সংবাদপত্র যদি একটি রাষ্ট্রের 4th pillar হয়ে থাকে, তাহলে টিভি, মিডিয়া, সামাজিক মাধ্যম নিশ্চয়ই 4.5th pillar হবে। তা, আমাদের 4th ও 4.5th পিলারের কী খবর? কর্মজীবি মানুষ হিসেবে দিনের শেষে ঘরে ফিরে হয়তো ঘন্টা দুয়েক টিভির সামনে বা আশপাশে থাকা হয়। কুকুর ছানার জন্মের মতো যেমন জন্মেছে ব্যাংক, তেমনি জন্মেছে টেলিভিশন চ্যানেল। আলু, পটল, আটা, তেল, ডাল, চিনি, কনডম, মায়াবড়ি, ওষুধ, কাগজ-সব কিছুর ব্যবসা হল, এবার একটা টিভি চ্যানেল না থাকলে কেমন দেখায়-এই হল টিভি চ্যানেলের জন্ম রহস্য। যেমন জন্ম, তেমনি কর্ম। একটা টিভি চ্যানেলের মালিকের ধারনকৃত শুভেচ্ছা বার্তা শুনছিলাম। তার ৩ মিনিটের ভিডিও হতেই বুঝে নেয়া সম্ভব, তার চ্যানেল দেশের ও রাষ্ট্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, কৃষ্টি, দেশপ্রেম, জীবনবোধের ক্রমবিকাশে কী ভয়ানক অবদান রেখে চলেছে। আমাদের সংবাদপত্র তথা সার্বিক সংবাদমাধ্যমকে তো বহু আগেই উদ্যোগ নিয়ে খোঁজা করে দেয়া হয়েছে। 4th pillar’র সম্পাদকীয় আর প্রথম পাতা পড়লেই পিলারের ধ্বজভঙ্গতা অনুভব করা যায়।টিভি চ্যানেলগুলো কী করছে? এঁরা নিজেদের ইচ্ছায়, পরিকল্পিতভাবে, সুচারুভাবে দেশ, জাতি, প্রজন্মকে নরকে নিয়ে যাচ্ছে। টিভি অনুষ্ঠান নির্মাতাগণও সেই আত্মাহুতির কুম্ভমেলায় হরিধ্বনি সহযোগে যোগ দিচ্ছেন। খুলে আর বললাম না। হরি বোল, হরি বোল।তবু ভাল থাকুক বাংলাদেশ। এই যাত্রায় টিভি ও সংবাদমাধ্যম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লেখা কিছু অখাদ্যও নিচে জুড়ে দিলাম। সময় থাকলে পড়ে নষ্ট করতে পারেন।
পিলার-১: #hypocrisy #hypocritenation #patriotism #culture #ambiguity
বাংলাদেশের মিডিয়াসমুহের বার্ষিক দেশপ্রেম মহড়ার ৪৫ তম প্রদর্শন মহাআড়ম্বরে পালিত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। সারাবছর ডিজে ড্যানস, সুলেমান, পাখি, কিরনমালা, কুটনামি নাটক, বমির মতো বিজ্ঞাপন। আজ শুধু দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধ। আচ্ছা মুক্তিযুদ্ধ কি শুধু ২৬ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর এই দুইদিনই হয়েছিল? আমার মা তো আমায় জানিয়েছেন ১৭৫৭ হতে ১৯৭১ মোট ২২৪ বছর মুক্তির জন্য জীবন দিয়েছে বাঙালি। আগামিকাল ৪৫ তম বিজয় দিবস। কী মনে হচ্ছে? সারাদেশবাসি বিজয় ও স্বাধীনতার চেতনায় আনন্দে আত্মহারা? নাগো ভাইজান। একটা বিরাট জনসংখ্যার মন ভীষন খারাপ কারন শুক্রবার বিজয় দিবস পড়ায় একদিন ছুটি মার গেল। হায়রে দেশ! হায় মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের দেশীয় সঙ+ইস্কিরিতি মানে সংস্কৃতির ধ্বজ্বাভঙ্গ মানে ধ্বজ্বাধারীরা দেশীয় সঙ+ইসকিরিতি রক্ষার নিমিত্তে (আসলে চ্যানেলের ভাত ও ফ্যান বাচাইতে) বিদেশী চ্যানেল ও অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি তুলিয়াছেন। তো আপনারা কি জানেন, কেন আমরা আবুল দর্শকরা বিলাতি দেখি? না, বিলাতি মেম ও বিলাতি অনুষ্ঠানের সৌন্দর্যে বিমোহিত হইয়া নয়, আপনারা যাহা দেখান উহা দেখিবার যো নাই বলিয়া বিলাতি দেখি।দুশ্চরিত্র টিভি চ্যানেলগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের কপোট রিহার্সেল শুরু হয়েছে। বিজয়ের মাস যে! ১৬ তারিখ এই ভন্ডদের গ্রান্ড ফিনালের।মধ্য দিয়ে মৌসুমী জাতিয়তাবাদের পর্দা নামবে। বঙ্গ মা! তোমার শ্রেষ্ট সন্তানেরা কি মাত্র মার্চ ও ডিসেম্বর-দুমাসই যুদ্ধ করেছিল? ব্যাবসা বানিজ্যের সব ব্যাকরন মেনে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিলেও সেটা অর্থ পাচার, দেশী সংস্কৃতির উপর হামলা, দেশী শিল্পের প্রতি হুমকী কত কী? কিন্তু বিদেশ হতে সেমি xxx সিরিয়াল আনতে ডলার বিদেশে চলে যাক, প্রতিবেশী খাইশটা সিরিয়ালের নগ্ন নকলে দেশী অনুষ্ঠানের ঐতিহ্য ধর্ষিত হলে সেটা কালচারাল ডাইভারসিটি। কি মনে করছেন বোকা বাক্সের চ্যানেলওলা? টিভি না দেখিলে আমরা মরি যামু? ফেসবুক, ডেটিঙ শেষে টিভি কখন দেখমু? চরিত্রহীন কারে বলে? একটা চ্যানেলে সিরিয়ালের মধ্যে কিঞ্চিৎ বক্ষ উন্মুক্ত নারীর দৃশ্য এলেই ক্লিভেজ ঢাকতে সেখানে ব্লার করে দেখানো হয়। তার একটু পরেই আবার গোসলখানায় গণহারে মেয়েদের প্রায়নগ্ন গোসলের দৃশ্য কোনোরকম রাখঢাক না করে দেখানো হয়। তাহলে এটা কি দ্বিচারিতা বা চরিত্রহীনতা নয়? একটা বাঙলাদেশী মেড ইন্ডিয়া ফ্লেভারের সিরিয়ালে দেশের সুস্থ সঙইসকিরিতির (সংস্কৃতির) ধারক দুই জামাই বউ অভিনেতা অভিনেত্রী সেই স্টার প্লাস টাইপ (ঘুমাতে কাতান পড়া, জাগরনে লিপস্টিক থাকা, কুটনামি, পরকিয়া) সিরিয়ালে সগর্বে অভিনয় করে যাচ্ছেন আবার সভাসমিতিতে দেশী সংস্কৃতি নিয়ে চোখের জল ফেলছেন। এটাকে কী বলবেন?
পিলার-২: #mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial #television #IndianTVserial #IndianMedia #Advertisement #TVC #ethics #elders #respect:
আল্লাহর ওয়াস্তে টিভি চ্যানেলগুলোর নোংরা, উদ্ভট, মিথ্যায় ভরা, চটকদার কুৎসিত অ্যাডগুলো বন্ধ করার ব্যবন্থা করতে পারেন কেউ? আর অসহ্য কোষ্ঠ্যকাঠিন্নভরা নাটক? কয়েকটা চ্যানেলের ডিজে ড্যান্স? আর হামাগুড়ি দেয়া বাচ্চাদের হাতে ট্যাব দেয়া? আর নিতে পারছিনা। বাংলাদেশি চ্যানেল খুললেই টিভিটা আছাড় মারতে ইচ্ছে করে। আমাদের দেড়টা প্রজন্মতো অলরেডি পঁচে গেছে। অন্তত বাকিদের যদি বাঁচানো যায়। রলিক্স কমপ্লান খেয়ে যদি বাচ্চা তরতর করে টেমপো বাড়িয়ে বুলেট গতিতে বড় হয় আর ট্যাবের কল্যানে নরনারির সবকিছু মগজে নিয়ে নেয় তাহলেতো একবছরের ইচড়ে পাকারা বাপ মার কাছে লিভ…….এর আবদার করবে।মাঝে মাঝে চিন্তা করি যেই ইন্ডিয়াতে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রির মতো ওয়ার্ল্ড ফেমাস একটা নির্মাতা আছে সেদেশের টিভিগুলোর অবস্থা এরকম শোচনীয় হয় কিভাবে? অন্তত যে কয়টা চ্যানেল আমাদের ডিশ নেটওয়ার্কে আসে তার একটায়ওতো দেখিনা স্ট্যান্ডার্ড কিছু আছে। শুধু সিরিয়ালআর সিরিয়াল (জানিনা এগুলোর নাম নাটক হতে সিরিয়াল কবে হল)। জঘন্য কোয়ালিটি, জঘন্য মেকিং, জঘন্য থিওরী, থীম, অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি সবকিছু কুৎসিৎ ও নিম্নশ্রেনীর।গত কয়েকদিন খেয়াল করে দেখলাম, প্রতিটা চ্যানেলেই দুই তিনটা করে পৌরাণিক কাহিনী নিয়া বানানো সিরিয়াল আছে। কাহিনীর কী অভাব পড়েছে? শরত, রবীন্দনাথ, নজরুল, সুনীল, সমরেশ বাবুর সব লেখা কি নাটকে রুপান্তর শেষ? যদি তা না হয় তবে কি রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসের চেয়েও পৌরাণিক কাহিনী বেশী স্ট্যান্ডার্ড? ঠিক মেলেনা। একই মড়ক লাগছে বাংলাদেশের টিভিতেও। হঠাৎ করে দুই একদিন চ্যানেল খুলে বসি ওগুলাতে কী দেখায় সেটা দেখতে। নাটকগুলারে মনে হয় সব কোষ্ঠ্যকাঠিন্য রোগীরা বানিয়েছেন। না কোনো বক্তব্য, না গভীরতা, না কাহিনী, না অভিনয়। শুধু ইন্ডিয়ান চ্যানেলের মতো পরকীয়া, অহেতুক অজানা বেদনায় নায়ক নায়িকার স্যাড মুড, অদ্ভুত ভাষায় চরিত্রদের কথা বলা, টিন এজারদের ইচিং বিচিং, শহুরে পোলাপানের খাইশটা লাইফস্টাইল এইসব নিয়াই নাটক। কয়েকটা চ্যানেল আবার “উড়াধুড়া ডান্স একাডেমী” কিংবা “নাইট অ্যান্ড ফাইট কালচারাল গ্রুপ” টাইপের পাড়ার বখা পোলাপানের গ্রুপের পরিবেশনায় উৎকট সেমিসুড়সুড়িময় নাচের অনুষ্ঠান চালাচ্ছে প্রাইম আওয়া্রে। অনুষ্ঠান বানানো আর চ্যানেল চালানোর মতো যোগ্য লোকের কি অভাব পড়ল? তাইলে যে আবার শুনি দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত যুবক বেকার ঘুরছে? হেরা চাকরি পায় না অথচ চ্যানেলগুলা ভাল অনুষ্ঠান বানানোর জন্য মেধাবী লোক পাচ্ছে না। ঘটনা বুঝতাছি না।ইন্ডিয়াকে কথায় কথায় গালি দেয়া আমাদের অভ্যাস (এবং সেটা হালাল) হলেও ওদের আর আমাদের একটা ক্ষুদ্র ব্যবধান দেখে লজ্জিত হলাম যারপরনাই। ইন্ডিয়ানরা গোমূত্র খায়-এমন খবরে যারা উল্লসিত তাদের কাজ আসতে পারে এটা। ইন্ডিয়ান টিভিতে ভোজ্য তেলের একটি বিজ্ঞাপন দেখছিলাম। ছেলে, ছেলের বউ ও ছেলের মা খাবার টেবিলে। আরো কিছু মেহমান খেতে বসেছেন। যাদের মধ্যে একজন হলেন পুত্রবধূর মা, মানে ছেলের শাশুরি। তো বাকি মেহমানদের মধ্যে থেকে একজন বধূর মা’কে জিজ্ঞাসা করেন যে, তিনি তো তাদের গ্রামেই থাকেন, তাই না? জবাবে বধূর মা একটু ইতস্তত হলেন। ছেলের মা তাকে ইতস্তত ভাব হতে উদ্ধার করতে বললেন, “যদি ছেলের মা ছেলের সাথে একত্রে থাকতে পারে, তবে বধূর মা তার মেয়ের সাথে কেন নয়?” [কতটা সূক্ষ চিন্তা ও উচ্চধারনা প্রোথিত করছে একটি বিজ্ঞাপন জনমানসে, খুব নিরবে?] এর বিপরীতে বাংলাদেশের একটি মোবাইল কোম্পানী তাদের 4G’র বিজ্ঞাপনে অত্যন্ত শ্রূতিকটু ও বেয়াদবের মতো একটি ডায়লগ জুড়ে দিয়েছে, “আমার তো আর চাচ্চুদের সীম না।” অর্থাৎ এই বিজ্ঞাপনটির মধ্যে আমাদের বয়োজেষ্ঠদের প্রতি অবজ্ঞা ও কটাক্ষ খুব স্পষ্ট ও তীব্র। কীভাবে এইরকম একটি বর্ণবাদী, হঠকারী ও বেয়াদবীপূর্ণ বিজ্ঞাপন সমানে প্রচার হয় জানি না। প্রতিবার বিজ্ঞাপনটির ৩টি ভার্সনের কোনোটি দেখলেই লজ্জায় মাথা নুয়ে আসে। কীভাবে একটি জাতি আগ্রহের সাথে তার পুরোনো নর্মস, ঐতিহ্য, সামাজিক আদব ভুলে যাচ্ছে? আমার কানে বাজে “চাচ্চুদের নেটওয়ার্ক”………..“চাচ্চুদের নেটওয়ার্ক।” [এই পোস্টের ত্যানা কমেন্ট: ১.কই পাকিস্তানকে নিয়ে তো কিছু বললেন না? ২.হবে না, ওই মোবাইল কোম্পানী তো ভারতেরই। ৩.আপনি তাহলে পাকিস্তানী সাপোর্টার? ৪.আপনি এত প্যাচান কেন? ওই কথাটা তো স্রেফ কথার কথা, মজা করতে বলা।]
পিলার-৩: #mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial #culture #entertainment #television:
ঘ্যান ঘ্যান বা ভ্যান ভ্যান বাংলা নামে একটি গানের চ্যানেল খুলেছে দূরদর্শনে। এমনিতে দূরদর্শনে দেখার মতো কিছুই না পেয়ে একবার আমি দূরনিয়ন্ত্রক যন্ত্রটি হাতে নিয়ে ক্রমাগত নম্বর টিপে টিপে ১ হতে ১০০ নম্বর চ্যানেলে যাই, আবার ১০০ হতে ১ এ আসি, ভাল কিছু পাবার আশায়। আমার হয়ে গেলে নিটোল একই কাজ একবার করে। এই করতে করতেই সন্ধ্যা হতে রাত ১১ টা বেজে যায় লকডাউনে গৃহবন্দী দু’জন নিঃসঙ্গ মানুষের দূরদর্শনে বিনোদন পাবার চেষ্টায়। দূরদর্শনে উপভোগ করার মতো বস্তু আজকাল কেউ বানায় না। সেজন্য বোধহয় মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওয়েব সিরিজ দেখা শুরু করেছিল। বেরসিক রাজকীয় কত্তিপক্ক সেখানেও ঢুকে পুরোটা মাটি করে দিয়েছে। বাড়া ভাতে ছাই দেবার অবস্থা। আমাদের মিডিয়াও বালেগ হয় নাই। আর গত ৪৯ বছরে মিডিয়ার নিয়ন্ত্রক রাজকীয় কত্তিপক্কও না। তাদের অবস্থা হল, এখনো শিশু। [তবে সেই শিশু, যার খাতনাও হয় নাই, কিন্তু ধর্ষনের কেস চলে ৪ টা।] এখনো এখানে নায়িকার টপসের গলা দুই সুতা নিচে নামলেই সেন্সরে আটকে যায়। তুরষ্কের সিরিয়াল এদেশে এসে, নায়িকার বুকের কাছে ঘোলা করে প্রদর্শন হয়। অবশ্য হাম্মামের দৃশ্যে নায়িকারা দলবেঁধে জলকেলী করে প্রায় বস্ত্রহীন হয়ে, সেটা আবার ঘোলা হয় না। নাবালেগ দর্শক, নাবালেগ মিডিয়া, নাবালেগ রাজকীয় কত্তিপক্ক। যাহোক, আমার দুঃখ সেখানে না। এমনিতেও আমি দূরদর্শন দেখি না। খালি ছেড়ে দিয়ে চেয়ে থাকি আরকি। তো যেটা বলছিলাম, ঘ্যান বাংলা নামের ওই চ্যানেলকে কেউ যদি একটু বলে দিতেন, যে, কেবল আধো আলো আধো আঁধার স্টেজ বানিয়েই, সেখানে প্রতিটি গানের সাথে টাইটস, হটস বা বুক খোলা ওয়াইন কালার গাউন পরিহিত সাদা ত্বকের রমনীরা ইনসট্রূমেন্ট বাজালে বা হালকা কোরাস গাইলেই সেই অনুষ্ঠানটা কোকস্টূডিও হয়ে যায় না। কপি পেস্ট করে আর কত? কপি পেস্টের পরিণতি নিয়ে গল্প বলি একটা।বল্টু তার পরীক্ষার খাতায় লিখল, “সম্রাট আকবর বিপদে ভাঙিয়া পরিতেন না।”পিছন হতে কেলটু সেই খাতা দেখে দেখে তার খাতায় লিখল, “সম্রাট আকবর বিপদে জাঙিয়া পরিতেন না।”
পিলার-৪: #mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial #culture #showbiz #advertisement:
কাল রাতে একদমই কিছু না পেয়ে এবং কিছুটা মনস্থির করেই আমাদের দেশী দূরদর্শন মাধ্যমগুলো দেখার চেষ্টা করলাম।দূরনিয়ন্ত্রকের বোতাম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করলাম দেশী মাধ্যমগুলোতে কী কী দেখায়, কেমন দেখায়। একটি মাধ্যমে নাটক হচ্ছে। তিন মিনিটের বেশি হজম করতে পারিনি। বমি পেয়ে গেল। গ্রামের প্রেক্ষাপটে নাটক। পার্শ্ব নায়িকা অত্যন্ত অদ্ভূৎ সাজ পোষাকে ততোধিক কিম্ভুত অঙ্গভঙ্গীতে (দুঃখিত, আমাদের রাস্তায় বহুলিঙ্গীক কিংবা যোনকর্মীরা যেভাবে অঙ্গভঙ্গি করেন) তার নায়ককে প্রেম নিবেদন করছেন। সেটাও গ্রামের প্রকাশ্য রাস্তায়। সংলাপের ভাষা ও শ্রী শুনেই বমিটা এলো।আরেকটা মাধ্যমে সংবাদ হচ্ছে। আধাঘন্টার সংবাদের পুরোটাতে কোনো সংবাদ নেই। আছে কেবল বক্তব্য। নেই কোনো তথ্য, কোনো অনুসন্ধান। আরো আশ্চর্য, সব খবরই ঢাকার ও বিদেশের। কোনো স্থানীয় সংবাদ বা সংবাদদাতা নেই। তবুও খবর দেখাতে হবে। অন্যের সংবাদ ধার করে, গৃহনির্মীত সংবাদ দিয়ে।ভাবলাম বিজ্ঞাপন দেখি। প্রথমেই এলো কাপড় কাচার গুড়া সাবানের। দেখলাম, গোমাতার দেশে যেই বিজ্ঞাপন দেখায়, সেটাই বাংলাতে ভাষান্তর করে প্রচার হচ্ছে। গোমাতার দেশের বিজ্ঞাপনে যেই অভিনেতার নাম অর্জুন, বঙ্গমাতার দেশে সেই অভিনেতা হয়ে গেছেন আরাফ। ভারত মাতার দেশে যদি হয় রাহুল, বঙ্গদেশে সেই একই লোক ফেরদৌস। বিজ্ঞাপনেরও ইসলামাইজেশন। মুসলমান প্রধান দেশের জাগ্রত সমাজের অনুভূতি ও বাজার হিসেবে রেখে সনাতন রাহুল বা অর্জুন হয়ে গেছে ফেরদৌস। পণ্য বেঁচা নিয়ে কথা। আর দেখলাম, আমাদের তারকারা যতই দেশ ও জাতি নিয়ে চোখের জলে ভেসে থাকেন, ভেজাল, ক্ষতিকারক, নষ্ট ও দুই নম্বরি পণ্য বিক্রীর নমুনা হয়ে পয়সা কামাতে তারা তিন পা এগিয়ে। সেখানে আবার আমাদের সত্য যুগের নামজাদা বৃদ্ধরাও কম যান না। বদনা, বালতি, হাড়ি, খুন্তি, দুধ, চা, আলু, পেয়াজ, কোদাল, কুড়াল, টিস্যু, মায়াবড়ি, কনডম, আন্ডা, জমি, কবর-কোনো পণ্যের নমুনা হতে বাদ নেই। হালে আবার দেখছি, পীর সাহেবরাও বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দিচ্ছে কামরুপ কামাখ্যা, কোহে কাফের ওঝারাও। একটি দেশের জাতীয় গণমাধ্যমে যাদুটোনা ও যাদুর (আলাদীনের) আঙটির বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে। আহ ইয়াসমীন, আহ ইয়াসমীন।আর লিখতে পারছি না। মেজাজে কুলাচ্ছে না।
পিলার-৫: #mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial #advertisement #marketing #promotion #exaggeration:
একবার এক লোক অভাবের তাড়নায় শহরে গিয়েছিল কাজের খোঁজে। কাজ না পেয়ে গ্রামে ফিরল। তবে দারুন এক আইডিয়া নিয়ে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাসি, উদ্বৃত্ত ভাত জোগাড় করল। পর পর কয়েকদিন ভাত জমিয়ে, সেই ভাত পঁচিয়ে, পেস্ট করে রোদে শুকিয়ে ছোট ছোট বড়ি বানালো। এরপর বাজারে গিয়ে সেই বড়ি বিক্রি করতে অ্যাডভারটাইজিং আর ক্যানভাস শুরু করল, “আইয়েন ভাই আইয়েন, ভাতের বড়ি লই যান, ভাতের বড়ি লই যান। একটু ট্রিকি করে বলা তার বিজ্ঞাপনি ক্যানভাস পাবলিক শুনল, “বাঁতের বঁড়ি লই যান”। ব্যাস হটকেকের মতো বেঁচা হয়ে যায় তার নতুন আদলের ভাতের, ওরফে বাঁতের বড়ি। শুনেছিলাম, অ্যাডভারটাইজিংয়ের জোরে গরুর গোবরও নাকি হয়ে যায় কুপারসের কেক। তাই দেখলাম ইদের ছুটিতে। মার্কেটিং আর সেলসের তুখোড় ব্রেইনগুলো ঠিক গুনে গুনে ইদের ছুটির আগের দিন হতে পরের ৭ দিন ছুটির মৌসুমের সাথে মিল রেখে টিভিতে যেসব মৌসুমি বিজ্ঞাপন বাড়িয়ে দেন, তার মধ্যে দেখলাম, তিনটা পণ্য-জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, কনডম আর ইমার্জেন্সী কন্ট্রাসেপটিভ পিল। শেষটির বিজ্ঞাপন অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্নভাবে দৃশ্যায়িত:-অবিবাহিত প্রেমিক প্রেমিকা দলবেঁধে ট্যুরে গিয়ে অবাধ শরিরী প্রেমে (নাকি উন্মত্ততায়) লিপ্ত হয়ে গল্পের নায়িকা চিন্তিত। তখুনি তার প্রেমিক উদ্ধারকারী দেবদূতের মতো হাতে ইমার্জেন্সী কন্ট্রাসেপটিভ পিল নিয়ে হাজির, তার অল্পবয়সি প্রেমিকা যাতে প্রেগনেন্ট হয়ে বিপদে না পড়ে, ব্যাকগ্রাউন্ডে তার অভয়ের গান বাজে-বাহ, কি সময়োপযোগী ও নির্লজ্জ নির্মান। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ক্যানভাসাররা ঠিকই জানে, কখন কোনটা পাবলিক খাবে। এই দেশে আবার রাজকীয় আইন করা হয়-১৮’র আগে শাদী নহে। গত ১৫ দিন ধরে দেখছি, টিভিতে এমন একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে, যা দিয়ে পুরুষের অবাঞ্চিত লোম তুলে ফেলে তাকে আরও হ্যান্ডসাম ও ম্যানলি করে তোলা যায়। শরীরের অস্থানের লোম উৎপাটনের মলমও আজকাল নারী ও পুরুষের আলাদা ব্র্যান্ডে বিক্রী হয়। মার্কেট ও পূঁজিবাদী লোভের জিহবা মানব শরীরের কোনো কোণাকানচিও বাদ দেয়নি। অস্থানের কেশোৎপাটনের মলম বেঁচার জন্য সুপারস্টার মডেল লাগে। আর চামড়া সাদা করার ক্রীম তো আগে হতেই নারী ও পুরুষ দু’দলে ভাগ হয়ে গেছে। করোনার শুরুর দিকে যেসব ওলড ফ্যাশন এন্টিসেপটিক সাবান বা লিকুইড ছিল (স্যাভলন, ডেটল, হারপিক, লাইজল), তারা করোনা মারতে পারে না বলেই জানতাম, ওনারাও নাকি তা স্বীকার করেছিলেন। বাজারে আসা অন্যসব করোনা মারার ওষুধের রমরমা বিজনেস দেখে তারাও এখন পথে নেমে গেছে। এখন শুনছি, ডেটল, স্যাভলনও নাকি সমানে করোনা হত্যা করে বেড়াচ্ছে। বাহ। মিথ্যাচারে এই দেশে কে কম যায়? পত্রিকাগুলোও আছে এই লাইনে। ছাপানো পত্রিকায় নাকি করোনা ছড়ায় না-এই চরম মিথ্যা কথা ছড়ানো পত্রিকারাই আবার দিনশেষে হয়ে যায় দেশ ও জাতির মহান ৫ম পিলার। কমপ্ল্যান খেলে নাকি মায়ের দুগ্ধ খাওয়া শিশু দুই মাসে তালগাছের মতো লম্বা হয়ে যাবে। হরলিক্স খেলেই মনুষ্য ছাগলের তিন নম্বর বাচ্চারা সব লম্বু (টলার), জাম্বু (স্ট্রংগার) ও খাম্বু (শারপার) হয়ে যাবে। আর বেকুব বাঙালি তার তিন নম্বর ছাগশিশুটাকে সেই কমপ্ল্যান, হরলিক্স, বুস্ট সমানে গেলায়। গেলো বাঙালি, বেশি করে ’অ্যাডব্যাটাইজ’ গেলো।
#mediadomination #mediamanipulation #mediadestruction #mediahype #mediaaholic #mediatrial #magicmedia