ফেসবুকের সাহিত্য ও শিল্প নিয়ে কাজ করবার অঙ্গিকারকারী গ্রুপগুলোতে ঘুরে ঘুরে আমার একটা অনুভূতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের ইদানীং কালের মানুষরা [বাংলাদেশের মানুষরা না বলে বরং বাংলাদেশের ফেসবুকজীবিঠক বলা শ্রেয়তর (ফেসবুকজীবি+পাঠক)] গল্প ও কবিতার এত এত সমঝদার, এবং, তারা গল্পের সাথে এতটাই লীন হয়ে যান, যে, উত্তম পুরুষের বচনে লেখা গল্পের ফার্স্ট পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার লেখক যে আসলে ওই গল্পের মূল বৃন্দে নন আর এই গল্প যে গল্পই, এটি যে “জীবান গাঁথাঁ” নয়, সেটি তারা বেমালুম ভুলে যান। অবশ্য ভুলে যান, নাকি ভুলে যেতে পছন্দ করেন-সেটি ভাববার বিষয়।
ফেসবুকজীবিঠকদের এহেন সাহিত্যাচারের অত্যাচারে আমি উত্তম পুরুষে কিছু লেখাই বাদ দিয়েছি। একই পরজীবিদের অত্যাচারে এই দেশের অনেক শিল্পই হারিয়ে যায়। সুলেখক মি. ফারুক তো তার হাইকুল গল্পের নামই বদলে গল্পানু করতে বাধ্য হয়েছেন পাঠকদের আজগাই প্রশ্নের উত্তর দেবার অত্যাচার বরদাস্ত করতে না পেরে। অত্যাচার এই পর্যায়ে পৌছেছিল, যে, আমি যদি দু’লাইন কবিতায়ও লিখি,”আজ মদিরাই হয়েছে সাথী. প্রিয়ার ছবিতে মারি লাথি” এই কবিতার প্রথম লাইনের জন্য সাহিত্যানুরাগীরা আমাকে ব্যর্থ প্রেমিক ধরে নিয়ে ছি ছি ছি ছি ছি ছি ছি করতে করতে করতে মুখের ছ্যাপ শুকিয়ে ফেলে।
আর দ্বিতীয় লাইনের জন্য আমার হিংস্রতা, প্রতিশোধপরায়নতা নিয়ে আনবিক বিশ্লেষন করতে করতে, বকতে বকতে বকাউল্লা হয়ে যান। অবশ্য, যেই দ্যাশের টিভি দর্শকরা বাকের ভাই চরিত্রের ফাঁসি আটকাতে নাট্যকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল করতে পারে আর সেই আহাম্মকি আবেগকে আবার লেখনিতে মাহত্মও দেয়া হয়, সেখানে এই লীন বিলীন হওয়াও মহান। সাহিত্য কর্মের, নোভেলের চরিত্রের পুঙ্খানুপুঙ্খ চরিত্র বিশ্লেষণ নিয়ে এদেশের এই ডেডিকেশন দেখে অদভোৎ হই।
আজকেই এক পেজে এক লেখকের উত্তম পুরুষর বয়ানে লেখা রম্য লেখায় মূল চরিত্রের দায়ীত্বজ্ঞানহীনতা পড়ে একজন সমালোচক তাকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ীত্বজ্ঞানহীন, পলায়নপর, সুবিধাবাদী, পুরুষতান্ত্রীক-কত কত অভিধায় যে তুলোধুনো করেছেন। লেখকের জন্য মোমবাতিবিহীন সমবেদনা।
#postreview #critics #criticism #Disagreement #DifferentOpinion #criticalanalysis #haters #personalization #personalattack