ডেলিকেটদের জ্বালা:
’নাক উঁচা’ নামে বরিশালীয় বাংলায় একটি শব্দবন্ধ রয়েছে। না, উন্নত বা উচ্চ নাসারন্ধ্রধারীদের সাথে এঁদের গুলিয়ে ফেলবেন না।
এই ‘উঁচা’দের নাসিকাখানা সিনাই পর্বতের চুড়ার মতো খাড়া মোটেই নয়। আসলে, ইহাদের টেস্ট বা অহংবোধখানা বড্ড উচ্চমার্গীয়। যেমন ধরুন, ইহারা পারলে প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদকেও লেখক হিসেবে গোণায় ধরেন না। বিশুদ্ধ রাগ সঙ্গীত অথবা ওস্তাদ বল্লাল সেনের সঙ্গীত ব্যতিত ওনারা শ্রবণ করেন না।
ওনারা অনেকটা হলেন, ওই যাকে আপনারা ক্লাসিক, ভাবিস্ট বা ‘সেই’ বলে অভিহিত করে থাকেন। এই বঙ্গীয় ব-দ্বীপে যেমন করে ‘আঁতেল’ নামক শব্দটি ভুলভাবে নেতিবাচকতায় পর্যবসিত হয়েছে, তেমন করে, নানা কারণেই ’নাক উঁচা’ও বঙ্গল্যান্ডের আমজনতার কাছে নেগেটিভ ইমেজেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
তবে আমার কাছে নাক উঁচা’র আরেকটি positive মানে আছে, সেটির নাম ডেলিকেসি।
হ্যা, সূক্ষ্ণপন্থী মানুষরাও নাক উঁচা হন-মনে রাখবেন। আশা করি, ডেলিকেসি বিষয়টা আপনাদের বুঝিয়ে বলতে হবে না। যদিও জানি, বাঙালীরা আবার ডেলিকেসিরও একই তরিকায় ভুল অর্থ করে। ডেলিকেট বা সূক্ষ্ণতাপন্থী মানুষদের এরা বলে-’বিটিষ’। অধুনা একদল আবার তাদের নাম দিয়েছে ‘সুশীল’।
নাকখানা উঁচু হবার মতো ক্লাসি হতে হলে অনেক কিছু দরকার হয়। এমনি এমনি তো আর একদিনেই নাক বা টেস্ট এমন উঁচু হয়ে পড়ে না। তবে সবচেয়ে বেশি যেটি দরকার, সেটি হল ম্যাচিওরিটি। মানুষ যত ম্যাচিওরড হয়, ডেলিকেসি তত বাড়ে। যত বয়স হয়, যত বেশি অভিজ্ঞতা বাড়ে, ডেলিকেসি তত বাড়ে, নাকখানা ততই উঁচু হয়।
এই নাক উঁচা মানুষেরা নিরব হন, স্বল্পভাষী হন, উচ্ছাসের বাড়াবাড়ি মুক্ত হন, হাইপ মুক্ত হন। তারা ভাইরালে মাতেন না, ট্রেন্ডে চ্যাতেন না। রুচী, পছন্দ, বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গী, সিদ্ধান্ত-কোনো কিছুতেই এঁরা সহজে ও দ্রুত আপ্লুত হন না, গলে যান না, ঢলে পড়েন না। এঁরা সময় নেন।
এই নাক উঁচারা স্বাভাবিকভাবেই অমিশুক হন, অসামাজিক তকমা পান। এঁরা খুব স্বাভাবিকভাবেই সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে থাকেন। এঁদের বন্ধুমহল হয় থাকেই না, থাকলেও অতি সীমিত; সমাজে, পরিবারে, রাষ্ট্রে এনারা খুব একটা আদৃত হন না। পারতপক্ষে মানুষ এঁদের হতে দূরে থাকতেই পছন্দ করে। সময় নিয়ে মিশলে, একসাথে উঠলে-বসলে, সময় নিয়ে ইনটারেকট করলে এঁদের মনের থই পাওয়া হতে শুরু করে এদের হতে প্রজ্ঞা ও বোধের রস আস্বাদন করা সম্ভব হলেও, সেটা পেতে গিয়ে সারাক্ষণই ‘কখন কী ভুল হয়ে যায়, পান হতে চুন খসে কখন যে ভ্যাজাল লাগে’-সেই আশংকায় সাধারনরা এই অসাধারনদের হতে দূরে থাকেন। তাছাড়া বাঙালরা অন্য বাঙালের ”ভাব নেই তার কুলোপণা চক্কর” হজম করতে অভ্যস্ত না।
আপনি যদি নিজেকে ক্লাসি বা নাক উঁচা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন, তাহলে একা থাকবার জন্য প্রস্তুত হোন। কারন নাক উঁচারা নিজেরাও যেমন বন্ধু নির্বাচনে বা করণীয় নির্ধারণে বড্ড বেশি খুঁতখুতে, তেমনি করে, ক্লাসিক ও ডেলিকেট আপনাকেও মানুষ দূর হতে ঘৃনা করবে, হিংসা করবে, দূর হতেই বিদ্বেষ ছুড়বে; কেউ বা আবার আপনাকে ভক্তিও করবে-তবে সেটিও, ওই দূর হতেই। কী অদ্ভুৎ না শুনতে, আপনাকে মানুষ আপনার ডেলিকেসির জন্য শ্রদ্ধাও করছে, আবার সেই ডেলিকেসিই তাদের আপনার কাছে আসতে দিচ্ছে না? আপনার ডেলিকেসি আপনাকে অন্যদের হতে বিচ্ছিন্ন রাখবে। দূর হতে সবাই শ্রদ্ধার অঞ্জলী দিলেও কাছে আসবে না নানা কারনেই।
ডেলিকেট মানুষদের সাথে চলতে, উঠতে, বসতে মানুষ অস্বস্তিতে ভোগে, কার্যত হয়তো ভয়ই পায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গড়পড়তা জীবনবোধে গড়ে ওঠা গড়পড়তা মানুষেরা ডেলিকেট বা নাক উঁচা আঁতেলদের সঙ্গ দিতে বা নিতে পছন্দ করে না। আমাদের সমাজ সিংহভাগ গড়পড়তা ‘তেঁল’দের নিয়েই গড়া। সিংহভাগের জীবনবোধই “দুনিয়াটা মস্ত বড়, খাও, দাও, ফূর্তি করো”-টাইপের সরল। নিজেদের সাথে অমিলের কারণে, চিন্তার গভীরতার অভাবে ভোগা মানুষেরা তাই ‘আঁতেল’দের হিংসা করুক, ভালো বাসুক-সবটাই দূর হতে।
সমস্যাটা ঠিক নাক উঁচাদের, নাকি নাক নিচাদের-সেই ভেদ আমি করতে পারব না। তবে এটা জানি, এটি একটি কমপারেটিভ চয়েজ। আপনি যদি নাক নিচা বা গড়পড়তা হয়ে গড়পড়তা একটি জীবনবোধের মালিক হয়ে মরতে চান, সেক্ষেত্রে আপনি একটি গড়পড়তা জীবন পাবেন, বন্ধুবান্ধব পরিবেষ্টিত হয়ে, ব্যপক আদৃত হয়ে মরবেন। সেক্ষেত্রে জীবনটা নেহাতই কামানা-পাকানা-খানা-পাখানার নামান্তর হবে।
আর যদি নাক উঁচা’দের দলে যোগ দেন, তাহলে বর্জন, উপেক্ষা, নিঃসঙ্গতায় ভুগবেন-সেটাও যেমন মানতে হবে, আবার আপনি কিছু বিরল সম্মান, সমীহ, ভালোবাসা পেলেও পেতে পারেন। দিন শেষে, বেলা শেষে আপনি সুশীল, আঁতেল ও বিরক্তির মূর্ত প্রকাশ, অথচ সমীহ মিশ্রিত একটি ‘ভাবিস্ট’ ক্যারেক্টার হয়ে মরবেন। চয়েজ আপনার।
খঁয়ের খাঁ, খাতির পা:
ঘাটের মরা ও যমের অরুচী নামে দুটো বঙ্গশব্দ আছে। আমাকে আপনি ওই দুটোর পারফেক্ট উদাহরন ধরে নিতে পারেন। আমার লেখার মধ্যে অনেকবারই আমি বলেছি, সমাজ, বন্ধুসমাজ, ভার্চুয়াল সমাজ মায় পাড়ার মুদী দোকানদার-কারো সাথেই আমার সখ্য হয় না। পাড়ার মুদী দোকানদার কিংবা বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতার সাথে মহল্লার সব পুরুষ বিশেষত ‘নিও খালুজান’ টাইপের পুরুষদের খাতির থাকে। আড়তে বড় ইলিশ আসলে ফোন আসে, “স্যার, খালু, মামা, মেঘনার ইলিশ আইছিল। আইবেন নি? নাকি বাসায় হাডাই দিয়াম?”
আপাদের সাথে তো কথাই নেই। আপা দোকানে গেলেই দোকানদার পেপসি অর্ডার করে, এসির হাওয়া আরও ঠান্ডা করে দেয়। বিনিময়ে ব্যবসায়িক প্রাপ্তির ফাঁকে ফাউ পাওনা হল আপার জড়ানো জড়ানো বোলে কিছু কাচ্চা মিঠ্যা বাতচিত। আমার সাথে এই জিনিসটা হয় না। আলুর দোকানদারও পোছে না। ১০ কেজি আলু চাইলেও মাথা ঘুরিয়ে দেখে না। সে ব্যস্ত থাকে পাশে দাড়ানো মামাকে ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচ গছাতে। মুড়ির দোকানে মুড়ি চাইলে দোকানদার ৩ মিনিট পরে হাই তুলে জানতে চায়, কয় পোয়া দিমু। সবজির দোকানে দাম কমাতে বললে ‘একদাম’ বলে মুখ ঝামটা দিয়ে সবজি আবার ঝুড়িতে রেখে দেয়।
অনেকবারই এমন হয়েছে, টমেটো কিনতে গিয়েছি। দোকানদারের ঝুড়ি ভরা টমেটো। সে বিক্রি করবে না। করবে না, তো করবেই না। অথচ একটু পরেই পাশে দাড়িয়ে দেখি, সেই টমেটোই আরেক আপু নিয়ে যাচ্ছেন। ভবিতব্য।
বিখাউজ নামে একটা শব্দ আছে আঞ্চলিক বাংলাতে। ইংরেজিতে রোবটিক, বোরিং, মনোটোনাস, ডিসগাস্টিং বলে সাহেবী কিছু তকমা আছে। বাংলায় অবশ্য আমরা এত পালিশ ভাষার ধার না ধেরে সোজাসুজি খাচ্চর, খাইশটা, বিখাউজ, বাতুল, আজারিয়া-ইত্যাদি শব্দ দিয়ে রাগ ঝাড়ি।
আমি আর আমার পত্নি নিটোল প্রায়ই একটা বিষয় নিয়ে আমাদের কমোন বিষ্ময় প্রকাশ করি। সেটা হল, কেন যেন আমরা যেখানেই থাকি, সেখানকার বাড়িওলা, প্রতিবেশী, আর স্থানীয় দোকানদার বা বাসার দারোয়ান এমনকি বাজারের বাঁধা দোকানীদের সাথে ঠিক জমে ওঠে না।
হয়তো দোকানে গিয়েছি বাজার করতে। দোকানী আমাদের পাশে দাড়ানো মহিলাকে নিজের এক্স গার্ল ফ্রেন্ডের খাতির দেখিয়ে রসিয়ে রসিয়ে কথা বলছে। দোকানের তাবৎ জিনিস পারলে তার পায়ের কাছ হাজির করে। দুজনে কী হাসি মুখে শপিং/সেলিং সারছে। কিন্তু আমাদের সাথে তার ছিঁটেফোঁটাও নেই। বাজারের ফর্দ হাতে নিয়ে বোয়াল মাছের মতো হাই তোলে। জিনিস চাইলে এমন মরার মতো তাকায়, ঢিমে তেতালা করে দেয় যেন, তার সম্প্রতি পাইলস সার্জারী হয়েছে।
বাসার দারোয়ান সব বাসার ডিমের প্যাকেটটাও পারলে বাসায় পৌছে দেয়, গেটে ঢোকার সময় গেট টেনে খুলে দেয়। অথচ আমাদের দেখলে নিচু হয়ে নখ খোঁটে। প্রতিবেশীদের সাথে মানুষের দেখি গলায় গলায় খাতির। নিয়মিত কলাটা, মুলাটা বিনিময় হয়। সামান্য ভাতুয়া শাক রান্না হলেও এক ভাবি আরেক ভাবিকে না দিয়ে খায় না। কিন্তু আমাদের সাথে বিমাতা। কেন ঘটে এমন?
ওই যে বললাম, বিখাউজ। তবে সেটা আমরা না বাকিরা সেটা হল প্রশ্ন। প্রতিবেশি, দোকানদারদের খাতির পাবার জন্য আর যা যা লাগে লাগুক, একটা কমোন জিনিসের ব্যাপক ব্যবহার লাগে-সবার প্রতি মধ্যবয়সী সুন্দরীদের বা সুন্দরীদের প্রতি পুরুষের ঢলে পড়া/গায়ে পড়া বা প্রশ্রয়পূর্ন হাসি আর আদুরে গলা। ওটা পারি না বলেই কি খাতির জমে না? নাকি আমার প্রতিবেশী বা মেটরা আমার বাবার জানাযায় আসেননি- তাদের প্রতি স্বাভাবিক বিতৃষ্ণা ভুলতে না পারার আমার নিজস্ব ব্যর্থতা?
প্রায় ১৮ মাস পরে শনিবার, নিজের উইকএন্ডে এলাকার গরুর গোসের দোকানে গিয়েছি। লকডাউনে বন্দী স্ত্রী গরুর শীনার মাংস দিয়ে এক থালা গরম ভাত খাবার ইচ্ছা পোষণ করেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথা কেউ না শুনুক, ঘরের হোম মিনিষ্টারের কথা ফেলে দেবার মতো কলিজা খোদা কোনো পুরুষ মানুষকে দেননি। যাও দুয়েকজনকে দিয়েছিলেন, তারা আবার সেটা বাসর রাতে খুলে পাগড়ি আর শেরওয়ানীর সাথে কাবার্ডে ঢুকিয়ে রেখেছেন। যাহোক।
দোকানদার আধাপরিচীত। এলাকায় তিনটি দোকান তার। একটি ভ্যান হুসেন গ্যালারি, একটি ফুটারি ক্লাবে। আরেকটি মাংসের। প্রতিদিন বিকেলে সে ঘরের গরম ভাত খেয়ে লুঙ্গীর খুট কোমরের ওপর তুলে মিরপুরে ২ এর রাস্তায় রাস্তায় সমাজ উদ্ধার করে। মোলাম গোসের আশায় আর বেলা উঠলে ভীড়ে যাবার ভয়ে সকাল ৭ টায় গিয়েছি। তাও অফিস ডে। মানুষ থাকার কথা না। তাও দেখি ৩ জন হাজির। মূল দোকানদার তখনও গদীতে আসীন হননি। কর্মচারিরা গোস কাটা বেঁচা করছে।
আমি এমনই বেকুব পুরুষ, শীনার গোস, চাপের গোস, গ্রীবার গোস আলাদা করে চিনি না। কর্মচারীকে বললাম, শীনা আছে? থাকলে সেটা হতে ১.৫ কেজি গোস দিন। ”নাই, বেঁচা অইয়া গ্যাছে।”-তার দ্রূত উত্তর। আমি বেকুব হলাম। কিছুক্ষণ বুভুক্ষুর মতো কসাইদের কাটাকুটি ফ্যালফ্যাল করে দেখলাম। পাশেই এক ভদ্রলোক জানালেন, শীনা আছে, ওই যে, সামনেই রাখা। আপনি কায়দামতো চাপ দিলেই দিবে। আমি আবার ধড়ে পানি ফিরে ফেলাম আর সামনে রাখা শীনা না চেনায় কিঞ্চিত লজ্জিত হলাম।
ততক্ষণে মূল দোকানদার রাজাবাহাদুর এসে পড়েছেন। তাকে ধরলাম। রাজবাহাদুর আমাকে দেখে একটা রহস্যময় হাসি দিলেন। কর্মচারী দেখলাম, তার ইশারা পেয়েই সামনের সেই গোটা শীনা হাজির করলেন। অধম কেজি দেড়েক গোস নেবে শুনে সেই দেড় কেজি কাটতে ১.৫ ঘন্টা লাগালেন। তবুতো পাইলাম, “মনে হইল, আমি ইহাকে পাইলাম।” ঘাটের মরা বোধহয় একেই বলে। দোকানদার, কনডম বিক্রেতা, বাসার দারোয়ান, বাড়ির বাড়িওয়ালা, ব্যাংকের কাউন্টারের ক্যাশিয়ার, বাদামওয়ালা, কাচ্চির দোকানের পরিবেশক, টঙ দোকানের পিচ্চি, পাড়ার মসজিদের ইমাম, এমনকি ভ্যানে করে মুরগী বেঁচে যারা, তাদের সাথেও খাতির তৈরী হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তারা মানুষ বুঝে খাতির করে। আপনি যতই “হালা হুমন্দি” বলে গালাগাল না করেন, আপনি যতই সবসময় নতুন নোটগুলো দেন, আপনি যতই বেশি দরাদরি না করা মানুষ হন না কেন, আপনি যতই সবসময় তাকে ’সাহেব’ বলে ডাকেন না কেন-তাও খাতির হবে না। সেই খাতির সে বেঁচে দেয় ঠোট বাঁকিয়ে কথা বলা ভাবিটাকে, সেই খাতির সে সস্তায় বেঁচবে পাশের বাসার আব্বাস মিয়াকে, যে বর্ষার দিনেও বাজারে ঢুঁ মেরে চার হালি ইলিশ নেবে, সে খাতির করবে ম্যাট্রিক ফেল আপনার প্রতিবেশী ছগির মিয়াকে, যে লকডাউনের মধ্যেও চার কূড়ি তাল শাঁস কিনবে।
শুনতে খারাপ লাগবে, তবু বলি, আজকাল বন্ধু হতেও যোগ্যতা লাগে, কোটা লাগে, কোরাম লাগে, হ্যাডম লাগে-পকেটের, সকেটের। তা না হলে কেউই পুঁছবে না। তেলাপোকা আর ডাউনোসরের বন্ধুত্ব বাবা আদমের যুগে হলেও এই জুকারবার্গ যুগে সেটা হবার নয়।
পাশের বাসার মোন্তাজ মিয়াকে তাই বাসার দারোয়ান সালাম দিয়ে ডাকবে ”মমরেজ ছ্যাড়”; আর আপনি ঘনশ্যাম বসু, আপনার অফিসের বড় বাবু হলেও তার কাছে “ঘনশু”।
ক্ষুদ্রের অস্পৃশ্যতায়:
চন্দ্র নিশীতে ঢাকা ছিলাম। পরিবর্তিত বানানে ঈদ ঈদ হয়ে গেলেও অদ্যও ঢাকায় আছি। খুব হাউশ করে নয়। পরিপ্রেক্ষিত আছে। সেই পরিপ্রেক্ষিত আমার নির্ধারিত নয়। আমার হাতে সৃষ্ট নয়। যে বা যাহাদের সৃষ্ট, তাহারা হয়তো কখনোই জানিবেন না, যে তাহারা আমার ও নিটোলের জীবনে কী একটি মাইলফলক প্রশ্নচিহ্নময় ঈদ স্থাপিত হইতে দিলেন। কতজনকে কতভাবে তাহারা আঘাত দিলেন, কতটা পঙ্কিলের জন্ম তাহারা দিলেন তাহার খোঁজ জীবনেও হয়তো তাহাদের নিকৃষ্ট মানের ব্রেইনে ঢুকিবে না।
একজন মা, একজন স্ত্রী, কিছু পরিজনকে তাহারা ইদের পরিপূর্নতা হইতে বঞ্চিত হবার প্রেক্ষিত কী নিষ্ঠূরভাবে সৃজন করিলেন তাহা তাহাদের ক্রূঢ়, হিংস্র, প্রতিশোধন্মত্ত ও নিম্নশ্রেনীর ব্রেইনে কখনো প্রবেশ করিবে না। সেই প্রত্যাশাও করি না।
আপনারা মাস্তি করিতে থাকুন। খলবল করিয়া হাসিতে হাসিতে সদলবলে ঈদ উদযাপন করিতে থাকুন। আমি প্রতিহিংসা পরায়ন নহি। অভিশাপ দিই না। কিন্তু ঈশ্বর তাহার বিচার নিজস্ব নিয়মে করিবেন। তাহা জানিয়া রাখিবেন ওই পরিপ্রেক্ষিতের সৃষ্টিকর্তারা। যাহা হউক, ঈদ পূর্বরাত বা চন্দ্রনিশীতে বাহির হইয়াছিলাম, চন্দ্রনিশীতে হাউশের ঢাকা শহর কেমন দেখিতে হয় তাহা সচক্ষে দর্শন করিতে।
