১. গরীবের পাটালি গুড় আস্বাদন:
আমার মা বলেন, “গরীবে পাটালি চিবালেও পাবলিক বলে, চারা (মাটির কলসীর টুকরা) চিবায়। আর বড়লোকে চারা চিবালেও লোকে বলে পাটালি চিবায়।”
একইভাবে, আপনি যদি বিখ্যাত হন, সেলেব্রিটি হন, স্টার হন, ক্ষমতাবান হন, স্বার্থপদ্মধারী নাগরাজ হন, তাহলে আপনার হাঁচির শব্দও মানুষের কাছে মিয়া তানসেনের বাদ্যের মতো লাগবে। আপনার গলা খাকারির শব্দও মানুষের কাছে নিধূ বাবুর টপ্পার মতো শোনাবে। আপনার ঘামের বদবু ভরা গন্ধও পাবলিকের কাছে কোবরা সেন্টের মতো লাগবে। বিশেষত আপনাকে দিয়ে যদি কারো স্বার্থ থাকে, বা, আপনার হতে কারো যদি স্বার্থ হাসিলের মওকা থাকে, তাহলে আপনার চ ও ম বর্গীয় ভাষার বয়ানকেও পাবলিকের কাছে রবিশংকরের সেতারের মতো লাগবে। আপনি ‘আহ’ করলেও ভক্তকূল আহা মরি আহা মরি করবে।
আমরা আম মানুষেরা সেলফি তুলছি সেই ডিজিটাল ক্যামেরা আসার পর থেকেই, এমনকি ফিল্ম ক্যামেরাতেও চলত। কিন্তু সেলফী নাম দিয়ে মাতামাতি শুরু হল ইসমাট প্রজন্ম হতে। সেউ যুগে টাইমার দিয়ে সেলফী বা গ্রূপফী তুলতাম। আর এখন সেই সেলফী হাঁসের মতো মুখ বেঁকিয়ে তুলতে হয়।
কে যেন বলেছিল, “শিক্ষিত মানুষ কর্তৃক অশিক্ষিত’র মতো করে নিজের নাম লেখাকে সিগনেচার বলে।” একটা গ্রাম্য কবিতা দিয়ে শেষ করি: রাজা মশাই করেন ’ভোজন’, মন্ত্রী ’আহার’ করেন। কর্তারা সব ’খান’ যে খানা গরীব শুধু ’গেলেন’।
২. কৃষ্ণ করলে লীলা, কেষ্ট করলে কিলা:
পূরাণে তো আছেই, কৃষ্ণ করলে লীলা, আর কেষ্টা বেটা করলে বিলা। পাড়ার দেয়ালে দেশী নায়িকাদের ফিল্মের পোস্টার দেখলে তা অসহ্য অশ্লীল বলে আমরা ওয়াক থু করি কিন্তু ভ্যান গগ বা দ্যা ভিঞ্চি আঁকলে তা কালজয়ী শিল্প। কারন ওটা “বিদেশী”। পুরান পাগলা, শহরে এসে যেমন আক্কাস হয়ে যায় আকাশ তেমনি আর কি।
সেই আদীমকালে মানুষ কোনো কারন ছাড়াই গোঁফ দাড়ি কাটত না। তারপর কোনো একদিন কেউ বোঝালো, ওগুলো কেঁটে ফেললে বেশি সুন্দর লাগে। শুরু হল, পারলে মুখের ত্বকও চেঁছে তুলে ফেলে। দাড়ি রাখলে তাকে দেবদাস, মোল্লা নামে তুলোধুনো করা হত। হঠাৎ একদিন ইন্ডিয়ান সিরিয়াল ও বোম্বাই নায়কদের মুখে চাপ দাড়ি দেখে এই দেশের আবাল বৃদ্ধ বণিতা দাড়ি রাখাকে ফ্যাশন ও জাতে ওঠা ভেবে নিলো। এখন ১০ বছরের নাবালকও পারলে ওষুধ লাগিয়ে দাড়ি গজায়। না হলে যে জাত থাকে না।
হায়রে, অনুকরনপ্রিয় জাতি। এখন দাড়িই ফ্যাশন। কারন, ব্রো ও দাদারা বলেছে। কৃষ্ণ করলে লীলা, কেষ্টা করলে বিলা।একবার এক দেশে এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে বলছে, “জানিস, দাসপাড়ায় নাকি বারো হাত পুকুরে তেরো হাত মাছ দেখা গেছে?” তো সেই বন্ধু বলল,
-“এই আজগুবি গপ্প বলছে কোন শালায়?”
-”তোর বাবায়।”
-”তাইলে কোনাকুনি থাকতেও পারে”-বন্ধুর উত্তর।
এমনই হয়। যখন ঘটনার কেন্দ্রভূমে পাওয়ারফুল কারো আবির্ভাব ঘটে, তখনি বাঙালী পাল্টি খায়। আমার আম্মার আরেকটা গ্রাম্য শ্লোক বলি-”শক্তের ভক্ত, নরমের যম, বলে গেছে কানা আজম।”
আর্ট গ্যালারী। পেইন্টিং প্রদর্শনী চলছে। তো এক দর্শক চাচা গ্রাম হতে এসেছেন। তিনি দেখতে দেখতে একটা ছবির সামনে কিছুক্ষণ দাড়ালেন। কি যেন ভাবলেন। হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছবিটাকে দেখলেন। তারপরই চিৎকার করে উঠলেন,
“ঠকবাজ, ঢপবাজ, প্রতারক, চিটার সব………………….. “ ইত্যাদি ইত্যাদি।
তো লোকজন তাকে কোনোমতে সামলে জিজ্ঞেস করল, “কী হইছে চাচা, চিৎকার করেন ক্যান?” ”টিকিট কাটার সোময় কইছে, তৈলচিত্তর পেরদরশোনি। এহন দেহি ছবিতে একটুও তৈল নাই। কই, তৈল কই?”
দর্শকরা তো পেরেশান। কোনোমতে চাচাকে সামাল দিলেন। এবার আসেন, গ্রাম্য চাষাভূষা বাদ দিয়ে শহুরে বাবুদের গল্পে ফিরি।
কিছুক্ষণ বাদে আরেক গ্যালারীতে আরেক শহুরে দর্শক। তার কপালে রোদচশমা, গলায় স্কার্ফ জড়ানো। আরেকটা ছবির সামনে দাড়িয়ে কী যেন বিড়বিড় করছেন। তাকে একজন জিজ্ঞেস করলেন,
“আপনি কি কিছু বলতে চান, বা জানতে চান?”
লোকটা বলল, “না, আসলে আমি ভাবছিলাম, শিল্পী এই বিমূর্ত চিত্রটি দ্বারা কী বোঝাতে চাইলেন? তিনি কি কোনো অপ্সরীর অবয়ব চিত্রায়িত করলেন? নাকি গ্রাম বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য ফ্রেমবন্দী করতে চেয়েছেন? নাকি এটি বুর্জোয়া সমাজের ভঙ্গুর কোনো অবক্ষয়?”
”জ্বি, মানে, ভাইয়া, এটাতো পেইন্টিং না। আর্টিস্টের পেইন্ট করার সময় রং তুলি মোছার তোয়ালে। ছবিটা বিক্রি হয়ে গেছে তো। শুধু তোয়ালেটা ফ্রেম মুছতে রেখে গেছে।”
৩. লুলাবাবার চিৎ হইয়া শুইবার যখন জাগে সখ:
আমার জনৈক মামা। গ্রামের এক হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক। মুশকীল হল তিনি গ্রাজুয়েট নন। তো কেউ যখনই জানতে চায়, “আপনার পড়াশোনা?” “জ্বে, আমি বিএ অবতীর্ন।”
যাহোক, তিনি তো সে যুগের গাঁয়ের মানুষ। যা ভাল মনে করেছেন, করেছেন। ভদ্দরলোকরা কীভাবে ম্যানিপুলেট করে দেখি।
আমার এক সুহৃদ। ধরি তার নাম গেদু মিয়া, ডাক নাম কাদের । মনে মনে দুরাশা জিএম হবে। মানুষ তাকে ’জিএম সাব’ বলে ডাকবে। কিন্তু কিছুতেই হচ্ছে না। তো শেষমেশ সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে নাম রাখল “GM Kader=Gedu Miah Kader।” ব্যাস, তাকে জিএম না ডেকে কই যাবে কে? কেউ পরিচয় জিজ্ঞেস করলেই সে বলে, “আমি জিএম কাদের”। মানুষ শুনে নড়ে চড়ে বসে।
একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম যেখানে ভারতের একটা প্রত্যন্ত গরীব গ্রামে গ্রামবাসীরা বিচিত্র সব নাম রেখেছেন নিজেদের ”প্রেসিডেন্ট, প্রাইম মিনিষ্টার, জজ সাহেব, চেয়ারম্যান, জিএম, পরিচালক, মাইকেল জ্যাকসন, চিফ জাস্টিস, মহারানী” ইত্যাদি। তো গরীব একজন জেলে হয়তো মাছ ধরতে গেছে।
কেউ জিজ্ঞেস করল, সে কোথায়? উত্তর আসে “প্রেসিডেন্ট তো গরু বাঁধতে গেছে” কিংবা “প্রধানমন্ত্রী ক্ষেতে কামলা দিতে গেছে” “চীফ জাস্টিস তো এইমাত্র মাটি কাটতে গেল” এরকম। গল্পটা কতটা সত্যি জানি না তবে একবারে মিথ্যা-এমনটাও জোর গলায় বলতে পারি না।
একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে র্যাঙ্ক, পদবী, পজিশন, ডেজিগনেশন ইত্যাদি নির্ধারনের প্যারামিটার হল-Hierarchy, span of control, unity of command, JD, Terms of reference, organogram, ranking ইত্যাদি। প্রতিষ্ঠানের আকার ও ধরন অনুযায়ী কী কী ডেজিগনেশনে কতজন মানুষ প্রতিষ্ঠানে থাকা উচিৎ সেটা নির্ধারিত হয় জটিল কিন্তু সুচিন্তিত কিছু এইচআ্রর প্রসিডিওরের মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়াগুলো মেনে চলে সব আধুনিক কোম্পানী। কারন এর মধ্য দিয়ে উক্ত পদ, কোম্পানী ও ব্যক্তি-তিনটিই অর্থবহ ও কার্যকর হয়ে ওঠে।
আর সেটা যদি না হয় তবে প্রতিষ্ঠানে কাতারে কাতারে উচ্চ পদবীধারী কর্মীর সংখ্যা বাড়ে অনিয়ন্ত্রিত হারে যাতে করে পদের সাথে কাজ, দায়ীত্ব ও কর্তৃত্বের সামঞ্জস্য থাকে না। ব্যক্তির পদবী তার জন্য কোনো অর্থবহ সম্মান বয়ে আনে না। সার্বিকভাবে হযবরল তৈরী হয়। এরকম অবস্থা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি-দু’জনের কারোরই কল্যান করে না।
৪. গরীবের দেশের রাখাল রাজা:
CEO নিয়ে একটা ফেসবুক পোস্ট যেটাতে একটা আফসোস ”ইন্ডিয়ার ছেলেমেয়েরা যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইও হবার স্বপ্ন দেখছে আর হচ্ছে, তখন আমাদের ছেলেমেয়েরা কোনো একটা বারোয়ারি দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল শপের জুনিয়র এসিসট্যান্টের চাকরীর জন্য মরছে”-এমনটা গভীর শোক সহযোগে ধ্বনিত হচ্ছিল, সেটাকে ফেসবুকে ঘুরতে দেখে, আমি একটু দ্বীমত পোষণ করে কয়েকটা লাইন লিখেছিলাম।
একটা আফসোস ধ্বনিত হয়-ইন্ডিয়ার ছেলেমেয়েরা যখন বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইও হবার স্বপ্ন দেখছে আর হচ্ছে, তখন আমাদের ছেলেমেয়েরা কোনো একটা বারোয়ারি দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল শপের জুনিয়র এসিসট্যান্টের চাকরীর জন্য মরছে। আমি একটু দ্বীমত পোষণ করছি এটার সাথে।
কে বলল, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা সিইও হবেনা? আমাদের দেশে CEO, CFO, COO, CHRO, CMO, President, Vice President আছে হাজার হাজার। এমনকি আমেরিকা, জাপান, জার্মানি বা অষ্ট্রেলিয়াতেও এত সংখ্যক সিইও নেই। প্রমান চান? ফেসবুক, লিংকডইন, টুইটার, অফিসের নেটওয়ার্ক, প্রফেশনাল প্ল্যাটফরম বা আরো আরো প্রতিষ্ঠানের সাথে চলমান কার্যক্রমের সুবাদে প্রতিদিন হাজার হাজার CEO, CFO, COO, CHRO, CMO’র দেখা পাচ্ছি। যারা সত্যিকারের CEO বা যাদের প্রতিষ্ঠানের সত্যি সত্যিই একজন CEO থাকার মতো অবস্থান আছে বা যারা সত্যিকারেই CEO’র সকল স্ট্যাটাস বজায় রেখে CEO, তারা বাদে বাকিদের অবস্থা দেখে হাসব বা মরব বুঝি না।
আমার দেখা কিছু CEO’র ধরন: সাইন সিল ব্যানার বানায়-এমন প্রতিষ্ঠানের CEO যার কর্মী সংখ্যা ৩, টার্নওভার বার্ষিক ১০ লাখ টাকা, ফায়ার এক্সটিংগুইসার বেঁচে-এমন প্রতিষ্ঠানের মালিক কাম CEO যার অফিস বা দোকানের আকার ১৫০ বর্গফুট আর কর্মী বলতে তিনি নিজে ও তার ছোট শালা। ম্যারেজ মিডিয়ার CEO দেখলাম সেদিন। রেন্ট এ কার প্রতিষ্ঠান-তার CEO ও চেয়ারম্যান একই ব্যক্তি। লাল সিলেটি বালু বিক্রি করেন আশুলিয়ার কোয়ারি হতে। তারও দেখলাম CEO আছেন একজন যার কাজ হল টঙে বসে বালির গাড়ির হিসেব করা আর লুঙ্গির ট্যাকে টাকা রাখা। দয়া করে ভুল বুঝবেন না। ওইসব প্রতিষ্ঠানের সিইও বা সিওও হওয়া নিয়ে কোনো সমালোচনা করছি না। আমি শুধু বলতে চাইলাম, ফেবুতে CEO নিয়ে যে আক্ষেপটা ঘুরছে সেটা অবান্তর। বরং আমাদের এখানে সিইও বা সিওও হবার সবরকম উর্বর ক্ষেত্র প্রস্তুত। আর অলরেডি লক্ষ লক্ষ CEO পায়ে পায়ে ধাক্কা খাচ্ছে এখানে। সুন্দর পিচাই বা সত্য নাদেলাদের লজ্জা পাওয়া উচিৎ।
৫. বীর ভোগ্যা বসুন্ধরা:
বীর ভোগ্যা বসুন্ধরা। বিজয়ীর মিলাদ খেতে সবাই চায়। সবার সময় হয়। পরাজিতের দায় কেউ কবুল করে না। পরাজিতের খোঁজ কে রাখে? সফল পুরুষের হাতটি কচলে দিতে সবাই হুড়োহুড়ি করে। ব্যর্থ’র চোখের জল কে মোছাতে চায়? তাকে চিনত-এটাও তো কেউ কবুল করতে চায়না।মানুষের ন্যাচার হল, সে সবসময় মানুষের সুখের ভাগ নিতে চায়। দুঃখের ভাগ কেউ নিতে চায় না।
আপনার সুদিনের কোনো খবর-প্রোমেশন, নতুন চাকরীর খবর দিন। সবাই বাহবা, কংগ্রাটস, সাবাস দিবে। কিন্তু দুর্দিনে আর খবর নেই। চাকরী চলে গেছে-এমন একটা পোষ্ট দিন। দেখবেন, আপনার পোষ্ট কেউ ভিউ পর্যন্ত করবে না। পাছে আবার তাতেও কিছু করার দায় চাপে। বিশ্বাস না হলে মাঝে মাঝে একটু চেক করে দেখতে পারেন।
আজকে যখন আজমান সাহেব জিপির সিইও হয়েছেন, তখন বসুন্ধরার তাবৎ মানুষের পুতিক্রিয়া:
সিলোটি: তিনি সিলেটের সন্তান। আমরা গর্বিত।
জাতীয়বিশ্ববিদ্যালইয়ান: তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমরা উজ্জিবিত।
আবুজর গিফারিয়ান: আবু জরের সবাই তার ভাই। দেখলেন তো, আবুতে পড়েও সিইও হওয়া যায়।
আইবিএ: না না না। তিনি তো আইবিএর প্রোডাক্ট। কোথাকার কোন ডেঙ্গুজ্বর না আবু জর তাকে দাবী করলে হবে না তো। আইবিএ আজকে ধন্য হল।
উড়োজাহাজ আলকাতরার সেলস ম্যানেজার: একসময় আমি তার সহকর্মী ছিলাম। ভাবতেই “মাই চেষ্ট বিকাম ব্রেস্ট”।
শনির আখরা ভাড়াটিয়া সমিতি: তিনি শনির আখড়ায় আমাদের প্রতিবেশি এটা ভাবতেই ভাল লাগে।
গুলশানের অফিসযাত্রী: একদিন তার পাশেই দাড়িয়ে টঙের চা খেয়েছিলাম। ইশ, একটা সেলফি কেন যে তুলে রাখিনি!
গোটা বাংলাদেশ ও প্রথম আলু: এই প্রথম একদম জেনুইন দেশী সিইও। অভিনন্দন।
এখন মনে করুন, আগামি কাল বিটিআরসির মামলায় গ্রামীন ফোন ১২০০ কোটি টাকা জরিমানার দাবী মেনে নিয়ে শোধ দিল। কিংবা ৩০০ কোটির ভ্যাট ফাঁকির দাবী প্রমানিত হল। কিংবা জিপি আবার তার কর্মী ছাঁটাই করল। অথবা, সুখন ভাইকে ব্রান্ড এম্বাসেডর করল। কিংবা মুজিব শতবর্ষের আয়োজনের ফান্ডে ১০ কোটি টাকা স্পন্সর করল, কিংবা,….. রাষ্ট্রপতি বরাবর (নিয়ম অনুযায়ীই) নোটিশ পাঠালো। তারপর………
সবাই পুরোনো স্টাটাস হাইড বা ডিলিটে ব্যস্ত। রাজনৈতিক দলের মতো করে বলবে, “তিনি আমাদের দলের কেউ না। তিনি কখনোই আমাদের দলের কেউ ছিলেন না। আমরা তাকে চিনিও না।?
শুভেচ্ছা আজমান স্যার। আমি আপনাকে চিনি না। আপনিও আমাকে চেনার কোনো কারন নেই। আপনার হাত ধরে জিপি মাদার তেরেসার মতো হয়ে যাবে সেই আশা করি না। আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত যোগ্যতায় এই দারুন অর্জনের জন্য অভিনন্দন। একজন সাধারন নেটিজেনের পক্ষ হতে। কোনো বিশেষ অতীত লিগ্যাসীর জন্য নয়।
বি.দ্র. এই সেগমেন্টটা লেখার অনেক দিন পরে এই বাংলা ভূখন্ডে, এই দেশীয় সি.ই.ও জন্মের আনন্দে উদ্বেলিত ভূখন্ডে দুটো ওলটপালট ঘটে যায়, যা পাদটিকা হিসেবে যুক্ত না করলেই নয়। বাংলা-বিহার-উরিষ্যার দু’জন খাঁটি দেশীয় সি.ই.ও’র একজন তার প্রতিষ্ঠান হতে অন্যায়ভাবে বিতাড়িত হয়ে নিজেই তাদের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছেন। আবার, তার জাতি ভাই আরেকজন দেশীয় সি.ই.ও তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শ’তিনেক স্বজাতিকে বিতাড়িত করবার পরে তাদের দেনা-পাওনা না দিয়ে উল্টো তাদের ঠ্যাঙাবার জন্য পুলিশ ভাড়া করে এখন বিপুল দুয়ো ধ্বনির মালিক। দেশীয় জিনিসে শতেক ঝামেলা।
#story #desire #dream #classstatus #classconflict #classdiscrimination #middleclasslife #nakedlife #thuglife #poverty #rich #ambiguity #definitionbizzer #Defining #inferioritycomplex #blankboast #admiration #pampering #praise #credentials #winnertakesitall #hero #hypocrisy #hypocritenation#pretending #Bluffmaster #position #designation #status #projection #beingCEO #showoffatitsbest #exhibitionism #TRPaholic #fameseeker #attentionseeker #position #status