আপনি একজন বেসরকারী অফিসের কর্মী। এক্সিকিউটিভ জবে মোটামুটি বছর ৫/৭ কাজ করেছেন। আরো হয়তো বছর ১৫-২০ কাজ করবেন বিভিন্ন স্থানে। আপনার ভবিষ্যত স্বপ্ন কী?
ভবিষ্যতে বড় জিএম হবেন? সিইও? নিজেই একটা কারখানা/ব্যবসা দেবেন আর বছর ১০ পরে? নাকি সো কলড কনসালট্যান্সি ফার্ম খুলে ব্যবসা করবেন?
নাকি?…………….
আমার ছোট্ট জীবনে বেশ কিছু প্রাইভেট চাকরিজীবিকে দেখেছি, যারা দীর্ঘ বছর চাকরি করেছেন, মোটামুটি সম্মানজনক পজিশন ও স্যালারীতে। কিন্তু সেটা এত বড় ছিল না, যেটা দিয়ে বড় রকমের সঞ্চয় বানানো সম্ভব, শেষ জীবনের অবলম্বন হিসেবে। মোটামুটি টানাটানি আর ফ্যামেলীকে টানতে, বাচ্চাকাচ্চা বড় করতে শেষ। আর তিনিও এত বড় কাবেল ছিলেন না, যে নিজের একটা ব্যবসা খুলে বসবেন (আমরা অধিকাংশই সেটা পারি না নানা কারনে।)। পরিণতি খুব করুণ।
আমি তাদের দেখেছি শেষ বয়সে আবার সেই পৈতৃক ভিটায় ফেরত যেতে। গ্রামে গিয়ে কোনোমতে সামান্য জমিজমা চাষ করে বা লিজ দিয়ে, সামান্য একটা মুদী দোকান দিয়ে বসতে।
যাই করুন, তার বিগত ২০-২৫ বছরের যে স্কীল, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, জ্ঞান-কোনোকিছুই তিনি আর ব্যবহার করার সুযোগ পান না। প্রাইভেট সেক্টরেরও বদনসীব, এত অভিজ্ঞতা স্রেফ অপচয় হল। তাকে বা তার লব্ধ জ্ঞান কাজে লাগানোর কোনো সিস্টেম্যাটিক রাস্তা সেক্টর বের করতে পারল না। পরন্ত লোকটা এতবছর একটি নির্দিষ্ট পেশা ও স্কীলকে সেবা দিয়ে সমৃদ্ধ করে গেলেও কার অচলাবস্থায় তার দায়ীত্ব নিল না।
আপনি কী ভাবছেন? শেষ বয়সে আপনি ও আপনার পরিবার কী করে চলবেন? খাবেন কী দিয়ে? চলবেন কী করে? কতদিন কর্মক্ষম থাকবেন? মৃত্যু পর্যন্ত যে জব করতে পারবেন না, তাতো নিশ্চিত।
তাহলে ৬০ বছর বয়সের পরে কীভাবে চলবেন, ভেবে রেখেছেন?
আমি এই পোস্টটি আরো বেশ কিছু বছর পরে লিখব বলে ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু কাল রাতে হঠাৎ ভাবলাম, পরে করব বলে যে, পরে বলতে হবে, তাতো জরুরী না। আমি আমার স্বপ্ন বলে যাই। বেঁচে থাকলে নিজে করব। মরে গেলে শুভাকাঙ্খীরা করবে। তাই অনেক অগ্রীম একটা স্বপ্ন বলতে চাইছি।
আমার মনের ভিতরে খুব সুপ্ত একটি ইচ্ছা/স্বপ্ন আছে। বশিপূক-গিভেন্সী (বয়ষ্ক ও শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র) কিংবা সোনামনি নিবাস (আজিমপুর) মিশেলে ও আদলে ঢাকার অদূরে একটি কেন্দ্র (সেটা ওল্ড হোমস/চাইল্ড হোমস যাই বলেন) প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ওই কেন্দ্রটি হবে স্থায়ী, নিজস্ব ক্যাম্পাসে, নিজস্ব অর্থায়নে।
মূল স্বপ্নটা হল, যেসব নিঃসন্তান দম্পতি বৃদ্ধ বয়সে একা বা দোকা নিঃসঙ্গ জীবন এড়াতে কোনো দলবদ্ধ জীবন কাটাতে চান, কিংবা যাদের সুযোগ্য (!) সন্তানরা বাবা-মাকে বা যেকোনো একজনকে ওল্ডহোমে দেবার আগেই তারা নিজেরা নিজেদের অর্থায়নে কোনো ওল্ডহোমে নিয়ে যেতে চান, যেখানে দু’জন একসাথে থাকতে পারবেন নিজেদের সমব্যাথী মানুষদের সাথে। অনেক বয়ষ্ক মানুষ আছেন, যারা আর্থিকভাবে সক্ষম বা সেমি সক্ষম। কিন্তু শেষ বয়সে নিঃসঙ্গ ও অসহায় জীবন কাটাতে বাধ্য হন।
তারা নিজেদের জমানো অর্থে ওখানে থাকবেন, দম্পতি হিসেবেই। নিজের স্পন্সর নিজে। পাশাপাশি ওখানে ড্রপ হওয়া বা পরিত্যাক্ত (মানব সন্তান হিসেবে খুব কুন্ঠিত বোধ করি এই শব্দটাতে) নবজাতক, যাদের কেউ নেয়নি বা নিতে চায়নি কিংবা চায় না, তাদের বড় করা হবে ওখানে। ফ্রি অব কস্ট। যে বা যারাই অমন নবজাতকের আশ্রয় খুঁজবেন বা ডাস্টবীনে না ফেলে স্বেচ্ছায় দিয়ে যাবেন, সেই স্বর্গীয় শিশুদের গ্রহন করা ও একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বড় করার কাজ করবে ওই কেন্দ্র। কোনো টিপিক্যাল এতিমখানা নয়। যাস্ট প্রাথমিক রিসেপশন ও তাদের একটা বয়স বা পর্যায় পর্যন্ত পৌছে দিয়ে তাদের যথাযথ পুনর্বাসন করবে ওই প্রতিষ্ঠান।
এই যৌথ ধরনের প্রতিষ্ঠান বা ক্যাম্পাসটিতে বাসস্থান, খাবার, বিনোদন, শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপত্তা মিলবে-অর্থের বিনিময়ে। সেন্টারটি প্রতিষ্ঠার পরে বয়ষ্ক কেন্দ্রটি হবে ভাড়া ভিত্তিক। অর্থাৎ কেউ বা কোনো দম্পতি সেখানে থাকবেন ভাড়া দিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, নিঃসঙ্গ দম্পতিরা বৃদ্ধ বয়সে একত্রে সঙ্গ উপভোগ করে বেঁচে থাকবেন। একজন স্বামী বা স্ত্রীকে একা হয়ে কারো গলগ্রহ হয়ে বেঁচে থাকার গ্লানী টানতে হবে না।আগে থেকেই এমন ভবিষ্যত প্ল্যান করতে চান যেসব দম্পতি, একক ব্যক্তি, তারা মিলে যৌথ এই কেন্দ্রটি গড়ে তুলবার স্বপ্ন দেখি।
তার জন্য ফান্ড, স্পন্সর, ভলান্টিয়ার, আইডিয়া, অপর্চুনিটি, পাবলিসিটি, স্ট্যাফিং, স্ট্রাকচারিং, প্রোজেক্ট ফ্রেমিংসহ নানা কাজ আছে অবশ্যই। সবই এতদিন ধরে স্বপ্ন হিসেবে মাথায় আছে। হয়তো পাগলামি স্বপ্ন, তবে স্বপ্নই তো।হঠাৎ মরে গেলে আমার স্বপ্ন আপনি বাস্তবায়ন করবেন-আমি তো আর অতবড় তালেবর নই। তবে আগাম শেয়ার করলাম, এজন্য, যাতে আমি ওই কাজটি করে যাবার আগেই যদি মরে যাই, তাহলে অন্তত অন্য কেউ যদি একই স্বপ্ন দেখে থাকেন, তিনি ওটি চালিয়ে নিয়ে যান।
স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অনেক প্রস্তুতি ও কাজ আছে। এই পোস্টের পাঠক বা দর্শকরা যেকোনো মতামত, পরামর্শ, ক্যারি ফরোয়ার্ড ইনিশিয়েটিভ-নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন। [আর হ্যা, আমার ভাবনাকে মহান/গ্রেট ভাববার কারন নেই। এটি আমারও গরজে করা। ঠ্যাকায় পড়ে মানবতা বলতে পারেন। অনেককে ট্যাগ করেছি। সেজন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাই।]
#oldhome #assilum #shelter #retirement #adoption #oldage #livelyhood #earning #deposit #pension #retirement