Skip to content

একজন অতি সাধারন ক্যান্সারাক্রান্ত বাবার জীবন সায়াহ্নে

  • by

মে মাসের ১০ কি ১২ তারিখ হবে। বাড়ি থেকে খবর এল আব্বা অসুস্থ-জ্বর, গলা বসা, কাশি। আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের (আসলে নিম্নবিত্ত) যা হয়। স্থানীয় ডাক্তার দেখিয়ে কয়েকদিন চিকিৎসা চলল। আব্বার জ্বর ভাল হয় কিন্তু গলা বসা ঠিক হয় না। আব্বা চিঁ চিঁ করে সামান্য স্বরে আপ্রাণ চেষ্টা করেন কথা বলতে, কিন্তু আমরা বুঝতে ব্যর্থ হই।

আমরা ভাবি, ডাক্তাররা ভাবায়-টনসিলের সমস্যা। চিকিৎসা চলে, ডাক্তার বদল হয়, গলা ঠিক হয় না। ১৯/২০ তারিখে খুলনা (আমাদের জন্য ঢাকা শহর) নেয়া হল। বড় ডাক্তার (!) দেখলেন। অনেক দেরী হয়ে গেছে ততদিনে। ততদিনে আব্বার আপাতদৃষ্ট গলাবসা (আসলে গলার ক্যান্সার) বছরখানিক আব্বার জীবনীশক্তি খেয়ে ফেলেছে। আমার আব্বা প্রয়াত আব্দুল মালেক হাওলাদার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক কর্মী। খুব বেশী পড়ালেখা করেননি বা করতে পারেননি। শুধুমাত্র কর্মদক্ষতার জোরে ফোরম্যান পদে পৌছান এবং এই পদে রিটায়ার করেন ১০/১২ বছর আগে।

কিন্তু বাবা অন সার্ভিস যতদিন ছিলেন দেখতাম বড় শিক্ষিত ইঞ্জিঃ যারা আব্বার বস ছিলেন (সার্টিফিকেটের জোরে) তারাও বাবাকে সমীহ করতেন তার পেশাগত দক্ষতার দাপটে। ২১ তারিখ আব্বাকে ঢাকায় আনালাম। দেশের চমৎকার পরিবহন ব্যবস্থার কল্যাণে রাতগভীরে আমার ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা বাসায় পৌছালেন। একটা পদ্মা ব্রীজের চাহিদার বাস্তবতাটা যে আসলে আমাদের প্রাণের কোথায় প্রোথিত এবং কেন, তা শুধু যারা মফস্বলে তাদের প্রিয়জনকে রেখে শহরে জীবিকার সন্ধানে পড়ে আছি তারাই জানি। দেখলাম তাকে। অতিকষ্টে শ্বাস নিচ্ছেন শরীরের সব শক্তি জড়ো করে। ভাবছি (আসলে মনকে মিথ্যা প্রবোধ দিচ্ছি) ডাক্তার ভুল বলছে (প্রায়ইতো তারা ভুল বলে), হয়তো কিছুই না। ২২ তারিখ সকালে বিশাল ঝা চকচকে কুর্মিটোলা  জেনারেল হাসপাতালে নিলাম। হায়রে হাসপাতাল! একই জবাব পেলাম।

ডাক্তার বললেন এখানে চিকিৎসা হবে না, ঢাকা মেডিকেলে যান, অতি দ্রুত গলার বাইপাস চ্যানেল করে শ্বাস নেওয়ার ব্যবস্থা করাতে হবে। বিকালে আরেকজন বিরাট (!!) ডাক্তারকে চেম্বারে দেখালাম। তিনি অত্যন্ত রাগত স্বরে কিছু আদেশ!! দিলেন। শঙ্কিত, চিন্তিত আমি দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতেই রেগে গেলেন। মামা সাথে ছিলেন। তিনি অতি বিনয়ের সাথে তাকে অনুরোধ করায় আবার মেহেরবানী করে যা ব্যক্ত করলেন তা হল দ্রুত মেডিকেলে নিয়ে ট্রাকিওসটোমী করাতে, বায়োপসী নিতে। কোথায় যাব? জানলাম ক্লিনিকে দেরী হবে। যান ঢাকা মেডিকেল।

হায়রে, পয়সা খরচ করলেও ক্লিনিকে কি সেবা অপেক্ষা করে আমাদের জন্য। ক্লিনিকে (আসলে নার্সিং হোম) এম আর হয়, সিজার হয়, প্লাস্টিক সার্জারি হয়, অতি জরুরী ট্রাকিওসটোমী হয় না। সেই গরীবের ভরসা ঢাকা মেডিকেল। যাহোক, পরদিন বিশেষ ব্যবস্থাপনায় একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ দেখলেন। তার পরামর্শে দ্রুত ইএনটি হাসপাতালে ভর্তি করলাম। রাতে ডাক্তার সাহেব তার গলার বাইপাস চ্যানেল করে কৃত্রিম টিউব লাগিয়ে দিলেন। বাবার শ্বাসকষ্ট কমল। তবে জানলাম সম্পূর্ণ চিকিৎসা শেষে টিউব না খোলা পর্যন্ত আব্বা কথা বলতে পারবেন না। এরপর রাত ৯/১০ টায় শুরু হল তার বায়োপসীর স্যাম্পল নেবার অপারেশন। এই যাত্রায় সবচেয়ে রিস্কি কাজ। সেটাও হল। ডাক্তার একটা ছোট শিশিতে বাবার গলার টিউমারের কয়েকটা ক্ষুদ্র অংশ আমার হাতে দিলেন টেষ্টে পাঠাবার জন্য।

আমি দেখলাম সেই ঘৃণ্য টুকরাগুলোকে যারা আয়োজন করছে আব্বাকে তার ৪ সন্তান, স্ত্রী, পরিজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবার। ৩ দিন পর আব্বা হাসপাতাল ছাড়লেন। রিপোর্ট হাতে এলো-সিএ ল্যারিন্জ। আবার ডাক্তারের কাছে দৌড়। এ ডাক্তার, সে ডাক্তার। শেষতক মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে রেডিওথেরাপীর সুপারিশ। “বাবা ঠিক হবেন তো” ব্যাকুল আমাদের জিজ্ঞাসায় সরকারী ডাক্তাররা বিরক্ত হন। আহা! তারা বড়, বুজুর্গ, ব্যস্ত মানুষ। ২ দিন ধরে আধামরা রোগীকে অর্ধদিন করে বসিয়ে রেখে, তথাকথিত মেডিকেল বোর্ড বসিয়ে (বোর্ডে ডাক্তাররা যদি ব্যস্ত থাকে মোবাইলে, আর টিভির নিউজ বিশ্লেষণে তাহলে সেটা তথাকথিত ছাড়া আর কী) জানানো হল রেডিও থেরাপী দেবেন তারা। আবার আসতে হবে কাগজপত্র রেডি করতে (হায়রে সেটা আবার ওদিন করা যাবে না)। গেলাম, অতি সকালে। আবার আমলাতান্ত্রিক হয়রানী।

আমার অর্ধমৃত বাবা টুলের মধ্যে বসে আরো দুর্বল হচ্ছেন আর হাসপাতালে কর্মচারীরা (পয়সার বিনিময়ে) দুস্থের! উপকার করছেন। তাদের কোনো সিরিয়াল নেই, সিডিউল নেই। অনেক কষ্টে একজন সুহৃদের সহায়তায় অবশেষে টাকা জমা দিলাম, রেডিওথেরাপী শুরু হল। আমরা আশায় বুক বাঁধলাম আব্বা অন্তত কিছুদিন আমাদের মধ্যে থাকতে পারবেন। জুন ৭ তারিখ। সকালে আব্বাকে থেরাপী দেবার জন্য বাসা থেকে নিয়ে বের হলাম। আমার ৬তলা বাসা থেকে নামতে বাবার নিশ্চয়ই কষ্ট হত। জিজ্ঞেস করলে বলত, “না, ঠিক আছে।” একটা সিএনজি’র জন্য অপেক্ষা করছি। হঠাৎই দেখি আব্বার শ্বাসকষ্ট মারাত্মক হয়ে গেল। দেখতে দেখতে বাবা পড়ে গেলেন, শ্বাস বন্ধ, অজ্ঞান। মানুষজনকে ধরাধরি করে কাছাকাছি হাসপাতাল হার্ট ফাউন্ডেশন।

আমি একহাতে বাবাকে ধরা, আরেক হাতে ব্যাকুল কন্ঠে ভাই বাবুকে ফোন করছি, স্ত্রী নিটোলকে ফোন করছি। ইমার্জেন্সিতে বাবাকে নিয়ে জুনিয়র ডাক্তাররা তার বন্ধ হয়ে যাওয়া হার্ট চালু করার চেষ্টা শুরু করলেন। একটা ইমার্জেন্সিতে কখনো আমি কোনো সিনিয়র ডাক্তারকে দেখিনি। বাবু এলো, নিটোল এল, মামা এলো। ডাক্তাররা কোনমতে তার হার্ট চালু করলেও জানালেন তাকে কোনো আইসিইউতে ভর্তি করতে যা নাকি তাদের নেই! আমি বুঝলাম না হার্ট ফাউন্ডেশনের মতো স্থানে আইসিইউ নেই! কাছেই থাকা এক কাজিনকে জানালাম। তিনি বললেন, “আহা! কোথায় নিচ্ছিস জানাস”।

তবে পৃথিবীতে অবশ্যই মানুষ আছে। আরেক কাজিন মিলন ভাই নানা যায়গায় খোজখবর নেয়া শুরু করলেন তার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। বাসায় মাকে বললাম, “আব্বার শ্বাসকষ্ট বেড়েছে তাই আসতে দেরী হবে, সাকশন দেব।” (আমি কী এই মিথ্যা কথাটা বলে কোনো পাপ করেছিলাম?)  ৭ তারিখ সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১টা মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় বারান্দায় আমি, নিটোল, বাবু, মামা নিঃস্ব’র মতো বাবাকে নিয়ে একটু চিকিৎসার জন্য দৌড়াদৌড়ি করেছি। ট্রলির চাকা নিটোলের পায়ের উপর উঠে গিয়ে পা ভাঙ্গার যোগাড়-তার হুস নেই। বাবুর হাইপারটেনশনের একটা সমস্যা হয় টেনশনে-তারও কোনো পরোয়া নেই।

আর আল্লাহপাক আমাকে কোথা থেকে এত শক্তি, সাহস দিলেন জানি না। অ্যাম্বুলেন্সের হেলপার ছেলেটা অক্সিজেনের ভারী ট্যাংক হাতে নিয়ে আমাদের সাথে সাথে দৌড়াচ্ছে। তার শ্বাস উঠে যাবার যোগাড়-কোনো খেয়াল নেই। অ্যাম্বুলেন্সের নেয়া অক্সিজেন ফুরিয়ে এল। হাসপাতালকে অনেক বলার পর একটা সিলিন্ডার এল। সেটা আবার খোলা যাচ্ছে না। খুলতে রেন্জ নামক একটা যন্ত্র লাগে সেটা তাদের নেই। তারা তাগাদা দিলেন নিচে থেকে কিনতে।

হায়রে চিকিৎসা! বাবাকে বাঁচাতে রেন্জ কেনা হল। (এই রেন্জ ছিল  আব্বার আজীবনের হাতিয়ার। আমার ইলেকট্রিক ফোরম্যান বাবা সারাক্ষনই তার যন্ত্রপাতি গুছিয়ে রাখতেন এই বুঝি কোথাও ইলেকট্রিসিটির সমস্যা হবে আর তাকেই সেখানে ছুট লাগাতে হবে।)

