Skip to content

যেকোনো চাকরি করো: আত্ম-উন্নয়ন করো

  • by

যতদিন তক প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস ও অনুধাবন করতে সক্ষম না হবে, যে, তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রত্যাশিত কনসার্ন হল, তার কর্মীরা তার এখানে চাকরির মধ্য দিয়ে Fulfilled, Accomplished হচ্ছে কিনা;

ততদিন তক তার যাবতীয় CSR, ও সুন্দর সুন্দর কাজ সবই জলে ঢালা হবে।

Have you/me or he, ever even tried to feel, how a life your/our/his people are leading?

এবারের ইদের ছুটিতে উত্তরা হতে মিরপুরে আসার জন্য একটি বাসে বেশ কিছুটা পথ আমি এলাম। সেই বাসে আসতে আসতে এই কনটেন্ট ও কনটেক্সটটি নিয়ে কথা বলবার কথা মাথায় আসে আমার।

আমাদের দেশের চাকরি ভিত্তিক ক্যারিয়ার আসলে প্রচন্ড রকম ঢাকা কেন্দ্রীক। ঢাকার বাইরে ক্যারিয়ার স্টেক সংখ্যার বিচারে বলব ১০% ও হয়তো না। তো, এই শহরে একজন চাকরিজীবি বড় রকম কোনো হেরফের না হলে সকাল ৭ টা হতে রাত ৯ টা তক অফিস করা ও অফিসে যাতায়াত সংক্রান্ত বিষয়ে খরচ করেন। এভাবে সপ্তাহে অন্তত ৬ দিন। হঠাৎ হঠাৎ উইকএন্ডেও হানা দেয় অফিস।

তো, প্রতিদিন মিনিমাম ১২-১৩ ঘন্টা অফিসের পেছনে ডেডিকেটেডলি ব্যয় করে, সেই শ্রমের ধাক্কা সামলে, অফিসে যাওয়া ও আসার জন্য অ্যাভেলেবল যে যানবাহন, সেগুলোর ভয়াবহ অবস্থা, আর তাতে মুরগীর ট্রাকের মতো করে আসা-যাওয়া করার ফলে অফিসগামীদের শারিরীক ও মানসিক বিদ্ধস্ততা, রাস্তার অসম্ভভ রকম স্ট্রেস (চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাথায় ইট খসে পড়া হতে মলম পার্টির ছোবল বাঁচিয়ে চলবার চাপ), বসদের কুৎসিত রকম ট্রিটমেন্ট, অফিসের পলিটিকস সামলে বাঁচবার চাপ, আবার, এত কিছু করে হাতে আসা অতি সামান্য টাকার চেয়ে অনেক বেশি মান্থলি খরচের সাথে যুঝবার জ্বালা ও তরিকা-এই এত এত কিছু সামলে একজন চাকরিজীবি আত্ম-উন্নয়নে সময়, টাকা ও মানসিক অবস্থা কোথায় পাবেন-সেই প্রশ্ন আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।

ঢাকার ওই বাসের সিটে বসে বসে আমি ভাবছিলাম, এই বাসে যারা প্রতিদিন যাতায়াত করেন, তাদেরকে আত্ম-উন্নয়নের জন্য কিছু বলাটাই পাপ। তাকে আরেকবার খুব করবার শামিল সেটা।

আমরা প্রায়ই চাকরিপ্রার্থী, বিশেষত নবাগতদেরকে ছবক দিয়ে থাকি, যেকোনো ধরনের কোম্পানীতে, যে কোনো ধরনের চাকরি পেলেই ঢুকে পড়তে। আমরা প্রতিনিয়তই অসংখ্য বার অভিযোগ করি, নবাগত বা নবীনদের এই দোষ, সেই দোষ, এরা দুইদিন পরেই উড়াল দেয়, এরা দামী চাকরি চেয়ে অন্যায় করে, এরা চাকরি দিলে বিট্রে করে-ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি নিজেও বলি, নিজেও তাদের অনেক অসংগতির সাক্ষি।

কিন্তু আজকে আমি একটি বিপরীত দিক নিয়ে বলব। আমাকে একজন অচেনা যুবক ও নবীন চাকরিজীবি ব্যক্তিগত একটি বার্তা পাঠিয়েছেন মেসেঞ্জারে। আগে বার্তাটি পড়ে দেখুন। ওনার অনুমতি সাপেক্ষে কিছুটা এডিট করে এখানে দিলাম। এইসব বার্তা পড়লে আমার মনে চায়, মাটিতে লুকাই। মানুষকে যে আমরা ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, দায়বদ্ধতা, সংগ্রামী চেতনার সবক দেব, কোন মুখে আসলে দেব? বার্তাটা পড়বেন। 

[”স্যার আজ আমি আপনাকে আমার জীবনের প্রথম চাকরি সম্পর্কে বলব। আমি Engineering শেষ করে ঢাকায় চলে আসি, চাকরি খুঁজতে থাকি, কয়েকটা ইন্টারভিউও দিই। সবাই বলে যে, কি কাজ পারেন, আমি বলি ফ্রেশ। এভাবে সবখান থেকে, ফিরে আসি। চাকরি আর হয় না। অনেক কষ্টে একটা কোম্পানিতে support engineer পদে জয়েন করি …………. সালে …………. টাকা বেতনে (। কোম্পানি থেকে বলছিল, ৩ মাস পর ৮,০০০ করে দেবে আর ৪ বছর চাকরি করতে হবে, আর প্রতি বছর ১,০০০ টাকা করে বেতন বাড়বে। আমি সব কিছু মেনেই জয়েন করি জীবনের প্রথম চাকরিতে।

তবে চাকরিতে যোগদান করার কোন জয়েনিং লেটার, ID কিছুই দেয় নাই। শুধু হাজিরা খাতায় নামটা আছে। যোগদান করার ৬মাস পর ও যখন ১,০০০ টাকা বাড়াচ্ছে না তখন মালিকের কাছে গেলাম বেতন বাড়ানোর জন্য। অনেক বকাবকি, চিল্লাচিল্লি করল, আর তারপর ১,০০০ টাকা বাড়লো। এভাবেই চাকরি চলতে থাকলো। চাকরিতে যোগদানের ……….বছর পর অফিসের কাজে গিয়ে ………….. থেকে পরে গিয়ে একটা হাত ভেঙে যায়। অফিস থেকে আমার চলমান মাসের বেতন দেয় কিন্তু আমার চিকিৎসার জন্য কোন টাকা দেয় না। ২ মাস পর হাত ভাল হয় আবার যোগদান করি, চাকরি চলতে থাকে।

আজ ……….বছর হয়ে যাচ্ছে ওই …………….টাকাই বেতন আছে (সংখ্যাটি ৭-৮), এক টাকাও বাড়ে নাই ………. বছর এ (সংখ্যাটি ৪ এর কাছাকাছি)। চাকরি চলাকালীন Bsc Engineering শেষ করে ফেলি। তবে এখান এ চাকরি করে Bsc Engineering শেষ করার সুযোগ পেয়েছি। চাকরি চলাকালীন ১ বছর পর আমি আর একটা কোম্পানি থেকে অফার পেয়েছিলাম, এখানকার চেয়ে ২গুন বেশি  বেতনে কিন্তু যোগদান করি নাই। এখানে কথা দেয়ার কারনে।

স্যার এখন আমার কি করা উচিৎ, আশা করি কিছু পরামর্শ দিবেন যাতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি “]

হ্যা, দুই পক্ষের কথা না শুনে আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে আমি আমার সম্মানিত কর্পোরেট সহযাত্রীদের এতটুকু অনুরোধ করব, দৃশ্যের বিপরীতের এই চিত্রটাও মনে রাখতে। এই দেশ একটি পঁচে যাওয়া ব্যবস্থার খিচুড়ি হয়ে গেছে। তাই এখন আর কাউকেই কোনো অসঙ্গতির জন্য এককভাবে দায়ী করা ভুল হবে।

আজকে নিজেদের কাজের, উপদেশের বিপরীতে বাস্তবতার একটু খোঁজ নিই। নিজেদের একটু সমালোচনা করি।

এক;

নিজেদের নানা লেখায় আমরা প্রায়ই নবীণ বা কনিষ্ঠ্যদের উপদেশ দিয়ে থাকি, যাতে তারা প্র্রথম সুযোগেই ”যেকোনো রকম” একটি চাকরিতে ঢুকে পড়েন। সেখানে সংগ্রাম করে টিকে যান আর আস্তে আস্তে কর্মজীবন গুছিয়ে নেন। কিন্তু জানেন কি, বাংলাদেশে খুব সীমিত কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া, প্রান্তিক পর্যায়ের ওইসব “যেকোনো রকম” প্রতিষ্ঠান আসলে এক একটি জল্লাদখানা বা দোযখ? না জানলে আশপাশের দুয়েকজন কনিষ্ঠ্যকে জিজ্ঞেস করুন।