কতজনকে কতভাবে কতরূপে দেখিলাম। যথারীতি স্টেডিয়ামের সামনের পান বিক্রেতা চাচার হইতে দুই খিলি পান দুইজনে খরিদ করিয়া চিবুতে চিবুতে রাস্তা মাপিয়া কে্ক্রাফটে ঢুকিলাম। দোকানের কর্মীরা বহুদিন হইতে আমাদের চেনে। তাহাদের লাগিয়া কিঞ্চীত উপহার সামগ্রী লইয়া গিয়াছিলাম। তাহা বাটিয়া দিলাম। উহারা ঠিক কীরকম খুশি হইল তাহা বাক্যে প্রকাশ বৃথাচেষ্টা।
চন্দ্রনিশীথে সবাই যখন পরম পুলকে চানরাতের বাজার করিতে মাদকাসক্ত, তখন এই হতভাগা বিক্রয়কর্মীরা অসহায়ের মতো ক্রেতার মনোরঞ্জনে ব্যস্ত। তাহাদের বাড়ি ফেরা, শপিং করা, কিছু কেনার কোনো সুযোগ হয় নাই রোজার ১ মাসে। কারন ছুটি নাই কোনোদিন। তারপরে চন্দ্রনিশীথে রাত ২টায় ছুটি পাইয়া তাহারা বাড়িতে রওনা হইবে। কখন তাহারা মায়ের জন্য শাড়ি কিনিবে, বোনের জন্য একটি লাল জামা-কেহ জানে না। কেহ জানিতে চায় না। তাহারা হাসিমুখে ব্যাগ তুলিয়া দেয় ক্রেতার হাতে।
মানুষগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ পরিচয়ে একটা হৃদ্যতা হইয়া গিয়াছে। তাই তাহাদের সহিত একখানা ছবি তুলিবার লোভ সামলাইতে পারিলাম না। জীবনে যত ছবি তুলিয়াছি, এই ছবিখানা তাহাদের মধ্যে একখানা বিশেষ হইয়া থাকিবে।
যাই হউক ঢাকায় আছি। বহু বর্ষ পরে। ইদের দিবসটি যাহাই হউক কোনোক্রমে কাটাইয়াছি। প্রথমদিনের আনন্দ নিশীথ (ঈদ রাত) আমি আর সহধর্মিনি মিলিয়া রাস্তায় রাস্তায় হাঁটিয়া সময় কাটাইয়াছি। ঈদ বলিয়া কোনো আলাদা ঘটনাপ্রবাহ তো জীবনে আসিল না কভুও।
তাই সুহৃদ, বন্ধু (!), বান্ধব (!), শুভাকাঙ্খি যদি কেহ মিরপুর লাভ রোডের মরিচ চা আস্বাদন করিতে আসিতে চান, তো আসিতে পারেন রজনীকালে।
#eidcelebration #moonnight #relationship #selfish #envy #relative #HypocriteSociety #friendship #hypocritenation #hypocrisy #delicacy #classic #intellectual #comparativechoice #relativity #choosy #selective #isolation #companion #obscure #lowercast #publicfigure #crowdlearning #cloudlearning #CommunityLearning #OpenLearning #favour #goodrelationship #socialization #intimacy #flattery #relationshipwithneighbours #socialinteraction #pampering #সামাজিককোষ্ঠ্যকাঠিন্য