সেখানকার আইসিইউ ভর্তি, সিট নেই। প্রাইভেটে যাব? এত টাকা কই? এই বিভাগ, সেই বিভাগ, এই কর, সেই কর-এভাবে চলতে চলতে জুনিয়র ডিউটি ডাক্তাররা দয়া করে তাকে ওয়ার্ডে ভর্তি করলেন। জানিয়ে গেলেন আইসিইউ নেয়া ছাড়া আর কোনো করনীয় নেই। বারান্দায় নোংরা এক কোণে বাবার স্থান হল। বস্তুত কোনো চিকিৎসা সেখানে হচ্ছিল না। আব্বা বেহুস অবস্থায় অতিকষ্টে শ্বাস নিচ্ছেন আর আজরাইলের সাথে যুদ্ধ করে তার জ্বান রক্ষার শেষ চেষ্টা করছেন।

আমার হার্টের রোগী মা’কে একটু পরপর নানা কথা বলে প্রবোধ দিচ্ছি। আমার শাশুরী মা তার পাশে বসে আছেন সকাল হতে। আমার মা কি বুঝতে পারছিলেন তার আজীবনের সাথী আজ পরম করুণাময়ের চরণে ঠাই নেবেন?  অফিসের সব চ্যানেল ব্যবহার করে আইসিইউতে একটা সিটের চেষ্টা করছি। সেখানে একটু পরপর যাই, বাবার কাছে যাই, নিচে ডিরেক্টরের রুমে যাই, ওষুধ আনতে যাই। আমার অতি কাছের মামাতো, পিশাতো, ফুফাতো, চাচাতো আত্মীয়রা-কেউ এলেন না সামান্য সাহায্য করতে। হ্যা, সামান্য কিছু মানুষ যাদের মনুষ্যত্ব এখনো কর্পোরেট সমাজের চাপে বিলীন হয়নি তারা এসেছিলেন-রাসেল, মিলন ভাই, মেজ মামা, অনন্ত’র সহকর্মীরা, অ্যাম্বুলেন্সের সেই ছেলেটা……।

মোহাসীন ভাই একটু পরে পরে অফিসের নেটওয়ার্কে আপডেট দিচ্ছেন, সহকর্মীরা সাহস দিচ্ছেন, তাইফুর স্যার তার সর্বরকম নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে সিট ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন নানা যায়গায়……….বিকালে মেডিসিনের একজন ডাক্তার বাবাকে দেখলেন। বিশেষজ্ঞের মতো জানালেন তার হার্ট এটাক, স্ট্রোক-ইত্যাদি ইত্যাদি হয়ে থাকতে পারে!! আইসিইউ’তে নিতে হবেই। হায় আল্লাহ আমি কারন জানতে চাই না, চিকিৎসা চাই, সেটা কেউ দিতে পারছে না। 

বিকাল ৬টা। আমি আইসিইউতে যাচ্ছি খোঁজ নিতে। পথের মধ্যেই মামার ফোন বাবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একদৌড়ে আবার তিন তলার ৩০৩ ওয়ার্ডে বাবার কাছে এলাম। ততক্ষণে বাবা শেষ অবস্থায় পৌছেছেন। বাবু কাঁদছে বাবার পাশে, মামা উদভ্রান্ত, ডাক্তাররা নাড়ী দেখছেন আর হতাশ মাথা নাড়ছেন। নিটোল বাসা থেকে বাবার জন্য বালিশ, চাদর নিয়ে তখন হাসপাতালের পথে। ওকে ফোনে বললাম বাবা শেষ অবস্থায়, আর হয়তো এসে পাবে না। ও বিশ্বাস করল না আমার কথা। ও জানত আমি সবসময় খালি নেগেটিভ চিন্তা করি। হয়তো বাড়িয়ে বলছি। (নিটু তুমি যদি জানতে জীবনে এই আমি অন্তত প্রথমবার একদম না বাড়িয়ে তোমায় কিছু বলছি!)।

বাবার পাশে হাটু গেড়ে শেষবার বসলাম। মনে হল বাবাকে অনেক দিনের না বলা কয়েকটা কথা যাবার সময় বলে দিই, যদি শুনতে পান! 