দুই;

যেকোনো রকম কাজে ঢুকে পড়ে একটু ঠাঁই নিয়ে তারপর যা করার করবেন-এমন উপদেশতো আমরা দিয়েই থাকি। গতকাল আমার স্ত্রী আমাকে বলেছেন, তার পরিচীত একটি বিশাল ফ্যাশন-বুটিক প্রতিষ্ঠানের সেলস গার্লের বেতন ৫০০০ টাকা। ডিউটি ১২ ঘন্টা। ঠায় দাড়িয়ে। মানুষকে শুধুমাত্র গলায় ছুড়ি ধরলেই এই চাকরি করা সম্ভব। ওই টাকায় সে খাবে কী আর পরবে কী? পায়ের মলম কিনতেই তো শেষ।

তিন;

কনিষ্ঠ্য ও নবীণদের যোগ্যতা বাড়াতে ও প্রশিক্ষণ নিতে আমরা প্রায়ই বলি। কিন্তু ঢাকাসহ গোটা দেশে গ্যারেজের পাশে, চায়ের দোকানের পাশে, কারখানার ওপরে, টীনের ছাপড়া, সিনেমা হলের চিপায়, পল্টনের চোরাগলিতে, বহুতল মার্কেটের চোরাগোপ্তা দোকান সাইজ প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার লাখ লাখ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তার সাথে আছে বিভিন্ন ভুঁইফোড় সমিতির প্রতিমাসে/সপ্তাহে নানা প্রশিক্ষণ, যার বড় অংশই প্রশিক্ষণের কোনো মানই রাখে না। স্রেফ ব্রান্ডিং এর জন্য করা। সত্যিকারের মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ প্রচন্ড খরুচে। তার বাইরে থাকে অনলাইন পড়াশোনা। তো? প্রশিক্ষিত হবে কী করে মানুষ?

চার;

গ্রাজুয়েশনটা অন্তত ভালভাবে শেষ করতে আমরা উপদেশ তো দিই। কিন্তু দেশে ব্যাঙের ছাতার চেয়েও বেশি পরিমাণে গজিয়ে ওঠা ইন্সটিটিউটতো আছেই, তার সাথে আরো গন্ডা গন্ডা ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয়। সাথে দেশের অসংখ্য কলেজ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ও কম যায় না। ওগুলোতে ঠিক কী মানের পড়াশোনা ও শিক্ষণ আজকাল আছে, সেই খবর আমরা সেই ১৯৫৩ সালে পড়াশোনা করা বসরা জানি কি? না জানলে জানুন। ওগুলোতে কী হচ্ছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে গেছে, যে, ৪ বছরের প্রকৌশল বিদ্যা পড়ার পরেও তার নিজের সাবজেক্টের নামটা সঠিকভাবে বানান করতে পারে না। জানি, শিক্ষার্থীদের করার আছে তবু অনেক কিছু। কিন্তু একাডেমির কি কোনো দায় নেই?

পাঁচ;

মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের কথাতো আমরা উপদেশে বলি। মানসম্পন্ন শিক্ষক কি আজকাল কোথাও বেঁচে আছেন? কোনোমতে? ঠান্ডা মাথায় বুকে হাত দিয়ে বলি তো, দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও দক্ষ লোকগুলো কি শিক্ষক হয় আজকাল? মেধাবীদের লালন করার মতো কোনো পরিবেশ, প্রাপ্তি, সম্মান কি শিক্ষাক্ষেত্র আর দিতে পারছে? যদি না হয়ে থাকে, তবে কারা শিক্ষকতা পেশায় যান? একাডেমির সবচেয়ে শেষ সারির, যার আর কোনো চাকরির আশা নেই, তারা তো থাকে, নাকি? তাদের দিয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিতে চাচ্ছি। সেটা কি সম্ভব? [এরপরও যেসব মহানুভব মেধাবীরা শিক্ষকতায় আছেন, তাদেরকে আমার সশ্রদ্ধ সম্মান।]

আরো হাজারটা কথা বলতে ইচ্ছে করছে। আমি নিজেও উপদেশ দিই জানি। কী করব বলুন। আমি বা আমার মতো যারা কর্পোরেটে বসে আছি, লোক নিয়োগ করার কাজ করি, তারা তো জানি, কীভাবে আমরা একটি দক্ষ ও উপযুক্ত লোকের অভাবে ভুগি। কীভাবে হতাশ হতে হয় পদে পদে। কিন্তু বিপরীত দিকে দেশে আসলে যে সার্বিক পরিস্থিতি, তাতে চাকরির বাজারের উমেদারদেরই কি পুরোটা দোষ দেয়া যায়? যায় না।

তারা, আমরা আসলে সবাই এক বিশাল ব্ল্যাকহোলে ডুবে যাচ্ছি। অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং শিক্ষাবানিজ্য+কোচিং বানিজ্যের এক ভুলভুলাইয়াতে আমরা চাকরিপ্রদেতা ও চাকরিপ্রার্থী-সবাই আটকে আছি।

তারপরও, হ্যা, এতকিছুর পরও আমি চাকরিজীবিদের অনুরোধ করব, আত্ম-উন্নয়ন করতে। রি-স্কিলিং, আপ-স্কিলিং করতে। ধারাবাহিকভাবে, নিয়ম করে, ‍রুটীন ধরে। অন্যথায় আপনি পিছিযে পড়বেন। আর হ্যা, প্রতিষ্ঠানকেও বলবে, বাজার হতে রেডি প্রডাক্ট আর তেমন পাবেন না। সেটা মেনে নিয়ে ঘরের ভেতরে প্রডাক্টকে রেডি করে নেবার আয়োজন বাড়ান। ট্রেনিং ও লারনিংয়ে খরচ করাকে ইনভেস্টমেন্ট ভাবুন। লারনিংয়ে সময়, অর্থ ও এফার্ট খরচকে একটা বাধ্যতামূলক বিজনেস ভেঞ্চার ভাবুন। সেই সাথে, কর্মীরা যাতে নিজের উদ্যোগেও আত্ম-উন্নয়ন করতে পারে-সেই স্কোপও তৈরী করুন।

#personalgain #goodorganization #PersonalDevelopment #SelfDevelopment #ReciprocalInterest #MutualInterest #UpskillingReskilling #ViceVersa #BigCompanySmallCompany

পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট এবং অরগানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট একটি রিসিপ্রোকাল বা মিউচুয়াল ইন্টারেস্টের বিষয়, মিউচুয়াল ইনভেস্টমেন্টের বিষয়। যা অনেক সময় আমরা অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই। ফলে ব্যক্তি মনে করে, প্রতিষ্ঠানের ভাল হলে আমার কী লাভ। আবার, প্রতিষ্ঠান ভাবে, মানুষজন গ্রুম করলে তো তারা ভাল জব নিয়ে চলে যাবে, আমার কী লাভ? 

আচ্ছা, ধরুন, আপনার নিয়োগ করা, বা, আপনার বেতনে পোষা একজন বা অনেকজন কর্মী যদি আপনার, অথবা নিজের পয়সায়, সময়ে, এনার্জিতে ও রিসোর্সে আপস্কিলিং, রিস্কিলিং, পারসোনাল ব্র্যান্ডিং, পাবলিসিটি, প্রমোশনাল কাজ করে, তাতে কি আপনার মন খারাপ হওয়া উচিত? কেন দেবেন আপনার পয়সায় তার সুনাম বাড়াবার সুযোগ? বা, ব্যক্তিই বা কেন নিজের খেয়ে কোম্পানীর নাম বাড়াবেন? উত্তরটা পুরোটা পড়লে কিছুটা পেয়ে যাবেন।

পেশাজীবি জগতে একটি ডাইলেমা আছে, সেটা হল, একজন বুদ্ধিমান ও চুজি পেশাজীবির কী করা উচিত-সবসময় বিখ্যাত ও ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়া? নাকি অখ্যাত ও পশ্চাৎপদ প্রতিষ্ঠানে জব নেয়া? কোনটাতে তার লাভ বেশি?

আমি বলি, বিষয়টা আপেক্ষিক ও কমপারেটিভ চয়েজের বিষয়।

জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কাজ করলে আপনার ও প্রতিষ্ঠানের সুনিশ্চিতভাবেই অনেক পারস্পরিক প্রাপ্তি আছে। বড় প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ভ্যালুর ট্যাগ আপনার গায়ে লাগবে। তাদের কালচার আপনাকে উন্নত করবে। আপনার কনফিডেন্স বাড়বে। বাজার দরতো বাড়বেই।

তবে, তুলনামূলক পছন্দ তত্ব অনুযায়ী, তুলনামূলকভাবে লো-প্রোফাইল বা অখ্যাত কিংবা ছোট প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কিছু ভাল দিকও আছে। তার একটা হল কাজ ও এক্সপিরিমেন্টের অবারিত সুযোগ।

পেশাগত বহু বিষয় আপনি ছোট বা অখ্যাত প্রতিষ্ঠানে ইনিশিয়েট, এক্সপিরিমেন্ট ও এক্সপিরিয়েন্স করার সুযোগ পাবেন-যা বড়, বিখ্যাত ও জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কখনো পাবেন না। কারন, ওখানে আগে হতেই অনেক অ্যাডভান্সড কালচার ও সিস্টেম। ফলে নতুনত্ব কম, চ্যালেঞ্জ কম, বিশাল কমিউনেকেশন চ্যানেল যাতে হারিয়ে যেতে হয়, ব্যুরোক্রেটিক কালচার বেশি, এক্সপিরিমেন্টের স্কোপ কম, লাইফ কিছুটা বাড়তি কমফোর্টেবল বাট মনোটোনাস; মনোটোনি অব হ্যাপিনেস বলা যায়।

অথচ, ছোট ও পশ্চাৎপদ প্রতিষ্ঠানে হাজারটা চ্যালেঞ্জ, অসংখ্য এক্সপিরিমেন্ট করবার সুযোগ, সহজ যোগাযোগ চ্যানেল, ডিরেক্ট ডিসিশন, টারগেট বিশাল, লট অব থিংগস টু ডু। মানে নিজেকে রিচ করবার অনেক চান্স।

তবে হ্যা, আপনার সারাউন্ডিং এবং পিয়ার কোয়ালিটি ম্যাটারস। কাদের সাথে আপনি কাজ করেন-তাদের কোয়ালিটি আপনাকে প্রভাবিত করে। আপনি যদি নীলকন্ঠ্য না হন, তাহলে লো কালচার কোম্পানী ও তাদের পুওরলি গ্রুমড মানুষদের সঙ্গ ও কালচার আপনার ব্যক্তিগত কোয়ালিটি ডাউন করতে পারে। আপনার মধ্যে ফ্রাস্ট্রেশন এসে পড়তে পারে। পুওর কালচার ভাল করতে গিয়ে নিজের মধ্যে দূষণ ঢুকে গেল। উল্টো আবার, আপনার কোয়ালিটি ভাল না হলে একটা উন্নত প্রতিষ্ঠানের কালচার আবার আপনার দ্বারা ডাউন হতে পারে। ভাইস ভারসা।

প্রতিটি উন্নত প্রতিষ্ঠানই নিত্য নতুন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাবার স্বপ্ন দেখে। একটি ভবিষ্যতমুখী প্রতিষ্ঠানে ইমপ্রোভাইজেশন ও ইনোভেশনের অংশে শেষ কথা বলে কিছু নেই। আর সেই যাত্রায় তাকে সঙ্গ দেয় তার মেধাবী কর্মীরা। সেই সাথে কর্মী এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার পারস্পরিক উৎকর্ষ সাধনে অবদান রাখার বিষয়টি রিসিপ্রোকাল।

একজন উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রফেশনাল এবং একটি উন্নততর প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার সম্পর্ক আগুন আর বারুদের মতো। পরস্পর পরস্পরকে জ্বলে উঠতে সাহায্য করে।

যোগ্য প্রফেশনালের উচিত উন্নততর প্রতিষ্ঠানে কাজ করা। কারন এই রাজযোটক হলে উভয়ে উভয়ের উৎকর্ষ ঘটায়। উভয়ে উভয়কে flourish করতে সাহায্য করে। তা না হলে, প্রতিষ্ঠান প্রফেশনালকে, নয়তো প্রফেশনাল প্রতিষ্ঠানকে ডুবায়।

ব্যক্তির রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং যেমন ব্যক্তির উপকার করে, তেমনি সেটা প্রতিষ্ঠানেরও উপকার করে। তাই এটাকে একটা মিউচুয়াল বা রিসিপ্রোকাল বেনেফিট ভাবুন। ব্যক্তি কর্মীর আপস্কিলিং ও রিস্কিলিংয়ের জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক-উভয় ইনভেস্টমেন্টই মিউচুয়াল বা রিসিপ্রোকাল। ব্যক্তির উন্নয়ন সে ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে যায় না। সেটার প্রভাব ও স্ফূরনটা প্রতিষ্ঠানেই পড়ে।

আবার, ব্যক্তি যদি নিজ খরচে আপস্কিলিং করে, সেটাও যে কেবলই প্রতিষ্ঠানের কাজে আসে তা না। প্রতিষ্ঠানের উপকারে আসার পাশাপাশি তার নিজেরও লাভ। প্রতিষ্ঠানের হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রম, বা ব্যক্তির আত্মউন্নয়ন কার্যক্রম-সেটা যার ইনভেষ্টমেন্টেই হোক (সময়, শ্রম, মেধা ও টাকা), সেটার বেনেফিশিয়ারি বোথ সাইডস।

সেজন্য প্রোফেশনাল ও এন্টারপ্রাইজ-উভয়েরই মনে রাখা ভাল, যে, প্রাতিষ্ঠানিক ডেভেলপমেন্ট বা গ্রুমিং স্কিম আর পারসোনাল ডেভেলপমেন্ট ও আপগ্রেডেশন স্কিম-উভয় ক্ষেত্রেই উভয়ের আরও লিবারেল, সচেতন, সেনসিবল ও আধুনিকমনষ্ক হওয়া উচিত। কারন, করলে লাভ উভয়ের, না করলে ক্ষতিও উভয়ের।

ব্যক্তিগত সময়ে নিজের বা কোম্পানীর পয়সায় ট্রেনিং কেন করব, করলে আমার কী লাভ-যারা ভাবেন, তারা মনে রাখবেন, পরের জন্য মেহেদী বাটলে নিজের হাতও রাঙা হয়।

আর, কোম্পানীকে ভাবতে হবে, কর্মীকে পয়সা খরচ করে ট্রেনিং করালে কোম্পানীরই কাজে দেবে। কারন-

এক, বাজারে রেডি হ্যান্ড কমে আসছে।

দুই, রানিং লোকের আপস্কিলিং ও রিস্কিলিং না করিয়ে পয়সা বাঁচাতে চাইলে ঘরের লোক অকেজো হয়ে যাবে। তখন তারই ক্ষতি। আর নতুন মানুষ আনার খরচ বিদ্যমানদের ট্রেইন করবার খরচের চেয়ে অনেক বেশি। প্রোডাকশন লস তো আছেই।

তিন, ঘরের লোককে শেখানোর দায় এমনিতেই আপনার আছে।

Same for personal branding

আপনার কর্মী ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ব্যক্তিগত বা অফিস সময়ে প্রফেশনাল সভা, সমিতি, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ওয়েবিনারসহ নানারকম ব্র্যান্ডিং কাজে জড়িত হলে তাতে আপনার অ্যাবসলুট ক্ষতি না। লাভও আছে। অপেক্ষাটা কেবল আপনার লাভ-ক্ষতি কষায়। অপরচুনিটি লস ও অপরচুনিটি কসটটা হিসেব করুন।

ব্যক্তির পারসোনাল ব্র্যান্ডিং আপনার প্রতিষ্ঠানকেও ব্র্যান্ডেড করে। লোকে বলে, “অমুক ভাই তো তমুক প্রতিষ্ঠানে আছে। নিশ্চয়ই প্রতিষ্ঠানটা ভাল।” যেজন্য সবাই ব্র্যান্ড অ্যামবাসেডর নিয়োগ করে। মেসি বা শাহরুখ খান যদি আপনার পান দোকানে চাকরি নেন, কার লাভ বেশি?

আবার, নিজের খেয়ে প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিং করলেও নিজের লাভ আছে। লোকে বলে, “অমূক তো তমূক ব্র্যান্ডেড প্রতিষ্ঠানে আছেন। নিশ্চয়ই তিনি অনেক ভাল।” আপনি যদি কোনো কারনে অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মেটা বা কসটকোতে একটা জবে ঢোকেন মাত্র তিন মাসের জন্য-কার লাভ বেশি বলুন তো? বা, যদি শাহরুখ বা টম ক্রুজ বা জাতিসংঘ মহাসচিবের পিএস হন ১ বছরের কনট্রাক্টে? আপনার গায়ে তাদের রং কিছুটা লাগবে কি?

 #unwantedadvice #mythofselfdevelopment #MutualBenefit #ReciprocalInterest #UpSkillingReskilling #career #jobcondition #sustainability #retention #struggle #workingenvironment #freshercareer #criticism #qualification #fresher #lowincome #oddjob #educationalstandard #marketreality #talentmarket #jobmarket #DoingAnyJob

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *