ছোট বেলায় আমরা ভাষা শিক্ষার সময়ে উদ্দেশ্য ও বিধেয় নামে বাক্য গঠনের একটি ব্যাকরণ শিখতাম। বাস্তব জীবনে এসে একটি জিনিস উপলব্ধি করলাম। বিধেয়’র পেছনে ছুটতে ছুটতে আমরা অনেক সময় উদ্দেশ্যটাকেই ভুলে যাই। এমনকি উদ্দেশ্য সফল করার জন্য কাজ করতে করতেই আমরা উদ্দেশ্যটাকে ভুলে যাই।
কখনো কখনো উদ্দেশ্য মনে থাকলেও ইনার গোলটাকে ভুলে যাই। আবার লক্ষ্য অর্জিত হয়ে গেলে উদ্দেশ্য কী ছিল-সেটাকে ভুল করে বা ইচ্ছে করে ভুলে যাই। ভুলে যাবার ফলে হতাশা, নিরাশা ও দুঃখবোধে আক্রান্ত হই আর ভুগি।
বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলেই “ফচ করে না” বলে একটা কথা প্রচলিত আছে যার মাধ্যমে ব্যাঙ্গাত্মক বা তাচ্ছিল্যভরে বোঝানো হয় ‘কাজ হবে না’। তো, এক গ্রামে একবার চেয়ারম্যান ইলেকশন। এক প্রার্থী গ্রামের বাজারের চায়ের দোকানে অর্ডার দিয়ে রেখেছে যেই আসবে তাকে তার তরফ হতে ফ্রি লেমোনেড খাওয়াবে। তখনকার দিন দোকানে সোডা ওয়াটার লেমনেড ছিল যেটার বোতল খুললেই ‘ফচচচচচচ’ করে একটা জোরে শব্দ হয়ে ভিতরের তরল উদগীরন হত। তো গ্রামের মানুষ ফ্রি লেমোনেড খেয়ে তো ব্যপক মজা। তার মধ্যে আবার নতুন ঝাঁঝালো স্বাদ।
ওই প্রার্থীর জনপ্রিয়তার পারদ হু হু করে বাড়তে লাগল। গ্রামে নাম ছড়িয়ে গেল, ফচ ক্যান্ডিডেট। তো ইলেকশনে সেই ফচ ক্যান্ডিডেট বিপুল ভোটে জিতলেন, চেয়ারম্যান হলেন। ভোটের পরে একদিন গ্রামের হাটে আবার লোকজন বসেছে। তারা সেই ফচ পানি চাইলেন। দোকানদার তাদের নর্মাল পানির বোতল খুলে দিলেন। লোকজন দেখে এখন আর বোতল খুললে ফচ শব্দ হয় না আর খেতেও তো সেই ইলেকশনের আগের মতো লাগে না।
তারা দোকানদারকে জিজ্ঞেস করল, লেমুনেড ওইরাম কেন লাগে না?
দোকানদার বলল, “দাদা,ইলেকশনের পর আর ফচ করে না।” বাঙালীর অবস্থাও ওরকম। তবু বাঙালী গণতন্ত্র নামক তাবিজ গলায় ধারন করে আর ফচ পানির আশায় থাকে। হা প্লেটো, হা এরিস্টোটল, হা লিংকন।
এক দেশে এক বুড়ি বাস করত। বয়সের ভারে ন্যুজ্ব। তার দেখভাল করার কেউ নেই। শুধু আছে তার স্বামী যে খুব ঝগড়ুটে আর বদমাশ। একবার সেই স্বামীর ভীষন অসুখ। রোগে ভুগতে ভুগতে স্বামীর মানে বুড়ার অবস্থা তো কাহিল। কিন্তু বিপরীতে বুড়ো বয়সে অত্যাচারী স্বামীর রোগ সুশ্রূষা করতে করতে বুড়িরও অবস্থা কেরোসিন। সেও ত্যাক্ত বিরক্ত হয়ে গেল। একদিন বিরক্ত হয়ে সে বলতে শুরু করল, “জম কি এই বাড়ির রাস্তা চেনে না, জম কি এ বাড়ির পথ ভুলেও দেখে না, জম কি আমাকে চোখে দেখে না, আমাকে কি জমের মনে ধরে না” ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো একদিন অমাবস্যার রাতে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে টিপ টিপ বৃষ্টি হচ্ছে। চারপাশ ভীষন ভয়াল। এমন সময় গভীর রাতে জমরাজ তার ভীষন মূর্তি ধারন করে বুড়ির শিয়রে এসে দাড়ালো। যেই বুড়ি এতদিন ত্যাক্তবিরক্ত হয়ে জমকে ডাকত, জমের ভয়াল রূপ দর্শন করে তার মরার সাধ উবে গেল নিমেষে। জম জিজ্ঞেস করল, “ওই বুড়ি, আমাকে কেন ডেকেছ?” বুড়ি তখন কাদো কাদো করে বলতে লাগল, “বাবাজি, আপনি বাড়ি ঠিকঠাক মতো চিনলেও খাট চিনতে ভুল হয়েছে। আপনার টার্গেট ওই পাশের খাটে শুয়ে (মানে তার স্বামীর খাট)।
আরেকবার এক দেশে এক থুত্থুরে বুড়ি একা একা থাকত। তার জীবন তাকে নিজেকেই চালাতে হত। বুড়ো বয়সে কষ্ট করে তার জীবন কয়লা। তার উপর রোজ জঙ্গল হতে লাকড়ি কুড়িয়ে আনতে হত। তো জীবনের উপর ত্যাক্ত বিরক্ত সেই বুড়ি একদিন জঙ্গলে গিয়ে বহু কষ্টে কাঠ জোগাড় করে তারপর আঁটি বেঁধে বাড়ি রওনা হল। পরিশ্রমে তার জান বেরোবার জোগাড়। তার উপর ভারি কাঠের বোঝা। পথে আসতে আসতে সে বিরক্ত হয়ে পথের মধ্যে লাকড়ির বোঝাটা নামিয়ে রেখে চিল চিৎকার জুড়ল, “হায় কপাল, জম কি মরছে, জম কি আমারে চোখে দেখে না, জম কোথায়, জম আসে না কেন, আমাকে জমেও চোখে দেখে না” ইত্যাদি ইত্যাদি।
বলতে বলতে হঠাৎ জমরাজ তার সামনে হাজির। যে বুড়ি এতক্ষণ জমরাজকে জপেছে মানে মৃত্যু কামনা করেছে জমের ভীমদর্শন চেহারা দেখে তার মরার সাধ ঘুঁচে গেল। সে জমরাজকে ডেকে বলল, “ না, মানে জমরাজ, তোমাকে ডেকেছিলাম আমার লাকড়ির বোঝাটা বয়ে বাড়ি নিয়ে দিতে।”
বলেছিলাম কোনো মোরাল বলব না। তবু বলার খাসলৎ বদলাতে পারলাম না। বহু মানুষ আছে বিশেষত হাল জামানার আদরে মাথায় ওঠা পোলাপান। প্রায়ই এদের দেখি ফেবুতে নানান আহলাদী পোষ্ট “আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না” টাইপ। তারা ভেবে দেখতে পারেন।
ধরুন, ক্যারিয়ারে গ্রোথ ও সাইটেইনেবিলিটির জন্য আমাদের নেটওয়ার্কিং দরকার। কিন্তু যদি এমন হয়, নেটওয়ার্কিং করতে করতে করতে আমরা একসময় ভুলেই গেলাম, যে, এটা তো আমার দরকার পড়েছিল ক্যারিয়ারের জন্য।
ওই নেটওয়ার্কের মধ্যে এতই ডুবে গেলাম, যে, ক্যারিয়ারের বারোটা বাজল? অথবা, ধরুন, ক্যারিয়ারটা দরকার ছিল সুন্দর জীবনের জন্য। সেই জীবনটাই কমপ্রোমাইজ করে বসলাম নেটওয়ার্কিং করতে করতে?
যেমন ধরুন চাকরির লক্ষ্য ঠিক করা। আপনাকে আগে ঠিক করতে হবে, যে, আপনি-
১. মুল্টিন্যাশনাল (Multinational), নাকি
২. শান্তিন্যাশনাল (Peace), নাকি
৩. পাত্তিন্যাশনাল (Money) এ জব করতে চান।
একটার আশায় জবে ঢুকে তারপর সেটি পাওয়া ও এনজয় করা হয়ে গেলে তখন যদি অন্যটার অভাব অনুভব করা শুরু করেন আর পুড়তে থাকেন, আপনার অশান্তি কখনো দূর হবে না। নদীর এপাড় ওপাড় তত্ব তো আছেই।
সেই সাথে মনে রাখতে হবে, কিছু পেতে গেলে কিছু হারাতে হয়। আবার, কিছু হারালে কিছু পাওয়া যায়। কিছু একটা পেলে আবার সেটির ডিফল্ট কামড়ও সহ্য করতে হয়।
একবার এক কর্মস্থলে, বাথরুমে যাচ্ছিলাম, টয়লেটের দরোজায় একজন সিনিয়র আমাকে থামিয়ে বললেন, কী রে ভাই, আমার লোকজন চলে যাচ্ছে, লোক দেন না কেন? আমি বললাম, লোক চান, দিয়ে দেব। তিনি বললেন, আমাদের চাইতে হবে কেন? আপনেরা এইছার, আপনেরা গবেষণা কইরা দেখবেন, কার, কোথায়, কী লাগবে; সেই মতো দিয়ে দেবেন।
আমি বললাম, ভাই, যমদূতকে দাওয়াত দিয়ে ঘরে আনবেন না। আমরা এইছার যদি সত্যিই আমাদের সিরিয়াস গবেষনা শুরুই করি, তাহলে এই অফিসের অর্ধেক লোক ছাঁটাই করতে হবে। তার চেয়ে যেমন চলছে, সেটাতে খুশি থাকুন, লোকজন দুটো করে কুলিয়ে খাচ্ছে, খেতে দিন। ওই লোক বেহুশ।
প্রায়ই লোকজন বলে, মুল্টিন্যাশনালে এটা দেয়, ওটা করে, অমুকটা দারুন, তমুকটা সুপার। কিন্তু এটা মানবে না, যে, তিনি নিজে ’মুল্টিন্যাশনালে’ জব করবার যোগ্যতা ধারন করেন কিনা। আমরা সবাই স্বপ্ন দেখি, একদিন ‘মুল্টিন্যাশনালে’ জব করব। যেখানে আছি, সেখানে সুখ পাই না। অতৃপ্তি ভর করে। ইশশশশ, যদি আমাদের এখানে ’মুল্টিন্যাশনালের’ মতো এটা হত, ওটা ঘটত, সেটা দিত, অমুকটা পারত! ইশশশশশ!
গোল বাধে তখন, যখন ’মুল্টিন্যাশনালের’ কাঙ্খিত যোগ্যতা ওই কর্মীর মধ্যে আছে কিনা-সেটার খোঁজ পড়ে। একবার একজনকে বলেছিলাম, “ভাই, যা আছে, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন, আর যতটা পারেন, তাকে আরেকটু ভাল করবার চেষ্টা করুন। বেশি ‘মুল্টিন্যাশনাল’ ভাইব চাইয়্যান না। চিন্তা করে দেখুন, কোম্পানী মুল্টিন্যাশনাল হলে কর্মীও তো মুল্টির উপযুক্ত হতে হবে। কোম্পানী মুল্টিন্যাশনাল হয়ে গেলে আপনার যোগ্যতা যা, তাতে সবার আগে আপনি কাটা পড়বেন।”
গণহারে মুল্টিন্যাশনালে, কিংকংলোমারেটে, সুনামধন্যে লাফ দেবার আগে একটু ভেবে, চিন্তে, দেখে, শুনে নিয়েন। এই সেদিনই এক ভদ্রলোক বলছিলেন, তিনি ’সুনামধন্য’ এক কিংকংলোমারেটে জয়েন করেছিলেন, ’হেডপেইচার’ হিসেবে। তাকে কয়েকদিন পরে, প্রোডাকশন, অপারেশন, কোয়ালিটি, সেলস, ফান্ডিং-সব ফলোআপ করবার দায়ীত্ব চাপিয়ে দিয়েছে।
এক লোক বিধবা অথচ রূপসী এক মহিলাকে তার সাবেক স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদের আশায় বিয়ে করল। সেতো ব্যপক খুশি। রূপ আর টাকা-এক ঢিলে।তবে বিয়ের পর দেখে মহিলা তার অসামান্য রূপ আর সম্পদ যেমন নিয়ে এসেছে তেমনি ১১ বছরের অস্বস্তিকর বয়সের একটা ছেলেও সাথে নিয়ে এসেছে। কি আর করা। ধন আর রূপ পেতে গেলে এটাও বাই প্রোডাক্ট হিসেবে হজম করতেই হবে। যা কিছুই করেন, তার মাকসুদ হয়তো পুরণ হবে তবে একইসাথে তার বাইপ্রোডাক্টও আপনাকে হজম করতে হবে।
সম্ভবত সিফফিন যুদ্ধের ঘটনা। একলোককে ধরে নিয়ে আসা হল হযরত মুয়াবিয়া (রা.) এর কাছে।
অভিযোগ, লোকটা শুধু খাবার সময়, শোবার সময় হলে মুয়াবিয়ার শিবিরে আসে। কিন্তু নামাজের সময় হলে সে হযরত আলী (রা.) এর শিবিরে চলে যায়। মুয়াবিয়া লোকটাকে কারন জিজ্ঞাসা করাতে সে বলল, “আপনার এখানে খাওয়াটা আর বিশ্রামের ব্যবস্থাটা ভাল তাই এখানে খাই, শুই। কিন্তু হযরত আলী (রা.) এর নামাজ আপনার থেকে ভাল তাই ওনার পেছনে নামাজ পড়ি।” গল্প শেষ।
আমাকে কেউ কেউ বলেন, তুমি ঠিক পুরুষদের মতো না, কেমন ম্যানতা ম্যানতা। ”পুরুষ” হবে পুরুষের মতো। তো আমার একজন পরিচিত মহা পরাক্রমশালী পুরুষ আছেন। তিনি প্রায়শই তার স্ত্রীকে কিভাবে চাপে রাখেন, কিভাবে ভয়ে রাখেন, কিভাবে সারাক্ষণ দৌড়ের উপর রাখেন তার গল্প বলেন তাড়িয়ে তাড়িয়ে। আর স্ত্রীকে শাসনে রেখে তিনি কিভাবে ”পুরূষ” হলেন তার রসালো গল্প বলে বিমল আনন্দ উপভোগ করেন। আমাকে উপদেশ দেন, “বিদ্যুৎ সাব, বউকে বুঝলেন, সবসময় টাইটে রাখবেন। ”মেয়ে মানুষ” টাইট দিলে ভাল থাকে।” তো সেই পরাক্রমশালী ”পুরুষ” তার পুরুষালি কর্তৃত্বে মহাখুশি। পৌরুষত্ব বজায় রাখতে পেরে তিনি খুবই গর্বিত। তার পরাক্রমশালী পৌরুষত্ব দেখে আমিও মাঝে মাঝে ইর্ষায় পুড়ি।
মুশকিল হয়েছে অন্যখানে। ঘটনাক্রমে একদিন জানা গেছে, সেই পরাক্রমশালী ”পুরুষ” সাহেবের টাইটে থাকা স্ত্রী তার অফিস যাবার ও আসার মাঝের সময়টায় নিজের ”মেয়ে” মানুষত্ব বেশ ভালভাবে নানাভাবে নানাস্থানে উপভোগ করেন। মানে? ওই যে ওই আরকি?
আরেকদিন আমার গিন্নিকে নিয়ে শীতের সকালে গেছি নদীর পাড়ের এক বাজারে। শীতে দু’জনেই জবুথবু হয়ে জিনিসপত্র দেখছি। আসলে বউ সদায়পাতি করছে আর আমি নদীর ছবি তুলছি। পাশেই একজন “পুরুষ” বিছানার চাদর গায়ে জড়ানো অবস্থায় এক দোকানীর কাছ হতে ঢেরশ কিনছে। একটা একটা ঢেড়শ টিপে টিপে কচি কিনা তা পরখ করে তিনি আধাকিলো ঢেড়স কিনে গৃহে প্রত্যাগমন করলেন। আমার স্ত্রী আমায় নিয়ে পড়লেন। “তুমি এমন করে ”পুরুষের” মতো বাজার করতে পার না? তুমি দেখে বুঝে কিনতে পারলে তো আমার কষ্টটা কমত।”
তো আমি আমার বউরে বললাম, দেখ যেসব ”পুরুষ” মানুষ একটা একটা ঢেড়ষের বোটা টিপে, লেজা চিপে কচি ঢেড়ষ কিনতে পারে তারা পুরুষ হিসেবে খুবই কাবেল কোনো সন্দেহ নেই তবে মানুষ হিসেবে তারা অত্যন্ত কুচুটে টাইপের হয়। তো তুমি যদি অমন ঢেড়ষ এক্সপার্ট ”পুরুষ” স্বামী চাও তাহলে কুচুটে স্বামীও মেনে নিতে হবে।” আমার স্ত্রী আমাকে তাড়া লাগায় “রিক্সা ডাকো”।
বেশি বেশি ”পুরুষ” হতে চাইলে হতে পারেন। তবে আপনি ”পুরুষ” হতে চাইলে মহিলাও তো ”মেয়ে” হতে চাইবেন তাই না?
আমরা অনেকেই আফসোস করি আমাদের অফিসে এটা নেই, ওটা নেই, এটা এরকম ওটা ওরকম অথচ অমুক অমুক কোম্পানিতে ওটা ওরকম, এটা এরকম। এটা দেয়, ওটা করে। হ্যা, অন্যের অনেক কিছুই থাকতে পারে আর ভালটা অনুকরন করতে হবে সেটাও ঠিক। তবে তার সাথে আরেকটু কথাও ভাবতে হবে।
বলতে পারেন অন্যের ভালটাইতো ফলো করা উচিৎ তাই না? হ্যা অবশ্যই। সেক্ষেত্রে আমাদেরও তো কর্মী হিসেবে তাদের সুখী কর্মীদের সব কিছুই আমাদের মধ্যে থাকা উচিৎ, তাই না? সবকিছু্রই সাদা/কালো, আলো/আঁধার দিক আছে। সাদা দিকটা পেতে চাইলে কালোটাও মেনে নিতে হবে।
অমুক কোম্পানির তমুক সুবিধা আমার যেমন চাই তেমনি তমুক কোম্পানির অমুক অসুবিধাও আমায় খুশি মনে মেনে নিতে হবে। খাব মুয়াবিয়ার শিবিরে আর ঘুমাব আলী’র শিবিরে-সেটাকি হয়?
তাই, যে ’ন্যাশনাল’ জব আপনার চাই, সেটির এনজয়মেন্ট ও বাইট-দুটোই আপনাকে মানতে হবে। জব করবেন ’মুল্টিন্যাশনাল’, আবার পাড়ার গলির দোকানের চাকরির সুবিধাও আশা করবেন-এরকম দুই নৌকায় পা দিলে পা’টাই শুধু চিরে যাবে।
ইটটা মারলে পাটকেলটা খেতে হয়-এটা কি এই যুগে খাটে?
এসপি সাহেবের বাসার নাইট গার্ডকে তিনি একদিন জিজ্ঞেস করলেন,
”কিরে ব্যাটা খবর কী? কেমন যাচ্ছে দিনকাল?”
নাইট গার্ড তাচ্ছিল্য ও হতাশার চূড়ান্ত দেখিয়ে এসপি সাহেবকে বলল, “স্যার, আমাদের আর থাকা না থাকা। আমাদের আবার একটা জীবন! রাতে ঘুমাতে পারিনা ডিউটির জন্য। দিনে ঘুমাইতে পারিনা মশার কামড়ে। আপনারা যখন রাতে আরাম করে ঘুমান আমি তখন ঘুমে পাগল হলেও ঘুমাতে পারিনা।
আপনারা যখন শীতে লেপের তলায় আরাম করেন আমি তখন শীতে ঠকঠক করে ডিউটি করি। আমাদের কি আর কোনো আরাম আছে। খোদার এ কেমন ইচ্ছা!
(এতটুকু শুনে আপনার মনে হতে পারে সত্যিইতো! বেচারাদের কত কষ্ট। এসপি সাহেব কত আরামে অথচ তার নাইট গার্ড কত কষ্ট করে। বাকি গল্পটা শুনুন। তারপর আপনার দৃষ্টিভঙ্গি এক থাকে কিনা দেখুন।)
এসপি সাহেব সব শুনে বললেন, সবতো বুঝলাম। তোমার জন্য আমার পূর্ন সহানুভুতি থাকল। তবে কি জানো? হিসাবটা তোমার মনের মতো তো হবে না।
কারণ তোমারও কিছুটা দায় আছে এই অবস্থার পেছনে। দেখো, তোমার আর আমার বয়স প্রায় কাছাকাছি। আমার যখন স্কুলে যাবার বয়স তখন আমার বাবা তার সামর্থ্যের সবটুুকু দিয়ে যখন আমার বই, কাগজ কলম কিনতেন তখন তুমি সেই বই কাগজ কেনার টাকায় লুকিয়ে সিনেমা দেখে বেড়াতে।আমি যখন রাতের ঘুম হারাম করে ঢুলে ঢুলে পড়া মুখস্ত করতাম তুমি তখন অকাতরে নাক ডাকিয়ে ঘুমাতে।
আমি যখন শীতের রাতে পরীক্ষার জন্য ঠকঠক করে কেপে কেপে পড়া তৈরী করতাম।তুমি যখন মাঠে মনের আনন্দে ডাঙ্গুলী খেলে বেড়াতে তখন আমি ক্লাসরুমে স্যারদের বোরিং লেকচার শুনতাম আর তোমার সুখে দেখে কষ্ট পেতাম। সুুতরাং আজ যে আমি এতকিছুর পর আরামে আছি আর তার বিপরীতে তুমি সব আরামের বিনিময়ে আজ কষ্ট করছ-সেটাইতো ন্যাচারাল তাই না?
জীবনকে সহজ, সুন্দর, সরল, ঝামেলা ও চাপমুক্ত করতে, নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে, সুখী হতে আর সফল হতে হলে আপনাকে সবসময় নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করতে হবে আর তার উত্তরটি নিজের কাছে প্রস্তুত রাখতে হবে-
১. তুমি নিজেকে জিজ্ঞেস করো, তুমি সত্যিই আসলে কী চাও?
২. তুমি যা চাও, সেটি কেন চাও?
৩. তুমি যা চাও, সেটিকে কীভাবে পেতে চাও?
কী? কেন? কীভাবে?- এই প্রশ্নই আপনাকে চালায়। এই ধরুন, মানুষ পেট খাবারে ভরাতে পথ হাঁটে, আবার কেউ ভক্ষনকৃত খাবার হজম করতে দীর্ঘ পথ হাঁটে।
কোনটা ইনার গোল?
তো, আপনি কি আপনার কাজের, পরিকল্পনার, কথার ইনার গোল ডিফাইন/ডিজাইন/ডিটেক্ট/ডেসক্রাইব/ডেপিক্ট করতে পারেন?
দু-তিন দিন আগে এক ভদ্রলোক ঘরোয়া আলাপে বলছিলেন, যত সুন্দর সুন্দর কথাই বলো না কেন, মানুষের বিয়ে করবার কোর ও ইনার গোল একটাই-…………………..।
Can you connect the DOTS? নাকি আপনার জীবনটা কেবলই ডটেড (!)?
ভাল কথা, আপনার জীবনের আলটিমেট, কোর ও ইনার গোল কোনটি-সফলতা? নাকি স্বার্থকতা?
নাকি কেবলই-কামানা, পাকানা, খা-না, পাখানা?
খাবার শেষে কোষ্ঠ খালি করতে হাগা, নাকি হেগে কোষ্ঠ খালি হওয়ায় তারপর সেটা ভরার জন্য খাওয়া-কোনটা আসল কাজ?
#aim #innergoal #coreobjective #innerdesire #titfortat #return #nightguard ##judgementalattitude #CognitiveBias #ConfirmationBias #inferioritycomplex #SuperiorityComplex #SupremacySyndrome #byproduct #correlate #coopt #inheritence #professionalism #feedback #equivocal #ambiguous #democracy #election #public #oldlady #deceit