“আব্বা, আমি আপনাকে অনেক ভালবাসতাম কিন্তু আপনাকে জানতে দিতাম না। আপনাকে অনেক বকতাম কিন্তু বিশ্বাস করেন আপনার ভালোর জন্য। আপনার সিগারেটের বদঅভ্যাস দুর করতে নানাভাবে বুঝাতাম, বকতাম। বিশ্বাস করেন আব্বা আপনাকে আরো অনেকদিন কাছে পেতে চাই বলেই এটা করতাম। আপনি যদি আমাকে শুনতে পান তবে আমার ভালবাসা সাথে নিয়ে যাবেন। আমি আপনাকে ভালবাসি। আপনি যান, আমরাও আসব আপনার কাছে। মাত্র কয়েকটা দিন একটু একা থাকবে বাবা?”

ধীরে ধীরে সব নিরব হয়ে গেল।  বাবুকে কোনো সান্তনাতে থামাতে পারলাম না। ও আব্বাকে বারবার বলত এমবিএ ভর্তি হয়েছি। আর কয়েকদিন পরেই আপনাকে সার্টিফিকেট এনে দেখাব। নানা ক্রাইসিসে বাবু স্বাভাবিক নিয়মে গ্রাজুয়েশন করতে পারেনি। চাকরী করতে করতে পড়েছে। ওর মাস্টার্স নিয়ে আব্বা-মা সারাক্ষণ আফসোস করতেন। আব্বা আর দেখে যেতে পারল না ছোট ছেলের সার্টিফিকেট।

নিটোল এস পড়ল। ও বিশ্বাস করতে পারল না বাবা নেই। আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আমি পণ করেছিলাম কাঁদব না। আমাকে কাঁদলে চলবে না। কিন্তু বারবার চোখ কেন ভিঁজে ওঠে?

ড্রাইভার শাহাবুদ্দিন বালিশ, চাদরের ব্যগটা নিয়ে উদভ্রান্ত’র মতো আমাদের দেখছে। আমি নিরবে ভেঙ্গে যাচ্ছি, বাবু হাউমাউ করে কাঁদছে, নিটোল একটা বাচ্চা মানুষের মতো চিৎকার করে কাঁদছে, আমি শুধু কাঁদছি না, কাঁদতে পারছি নামামা সবাইকে খবর দিচ্ছেন………….

আজ বাবা দিবসে সব মানুষ তাদের জীবিত, প্রয়াত বাবাদের নিয়ে নিশ্চই অনেক সুখ-দুঃখের কথা বলবেন। আমি লেখক নই, সাহিত্যিক নই। কি করে কষ্ট প্রকাশ করতে হয় তাও জানি না। বাবার চলে যাওয়ার পর থেকে একটু একটু করে যখন যা মনে হয়েছে লিখে রেখেছি।

আমার একটা বিষয় মনে হয়-এ ক’দিনে আমি বোধহয় হঠাৎ করে অনেক বড় হয়ে গেছি। অনেক না পারা, না শেখা বিষয় যেন হঠাৎ আয়ত্বে এসে গেছে। আমার মতো ভুক্তভোগীদের জন্য মেডিকেল ইনফরমেশন ও ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু করতে চাই। এখনি জানি না কি করব তবে কিছু একটা নিশ্চই করব।

আজ বাবা দিবস। বাবা আপনি ভাল থাকবেন। আমি জানি আপনি, আমি, আমরা দুরে নেই। আমরা পাশাপাশিই আছি, শুধু দেয়ালের এপার ওপার।

#obituary #father

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *