Skip to content

পরোপকার এত সোজা নয়

  • by

একটা শপিং মলের সামনে দাড়িয়ে আছি। সাথে গিন্নী।

পাশ দিয়ে এক খালা হাতে পলিথীনে করে জীবন্ত মাগুর মাছ নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। হঠাৎ তার পলি হতে একটা মাছ লাফ দিয়ে আলগোছে মলের পর্চে পড়ে গেল। তিনি খেয়াল করেননি। আমাদের কাছেই দাড়ানো একজন লোক তাকে ডাকল, “খালা, মাছ পড়ে গেছে।”

ডাকে যথেষ্ট জোর না থাকায় মহিলা শুনতে না পেয়ে চলে যাচ্ছিলেন। তারপর?……………………………… কী হল?…………………………………..

ভাবছেন, ওই লোক দৌড়ে গিয়ে মাগুর মাছটা হাতে ধরে তাকে দিয়ে এসেছেন? আশপাশের মানুষ সেই পড়ে যাওয়া মাছ কুড়িয়ে নিতে গিয়ে রায়ট বাঁধিয়ে ফেলেছেন?নাহ। ওই ভদ্রলোক একবার উপকারার্থে ডেকেই শেষ। আর ডাকেননি। তার কাজে চলে গেছেন।

আশপাশে সব পশ লোক হওয়ায় কেউ ওই স্বাধীনতা সংগ্রামী মাগুরকে নিজ বগলদাবা করার মতো ছোটলোকি করার সাহস পাননি।

মোরাল:

কারো উপকার করতে হলে শেষতক করুন। কাজ শেষ করার নাম কাজ। মহত্বের টানে অনেক সময়ই আমরা কারো কারো উপকার করতে চাই। তবে সেই ইচ্ছাশক্তিটার স্থায়ীত্ব ও শক্তি খুব দুর্বল। হালকা পাতলা এফোর্ট দেবার পরেই নেতিয়ে যায় আর আমরা রণেভঙ্গ দিই।

একই ঘটনা হয় জব লিংকিং নিয়ে কাজ করার সময়। অনেকেই মানবতার সেবায় আগ্রহ দেখাই। পরে আর ফেরত আসি না। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো খুব সোজা না। যদি মনে করেন, বেশিক্ষণ উইকেটে টিকবেন না, তবে শুরু না করাই ভাল। একই কথা উপকার প্রার্থীদের জন্যও। নাম বলব না। সেটা অভদ্রতা ও ছোটলোকি। শুধু বৃহত্তর স্বার্থে বলি, বেশ কিছু সাবেক উপকারভোগীকে খুঁজছি। লিস্টটা বেশ লম্বা।

নাহ, কৃতজ্ঞতা ফেরত দিতে না। তাদের থেকে সমপরিমান ইউনিট উপকার অন্যদের পাইয়ে দিতে। এটা মানুষের অধিকার।

**এতক্ষন পরেও যদি আপনার ওই মাগুর মাছের ভাগ্য জানার মতো আগ্রহ বেঁচে থাকে, তবে বলি, আমার গিন্নী যখন দেখলেন, কেউ ওই মহিলাকে নোটিফাই করছে না, তিনি একটু এগিয়ে গিয়ে তার কীন্নর কন্ঠে শুধা বর্ষণ করে ডাকলেন, ”খালাআআআআএএএএ, আপনার মাছ?”

অতঃপর বোনঝির ডাকে খালার সাড়া এবং তারপর কূশল বিনিময় ও হতভাগা মাগুরের সাময়িক স্বাধীনতার অবসানান্তে পলিব্যাগে সওয়ার হয়ে গৃহস্তের ঘরে গমন।

#philanthropy #socialwork #benevolent

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *