টাকার অঙ্কে বিল গেটস সবথেকে ধনী মানুষ হলেও বঙ্গদেশে কেন যেন আম্বানী কিংবা প্রিন্স মুসার জীবনযাপনই বেশি কদর পায়। সত্যি বলতে, বিল গেটসের ম্যাড়মেড়ে জীবনযাপন বাঙালীরা বেশ ঘেন্নাই করে। বেচারাকে হয়তো বাঙালী পাত্তাই দেয় না।
যাহোক, বলছিলাম, কেমন হয়ে থাকে কোটিপতিদের রোজকার জীবন? অনেকের যেমনটা ধারনা, কোটিপতিরা বোধহয় সকালে ঘুম ভেঙেই জাফরানের পানি দিয়ে গলা গার্গল করেন, আর গোলাপের পানি দিয়ে চোখের পিচুটি পরিষ্কার করেন। তা, তেমনটা সত্যিই হয় কিনা, তা আমার পক্ষে জানা সম্ভব না। কারন কোটিপতি কারো সাথে তার অন্দরমহল তো দূরে, এক টেবিলে বসে চা খাওয়ার ভাগ্যও হয়নি।
তারপরও, আমি যখন বেকার ও ছাত্র, তখনকার বিচারে (সেই ১৫ বছর আগে), তখনকার সময়ে আমার চেনার মধ্যে একজন বিশাআআআআআল বড়লোকের বাড়িতে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতে হত। তো তাদেরকে প্রায় রাতেই দেখতাম, রাতে কর্তা খেতে বসেছেন। কর্তৃ তাকে খাওয়াতে বসেছেন। খেতে বসে হয়তো দেখা গেল, একটু খানি পাট শাক,খানিকটা আলু ভর্তা, একটা ছোট মাছ। হয়তো গতকালের বাসি ডালও আছে। কর্তার মন খারাপ। তিনি ইতিউতি তাকান। কর্তৃ দ্রুত কাজের মেয়েকে বলেন, সাহেবকে দুটো শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে দাও। ব্যাস, ওই। যা
বলছিলাম। আমরা যারা মধ্যবিত্ত নামের নিম্নমধ্যবিত্ত, তাদের সাথে রাতের খাবার টেবিলে খুব বেশি তফাত নেই কোটিপতিদের, এমনটা কল্পনা করে একরকম সুখ পাই। কনিষ্ঠ্য সহকর্মী আসাদ একদিন পাশের ফ্ল্যাটে শুটকী আর গোরুর গোশের ঘ্রানে তার আহাজারি জানিয়েছিল। সমাজের ছোটতলায় থেকে তার যেমনটা কষ্ট, কিঞ্চিত উঁচুতে থেকেও আমারও তাই।
গতকাল বেশ রাতে দোকানে যাচ্ছিলাম পান কিনতে। গলি দিয়ে যেতে যেতে এক এপার্টমেন্টের নিচে দিয়ে যাবার সময় কচি বাছুর গোরুর গোশ কশানোর লালসাপূর্ন সুগন্ধ। পেটটা মোচড় দিয়ে উঠল। আসবার সময়ে বেহায়া মৃগগন্ধ আবারও। জায়গায় দাড়িয়ে থেকে মিনিটখানেক সেই গন্ধ নাকে, মুখে, চোখে, পেটে ভরে নিলাম। মনে হল, গোরুর গোশ আজকে এখানে জ্যান্ত প্রোথিত করে দেবে।
তারপরই, ”ধূর, হলুদের গুড়া বেশি দিছে, লবণও কম” গালি দিয়ে বকতে বকতে ঘরে ফিরলাম।
#middleclasslife #nakedlife #thuglife #hypocrisy #wealth #richlife #solventlife