দিকে দিকে করোনার টিকা দেবার নাম করে নারী ও পুরুষদের সুঢৌল নগ্ন বাহুমূল প্রদর্শনের মচ্ছব দেখে এই লেখাটা বিগত ৮ দিন ধরে মাথায় ঘুরছিল। অফলোড করতে পারছিলাম না।
আমার বয়সসীমা এলাউ করলেও স্ত্রী নিটোল এখনো টীকার বয়সসীমার সুবিধা বলয়ে ঢোকেনি। আমাদের কার বয়স কত-সেটা একটা বাতুল প্রশ্ন। সে আমাকে একাকে আগেই টিকা নিতে বললেও, আমি নিজে তা করব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যতদিন সে ও আমি-দু’জনেই টীকা নেবার কাবেলিয়াত রাজাবাহাদুরের দয়ায় পাব না, ততদিন আমিও টিকা নেব না।
আমার আশপাশের শিক্ষিত আপনজন (কিংবা আপনদেখানিয়াদের) একটি বড় অংশই টিকা নেবেন না। শিক্ষা এই মানুষগুলোকে কিছুই দিতে পারেনি। আফসোস।আপনারা দয়া করে টিকা নিন। টিকা নিয়ে যদি ব্যাটা হতে বেটিও হয়ে যান, তবু নিন। বেঁচে থাকুন আগে। এক জীবনে যদি ব্যাটা ও বেটি-দুটোই হয়ে মরেন, খারাপ কী?
গ্লোরিয়াস ডাইভারসিটি।টিকা নিয়ে বেশি কনফিউজড থাকলে নিচের লেখাটা পড়ে একটু হাসুন। তারপর হাসতে হাসতে টিকা নিতে যান।
শুনিতে পাই, বঙ্গদেশে নাকি পুরাকালে একপ্রকার কুপ্রথায় বিশ্বাস রহিয়াছিল। উহা হইল, নারীদিগের প্রকৃত বয়স কহিতে নাই, শুধাইতে নাই। আর পুরুষদিগের মাস মাহিনাও। অধুনা বঙ্গবাসীরা অতীতের যাবতীয় সু-অভ্যাস জলাঞ্জলি দিলেও এই খাসলতখানা সযতনে ধারন করিয়া রাখিয়াছে, যক্ষের ধনের মতো। তাহার সাথে সাথে পুরুষেরাও নিজদিগকে নারীর কাতারে নামাইয়া বয়স লুকাইবার প্রয়াস পাইতে আজকাল শরম বোধ করিতেছে না। ভ্যাকসীন না লইয়াই উহারা কীভাবে নারীর স্বভাবের হইয়া গেল বুঝিতেছি না।
ভ্যাকসীন লইয়া নানা বঙ্গদেশীয় নাটকের অবসান হইয়াছে। নাস্তিক ও মোল্লা, বিম্পি ও আম্লীগ, বাম ও ডান-সবাইই ভেচকী দিয়া ভ্যাকসীন লইতেছে। কিছু কিছু পুরুষ বয়স প্রকাশ হইবার আশঙ্কায় অবশ্য গোপনেই কাজখানা সারিতেছে। অন্যদের ন্যায় বদনপুস্তকে নগ্ন বাহু প্রদর্শন করিয়া উহা করিতেছেন না।
আমি বলি কি, সরকার বাহাদুর, এত কিছু দরকার আছিল না। গরুর পাছায় ১২ ইঞ্চির মোটা সিরিঞ্জ ও কঞ্চির মতো সুই দিয়া যেই কোরামাইসিন ইনজেকশন দেয়, বঙ্গদেশের ’চা’ নামীয় ষাড়ের পেচ্ছাব বিক্রীর দোকানগুলাতে যেইসব অতি আগ্রহী বীরপুঙ্গবকে দেখা যায়, উহাদের কুত্তা ধরিবার ক্যাচার দিয়া পাকড়াও করিয়া ’পাছা’য় একখানা করিয়া সেই সিরিঞ্জ ও সুই দিয়া গুতা দিয়া দিলেই হইত। টীকার লক্ষ কোটি ডলার বাঁচিয়া যাইত। সুইয়ের গুতা ’পাছা’য় খাইলে পাক্কা ৩১ দিন রাস্তায় ’বদনপাছা’ (মানে মুখ) দেখাইতে পারিত না। অটো কেরেন্টিন হইত। করোনাও বাহক না পাইয়া পলাইত।
এমনি করিয়া কসট সেভিংয়ের কথা আমার মতো কেহ কহিবে না। জানিবেন হয়তো, কেবলমাত্র বাংলার অতি উৎসাহী উচক্কা পুরুষকূল আর হালে জাতে ওঠা প্রকাশ্যে বিড়িফোকা নারীকুল টং দোকানের চা খাইবার নেশা সামাল দিতে না পারার কারনেই এখনো করোনা বাঁচিয়া আছে। [ভাষাশৈলী কিঞ্চিৎ অবনমন ঘটায় দুঃখিত। ইহা লেখকের নিয়মিত রুচী নহে।]
#corona #vaccination #exhibitionism #love #covid19protocol #prejudice