১. ছোটোবেলায় স্কুলের একজন ধর্ম শিক্ষক নুহ নবীর মহাপ্লাবনের একটা ঘটনা বলেছিলেন। জানিনা সত্যি কিনা। কেউ অন্যভাবে নেবেন না। শুধু শোনা গল্প। প্লাবনের ভয় দেখালেও একলোক বিশ্বাস আনল না। সে একটা লোহার সিন্দুক বা ট্রাঙ্ক বানালো যাতে কোনো ছিদ্র নেই। উঁচু সেই ট্রাঙ্কে ঢুকে সে পানি হতে বেঁচে ভাসতে লাগল বানের জলে। কিন্তু ট্রাঙ্কটা উচু হওয়ায় সে প্রসাব করতে বাধ্য হল ভিতরে। তো পেশাব করতে করতে একসময় সে সেই পেশাবের মধ্যেই ডুবে মরল। (বেশ গোলমেলে লজিক যদিও। পরবর্তিতে যদিও আমি অনুধাবন করি, এই লজিকের সামান্যতম লজিকও আসলে নেই। স্রেফ মেটাফোর হিসেবে ঠিক আছে।) তবে মোরাল হল, বেশি সাবধানতা বা বেশি সতর্কতা শেষে বুমেরাং হয়। বেশি ভাল করতে গেলে সেটা সব কূল ডুবায়।
২. আরেকটা শোনা গল্প বলি। জনৈক ’মজিদ’ বিয়ে করেছে। তো বিবির সাথে রাতে বিশেষ সম্পর্ক করতে গেলে সে বাঁধা দিয়ে বলল, ”ছি ছি, কী করেন, কী করেন? আপনি না ’মজিদ’, পবিত্র মানুষ!” ’মজিদ’ দেখল বিপদ। সোজা রাস্তায় কার্য সিদ্ধী হবে না। তাই বউকে বলল, ”শোনো, একবার সম্পর্ক করলে একটা কুফফার কতলের পূন্য হবে।” এবার পূন্যের লোভে বউ মজল। তো দুবার কুফফার মারার পর বউয়ের তো জোস উঠে গেল। সে আবার বিধর্মী মারার জন্য স্বামীকে টানল। স্বামী ক্লান্ত হলেও আরেকবার করল। কিন্তু বউয়ের তো জোস কমেনি। সে আবার বলল, ”চলেন, আবার কুফফার মারি। এবার আধমরা স্বামী রেগে বলল, ”আরে, হারামজাদী, কুফফার মারতে গিয়ে যদি ’মজিদ’ নিজেই মরে যায় তবে কী করে হবে?” গল্পটা বিশেষ একটা চলমান ইস্যূতে বলা। যাকে বা যাদের বলা, সে বা তারা বুঝবে কিনা জানিনা। বেশি ভালো ভালো না। বেশি ভালো করতে গিয়ে যদি মূলই হারিয়ে যায়, তবে খারাপই কি ভালো না?
৩. প্রতিবেশী ভারতের উত্তর প্রদেশে ফুলনদেবী নামে একজন পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন যিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। তার একটা পূর্ব ইতিহাস ছিল যেখানে তিনি দস্যূ হিসেবে পরিচীত ছিলেন। তার জীবনি পড়ার সুযোগ হয়েছিল। তিনি যখন প্রথমবার অন্যায়ের শিকার হন, গণধর্ষিত হন, তখন তিনি সামাজিক সিমপ্যাথি পেয়েছিলেন। পরেরবার যখন হন তখনও পান। তৃতীয়বার যখন তাকে ’ছোট জাত’ বিবেচনায় আবারো অত্যাচার করা হয় তখন সমাজের লোকেরা সাহায্য করলেও এই প্রথমবার কিছুটা বিভক্ত হয়ে যান যে তার সাথে কেন বারবার এটা হয়। কিন্তু ফুলন যখন একাদিক্রমে এরপর নানা নিগ্রহ’র শিকার হন তখন সমাজের লোকেরা এমনকি তার কাছের মানুষেরাও সাহায্যের জন্য এগিয়েতো আসেনইনি বরং তারা বলতে শুরু করেন, “ফুলনেরই সমস্যা, ওই খারাপ, তা না হলে ওর সাথেই বারবার এমন হয় কেন?” -এইরকম অতি সরলীকরণকে যুক্তিবিদ্যার ভাষায় বলে ‘অবৈধ অনুপপত্তি দোষে দুষ্ট যুক্তি।’ কেতাবী ভাষায় ওটাকেই বলে জেনারেলাইজেশন। জেনারেলাইজেশন একধরনের অসুস্থ ও অন্যায্য চিন্তা। আমরা প্রায়ই ব্যক্তির সম্পর্কে এমন জেনারেলাইজ ধারনা তৈরী করে থাকি যা ঠিক নয়। জেনারেলাইজ করবেন না। প্রতিটি ঘটনা, ইস্যু, ফ্যাক্টকে একক ও ইনডিভিজুয়াল ইস্যু হিসেবে ট্রিট করুন। দতাতে যে কারও অন্যায্যতার শিকার হবার সম্ভাবনা কমে যাবে।
#excessisdangerous #keepingbalance #generalization #assumption #guess #simplification #merginalization #exagiration