কর্পোরেটে প্রায় ১৩ বছর।
জীবনের হায়াতেরও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ হয়ে গেছে।
প্রাপ্তির সংখ্যা অনেক। অপ্রাপ্তিরও বহু হিসাব।
তার একটা হল, কখনো বিদেশ যাইনি। আরেকটা হল কখনো উড়োজাহাজে চড়িনি।
তবে আজ সেটা নিয়ে কথা বলব না। বলব তৃতীয় আরেকটা নিয়ে। “ফাইভস্টারে চেকিন” হল সেই আক্ষেপ।
রাস্তার পাশে চকচকে ফাইভস্টার হোটেল দেখে বুকটা হু হু করত। একটু যদি ভিতরে যেতে পারতাম! ভিতরে না জানি কী কী থাকে? ওখানকার খাবার না জানি কত্ত কত্ত ইয়ামি! ওখানে ঢুকতে হলে পোষাক না জানি কত দামী হতে হয়! আফসুস আফসুস!
যাহোক, গপ্প সেটাও নয়। নিজ কাবেলিয়াতে না হলেও কাজের সুবাদে দু’চারবার ফাইভস্টারে ঢোকার দুর্ভাগ্য হয়েছে। দুর্ভাগ্য কেন বলছি শুনুন।
কতকটা এই দেশের স্বভাবজাত দোষে, কতকটা বিদেশী অর্থের সুপ্রচুর আনাগোনায় দেশে সেমিনারের বাজার এখন রমরমা। ফান্ড বাগানো আর স্পন্সর বাগিয়ে নিজের পকেট ভারী করার দারুন সুযোগ নিয়ে এসেছে প্রোজেক্টের টাকায় সেমিনার নামক তামাশা। যা আবার ফাইভ স্টারে না হলে মানায় না। তো সেমিনারের সুবাদে আমারই মতো অভাজনরাও এখন আকছাড় ফাইভস্টারে চেকইন দিতে পারেন। উদ্দেশ্য একই-সেমিনার। তো আমার তাতে দুঃখটা কোথায়?
দুঃখ একটাই,গুলিস্তান বা গাবতলি টার্মিনালের পাবলিক টয়লেটের কমোডের কভার নামানো থাকে আর কভারে হলুদ হলুদ তরল ও কঠিন পদার্থের মুখব্যাদান। সেই একই কঠিনে তরলে ফাইভ স্টারের টয়লেটের কমোডও রঞ্জিত থাকে যেহেতু কভার নামানো থাকে। টয়লেটে গেলেই তাই আধারোল টিস্যু দলা পাকিয়ে আগে কমোড মুছতে হয়। অতঃপর মেলে উহাতে পশ্চাৎদেশ ছুঁইয়ে বসে নির্ভার হবার ফুরসত।
আজও আমরা কমোড ব্যবহারের তরিকা আর আদবটা শিখতে ব্যর্থ। সেটা যতই ফাইভস্টারে চেকইন দেবার মতো কেউকেটা হয়ে থাকি না কেন। বাজারে একটা কথা আছে, “কথা বলা শিখতে লাগে ১ বছর, আর কী বলা উচিত আর উচিত না-সেটা শিখতে লাগে আজীবন।”
আমি ওটাকে একটু ঘুরিয়ে দিয়ে বলি, “মানবশিশুর বাথরুম করা শুরু করতে লাগে ১ ঘন্টা, আর কীভাবে করতে হয়, সেটা শিখতে লাগে……………………..”।
#consciousness #awareness #publictoilet #decency