আমার কাছে যদিও স্বাভাবিকই মনে হয়। তবুও আপনার কাছে শুনতে অদ্ভূৎ শোনাবে কিনা জানি না।
আমার চার দশকের জীবনে উড়োজাহাজে চড়া হয়নি। উড়োজাহাজের টিকেটের দাম বাস টিকিটের পর্যায়ে নেমে আসার পরও। বাংলাদেশ বাদে কোনো বিদেশও যাওয়া হয়নি। অবশ্য দুই দিনের জন্য একবার কলকাতার রাস্তার খাবার (ভদ্দরনোকরা আদর করে যদিও স্ট্রীট ফুড বলেন) আর ফুটপাতের জামাকাপড় কেনার দুর্ভাগ্য একবার হয়েছিল বছর সাতেক আগে। তাছাড়া ট্রেনে চড়ে কলকাতা গেলে/এলে তাকে কোনো অর্থেই বিদেশ ভ্রমন বলা যায় না।
উড়োজাহাজে কেন চড়া হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর অনেক হতে পারে। বিদেশ যাত্রারও। সামর্থ্য ও সুযোগ অবশ্যই বড় কারন-সেটা না বললেও অনুমান করে নিতে পারেন। তাই মাগনা মাগনা কিংবা সস্তায় যতটা পারি, দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাই।
আর তাই বাড়ির কাছের একই দেখা স্থানে বারবার যাই। নতুন নতুন করে দেখার চেষ্টা করি। আগের বারের হতে ভিন্ন পোষাকে যাই। যাতে ছবিতে নুতন রকমের দেখায়। কিন্তু প্রতিটি জাতীয় উৎসবেই ঢাকার কোনো দ্রষ্টব্য স্থানেই কেন এখন দুপুরের পর রওনা হলে পথে আটকে থাকতে হবে, তার কোনো উত্তর আমার কাছে নেই। প্রতিটা সিরিজ ছুটির আভাসেই কেন চন্দ্রা, আরিচা আর মাওয়া ঘাটে হাশরের মাঠের মতো লাইন পড়তে হবে? না রাজবাহাদুরের কাছে উত্তর আছে। না আম জনগনের কাছে।
গতকালও সংসদ ভবন যেতে গিয়ে পথে দুই ঘন্টা আটকে থেকে শেষতক মেট্রোরেলের ধুলায় আশির্বান্বিত রাজপথের ধারে টুলে বসে দুই কাপ চা খেয়ে মিয়া বিবি সাপ্তাহিক ভ্রমন শেষ করেছি।
আমরা তো না হয় “আল্লার মার, দুনিয়ার বার”। কিন্তু আপনারা তো ভ্রমন পিয়াসু মানুষ। ভ্রমনের জন্য পথে নামার আগে এই প্রশ্নগুলো কি একবার ভেবে নেয়া উচিৎ:
১.ঠিক কী কারনে আমরা কোনো স্থান ভ্রমনে যাই? ভ্রমনের সময় কি সেটা মনে রাখি?
২.ভ্রমনের স্থানটির যথাযথ প্রোটোকল আমরা জানি কিনা?
৩.ভ্রমনের স্থানটির সবরকম সুরক্ষা ও স্বাভাবিকতা রক্ষায় আমাদের করণীয় কী?
৪.ভ্রমন স্থানটিতে ছবি তোলা বেশি জরুরী? নাকি স্থানটিকে উপভোগ?
৫.আমি স্থানটিকে যেমন পেয়েছি, তার চেয়ে একটু হলেও কি শ্রেয়তর অবস্থায় ছেড়ে আসতে পারি?
#travel #abroad #flyingplane #trip #tourism