Skip to content

একজন সংসারঅজ্ঞ মধ্যবিত্তের হঠাৎ উত্থান

  • by

তারিখ: ১৩ মে ২০১৬ স্থান: মিরপুর-১ নং বাজার

অকুস্থল: মুরগার দোকান দর্শক: গুটিকয় মধ্যবিত্ত

খেলোয়াড়: ৫ জন:

আমার পত্নী নিটোলের ধারনা আমি বড্ড আলাভোলা টাইপের সংসারঅজ্ঞ পুরুষ মানুষ যিনি দোকানদার পাঙ্গাস মাছকে বোয়াল বলে চালিয়ে দিলেও খুশি মনে বগলদাবা করে বাসায় ফিরবে।

তো শুক্রবার নিটোলের সাথে গেলাম জরুরী বাজারঘাট করতে। মুরগার দোকানে যেতেই রাজকীয় খাতির। আসেন আপা, সাথে কে ভাইয়া! তারা ১নম্বর বাজারের রীতির বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে একটা চেয়ার দিলেন বসতে। চা খাব কিনা তা সাধলেন। আমি মুগ্ধ। ৪টা মুরগী কেনা হল। ৭ কেজি ৮শত গ্রাম ১৫০ টাকা করে ১১৭০ টাকা। কিনে তা হাতে প্রসেস করতে পিছনে পাঠালো। আমি বসে লোকজনের বাজার কেনার (আসলে বাজার করা) ধুম দেখতে লাগলাম।

আমার সামনে একলোক গোটা দশেক দেশি মুরগী, ৪ ব্যাগ মাছ সাথে এক হালি ইলিশ এক মিন্তির ঝুড়িতে তুলে দিয়ে ঘর্মাক্ত মুখে গর্ভের (গর্বের) হাসি দিয়ে চলে গেল। প্রসেস শেষে মুরগী একটা পলিথিনে করে মাংস দিয়ে গেল। হাতে নিয়ে হঠাৎ কী মনে হল বললাম, আরেকবার মাপুন তো। মুরগা বিক্রেতা তো আসমান হতে পড়ল। প্রসেস করা মাংস কি কেউ মাপে? আমি বোধহয় সেই আতেল যে এটা করল।

মেপে দেখা গেল ৭.৮ কেজি হতে আছে ৫.৬ কেজি মানে ২.২ কেজি ওয়েস্টেজ। আমার তখনো কিছু মনে হয়নি। মাছ কিনতে গিয়ে সেখানকার একটা মিটারে তুলে দিলাম। দেখি হয়ে গেছে ৪.৬ কেজি মানে ৩.২ কেজি নাই। দ্বিতীয় মাপের চেয়েও ১ কেজি কম। আমার সন্দেহ আগেই হয়েছিল। মাছওলার সাথে কথা বলে শিওর হলাম। আমি যতটা জানি প্রতিটা ১.৫ কেজি স্ট্যান্ডার্ড সাইজ মুরগীতে ২২৫ গ্রামের ওয়েস্টেজ হল মোটামুটি স্ট্যান্ডারড। আমি পুরো মুরগা নিয়ে আবার ব্যাক টু ভাইয়ার দোকান। আমাকে দেখেই তো ভাইয়ারা বুঝে ফেলছে কাহিনী।

তবু বলল কী হয়েছে? মুরগী আবার মাপালাম। এবার ৪.৮। আমি গলাটা যথাসম্ভব মধুর কিন্তু পুরুষালি গম্ভির করে বললাম, মুরগীতে চুরি করেছেন তা নাহলে আপনার এখানে প্রসেসের আগে ৭.৮, প্রসেসের পরে ৫.৬ আর অন্য দোকানে ৪.৬ আর আবার আপনার এখানে ৪.৮। আমার প্রতিটা মুরগীতে ৮০০ গ্রাম ওয়েস্টেজ কেমন করে?

ওরা বুঝে ফেলছে আমি ওদের কারসাজি বুঝেছি। তাড়াতাড়ি বলল না ভাইয়া প্রথমে তো ৭.৮ না, ৬.৮ ছিল। আমি বললাম তাহলে ৭.৮ কেজির দাম ১৫০ করে ১১৭০ কেন রাখলেন? তাড়াতাড়ি হিসাব করে বলল, স্যরি, ১ কেজি বেশি রাখছি ভুলে। ১৫০ টাকা ফেরত দিতে ব্যকুল হয়ে গেল।

আমি বললাম, না, আমি নিজে দেখলাম পাল্লায় ৭.৮ দেখাল। আপনি নিজে ক্যালকুলেটর টিপে ১১৭০ দাম চাইলেন। সুতরাং এটা ভুলে হয়নি। চুরি হয়েছে। ইত্যাদি ইত্যাদি………..। চারপাশে ভীড় জমে যাচ্ছে। তারা নানারকম প্রশ্ন করতে লাগল। দেখে তারা একটা রফা করতে ব্যাকুল হল। বলল কী চান?

আমি মাংসটা হাতে দিয়ে বললাম, ১১৭০ টাকা ফেরত দিন। মুরগা নিব না। চোর ভাইয়ারা এই সুযোগটা লুফে নিল। তাড়াতাড়ি আমার টাকা ফেরত দিল। আমি সহধর্মিনীকে নিয়ে বাসায় ফিরলাম।

আমার ধারনা, তারা মুরগী প্রসেস করার সময় চেঞ্জ করে ছোট প্রসেস করা মুরগী দিয়ে দেয়। কেউতো আর দ্বিতীয়বার মাপে না। তাছাড়া মিটারেতো কারসাজি আছেই। আমার শ্বশুরের পুরো ফ্যামেলি ওদের থেকে মুরগা কেনে। আমি ভাবতে লাগলাম এ পর্যন্ত সবার কাছ হতে কী পরিমাণ চুরি করেছে। একই কান্ড আমি নিজে পেয়েছি চালের দোকানে, তেলের বোতলে, চিনির প্যাকেটে, কাপড়ের দোকানে। যাহোক, আমার পত্নির আমার সম্পর্কে ধারনা কতটা বদলেছে তা না হয় নাই ভাবলাম, আমি যে মোটামুটি পোংটা টাইপ মানুষ সেটা নতুন করে উপলব্ধি করলাম।

#middleclasslife #nakedlife #thuglife #chicken #masculinism #theft #fraud

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *