, কেউ কেউ অসাধুতা করে সেটাও মানি। কিন্তু সম্ভবত আপনার পেশাতেও চোর ছ্যাচ্চর আছে। আপনি সামগ্রিক দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আপনি কি সামগ্রিকতার বাইরে নাকি? 

মূল পোস্টের লিংক: তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ: https://www.facebook.com/walidur.rahman1/posts/4332075116850462]

একটি বিশেষ ইস্যুতে ডিবেট হলেও, আসলে এই বিতর্কটি সার্বজনীন। একই রকম চরিত্র ও পারসপেকটিভ আমাদের এখানে হয়েই চলেছে। দেশে পান হতে চুন খসলেই আয়মান সাদিক ভাই হতে শুরু করে ড. ডাফর বা মিজ. সুলতানা কামালদের চরিত্র হনন শুরু হচ্ছে। সেই নিয়ে ক্লাসিক্যাল একটি প্রতিউত্তর মনে করতে পারেন ওপরের ডিবেটকে। 

গ্যালিলিও যেই যুগের মানুষ ছিলেন, সেই যুগে নতুন কিছু ভাবা, প্রথার বিপরীতে চলা, বলা মানেই ছিল পাপ। তিনি প্রথম আবিষ্কার ও প্রচার করতে শুরু করেন, “সূর্য পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে না, বরং পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘোরে।” যা ছিল তৎকালীন পুরোহিতদের মতের বিপরীত। তারা দেখলেন, বিপদ। তাদের মসনদ টলে যাবে। তাদের কুমন্ত্রণায় রাজা ভুল বুঝলেন। গ্যালিলিওকে হুমকী দেয়া হল, তিনি যদি তার বক্তব্য না বদলান, তাকে শুলে চড়ানো হবে। গ্যালিলিও বিজ্ঞানী ছিলেন, বীর হয়তো নন। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি প্রকাশ্য কলোসিয়ামে ঘোষনা করলেন যে, তার তত্ব ভুল, পুরোহিতদের মতামতই ঠিক। কিন্তু, তারপরেই সেখানে মাটিতে তার পা ঠুকে বিড় বিড় করে বললেন, “তারপরও আমি বলব, সূর্য স্থীর, পৃথিবী তার চারপাশে ঘোরে।”সব যুগেই যারা একটু নতুন কিছু ভাবেন, বিশ্বাস করেন, অন্যরকমভাবে চিন্তা করেন, প্রচলিত স্রোতের বিপরীতে চলেন, মেজরিটির ভাবধারা ও মতবাদ অনুসরন করেন না।

সব যুগেই তাদেরকে মানুষ পথভ্রষ্ট, সমাজবিরাধী ও মাথানষ্ট হিসেবে পরিগণিত করেছে। কিন্তু এই মাথা নষ্টরাই চিরকাল পৃথিবীকে নতুন কিছু, দারুন কিছু, সৃষ্টিশীল অনেক কিছু দিয়ে সমৃদ্ধ করেছে। ’অন্যরকম’ মানেই তাই ‘নষ্টরকম’ নয়। যাহোক। সমাজে বিবেকবান কিন্তু ভীরু মানুষ অনেক আছেন। হয়তো দুঃসাহসী নন বিধায় সব অন্যায়, অনিয়ম, অবিচার, অশুদ্ধ, অনাচারের প্রতিবাদ জোর গলায় করেন না। করতে সাহসী হন না। প্রতিবাদের, প্রতিরোধের সৎ সাহসটুকু হয়তো গলাটিপে বহুজনেই মেরে ফেলেছে। আজ তাই অন্যায়কারী, খুনিরা বীরদর্পে প্রকাশে খুন করে, উপস্থিত লাখো আম জনতা অসহায় হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখে আর গোটা দেশ একজন হারকিউলিসের উপস্থিতি কামনা করে। নিজেই সেই হারকিউলিস বনে যায় না। সবাই এ ওকে ঠেলে, কিছু করার জন্য। সবাই ও একে দোষে, কিছু না করার জন্য। সেই সুযোগে অন্যায়ের নেকড়েরা বারবার হানা দেয়। হয়তো চলমান নিষ্ঠূর বাস্তবতার কারনে অনেকেই আমরা প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, প্রতিকার, প্রতিশোধ নিতে না চেয়ে প্রকাশ্যে পদে পদে আপোষ করছি। প্রতিবাদকারীর অসংখ্যবারের করুন পরিণতি আমাদেরকে আরো গুটিয়ে রাখে। হোক। তবু, গ্যালিলিও’র মতো ভিতরের আগুনটুকু প্রজ্বলিত থাকুক। অন্তত অন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্তরের ঘৃনাটুকু বেঁচে থাকুক। অন্তত অন্যায়ের কাছে নিজের আত্মাটুকু যেন বিক্রী না হয়ে যায়। মুখ ফুটে বলতে না পারি, অন্তর হতে অন্যায়কে ঘৃনা করার মতো মনুষ্যত্বটুুকু অন্তত বাঁচিয়ে রাখি। ধিকি ধিকি জ্বলুক ঘৃনার অগ্নিগীরি।

শেষ করি। তো, আপনি কি মনে মনে আমাকে দেবতার আসনে বসিয়ে রেখেছেন? আমার পাঁড় ভক্ত? আমাকে মহামানব পর্যায়ের কিছু ভেবে বসে আছেন? এমনটা করে থাকলে আজই তওবা করুন। ফেসবুকে দেখে দেখে যদি কাউকে মনে মনে দেবতার আসনে বসাও, তাহলে তার চরণে হত্যে দিয়ে মরার আগে একবার অন্তত তার সাথে চাক্ষুস দেখা করো। সশরীরে সাক্ষাত ধন্য হবার চেষ্টা করো। দেবতার স্বরূপ অনেকটা প্রস্ফূট হয়ে যাবে। তোমার চোখে থাকা মুগ্ধতার রঙীন অন্ধ কাজলও অনেকটা ধুয়ে মুছে যাবে।

কাউকে যদি মনে মনে, নিজে নিজেই, নিজের হৃদয় সিংহাসনে দেবতার আসনে বসান, তার দায় তো সেই অপদেবতার নয়।দেবতা কক্ষচ্যুত হয়েছে-এই আত্মব্যাখ্যা তৈরি করে যদি নিজে নিজেই সেই দেবতাকে অপদেবতার অপবাদ দেন, সেই দায়ও তো দেবতার না। আমরা সবাইই ভেতো বাঙালি। বাঙালির সবরকম চরিত্র আমার মধ্যেও আছে। আর দশজন বাঙালের মতো আমিও কোঁচা মেরে বাজার সদাই করি, আমিও মাঝবয়সী বাঙালের মতো আলুর দোষে দুষ্ট হয়ে থাকব, জনসম্মখে আমিও সস্তা বিরানি খেয়ে অঁউ করে অভদ্রের মতো ঢেঁকুর তুলি। বয়সের ফেরে আমাদেরও কিছু চরিত্রাবনতি হয়ে থাকবে। আপনার নিজের কল্পিত কমিক চরিত্রে আমাকে বসানোর দায় সম্পুর্ন আপনার। কখনো যদি আবিষ্কার করেন, আমারও পশ্চাতে একটি লেজ আছে, তাহলে মোহভঙ্গের জন্য আমাকে দায়ী করবেন না জনাব। দাও ফিরিয়ে মুক্ত জীবন, নাও ফিরিয়ে আরোপিত ভাবমূর্তি।”

উপাধ্যায়-৪: পাবলিক ফিগার #publicfigure #publicsentiment #publicproperty

সামাজিক মাধ্যমে বিরাজ করলে এবং মানুষের সাথে ব্যাপক যোগাযোগ/খায়খাতির থাকলেই যেমন কেউ Public Figure হয়ে যান না। তেমনি, সামাজিক মাধ্যমে বিরাজ করলেই, আমাদের নাগাল ও স্পর্শের ভিতরে থাকলেই, বিনীত স্বভাবের হলেই তিনি Public property ও বনে যান না। আপনার সব ফেসবুক Friend অথবা ফেসবুক/লিংকডইনের বিরাজমান ব্যক্তিরা কেউই Public property নন। সুতরাং, তাদের সাথে আপনার মোয়ামালাতে পেশাদারীত্ব ও দায়ীত্বশীলতা বজায় রাখুন।

#Idol #Goddess #Icon #Democracy #MobJustice #MobTrial #Mobocracy #MassPeople #SocialRevolution #FreedomOfSpeech #FreedomOfOpinion #PersonalFreedom #Persuasion #Insisting #Provoking #ObligationOfRevolt #DemandOfMass #SocialAvatar #PublicFigure #PublicSentiment #PublicDemand #SilenceAndFascism #IdiotsAsCritics #DestructiveCriticism #Review #Art #Critics #Blame #Defame #RankingofUniversity #Education #Creativity #Revolution #GenerationZ  #GenZ #MillennialGeneration #GenerationGap #ClashOfGeneration #DeviationOfGeneration #DeviationOfNation #DeviationOfCountry #NationalDestruction #SocialDestruction #SocialDeviation #DestructiveNation #ForceRebel #MultipleTalent #MultipleRole #AllInOne #CancelCulture #PseudoIntellectuals #BangladeshSociety #SocialMediaCulture #CulturalDebate #BangladeshArt #ToxicCriticism #DigitalBangladesh #IntellectualDishonesty #CriticalThinking #SelfCensorship #ImageTrap #PublicPressure #MultipleRole #AllInOne #willpower #liberty #image #binding #freedomofspeech #freedomofopinion #personalfreedom #stardust #stardom #obligation #আপনিতখনকইছিলেন #একেরভিতরসব #ভাবমূর্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *