Skip to content

পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট:

  • by

আমি একটি প্রেক্ষাপটের কথা বলতে এসেছি

বাংলা নামক একটি অসমাপ্ত কাব্যের

জন্ম উপাখ্যানের রক্তাক্ত প্রেক্ষাপট।

যেই কাব্যটির মুখবন্ধ রচিত হয়েছিল-বহু জন্ম আগেই।

বাকি ছিল শুধু তার জমিনটুকুর নির্মান।

আমি একটি ব্যর্থ অভ্যূত্থানের বিস্মৃত গল্প-শোনাতে এসেছি

যে অভ্যূত্থানের আখ্যান

সংবাদপত্রে, রাজপথের ল্যাম্পপোষ্টে

আর জিরো পয়েন্টের প্রতিটি বিবর্ণ ইটে লেখা আছে।

এক অপ্রকৃতস্থ সময়ের কথা বলতে বসেছি

একেকজন শহীদদের আত্মার

অন্তিম ইচ্ছের চুড়ান্ত দাফনের, অস্থির সময়ের।

সেই কালরাতের কথা বলতে এসেছি

যেই রাতে

একটি পুরো দেশ জেগে ছিল

আসন্নপ্রসবা জন্মের তীব্র অস্থিরতা নিয়ে

প্লাটুন প্লাটুন জল্লাদের খুনে উল্লাসের দাম মেটাতে।

রক্তগঙ্গায় রক্তস্নানের ক্ষণে

শহীদেরা আসবে দলে দলে

তাদের সম্মানে সবকটা মঙ্গল দীপ জ্বালাতে এসেছি।

এ দেশ হয়তো ভুলে গেছে শহীদদের সবার নাম

ফেব্রুয়ারীর সেই ভয়াল দুপুরটার ক্ষণ

আমি তাদের মুছে যাওয়া নাম নিতে এসেছি-একটি একটি করে।

একটি বিকৃত সংস্কৃতির ব্যবচ্ছেদের প্রস্তুতি নিতে এসেছি।

পাশ্চাত্যের হাঙর সংস্কৃতির নির্লজ্জ অগ্রাসনে

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো………..

আমি কি ভুলিতে পারি-যখন গাওয়া হয় বিকৃত স্বরগ্রামে

আমি একাই তার প্রতিবাদ করতে এসেছি।

ভাষা শহীদদের আত্মার সৎকারের আড়ালে বানিজ্য স্বার্থ-

না, তার প্রতিবাদ করতে আসিনি।

অগুনতি মা-বোনের সম্ভ্রম হরণের লজ্জা আর

তার প্রতিবাদহীনতার প্রতিবাদ করতে এসেছি।

যখন শহীদের শোকগাঁথা লেখার কাগজ ফুরিয়ে যাচ্ছে

যখন রক্তস্নাত সংবিধান পাপড়ের মতো কুড়মুড় করে ভাঙে,

যখন লাল সবুজের পতাকার রঙ ফিকে

যখন তার লাল সূর্যটাকে আরো যথেষ্ট গাঢ় করবার জন্যে

সারা বাংলা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও একটিও লাল কৃষ্ণচূড়া পাওয়া যাচ্ছে না

অথচ রাজাকারের তৃপ্ত ঠোট পানের কষে যথেষ্ট লাল

একাত্তরের কষাইদের কুর্তার আস্তিনে শোভা পাচ্ছে

টকটকে লাল জিঘাংসার মুঢ়াল

যখন কালরাত্রির ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে সারা জাতি

যখন প্রভাত ফেরীর জন্য একজন সঙ্গিও পাওয়া যাচ্ছে না

যখন পল্টনে, টিএসসিতে রাজপথ উত্তাল হবার মতো যথেষ্ট প্রাণস্পন্দন

পাওয়া যাচ্ছে না

যখন মাতৃভূমির সবুজ জমিন যুদ্ধাপরাধীর বিষাক্ত ছোবলে

রক্তশুন্য হয়ে ক্রমশ নীলচে হয়ে আসছে

আমি তখন একাই একমুঠো পলাশ নিয়ে এসেছি।

এদেশ কি ভুলে গেছে-কী করে জীবন দিতে হয়?

কতটা ভালবাসলে কতটা মনপ্রাণ দিয়ে

দেশকে ভালবাসার স্পর্ধা দেখাতে হয়

জানে কি এদেশ?

সেই স্পর্ধিত যুবকেরা কতটা নির্দিধায়

দুপুরের ঠা ঠা রোদে বুকের তাজা রুধিরে

ভেজাতে পেরেছিল ঢাকার কালো রাজপথ।

নাহ! আজ আমরা বড্ড উদারপন্থি, বড্ড শান্তিপ্রিয়

রক্তপাতবিহীন পোষমানা আন্দোলন এখন বড্ড জনপ্রিয়।

বদলে যাওয়া চেতনার সাথে কী দারুন বেশ

সহবাস করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত

দালাল সংস্কৃতির সাথে, ভাইয়ের হত্যাকারীর সাথে

উদ্ধত ফনা পাক সার জমিনদের সাথে।

যারা একটুকরা পতাকার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল-তাদের সাথে।

যারা লুন্ঠন করেছিল আমার বোনের লাজুক আঁচল-তাদের সাথে।

তাই আমি এসেছি,

দামী ফুলে কমদামী শোক জানাতে নয়

অশ্রু বিসর্জনে নয়

আমি একাই এসেছি, নিয়ে শুধু কবিতার প্রতিবাদ।

ওটুকুই, আমার একমাত্র সম্পদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *