Skip to content

এইচআরে কাজ করার প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জ কী কী?

এইচআরে কাজের প্রধান চ্যালেঞ্জ হল, প্রথমত এটি একটি প্রাকটিসিং আর্ট এবং প্যাশন বেজড প্রফেশন। দুটিই ধরে রাখা সহজ কাজ না। তারপরে আছে ম্যানেজমেন্ট এপ্রোচ, এইচআর সম্পর্কে ভুল ধারনা আর এইচআরের এমপাওয়ারমেন্টের অভাব।

একজন এইচ আর প্রফেশনাল হিসেবে গার্মেন্টস শিল্পে HR এর ভূমিকা রাখার সুযোগ কতটা তা নির্ণয়ের চেষ্টা করে যাচ্ছি। অনেক জরুরী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নিতে গিয়ে শুনতে হয়েছে-আরে ভাই গার্মেন্টস এ এতকিছু চলে না। আসলে কী চলে? একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গার্মেন্টস আর মোবাইল কোম্পানীর মধ্যে কী কী বিষয়ে পার্থক্য থাকে যে মোবাইল কোম্পানী পারলেও গার্মেন্টস এ নতুন বা আধুনিক কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না?

সারা পৃথিবী জুড়ে এইচ আর এর মৌলিক চরিত্র কিন্তু একই। শত বছর আগে ফেয়ল, টেইলর, মাসলো, হার্যবার্গ যেসব মৌলিক তত্ত্ব প্রদান করে গেছেন তার কিন্তু একটা সার্বজনীন ও সর্বকালীন আবেদন আছে। এসব তত্ত্ব এমন নয় যে তা শুধু তাদের দেশের সংগঠনগুলোর জন্য লেখা হয়েছিল। যুগে যুগে, দেশে দেশে সংগঠনের আকার, প্রকৃতি, ধরণ, কর্মপ্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে কিন্তু এসব ম্যানেজমেন্ট থিওরী সর্বকালেই সংগঠন দক্ষতার সাথে পরিচালনায় প্রযোজ্য। শুধু যেটা করতে হয় তা হল তত্ত্বগুলোকে সংগঠনের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব কালচারে ট্রান্সলেট করে নেয়া। কতটা দক্ষতার সাথে এই ট্রান্সলেট করা হচ্ছে সেটাই হল একজন ভাল, দক্ষ এইচ আর প্রফেশনালের কারিশমা।

আমার স্বল্প অভিজ্ঞতায় দেখেছি, কোম্পানীর সব বিভাগ, উপ-বিভাগ, কর্মপ্রক্রিয়াতে ওনাররা আস্থার সাথে তাদের নিযুক্ত প্রফেশনালদের উপর ভরসা করলেও এইচ আর এর ক্ষেত্রে এসে তারা তাদের প্রফেশনাল এইচ আর কর্মীদের উপর একশোভাগ আস্থা রাখতে পারেন না। কর্মী নিয়োগ, পদায়ন, প্রমোশন, বদলী, বেতন বৃদ্ধি, পুরষ্কার, তিরষ্কার-সবক্ষেত্রেই একটি নিয়ন্ত্রিত এইচ আর। প্রডাকশন বিভাগ, মার্চেন্ডাইজিং বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ তাদের ক্ষমতায়নের বদৌলতে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এইচআর এর থাকে না। এখন পর্যন্ত কতগুলো গার্মেন্টসে পৃথক, স্বাধীন এইচআর বিভাগ আছে? এখনো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইচআর, এ্যডমিন, কমপ্লায়েন্স একটাই বিভাগ।

আজকের যুগে এরকম ৩টি অতি জরুরী বিভাগ কিভাবে একত্রে চালানো যায় তা জানি না। আবার নামে একটা এইচ আর বিভাগ থাকলেও তাদের কর্মপ্রক্রিয়া, কর্মপরিধি, ক্ষমতা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া হয় না। ফলে এইচ আর থাকে নামসর্বস্ব একটা অস্তিত্ব। এমনও দেখেছি এইচ আর বিভাগ আছে কিন্তু কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি, প্রমোশন দেবার ক্ষমতা প্রোডাকশনের জিএম/ডিরেক্টরদের। কোথাও কোথাও এইচআর এর একটা নামকাওয়াস্তে স্বাক্ষর থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও আসলে অঘোষিতভাবে বলে দেয়া থাকে যে প্রোডাকশন থেকে/বিভিন্ন বিভাগীয় পর্যায় থেকে আসা সুপারিশ এর অন্যথা করা যাবে না। এইচ আর এখানে শুধু ক্লার্কের ভূমিকায় অবতীর্ণ। আর ওনার কর্তৃক যেকোনো সময় মানবসম্পদ রিলেটেড একক সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রাকটিসতো অহরহ।

আমি সবার কথা বলছি না। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান তাদের এইচআরএম কালচারে চমৎকার একটি কর্পোরেট কালচার ও প্রফেশনালিজম নিয়ে এসেছে এবং তার সুফলও পাচ্ছে হাতে হাতে। বর্তমান ২০২৫ সালের পৃথিবীতে প্রফেশনাল মানবসম্পদ বিভাগ ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও ব্যবসা জগতে তীব্র প্রতিযোগিতা ফেস করে টিকে থাকার কোনো সুযোগ নেই। মনে রাখা দরকার-সার্ভাইভাল ফর দ্যা ফিটেষ্ট।

How Artificial Intelligence (#AI) will dominate HR: Is it going to be a big threat for HR professionals?

Artificial intelligence বা AI নিয়ে আমরা যে হুড়োহুড়িতে পড়ে গিয়েছি, সেটি অবশ্যম্ভাবি ছিলই।

তবে AI মাত্রই পৃথিবীতে এসেছে-এই ব্যাপারে আমি সামান্য ভিন্নমতে বিশ্বাসী। আমি মনে করি, এটি নতুন আসেনি, বরং, কৃত্রিম বা মেশিনের বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বহু আগেই আমরা শুরু করে দিয়েছিলাম। ক্যালকুলেটর নামের মেশিন যেদিন হতে যোগ-বিয়োগ-গুন-ভাগের ফল দিতে শুরু করে, সেটি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছিল না? কম্পিউটার যেদিন আবিষ্কার হয়, সেদিনই কি Artificial intelligence এর একটা প্রোডাক্ট সে ছিল না? বুদ্ধিমান মেশিন ও বুদ্ধিমত্তার যান্ত্রীকিকরণ অনেক আগেই হয়ে গেছে। একটা টোটাল Artificial intelligence ইকোলজি ও জেনারেশন নিয়ে হয়তো এখন আমরা হইচই দেখছি।

যাহোক, গোটা বিশ্বেই AI নিয়ে এখন দুদিন পরপরই একটা না একটা সাড়া পড়ছে। এবং, গোটা জগতের বড় বড় মাথারাই কল্পবিজ্ঞানের সেই রবোট-মানুষ যুদ্ধ অথবা মেশিন-হিউম্যান ওয়্যারফেয়ার নিয়ে এখন সিরিয়াসলি ভাবছে। এই ভাবনার একটা বড় দিক হল মেশিন বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে মানুষের আত্মসমর্পন বা পরাজয় স্বীকার করতে হয় কিনা।

অন্য অনেক অনেক সম্ভাবনা ও বিপদের নানামুখী আলোচনার মধ্যে এটাও এখন একটা ভ্যালিড প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে, যে, AI কী আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণ কারো হাতে কুক্ষিগত করে দেবে? সে কি আমাদেরকে কতিপয় নিয়ন্ত্রকের নিজস্ব চিন্তার ব্রেইন চাইলডে পরিণত করবে?

একটা সময় আমরা ঔপেনিবেশিক প্রভূদের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দাস ছিলাম। AI কি আমাদেরকে নতুন করে টেক জায়ান্টদের ফিলোসফিক্যাল স্লেভ বা বুদ্ধিদাসে রূপান্তরিত হবার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে? AI ভিত্তিক নানা মডেল বা বট বা সহজ কথায় প্রযুক্তি কি আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্বের নিয়ন্ত্রণ একচ্ছত্রভাবে এ.আই এর সৃষ্টিকর্তা তথা ডমিন্যন্ট পশ্চিমা বা উন্নত গোষ্ঠীগুলোর হাতে কুক্ষিগত করে দিচ্ছে?

AI এর পৃথিবীতে আমাদের, মানুষদের নিজস্বতা বলে কিছু কি থাকবে? তার দাপটে আমাদের সৃষ্টিশীলতা কি বিলুপ্ত হবে ধীরে ধীরে? সৃষ্টিশীলতার চর্চার দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে সে কি বিবর্তন ঘটাবে মানুষের ব্রেইনের? বায়োলজিক্যাল মানবের ব্রেইন কি বায়োনিক ব্রেইনে রূপ নেবে তখন? সে আসলে সৃষ্টিশীল কাজের সৃষ্টিকর্তারা কী করবে? AI দিয়ে যেহেতু গান, সুর, পেইন্টিং, কোডিং, ডিজাইন, লেখা-সবই করা যায়, তাহলে কবিরা, গায়করা, আঁকিয়েরা তখন কী করবেন? কারা টিকে থাকবে এই ওয়্যারে?
AI যখন নাওয়া, খাওয়া, শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, সমর, খেলাধুলা, বিনোদন, শিল্প, মহাকাশ, প্রযুক্তি-সবখানেই দাঁত বসিয়ে ফেলেছে, যখন সে ভার্চুয়াল অ্যাসিসট্যন্ট হিসেবে, স্মার্ট বট হিসেবে বহু বহু কাজে হাত পাকিয়ে ফেলেছে, এবং, অতি দ্রূত সে অ্যাকিউরেসিও হাসিল করে ফেলছে, তখন কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়াই উচিত।

আশার তরনীতে একটা ছোট্ট প্রদীপ আশাকে আবার প্রাসঙ্গিক করেও রাখে, যেটার নাম হল, AI রিজেনারেটিভ কিনা। মানে, তাকে যা শেখানো হয় না, সেটা সে নিজে নিজে শিখে নিতে পারে কিনা, আর সে মানুষের মতো করে দ্বিধা, দ্বিচারিত্ব, মিথ্যা, সন্দেহ ও যুক্তির ফ্যালাসি মোকাবেলা করতে শিখে যায় কিনা। তবে, আশার প্রদীপ দপ করে নিভে যেতেও পারে। গুগলের তৈরী Gemini কীভাবে নিজে নিজেই সামান্য গ্রুমিং ও তথ্য হতে বাংলা শিখে নিয়েছিল, সেটা তার নির্মাতাদের জন্যও একটা চমক ছিল। এই রহস্যটাই ভয়ানক।

এ.আই এর কাছে কেবল মানুষ না, খোদ প্রযুক্তি ও পুরোনো মেশিনরাই অসহায় হয়ে পড়েছে।

কয়েকদিন আগেই একজন বিজ্ঞ মানুষের পোস্ট পড়ছিলাম লিংকডইনে। তিনি গুগলের মতো সার্চ এঞ্জিনদের যে দুর্দিন আসছে, নতুন নতুন AI বেজড বটগুলোর দাপটে সেটা নিয়ে লিখেছিলেন। কথা সত্য। গতানুগতিক সার্চ এঞ্জিনগুলোর ব্যবহার অবসোলেট হয়ে যাবারই কথা।

AI আসার আগে, বা, সত্যি বলতে, সাধারনের নাগালে জনপ্রিয় হবার আগে আমরা কিছু জানা বা খোঁজ করবার জন্য সার্চ এঞ্জিনে অভ্যস্ত ছিলাম।

গুগলসহ আগের সার্চ এঞ্জিনগুলোর চরিত্র, অ্যালগরিদম, কাজের নীতি এবং পরিবেশনের তরিকাটাও যদিও বিশুদ্ধ ও ন্যায়ানুগ ছিল না। বায়াজড ও দুষ্ট অ্যলগরিদমের ভয় সেখানেও ছিল। তবুও ওসব আগের সার্চ এঞ্জিনগুলোর কাজের তরিকা আর এ.আই বেজড নতুন চ্যানেগুলোর কাজের ধরন কিন্তু ভিন্ন। গুগলের মতো সার্চ এঞ্জিনগুলো আমার জিজ্ঞাসা আর জানবার আগ্রহের বিপরীতে আমাকে নিজের কিছু বলত না। সে আমাকে ওই বিষয়ে একশোটা জানবার জানালা খুলে দিয়ে বলত, নাও, তুমি অন্তত দশটা জায়গা হতে জানো, যে, কচু কী জিনিস, মূলা কী করে খায়। যাতে একমুখী সোর্স অব নোয়িং তথা বায়াজড ও মনোপলি লারনিং না ঘটে।

হ্যা, ওই দশটা অফার কিন্তু সে বায়াজড হয়ে দিত। দশটা হতে চয়েজের স্বাধীনতা আপনার ছিল, কিন্তু, সেটাও একধরনের নিয়ন্ত্রীত স্বাধীনতা, কারন, আপনি ওই দশটার মধ্যেই থাকবেন। অ্যালগরিদম, SEO এর ফাঁদে ফেলে আপনাকে শেকলবন্দী স্বাধীনতা উপভোগ করতে দিত এসব প্রযুক্তি।

অ্যালগরিদমের বাহানা কেবল সার্চ এঞ্জিনই না, সোশ্যাল মিডিয়াও আপনাকে দেয়। সে ঠিক করে দেয়, আপনি কী দেখবেন। আপনি হয়তো ভাবেন, আমি আজ ফেসবুকে এই এই দেখেছি। আসলে অন্য পিঠটা দেখতে পেলে বুঝতেন, যে, ফেসবুক বা লিংকডইন তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, অ্যালগরিদম, কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ও গোপন মিশন ফলো করে ঠিক করে, আপনাকে কী দেখানো হবে, আর কী দেখতে দেয়া হবে না। এতে করে, আপনি ধীরে ধীরে একটি মেশিন বা বট বা সাইট বা পোর্টাল বা মতবাদ কিংবা বডির বায়াসড চিন্তার ক্রীড়ানকে পরিণত হন। আপনি আর আপনার মানুষটা থাকেন না, আপনি পরিণত হন একজন মডিফায়েড হিউম্যানে। মডিফায়েড বাই থট মেশিন অ্যান্ড এশটাবলিশমেন্ট। ভেবে দেখুন তো, জন্ম হতে যদি কেউ দেখত, যে, গরু গাছে ওঠে, সেও কি বিশ্বাস করতে শুরু করত না, যে, গরু আসলেই গাছে চড়তে পারে? মানুষ তার কগনিটিভ বায়াস ও কনফারমেশন বায়াসের কাছে বন্দী। মেশিন ও মেশিন বুদ্ধিমত্তার ঘেরাটোঁপে বন্দী মানুষ যদি মেশিন কর্তৃকও বায়াসের শিকার হয়, তাহলে তার নিকট হতে রিয়েল মানুষটাকে আর দেখা যাবে না। শুধু দেখা যাবে ফিলোসফিক্যালি মডিফায়েড ব্রেইন ওয়াশড বা ব্রেইন চাইলড অব বটস।

চ্যাটজিপিটি, এবং তার মতো অন্যান্য জনপ্রিয় এ.আই প্ল্যাটফরমগুলোর কাজের ধরন হল, তারা আমাকে জিজ্ঞাসা বা প্রশ্নের বিপরীতে সার্চ এঞ্জিনদের মতো দশটা অপশন দেয় না। বরং, সে আমাকে রেডিমেড জ্ঞান দেয়, যা মূলত ওই বিশেষ মেশিন বা সাইট বা বটের নিজস্ব দর্শন বা পাখি পড়া করা জ্ঞানের ঝলক মাত্র। সে ছবি খুঁজলে তিনশো রেকর্ডেড ছবি প্রেজেন্ট করে না, বরং সে নিজেই ছবি বানিয়ে দেয়। প্রায় নিখূঁত জেনারেটিভ ফটো, পোট্রেট, ভিডিও বানিয়ে দেয় ফরমায়েশমতো। এতে সময় বাঁচে, গতি বাড়ে, তবে ভয় হল, এটা জ্ঞানকে বায়াজড করে, মিথ্যা জ্ঞান বাড়ে, জ্ঞানের পোলারাইজেশন বাড়ে আর দীর্ঘমেয়াদে এটা মানুষের সৃষ্টিশীলতা কমাবে।

আপনি হয়তো ভয় পাচ্ছেন যে, ভবিষ্যতে AI এসে HR এর চাকরি সব শেষ করে দেবে। সত্যি বলতে গেলে দেবে।
আবার, আমি বলব, দেবে না।

যদি, হ্যা, একটা যদি আছে। সেই যদির শুরু হল তার জন্মপরিচয় দিয়ে।

AI এর জন্মদাতা ও ব্রেইনদাতা হল মানুষ। সেই মানুষ যতক্ষণ মানবীয় চিন্তায় এগিয়ে থাকবে, ততদিন যেকোনো সিস্টেম বা বট বা AI কে হিউম্যান টাচ দিতে মানুষ লাগবে। আর মানুষ থাকলে HR ও লাগবে। হ্যা, যদি সেই HR সত্যিকারের HR নিয়ে কাজ করে থাকে, তবে।
AI ভবিষ্যত HRকে কীভাবে সাহায্য করতে পারে? এক কথায় বললে পিপল ম্যানেজমেন্টে।

Employer branding, employee engagement mapping & measuring, employee tracking, trailing ex employees, talent assessment from social presence এসব স্কোপে AI HRকে বিপুল সাহায্য দেবে।

ধরুন, আপনার এক্স এমপ্লয়ী। সে চাকরি ছেড়ে চলে যাবার পরে কোথায় কোথায় জব করছে, কেমন করছে, সেটা তার লোকেশন, সোশ্যাল মিডিয়া ট্র্যাক করবে AI এবং সেটা যুক্ত থাকবে আপনার ডাটাবেসের সাথে। সেখানে সে তথ্য রেখে দেবে। যখনই আপনার ওরকম একটা মানুষ আবার লাগবে, ওপেনিং হবে, AI আপনাকে সাজেস্ট করবে, তোমার অমুক এক্স এখন ওইখানে আছে। তাকে নিতে পারো।

অথবা, আপনারই মনে হল, আরেহ, অমুককে আবার আনলে কেমন হয়। ব্যাস, ডাটাবেসে ঢুকে দেখলেন AI আগে হতেই সেখানে তার কারেন্ট স্ট্যাটাস কালেক্ট করে রেখেছে। একজন ইন্টারভিউ দিয়েছিল। তাকে নেননি। তবে ফিট ছিল। অপেক্ষমান তালিকায় ছিল। AI কে তার সাথে ট্যাগ করুন। সে তাকে ট্র্যাক করবে। ভবিষ্যতে যখন লোক লাগবে বা সে ওপেন ফর জব স্ট্যাটাস দেবে, AI আপনাকে নোটিস দেবে-আরে শুনেছ, অমুক কিন্তু জব খুঁজছে।

অফিসের একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার কোম্পানী নিয়ে ক্রমাগত বাজে পোস্ট দিচ্ছে। হয়তো বাইরেরও কেউ। সেটা AI আপনাকে নোটিশে আনবে।


একজন কর্মী ডিপ্রেসড। তার সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিটি মনিটর করে AI আপনাকে নোটিশ করবে অমুকের টেক কেয়ার করো। ATS এর ব্যবহার অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। AI আপনার সাইট ও সকল সোশ্যাল প্লাটফরম সুইপিং করবে। আপনাকে যোগ্য ক্যানডিডিট সাজেস্ট করবে, আপনার রেজ্যুমে স্ক্রিনিংয়ের কাজ সে করবে। আপনার হয়ে স্মার্ট ডাটা এনালিসিস তো সে অলরেডি করতে শুরু করে দিয়েছে। আপনার ধারনায়ও নেই, এমন এনালিসিস সে দাড়া করাতে পারবে আপনার মানুষ ও মানবীয় ইস্যুগুলোতে।

অর্থাৎ AI, ERP, Social media, গুগল ম্যাপ-এই সবকিছুর সিংক্রোনাইজেশনে AI আপনার ভার্চুয়াল অ্যাসিসট্যন্টের কাজ করবে। সেই অ্যাসিসট্যান্টকে ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে যদি সুইফটলি কাজ করাতে পারার রাস্তা বের করা যায়, তাহলে HRএ একটা ভয়াবহ বিপ্লব হয়ে যাবে। তবে AI দিয়ে এত কাজ করিয়ে নেবার স্ট্র্যাটেজি সাজাতে আর তার সরবরাহকৃত তথ্য মানবীয় টাচ দিয়ে প্রয়োগ করতে মানুষ লাগবে। যেই মানুষটা সেই ম্যাশিন ও মানবিক ব্লেন্ড ও ট্রান্সফরমেশনে, ট্রানজিশনে দক্ষ-তার চাকরি থাকবে।


AI এর এই উত্থানের যুগে একজন HR Professional-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত AI Expert হওয়া নয়, AI-Enabled HR Leader হওয়া। অর্থাৎ কোড লেখা নয়, বরং AI ব্যবহার করে দ্রুত, ভালো ও ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া।


সমসাময়িক বাস্তবতায় HR-এর কোর ১২ টি ফাংকশনে AI কোথায় কীভাবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা যাবে?


১. Talent Acquisition (TA)


CV Screening
Candidate Ranking
JD তৈরি ও Optimization
Interview Question Bank
Candidate Assessment Summary
Interview Scheduling,
offer mail and feedback mail Automation
Offer Letter Drafting


২. Organization Development (OD)


Talent Review
Succession Planning
Workforce Demographics Analysis
Organization Structure Analysis


৩. Performance Management System (PMS)


KPI Development
KRA Development
Performance Review Summary
Promotion Dashboard


৪. Learning & Development (L&D)


Skill Gap Analysis
Learning Path Recommendation
Competency-Based Learning Recommendation


৫. Industrial Relations & Employee Relations (IR & ER)


Labour Law Compliance Monitoring
Absenteeism Pattern Analysis
HR Communication Drafting
Employee Communication Drafting
Risk Identification (Employee Relations Risk)


৬. Compensation & Benefits (C&B)


Salary Dashboard
Payroll Trend Analysis
Overtime Trend Analysis
Compensation Analytics


৭. HRIS


Interview Scheduling Automation
HR Analytics Dashboard
Workforce Dashboard Automation
Reporting Employee Data Management
Data authentication
Data accuracy checking
Preparing any letter


৮. CSR & Wellbeing


Workforce Wellbeing Analytics
Employee Wellness Trend Analysis
Wellbeing Risk Identification
People’s Advocacy
Employee Handbook
Policy Gap Analysis
Employee Rights Review
Fairness & Inclusion Analysis


৯. Employer Branding


Candidate Communication
Drafting Career Page
Content Development
Recruitment Content Generation


১০. Employee Engagement


Engagement Communication Drafting
Employee Feedback Analysis
Survey Sentiment Analysis
Absenteeism Trend Analysis


১১. HR Business Partner (HRBP)


Attrition Analysis
Workforce Planning Analytics
Integration between ERP & Excel
Executive Dashboard
Promotion Dashboard
Gender Dashboard
Tenure Dashboard
Risk Identification
Business Impact Analysis
Excel sheet making, modifying & merging
Dashboard & graphical projection making
১২. Compliance & Governance


Labour Law Compliance


Buyer Audit Preparation
Policy Gap Analysis
HR Audit Observation Summary
Risk Identification
Executive summary & minutes


এর সাথে যোগ হতে পারে কমোন কাজ যেমন ছবি তৈরী, এডিটিং, ভিডিও মেকিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন এসব।


আগামী ৩-৫ বছরে HR-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফোকাস কী হবে?


A. Data-Driven HR-অভিজ্ঞতা দিয়ে নয়, ডেটা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। শিখতে হবে-HR Metrics, HR Analytics, Workforce Planning, Predictive Analytics;


B. Strategic HR Business Partnering, Business Understanding, Cost Analysis, Productivity Analysis, Organization Design, Change Management;


C. AI Governance & Ethics, Data Privacy, AI Bias Detection, Responsible AI Usage, Confidential Information Protection;
AI শিখতে গিয়ে কী কী টুলস সাইড বাই সাইড শিখবেন?


প্রথম স্তর (অবশ্যই শিখতে হবে): Generative AI, ChatGPT, Claude, Microsoft Copilot, Data & Reporting, Microsoft Excel (Advanced), Power Query, Power Pivot, Dashboard & Analytics, Power BI;


দ্বিতীয় স্তর (Career Accelerator): Automation Tools, Microsoft Power Automate, Zapier HRIS, HCM Exposure, SAP SuccessFactors, Workday, PeopleDesk, XeroHR, Reliance HRIS;


তৃতীয় স্তর (ভবিষ্যতের জন্য): Low-Code/No-Code App Development, Microsoft Power Apps, Google AppSheet;


এর মাধ্যমে HR নিজেই ছোটখাটো: Leave App, Approval Workflow, Recruitment Tracker, Training Tracker, Employee Query Porta তৈরি করতে পারবেন, প্রোগ্রামার ছাড়াই।


একজন Senior HR Leader-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ AI Skill:


সবচেয়ে আগে শিখুন: Prompt Engineering, HR Analytics, Dashboard Design, Power BI, Workflow Automation, AI-Assisted Decision Making, AI Governance & Data Privacy;


বাস্তব Action Plan (আগামী ৬ মাস):


Month 1-2: ChatGPT ও Claude দৈনিক ব্যবহার; Prompt Writing Practice HR Documents AI দিয়ে তৈরি করা;
Month 3-4: Advanced Excel, Power Query, HR Dashboard;
Month 5-6: Power BI, Workflow Automation, Predictive HR Analytics Bottom Line;


বাংলাদেশে HR-এর ভবিষ্যৎ হবে “AI + Analytics + Business Partnering” এর সমন্বয়। আগামী দিনে সবচেয়ে মূল্যবান HR Professional হবেন তিনি, যিনি:


HR জানেন, Business বোঝেন, Data পড়তে পারেন, AI ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, এবং HRIS, Dashboard ও Automation-এর ভাষা বোঝেন।
AI আপনাকে প্রতিস্থাপন করবে না; বরং AI ব্যবহার করতে জানা HR Professional, AI ব্যবহার করতে না জানা HR Professional-কে প্রতিস্থাপন করবে।


AI খুব শীগগীরই অমূক চাকরি খেয়ে দেবে, তমুকের চাকরি খেলো বলে, সমূকের ভাত কেড়ে নেবে-এই সরগরম বারোয়ারি শোরের মাঝখানে একখানা আনপপুলার বয়ান বলি।


ভ্রাতঃ ও ভগ্নি:

আামি এই মতবাদ ও আশঙ্কাকে মিথ্যা বলছি না। আমি বলছি, AI এর কাছে ভাত খোয়াতে হলে, বা, এ.আই আমাদের চাকরিটা খেয়ে দিতে হলে তার আগে যে বিপুল পরিমান ইন্ট্রিগ্রেশন, অটোমেশন, ডিজিটালাইজেশন, রবোটিক্স, টেকনোলজি অ্যাডপশন ও পিপল অপারেশন এলাইনমেন্ট দরকার-তার কতটুকু আমরা এই মুহূর্তে করে রেডি আছি-সেটা ভেবে কথাটা বললে ভাল হয়।


এত কঠিন কথা না বুঝলে বলি, বি.আর.টি.এ’র দালালের চাকরি অথবা অফিসের লনের ঘাস কাটার কাজটা এ.আইকে খেয়ে দিতে হলে যে পরিমান প্রি-আপগ্রেডেশন দরকার-তার কতটা আমাদের এখন আছে? তাহলে কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবেন? নাহ, সেটা করলে এ.আই লাগবে না, একটা ‘মাটির নিচে তীর্থস্থান’ খোঁজা দেশের সাধুদাদারাই আপনাকে রিপ্লেস করবে।


ভাল কথা, কেউ কিছু একটা বললেই সেটাকে বাইবেল ধরে নেবেন না। যদি তিনি দেখতে ডোলান ট্রাম্পের মতোও হন। গতকাল বা পরশু মি. আজাদ (হামিম গ্রূপের সম্মানিত কর্ণধার) স্যারের কথা নিয়ে গোটা অনলাইন জগত পাগল হয়ে গেছে। গতকাল হতে আজ বিকেল-এই স্বল্প সময়ে অন্তত ১ কোটি ডিজাইনের ফটোকার্ড দেখা হয়ে গেছে।


এয়াই ট্রেনিং বিক্রেতারা যথারীতি লুফে নিয়েছেন ওনার বক্তব্যকে (মানুষকে ভয় দেখাতে)। বাট, আমার অশিক্ষিত মস্তিষ্ক বলছে (ওনার ভিডিও দেখে), উনি যা বলেছেন বলে প্রচার হচ্ছে, তা হল-”আমি তো ১০ হাজার লোক কমাবো।” অথচ, আমি ওনার ভিডিও দেখে যা মনে করলাম, উনি বাস্তবে বলেছেন, “আমিই তো ১০ হাজার লোক কমাবো।” এই ‘ই’টা থাকা আর না থাকার মধ্যে কথার অর্থে আসমান জমিন ফারাক হয়ে যায়।


উনি আসলে ১০ হাজার কমাবেন-সেই ঘোষনা দিয়েছেন? নাকি বলেছেন, যে, পরিস্থিতি এলে আর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা হস্তগত হয়ে গেলে বিজনেস নিড হিসেবে তিনিও অন্যদের মতো লোক কমাবার পথে হাঁটবেন? ৭৫ হাজার শ্রমিক আর প্রায় তিন ডজন কারখানার একজন মালিক প্রকাশ্যে টিভিতে ১০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাইয়ের আগাম ঘোষনা দেবেন-আপনাদের কি মনে হয়, এত বড় পাগল একজন মানুষ একটা এমপায়ার গড়ে তুলতে পারতেন?


যাহোক, এ.আই নিয়ে খুব বেশি বলবার সময় এখনো হয়নি। AI এর সৃষ্টিকর্তারাও এখনো এটা নিয়ে ঘোর ও রহস্য কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে আমার কাছে লাগে। এর অভিঘাত কী হতে পারে-তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন জগতের তাবৎ বড় মানুষেরাই। বাংলাদেশে তো আমরা আরও পিছিয়ে। আমরা এখনো একটা ম্যানুয়াল জাতি। যদিও সেটা একইসাথে একটা শক্তি আবার দুর্বলতা। আরো বহুদূর যাবার আছে।


এ.আই ভিত্তিক প্ল্যাটফরম আর সোশ্যাল মিডিয়ার দাবানলের মতো জনপ্রিয়তা অর্জনের অন্যতম রহস্য হচ্ছে আমাদের ফাস্ট লাইফ নীতি। আমরা সবকিছু অতি দ্রুত পেতে চাই। অপেক্ষা আমাদের জীবন হতে উঠে যাচ্ছে। দশটা খুঁজে একটা পাওয়া আমাদের ধাঁতে থাকছে না। আবার, একটাতে বেশিক্ষণ সন্তুষ্ট না থেকে দশটা ট্রাই করবারও আমরা ভক্ত হয়ে গেছি। আমরা রেডিমেডের ভক্ত হয়ে যাচ্ছি।

এ.আই ভিত্তিক প্ল্যাটফরমগুলো আমাদের সেই রেডিমেড স্যুপ খাইয়ে ঘায়েল করছে। তাকে শুধু কায়দা করে ফরমান বা বয়ান দিলেই হল। সে তুতেনখামেনকেও ২০২৫ সালের লুকে হাজির করে। আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার থিওরী আবিষ্কারে কত কষ্টই না করতে হয়েছে। দু’দিন পরে হয়তো এর চেয়ে দশগুন জটিল তত্ব এ.আই খোলামকুচির মতো আবিষ্কার করবে।

বস্তুত এ.আই গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দেয় কিনা-সেটা একটা ভ্যালিড আশঙ্কা। অনেক কিছুই নতুন করে লিখতে হতে পারে এর প্রভাবে। এ.আই যুগের সূচনা ও এ.আই ভিত্তিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির দাবানলের মতো বিস্তার মানুষের ওপর মেশিনকে স্থান দিয়ে দিতেও পারে। মানবসভ্যতার জন্য সেটা ভাল খবর না। বাংলাদেশের একদল মানুষ অবশ্য ইতোমধ্যেই এ.আই কে দাজ্জাল হিসেবে ডিটেক্ট করে ফেলেছে।

তবে বিশ্ব সিস্টেম তছনছ হয়ে যাবার ভয়ের মধ্যে আবার একটা আদিম আশাবাদও উচ্চরিত হতে পারে। সেই আশাবাদের নাম ‘প্রকৃতি’। প্রকৃতির একটা অদৃশ্য খেলা আছে। তার একটা কল্পিত দিক বলি।

কৃষি যতদিন মূখ্যত সনাতনি পদ্ধতি নির্ভর ছিল, তখন অরগানিক পন্থায় গাছে যেসব ফল, ফসল হত, সেগুলো হত ছোট, বাঁকাচোরা, ধূসর, বিবর্ণ, অমসৃন-সব মিলিয়ে হ্যান্ডসাম লুক না। সেই সময়ে হাইব্রিড অথবা GM ফসল কিছু হত। চাষের মাছ আসত, চকচকে, ঝকঝকে, সেগুলো আকারে বড়, দেখতে টসটসে, সেক্সি রং, যেন একটা পোম্বা। মূলত বাজারে সিংহভাগ সরবরাহ থাকত কম দামের অরগানিক ফুডের, অসুন্দর ফল, ফসলের। কিন্তু, মানুষের বা ক্রেতাদের ক্রাশ থাকত ওই হাইব্রিড বা GM ফসল/ফল। যার দামও তখন বেশি হত।

এখন আবার হাইব্রিডের যুগ। বাজার ছেয়ে গেছে GM বা হাইব্রিড ফল, ফসল, পোলট্রি অথবা ক্যাটেলে। সর্বত্রই বিশালাকারের ফল, সেক্সি লুকের ফুল, ফসল, দৈত্যাকার ব্রয়লার বা ব্রাহামা ষাড়। দাম কম। কিন্তু আজকে আবার পাশা উল্টে গেছে। মানুষ বাজারে পায় হাইব্রিড, কিন্তু, তার এখন ক্রাশ হল অরগানিক ফুড, যেগুলো দেখতে কুচ্ছিত, পাওয়া যায় কম, দাম আকাশচুম্বি। মানুষ বাজারের এক কোণায় চোরাই মালের মতো বিক্রী হওয়া অরগানিকের জন্য গলার হার বেচতে রাজি।

একটা সময় ছিল হাতে করার যুগ। অংক করত হাতের কর গুনে। মানুষ নিজের ব্রেইন ও হাত দিয়ে শিল্পকর্ম আঁকত। সেগুলো দেখতে যেমনতেমন, ঝকঝকে না, তাতে নানান কায়দা কম। শিল্পবোধটা কেবল প্রখর।

তার ওপর এখন এসেছে AI দিয়ে বানানো শিল্প। AI দিয়ে আঁকা ছবি, ভিডিও, নানা সৃষ্টি। সেগুলো খুব চৌকষ, বুদ্ধিদীপ্ত, টু দ্যা পয়েন্ট, দ্রূত। এক বট দিয়েই হাজার রকম সৃষ্টিশীল ’মাল’ পয়দা করা যাচ্ছে। ভাবছেন, শিল্পীদের ভাত বোধহয় গেল। মেশিন যদি ছবি আঁকতে পারে, তাহলে পাবলো পিকাসো বা মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর আর বেইল থাকে?

AI এর হামলায় জব হারাবার শঙ্কায় কোটি কোটি মানুষ।

মজার বিষয় হল, AI এর এই রমরমা কৃত্রিম শিল্প সৃষ্টির মধ্যে মানুষ খুঁজবে মেতিস বা জয়নুল কিংবা সুলতানের হাতে আঁকা চারকোলের স্কেচ। AI এর নিখূঁত পোট্রেট না, একজন মানুষ তার ৪ বছরের কচি মেয়েটার আনাড়ি হাতে আঁকা বাবার একটা কার্টুন দেখে বেশি আপ্লুত হবে। AI এর যুগে মানুষ অরগানিক সৃষ্টিতে ক্রাশ খাবে। কদর বাড়বে তার।

ঠিক যেমন, এই ফাস্ট মুভিং ও সুইঙ্গিং সোসাইটি এখন খোঁজে সেই আদিম যুগের চন্ডিদাস রজকিনীর অরগানিক প্রেম।
সব ভাল’র খারাপ দিক থাকে। সব খারাপের ভাল দিক থাকে।

AI এর বিপুল বাড়বাড়ন্ত, কী হয় কী হয় ভয়-এই সবকিছুর মধ্যে একটা ভাল ঘটনার চান্স প্রবল বলে আমার মনে হয়।

সেটা হল, বাংলাদেশে ’আপত্তিকর’ ছবি বা ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও পয়সা/ডিমান্ড আদায়ের সামাজিক অপরাধ ও মানসিক অশান্তির অবসান ঘটাতে পারে AI এর ব্যাপক উৎকর্ষ।

AI দিয়ে ১০০% হিউম্যানয়েড ও রিয়েল লাইফ, রিয়েল লাইক ছবি ও ভিডিও বানানোর উৎকর্ষ যেমন ভয়ের কারন, আবার, সেই ভয়ের সূচনার মধ্যেই থাকতে পারে সেই ভয়ের অবসানের নিদান। কারন, যখন এটা গণহারে গণমানুষের মনোঃজগতে প্রোথিত হয়ে যাবে, যে, AI দিয়ে হুবহু রিয়েল লাইক ভিডিও বানানো যায়, তখন যেকোনো ছবি বা ভিডিওকে “ওটা আমার রিয়েল ভিডিও না, ওটা AI দিয়ে বানানো” বলে বেমালুম অস্বীকার করবার একটা শক্ত স্কোপও তৈরী হবে। একটা সময় মানুষ ভিডিওকে বিশ্বাস করা আর তাকে ভয় পাওয়া বন্ধ করবে। ফলে, ব্ল্যাকমেইল তখন আর পাত্তা দেবার মতো বিষয় থাকবে না। সেই সাথে ভিউ কামানোর যে ব্যাধিটা উগান্দেশে মড়কের মতো বেড়েছে, সেই ভিউ ব্যবসায়ও ধ্বস নামতে পারে।

AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চাকরি খেয়ে ফেলবে; প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে অসামাজিক ও নিঃসঙ্গ করে দেবে-এই বয়ানটির যেমন যথেষ্ট শক্ত যুক্তি আছে।

ঠিক তেমনি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও ইমপ্রোভাইজড ভারশন, আরও হিউম্যানয়েড রবোটের যুগপৎ মানুষের সিঃসঙ্গতা, নিঃসহায়তা কমাতেও যুগান্তকারী হতে পারে। ভবিষ্যত কোন দিকে যাবে-সেটা জোতিষ রাজদের পক্ষেও বলা এখনও অসম্ভব।

লারনিং ও এডুকেশন সেগমেন্টে যে বড়সড় একটা ওলটপালট হতে যাচ্ছে-সেটা বেশ দৃশ্যমান। মানুষকে নিকট ভবিষ্যতে স্কুল, কলেজ, সেন্টার বেজড শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণে কতটা যাবার বাধ্যবাধকতা থাকে-সেটা নিয়ে সংশয় আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও লারনিংয়ের ইনটিগ্রেটেড সফটওয়্যার/মডেল হবে এখানে একটি বড় রকম প্লেয়ার। মানুষ নিজের মতো করে কাস্টমাইজড ও পারসোনালাইজড শিক্ষণ ও প্রশিক্ষণ নেবে মেশিন হতে। কিছু শেখার জন্য, ব্যসিক পাবার জন্য অহঙ্কারী জ্ঞানীদের কাছে ধর্না দেবার দিন অলরেডি দৌড়ের ওপর আছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাম্প্রতিক মডেলগুলো জনমানুষের রিচে আসার পরে আমার নিজেরই হাজারটা ব্যসিক আইডিয়া ভিত্তিক শেখার প্রিয় শিক্ষক হয়ে গেছে চ্যাটজিপিটি, জেমেনাই, কোপাইলট, গ্রক। একটা সময় তক বিভিন্ন মৌলেক কনসেপ্ট বোঝার জন্য, এমনকি একটি প্রপার টার্ম ভেবে বের করতে বা জানতে কত মানুষকে তেল দিতে হত। সেটার যবনিকাপাত হয়েছে।

লারনিং ও নলেজকে অহঙ্কারী ও ব্যবসায়ী জ্ঞানীদের একচেটিয়া দখল হতে বের করে সেটাকে সত্যিকারের উন্মুক্ত গণশিক্ষায় রূপ দেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি। পাওয়ার পয়েন্ট বেচা পারফরমারদের দিন শেষ হবে। স্কুল কলেজের শিক্ষাদান ও শিক্ষণসহ পরীক্ষা, মূল্যায়নের কনসেপ্টে বড় ধাক্কা আসন্ন।

একই পথ ধরে, নিঃসঙ্গ, নিঃসহায় মানুষের সার্বক্ষনিক সঙ্গী হয়ে বসতে পারে এ.আই এবং হিউম্যানেয়েড রবোট। ভাবুন তো, সিরি কিংবা অ্যালেক্সার সাথে হিউম্যানয়েড রবোটের একটি অভাবনীয় ইনটিগ্রেশন করে যদি রোবো কমপেনিয়ন, রোবো হেল্পিং হ্যান্ড এসে পড়ে (পড়বে সেটা নিশ্চিত), সাথে যদি কোনোভাবে মেটার মেটাভার্সও এক্সিট্যন্সে আসে, সেই সাথে AR/VR এর হাত ধরে ফাইভ-ডি’র বাড়বাড়ন্ত হয়ে সেটা ফোন ও VR device এ হাতের মধ্যে এসে পড়ে-তাহলে বৃদ্ধদের নিঃসঙ্গ জীবনে সিরি কিংবা অ্যালেক্সাই হয়ে উঠবে পরম বান্ধব। অলমোস্ট একটা মানুষ মানুষ সঙ্গ দেবে সিরি। কে জানে, তখন সুনয়না নামের রবোটটি পড়ন্ত বিকেলে একজন সত্তোরোর্ধ কবিকে এক কাপ চা করে দিয়ে তাকে বারান্দায় বসিয়ে তারই বই হতে কবিতা পড়ে শোনাবে।

হ্যা, AI আসার ফলে পৃথিবীতে, বিশেষ করে আমাদের HR Arenaতে আমলে নেবার মতো কী কী ঝুঁকি বিশ্লেষণ করবার যথেষ্ট তাৎপর্য অলরেডি তৈরী হয়েছে সেটা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলাপ করছি। কারন, AI এর বাড়বাড়ন্তের সাথে সাথে এথিক্যাল ও স্মার্ট ইউসেজ অব AI নিয়েও এইচ.আর ফ্রাটারনিটির প্রস্তুত হতে হবে। কারন, কর্মীদের AI এনাবেলড করবার সাথে সাথে তাদেরকে এর ঝুঁকি ও সিকিউরিটি নিয়ে আলোকিত করাও এইচ.আরের দায়ীত্ব। এই অংশটুকু লিখতে আমি AI এর বিপুল সহায়তা নিয়েছি। প্রায় পুরোটাই তার লিখিত, আমি কেবল তাকে নির্দেশনা, ধারনা, ফোকাস, আঙ্গিক, ধরন, এসব নিয়ে গাইড করেছি।

এ.আই. পৃথিবী বদলাবে না। পৃথিবীর মালিক বদলে দিতে পারে।


“মানুষ একদিন রোবটের দাস হবে।”-ছোটবেলায় এই লাইনটা সায়েন্স ফিকশনে পড়ে হাসতাম। এখন আর হাসি না। কারণ আমি এখন বুঝি, রোবটের দাস হওয়ার দরকার নেই। রোবটের মালিকের দাস হলেই যথেষ্ট।


আমরা খুব অদ্ভুত একটা সময়ে বেঁচে আছি। যে যুগে একজন মানুষ নিজের মাথা খাটানোর আগে ChatGPT-কে জিজ্ঞেস করে।
নিজের ভাষায় লিখতে যাওয়ার আগে Grammarly খুলে। এক্সেলের ফর্মুলা মনে করার আগে Copilot চালু করে। কোড লেখার আগে Cursor-কে বলে—”তুই লিখে দে।”


শুনতে খুব আধুনিক লাগে। কিন্তু একটু থামুন।
যে মানুষ নিজের পায়ে হাঁটতে পারে, সে যদি প্রতিদিন হুইলচেয়ার ব্যবহার করে, তাহলে একদিন তার পা-ও হাঁটতে ভুলে যাবে। মস্তিষ্কও এর ব্যতিক্রম নয়।


আমি এ.আই.-এর বিরোধী নই।
বরং আমি বিশ্বাস করি, আগামী ১০ বছরে এ.আই. না জানাটা অনেকটা আজ কম্পিউটার না জানার মতো হবে। কিন্তু আমি আরেকটা জিনিসও বিশ্বাস করি। প্রতিটি প্রযুক্তি মানুষের স্বাধীনতা যেমন বাড়ায়, তেমনি নতুন ধরনের দাসত্বও তৈরি করে।


বিদ্যুৎ আমাদের রাত জাগতে শিখিয়েছে। মোবাইল আমাদের দূরের মানুষকে কাছে এনেছে। সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের সবাইকে প্রকাশের সুযোগ দিয়েছে।


আবার এগুলোই মানুষকে আসক্তও করেছে। এ.আই.-ও তার ব্যতিক্রম হবে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এর প্রভাব আরও গভীর হবে। কারণ এই প্রথম কোনো প্রযুক্তি আমাদের হাতের শক্তি নয়, মাথার শক্তিকেও প্রতিস্থাপন করতে এসেছে।


১. ডিজিটাল স্লেভারি


এক সময় জমিদার জমির মালিক ছিল। তারপর শিল্পপতিরা কারখানার মালিক হলো। এখন? এখন যুদ্ধটা জমির জন্য নয়। ডেটার জন্য। আগে শ্রমিক কারখানার গেটে ঢুকত। এখন আমরা নিজেরাই প্রতিদিন স্বেচ্ছায় লগইন করি।


ই-মেইল। ক্লাউড। এ.আই. । ডিজিটাল ওয়ালেট। ডিজিটাল আইডি।


আমরা ভাবছি এগুলো আমাদের সুবিধা দিচ্ছে। আসলে এগুলো আমাদের ছাড়া বাঁচতে না শেখাচ্ছে।
ভাবুন তো…একদিন যদি আপনার অফিস, ব্যাংক, ব্যবসা, ডকুমেন্ট, যোগাযোগ—সবকিছু একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যায়? সেদিন আপনি কি সত্যিই স্বাধীন?


নাকি শুধু একজন Premium User? আগের দাসদের হাতে শিকল ছিল। আমাদের শিকলের নাম হবে—Subscription.
আগে মানুষ মালিক বদলাত। এখন শুধু পাসওয়ার্ড বদলায়।


২. ব্যাকএন্ড মেকারদের মনোপলি


আমরা সামনে যা দেখি, সেটা সফটওয়্যার। কিন্তু সফটওয়্যারই আসল ব্যবসা নয়। আসল ব্যবসা হলো— যে সফটওয়্যার বানিয়েছে, সে। আজ পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ একই কয়েকটি এ.আই. ব্যবহার করছে।


ধীরে ধীরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, প্রোগ্রামিং, ডিজাইন, মার্কেটিং—সবকিছু যদি পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে ক্ষমতা কোথায় জমা হবে? আপনার কাছে? না।


তাদের কাছে। আপনি ব্যবহারকারী। তারা নিয়ন্ত্রক। আজ তারা ফ্রি ফিচার দিচ্ছে। কাল সাবস্ক্রিপশন বাড়াবে।
পরশু নিয়ম বদলাবে। আপনি প্রতিবাদ করবেন? করতে পারবেন না। কারণ আপনার পুরো কাজটাই তখন তাদের ইকোসিস্টেমে আটকে থাকবে। ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো—মানুষকে এমন একটা জিনিসে অভ্যস্ত করা, যেটা ছাড়া সে আর চলতে পারে না।


৩. তথ্যের মালিকই হবে ভবিষ্যতের সম্রাট


আগে বলা হতো—Knowledge is Power. এখন? Data is Power.


আপনি কী সার্চ করেন… কতক্ষণ পড়েন… কোথায় থামেন… কী কিনেন… কী পছন্দ করেন… কার সঙ্গে কথা বলেন…সবকিছুই ডেটা। আর ডেটা মানেই ভবিষ্যৎ আচরণ অনুমান করার ক্ষমতা। যে আপনার আচরণ অনুমান করতে পারে… সে চাইলে আপনার আচরণ প্রভাবিতও করতে পারে। এটাই বিজ্ঞাপন করে।


এটাই সোশ্যাল মিডিয়া করে। এ.আই. এটাকে আরও নিখুঁত করবে। একদিন হয়তো আপনার নিজের থেকেও এ.আই. ভালো জানবে—আপনি আগামীকাল কী কিনতে পারেন। এটা সুবিধা। আবার ভয়েরও। কারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো—মানুষের মন বুঝে ফেলা। আগে রাজারা মানুষ গুনত। এখন কোম্পানিগুলো মানুষের ডেটা গুনে।


৪. প্রাইভেসি—একটি বিলুপ্তপ্রায় শব্দ


আমরা ফ্রি অ্যাপ ভালোবাসি। কিন্তু একটা কথা ভুলে যাই। যদি কোনো পণ্যের দাম না থাকে… তাহলে অনেক সময় পণ্যটা আপনি নিজেই। আজ আমরা নিজেরাই সব দিয়ে দিচ্ছি।
ছবি।
কণ্ঠস্বর।
অবস্থান।
বন্ধুত্ব।
মতামত।
অভ্যাস।
পছন্দ।


এমনকি আমাদের প্রশ্নও। এ.আই. যত স্মার্ট হবে…তত বেশি তথ্য চাইবে। কারণ তথ্যই তার খাবার। প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কি বুঝে তথ্য দিচ্ছি? নাকি সুবিধার বিনিময়ে ধীরে ধীরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন বিক্রি করছি? আগে মানুষ ডায়েরিতে নিজের গোপন কথা লিখত। এখন সার্ভারে লিখে।


৫. হ্যাকিং ও ডিজিটাল লুটতরাজ


আগে ডাকাত ব্যাংক লুট করত। এখন মানুষকেই লুট করবে। আপনার মুখ দিয়ে ভিডিও বানানো যাবে। আপনার কণ্ঠে ফোন করা যাবে। আপনার নামে ই-মেইল যাবে। আপনার স্বাক্ষরও নকল হবে। ডিপফেক শুধু সিনেমার বিষয় নয়। এটা আদালত, নির্বাচন, চাকরি, পরিবার—সবকিছুকে প্রভাবিত করতে পারে।


আগে প্রশ্ন ছিল—”এটা কে বলেছে?” এখন প্রশ্ন হবে—”আসলেই কি সে বলেছে?”
ভবিষ্যতে সবচেয়ে দামি জিনিস হতে পারে—’এটা সত্যি’ প্রমাণ করার ক্ষমতা।


৬. ডিজিটাল ডিসক্রিমিনেশন


আগে বৈষম্য হতো টাকায়। এখন হবে প্রযুক্তিতে। যার কাছে Premium AI…সে এক ঘণ্টার কাজ দশ মিনিটে করবে। যার কাছে নেই…সে এখনও ম্যানুয়ালি করবে।


ধনী আরও দ্রুত শিখবে। গরিব আরও ধীরে। ফাঁকটা আরও বাড়বে। এটাকে আমি বলি—Intelligence Gap.
আগে বই ছিল ক্ষমতা। এখন AI Access-ই ক্ষমতা। আগামী দিনের ধনী-গরিবের পার্থক্য ব্যাংক ব্যালেন্সে নয়, ব্যান্ডউইথে দেখা যেতে পারে।
৭. মানুষ কি ধীরে ধীরে চিন্তা করাই ভুলে যাবে?


এই প্রশ্নটা অস্বস্তিকর। কিন্তু জরুরি। আজ আমরা নাম্বার মুখস্থ রাখি না। কারণ ফোন রাখে। রাস্তা মনে রাখি না। কারণ GPS রাখে। বানান ভাবি না। কারণ Auto Correct আছে। কাল হয়তো যুক্তিও ভাববো না। কারণ AI আছে। প্রযুক্তি স্মৃতি কমায় না। কিন্তু স্মৃতি ব্যবহার করার প্রয়োজন কমিয়ে দেয়।


একইভাবে এ.আই. হয়তো বুদ্ধি কমাবে না। কিন্তু বুদ্ধি ব্যবহার করার প্রয়োজন কমিয়ে দিতে পারে। সেখানেই ঝুঁকি। কারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয় তখনই, যখন সে নিজের শক্তি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়।


যেদিন মানুষ নিজের মাথার চেয়ে Prompt-এর ওপর বেশি ভরসা করবে, সেদিন এ.আই. জিতবে না—হারবে মানুষ।


৮. মানুষ কাজ করবে না, “কাজ করাবে”


আমরা একটা কথা খুব গর্ব করে বলি—”এ.আই. আমার হয়ে কাজ করে দেয়।” আমি বরং এটাকেই ভয় পাই।


কারণ, যে কাজটা আপনি আজ এ.আই.-কে দিয়ে করাচ্ছেন, কাল সেই কাজটাই আপনি নিজে করতে পারবেন তো?
একটা সময় মানুষ মুখে মুখে শত শত ফোন নম্বর মনে রাখতো। আজ নিজের সন্তানের নম্বরও অনেকেই জানে না। দোষ মোবাইলের নয়। মোবাইল আমাদের মনে রাখার দরকারটাই কমিয়ে দিয়েছে।


এ.আই.-ও একই কাজ করবে। এক্সেলের ফর্মুলা? GPT করে দেবে।
PowerPoint? AI বানিয়ে দেবে। Photoshop? এক ক্লিকে। Coding? “Generate.”


একদিন চাকরির ইন্টারভিউতে হয়তো প্রশ্ন করা হবে—”এটা আপনি করেছেন, নাকি AI করেছে?” আর তখন সবচেয়ে কঠিন উত্তর হবে—”আমি।”
যে হাত সব সময় লিফটে ওঠে, সে একদিন সিঁড়ি ভাঙতে ভুলে যায়।


৯. বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে কে?


পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা কী? তেল? না। ব্যাংক? না।


সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা হলো—মানুষকে নির্ভরশীল বানানো। আপনি যদি একটা সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, সেটা ব্যবসা। কিন্তু আপনি যদি সেই সফটওয়্যার ছাড়া চলতেই না পারেন—সেটা ক্ষমতা।


ভাবুন তো…আপনার অফিসের সব ফাইল এক কোম্পানির ক্লাউডে। আপনার টিম আরেক কোম্পানির AI-তে। আপনার CRM তৃতীয় কোম্পানিতে।


আপনার ডিজাইন চতুর্থ কোম্পানিতে। আপনি চাকরি করছেন। নাকি ভাড়া করা একটা ডিজিটাল ঘরে থাকছেন? একদিন যদি তারা দাম দ্বিগুণ করে? আপনি রাগ করবেন। কিন্তু বের হতে পারবেন? আগে কোম্পানি প্রোডাক্ট বিক্রি করতো। এখন অভ্যাস বিক্রি করে।


১০. প্রযুক্তি সস্তা হবে—এটা নিশ্চিত কে বলেছে?


অনেকে ভাবেন—এ.আই. সবকিছু সস্তা করে দেবে। আমি নিশ্চিত নই। বরং অনেক কিছু আরও ব্যয়বহুলও হতে পারে। আজ একটা AI ব্যবহার করতে কী লাগে?


দ্রুত ইন্টারনেট। ভালো কম্পিউটার। বেশি RAM। বেশি Storage। Cloud Subscription। Premium Account।
API Cost। এগুলো যোগ করুন। তারপর বলুন—এটা কি সত্যিই “ফ্রি”? আগে আমরা একটা সফটওয়্যার কিনতাম।
এখন প্রতি মাসে ভাড়া দিচ্ছি। আগে কম্পিউটার আপগ্রেড করতাম তিন বছরে।


এখন হয়তো প্রতি বছর করতে হবে। প্রযুক্তি যত এগোবে, তার সঙ্গে তাল মেলানোর খরচও তত বাড়বে।
AI ফ্রি হতে পারে। কিন্তু AI-নির্ভর জীবন খুব কমই ফ্রি হবে।


১১. চাকরি হারাবে মানুষ, নাকি বদলাবে চাকরি?


এই প্রশ্নটা খুব জনপ্রিয়। কিন্তু আসল প্রশ্ন এটা নয়। আসল প্রশ্ন হলো—আপনি বদলাতে পারবেন তো?
ইতিহাসে তাঁতশিল্পে মেশিন এসেছে। টাইপরাইটার গেছে। ফিল্ম ক্যামেরা গেছে। ভিডিও ক্যাসেট গেছে।
চাকরিও গেছে। আবার নতুন চাকরিও এসেছে। এ.আই.-ও তাই করবে।


কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়।
যে ৪৫ বছরের কর্মচারী ২০ বছর ধরে একই কাজ করছেন—তিনি কি ছয় মাসে Prompt Engineering শিখবেন?
সবাই পারবে? হয়তো না।


তাই সমস্যা AI নয়। সমস্যা পরিবর্তনের গতি। ইতিহাসে এত দ্রুত দক্ষতার মূল্য কখনও বদলায়নি।
ভবিষ্যতে চাকরি হারাবে না শুধু অদক্ষ মানুষ; হারাবে সেই দক্ষ মানুষও, যে নতুন দক্ষতা শিখতে রাজি নয়।


১২. সত্য আর মিথ্যার মাঝখানে কুয়াশা নেমে আসবে


আগে একটা ছবি ছিল প্রমাণ। আজ? ছবি এডিট করা যায়।
ভিডিও বানানো যায়। কণ্ঠস্বর নকল করা যায়।
কাল?


হয়তো আদালতে দাঁড়িয়েও কেউ বলবে—”ভিডিওটা আমি না।” আর বিচারকও নিশ্চিত হতে পারবেন না।
ডিপফেক শুধু বিনোদন নয়। এটা ব্যবসা ধ্বংস করতে পারে। নির্বাচন প্রভাবিত করতে পারে। মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারে। পরিবার ভেঙে দিতে পারে।


আমরা এমন এক পৃথিবীর দিকে যাচ্ছি, যেখানে প্রমাণও প্রমাণ থাকবে না।
ভবিষ্যতে সবচেয়ে দামী সফটওয়্যার হতে পারে—”সত্য যাচাইকারী।”


১৩. বিদ্যুতের জন্য নতুন যুদ্ধ


এ.আই. শুধু বুদ্ধি খায় না। বিদ্যুৎও খায়। অনেক বিদ্যুৎ।
বিশাল ডেটা সেন্টার মানে হাজার হাজার সার্ভার। সার্ভার মানে বিদ্যুৎ। কুলিং। পানি। অবকাঠামো।
আজ পৃথিবীর অনেক দেশ নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা করছে শুধু ডিজিটাল অবকাঠামোর চাহিদা মাথায় রেখে। আমরা হয়তো ভবিষ্যতে তেলের জন্য নয়—
বিদ্যুতের জন্য প্রতিযোগিতা দেখবো। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে এখনও লোডশেডিং পুরোপুরি ইতিহাস হয়নি, সেখানে এই প্রশ্নটা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
AI যত স্মার্ট হবে, বিদ্যুতের মিটারও তত স্মার্ট গতিতে ঘুরবে।


১৪. পরিবেশের বিল দেবে কে?


আমরা যখন AI-কে একটা প্রশ্ন করি…তখন শুধু একটা উত্তর আসে না। কোথাও একটা সার্ভার জেগে ওঠে।
কোথাও বিদ্যুৎ খরচ হয়। কোথাও কুলিং সিস্টেম চলে। কোথাও কার্বন নিঃসরণ হয়। প্রযুক্তি “অদৃশ্য” বলে তার পরিবেশগত খরচও অদৃশ্য—এমন ভাবার কারণ নেই।


আমরা প্লাস্টিকের দূষণ দেখি। ধোঁয়া দেখি। কিন্তু ডেটার দূষণ দেখি না। তাই সেটা নেই—এমনও নয়।
তার ওপর নতুন নতুন ডেটা সেন্টারের জন্য দরকার বিশাল জমি। পানি। ফাইবার নেটওয়ার্ক। বিদ্যুৎ। প্রশ্ন হলো—এই মূল্যটা দেবে কে?
ক্লাউড আকাশে থাকে না। ক্লাউডও মাটির ওপরই দাঁড়িয়ে থাকে।


১৫. গরিব দেশের জমিতে দাঁড়াবে ধনী দেশের বুদ্ধিমত্তা?


এ.আই. চালাতে কী লাগে? ডেটা সেন্টার। আর ডেটা সেন্টার মানেই—জমি। বিদ্যুৎ। পানি। ফাইবার অপটিক। কর সুবিধা।
এখন প্রশ্ন হলো…এসব কোথায় হবে? সবই কি আমেরিকায়? সবই কি ইউরোপে?
হয়তো না।


অনেক উন্নয়নশীল দেশ সস্তা জমি, সস্তা শ্রম, করছাড় আর সরকারি সুবিধা দিয়ে ডেটা সেন্টার আনতে চাইবে। শুনতে খুব উন্নয়নের গল্প।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—লাভটা কে নিয়ে যাবে? স্থানীয় মানুষ? নাকি বহুজাতিক কোম্পানি?


আমরা RMG-তে বহু বছর ধরে একটা কথা শুনেছি—”Factory is in Bangladesh. Profit is somewhere else.”
ডেটা সেন্টারের ক্ষেত্রেও যেন একই গল্প না হয়। আমাদের জমি যাবে। বিদ্যুৎ যাবে। পানি যাবে। কিন্তু বুদ্ধিমত্তার মালিকানা? সেটা হয়তো অন্য কারও কাছেই থাকবে।


ভবিষ্যতের উপনিবেশ হয়তো বন্দুক দিয়ে হবে না। হবে সার্ভার দিয়ে।


১৬. অ্যালগরিদমও মানুষই বানায়


অনেকে এ.আই.-কে এমনভাবে দেখে, যেন সে কোনো নিরপেক্ষ বিচারক। বাস্তবতা ভিন্ন।
এ.আই. নিজে নৈতিক নয়। সে ভালোও না। খারাপও না। সে শিখে মানুষের কাছ থেকে। যে ডেটা দেবেন…
সেই সিদ্ধান্তই ফিরিয়ে দেবে। যদি নিয়োগের পুরোনো ডেটায় পক্ষপাত থাকে…এ.আই.-ও সেই পক্ষপাত শিখবে।


যদি সমাজে বৈষম্য থাকে…এ.আই. সেটাকেও আরও দ্রুত ছড়াতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় কী জানেন?
মানুষের পক্ষপাত চোখে পড়ে। অ্যালগরিদমের পক্ষপাত অনেক সময় চোখেই পড়ে না।
কারণ তখন সবাই বলে—”কম্পিউটার ভুল করে না।” আসলে করে। শুধু তার ভুলটা দেখতে একটু বেশি বুদ্ধি লাগে।
মানুষ ভুল করলে আমরা প্রশ্ন করি। অ্যালগরিদম ভুল করলে আমরা আপডেটের অপেক্ষা করি।


১৭. ক্ষমতা কয়েকজনের হাতে জমা হবে


পৃথিবীতে টাকা যত বড় ক্ষমতা…তার চেয়েও বড় ক্ষমতা হলো—মানুষের চিন্তার দরজায় বসে থাকা।
ভাবুন…


আপনার লেখা…আপনার ডিজাইন…আপনার অফিস…আপনার চিকিৎসা…আপনার পড়াশোনা…সবকিছু যদি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এ.আই.-এর ওপর নির্ভর করে…তাহলে ক্ষমতা কোথায়?


আপনার হাতে? নাকি তাদের হাতে? ইতিহাসে সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছে সৈন্য দিয়ে। ভবিষ্যতে সাম্রাজ্য তৈরি হতে পারে—Server দিয়ে। API দিয়ে। Cloud দিয়ে। আগে মানুষ রাজাকে ট্যাক্স দিত। এখন হয়তো API Call-এর বিল দেবে।


১৮. নজরদারির নতুন যুগ


একটা সময় মানুষ ভাবতো—”আমাকে দেখছে কে?” এখন প্রশ্নটা বদলে গেছে। “আমাকে দেখছে না কে?”
আপনি কোথায় গেলেন…কী সার্চ করলেন…কী লিখলেন…কতক্ষণ পড়লেন…কী কিনলেন…সবকিছুই কোনো না কোনো ডিজিটাল ছাপ রেখে যায়। এ.আই. এই ছাপগুলোকে শুধু সংরক্ষণ করবে না।


বিশ্লেষণও করবে। এটা অপরাধ দমনেও কাজে লাগতে পারে। আবার নাগরিকের স্বাধীনতা সীমিত করতেও ব্যবহার হতে পারে। প্রযুক্তি কখনোই একমুখী নয়। ছুরিটা দিয়ে অস্ত্রোপচারও হয়। খুনও হয়।


প্রশ্ন ছুরির নয়। কার হাতে ছুরি? ভবিষ্যতে সবচেয়ে ব্যক্তিগত জায়গা হয়তো আপনার বাড়ি নয়; অফলাইন থাকা।


১৯. পরিচয় চুরি হবে নতুন ব্যাংক ডাকাতি


আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট চুরি হতো। এখন মানুষটাই চুরি হতে পারে। আপনার মুখ। আপনার কণ্ঠস্বর। আপনার লেখার স্টাইল। আপনার স্বাক্ষর। সবকিছুই নকল করা সম্ভব হচ্ছে। একদিন হয়তো আপনি নিজেই প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকবেন—”ভিডিওটা আমি না।”
ভাবুন, একজন CEO-এর কণ্ঠস্বর নকল করে কোটি টাকার লেনদেনের নির্দেশ দেওয়া হলো। অথবা একজন রাজনৈতিক নেতার নামে যুদ্ধ ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ল।


প্রযুক্তি যত উন্নত হবে…বিশ্বাস তত মূল্যবান হবে। আগে পাসপোর্ট হারালে মানুষ বিপদে পড়তো। ভবিষ্যতে নিজের মুখটাই হারাতে পারে।
২০. ভুল করলে দায় কার?


এটাই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন। এ.আই. ভুল চিকিৎসা পরামর্শ দিল। দায় কার? এ.আই.-এর? সফটওয়্যার কোম্পানির? ডাক্তার যিনি ব্যবহার করলেন? নাকি রোগীর? এ.আই. ভুল নিয়োগ সিদ্ধান্ত দিল। দায় কার?


ভুল ঋণ অনুমোদন করল। দায় কার? ভুল বিচার বিশ্লেষণ করল। দায় কার?
আমরা এমন এক যুগে ঢুকছি, যেখানে প্রযুক্তি যত এগোবে…জবাবদিহিতা তত জটিল হবে। আইন এখনও অনেক ক্ষেত্রেই এই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ভবিষ্যতে সবচেয়ে দামি পেশা শুধু প্রোগ্রামার নয়; দায় নির্ধারণ করতে পারা আইনজীবীও হতে পারেন।


শেষ কথা:


আমি এ.আই.-এর বিরুদ্ধে নই। আমি নিজেও প্রতিদিন এ.আই. ব্যবহার করি। আপনিও করবেন।


করতেই হবে। কারণ প্রযুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ইতিহাসে কেউ জেতেনি। কিন্তু প্রযুক্তির সামনে মাথা নত করেও কেউ স্বাধীন থাকেনি।
আমার ভয় এ.আই. না। আমার ভয়—মানুষের অলসতা। আমার ভয়—প্রশ্ন করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।


আমার ভয়—পাঁচটি কোম্পানির হাতে পাঁচশো কোটি মানুষের নির্ভরতা। আমার ভয়—যেদিন মানুষ নিজের বিবেকের আগে অ্যালগরিদমের রায়কে বেশি বিশ্বাস করবে।


এ.আই. আমাদের চাকরি নেবে কি না, সেটা সময় বলবে। কিন্তু একটা প্রশ্ন আজই করা দরকার—আমরা কি এ.আই.-কে ব্যবহার করবো? নাকি এমন এক পৃথিবী বানাবো, যেখানে এ.আই.-এর মালিকরাই আমাদের ব্যবহার করবে? কারণ ইতিহাসে প্রযুক্তি কখনও সভ্যতা ধ্বংস করেনি। সভ্যতাকে বিপদে ফেলেছে—ক্ষমতার অপব্যবহার।


এ.আই.ও তার ব্যতিক্রম হবে—এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তাই এ.আই. শেখার আগে একটা জিনিস শিখুন। নিজের মাথা দিয়ে চিন্তা করা। কারণ ভবিষ্যতে সবচেয়ে দামী দক্ষতা হয়তো Prompt Engineering হবে না।
হবে Independent Thinking.

Biggest Challenges of HR:

১.এইচআর বিভাগের ক্ষমতায়ন। মালিকদের কাছ থেকে তাদের নিজস্ব কৌশল এবং SOP অনুযায়ী তাদের অপারেশন এবং পরিকল্পনা পরিচালনা করা।

২. কোম্পানির অভ্যন্তরে আধুনিক এইচআরএম অনুশীলনগুলি অন্তর্ভুক্ত করতে মালিকদের অনিচ্ছা ৷

৩. বিশেষত উৎপাদন খাতে দক্ষ জনশক্তির অভাব।

৪. সংস্থাগুলিতে কর্পোরেট কাঠামো এবং কর্পোরেট সংস্কৃতির অনুপস্থিতি।

৫. সাধারণ কর্মী প্রশাসন-ভিত্তিক চিন্তা থেকে HR আলাদা করা।

৬. ব্যবসায়িক প্রবণতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতিতে কর্পোরেট সংস্কৃতি/তাত্ত্বিক HRM চিন্তাধারার অনুবাদ।

৭. HR পেশাদারদের জন্য যথাযথ/সমসাময়িক HR প্রশিক্ষণের অনুপস্থিতি।

৮. এইচআরএম সিস্টেম এবং অপারেশনে মালিকদের হস্তক্ষেপ।

গার্মেন্টস HR এ কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই একটা কথা শুনতে হয়-গার্মেন্টসে ওটা হবে না, এটা চলে না, ওসব গার্মেন্টসে খায় না ইত্যাদি। মূল বক্তব্য হল, যত মডার্ন HRM থটস, থিওরিজ, ম্যানুয়্যালস, প্রাকটিসেস আছে-ওগুলো গার্মেন্টস এর এইচআরে এপ্লিকেবল না। গার্মেন্টসের এইচআর সম্পূর্ন ভিন্ন পথে, ভিন্ন নিয়মে, ভিন্ন নীতিতে পরিচালিত হতে হবে।

আমি নিজেও অনেকদিন বিষয়টি বুঝবার চেষ্টা করেছি ঠিক কী কারনে এই ধারনাটি ঠিক বা ভুল। যেকোনো একটি ধারনা বা বিশ্বাসকে প্রমান বা অপ্রমান করতে গেলে যুক্তি থাকতে হয়, এনালিটিক্যাল রিজনিং থাকতে হয়। দীর্ঘ দিন বিষয়টি নিয়ে ভাববার পর আমি একটি ইকুয়েশনে পৌছেছি। আমার ব্যক্তিগত মতামত হল, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ইউনিক-চাই কি সেটা ধরনে, চাই কি তার আকার, আকৃতি, ব্যাবসার ধরন, মালিকের ধরনসহ যেকোনো বিচারে। বিধায় তার অপারেশন ম্যানেজমেন্ট, বিজনেস প্যাটার্ন, এথিক্যাল প্যাটার্ন-সবই ইউনিক হয়।

তবে এইচআরের ক্ষেত্রে বিষয়টা ওরকম ন্যারো লাইনে একবাক্যে বলে দেয়া যায় না। প্রতিষ্ঠান যেহেতু ইউনিক হয় তাই তার এইচআরও হবে ইউনিক। কিন্তু সেই ইউনিকনেসটা মূলনীতি বা প্রিন্সিপালস এবং আসপেক্টস এ নয়। নিজস্বতা বা ইউনিকনেস থাকবে অপারেশন মেথড, এসওপি বা ইমপ্লিমেনটেশনে। কিন্তু মূলনীতিতে কোনো ইউনিকনেস থাকবে না। জগতের সকল ধরনের প্রতিষ্ঠানের এইচআরএম সিস্টেম কিংবা এইচআরডি ম্যানেজমেন্ট এর মূলনীতি, প্রিন্সিপালস, এথিকস, থীমস-এক ও অভিন্ন। আমি তুলনা করার জন্য নিচে কিছু স্যাম্পল প্যারামিটার সেট করে দেখালাম কেন মূলনীতি ও থীমস এ যেকোনো এইচআরের চেয়ে গার্মেন্টস এইচআর আলাদা কিছু নয়।

Business growth

Checking corruption

Compensation & Benefits

Corporate Practices   

CSR     

Defending wastage of any kind

Disciplinary practice

Employer branding

Equal opportunity for all

Good Governance      

Legal obligation

Low migration

Profit making 

Rewarding for Performance

Skilled Manpower      

Sustainability  

Talent mgt. & retention         

Training for Employees/Skill Development   

Written Service Rules and rule of law

Treating the employees as Human Being

দেখা যাচ্ছে, যে, কোনো প্যারামিটারেই গারমেন্টস কারখানার এইচ.আর এর সাথে অন্য যেকোনো ধরনের এইচ.আর এর গুনগত ও বুনিয়াদগত কোনো ভেদ নেই। দুটিরই পথপরিক্রমা একই।

তবে আমার এই মতবাদের বিপরীতে সবচেয়ে হাস্যকর যে তুলনাটি টানা হয়ে থাকে, সেটি হল, গারমেন্টস একটি শ্রমঘন শিল্প। এখানে প্রচুর কর্মী কাজ করে। য়ুরোপ-আম্রিকার কর্পোরেট কোম্পানীগুলোর এইচ.আর তত্ব এখানে প্রয়োগ করা যাবে না। ওনাদেরতো একেকটা অফিসে ২০ জন, ৫০ জন কর্মী। তাদের উদাহরণ এখানে দেবেন না। তাদের কথার জবাবে আমি কেবল জগতের সবথেকে বড় ও সেরা কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম বলছি, যাদের এইচ.আর অন্যতম সেরা, আর যাদের কর্মীর বহর আমাদের যেকোনো গারমেন্ট কারখানার তুলনায় বহু বহু গুন বড়। দেখে নিন একবার:

TATA: 6, 95, 699

Samsung: 4,89,000

IBM: 3,86,558

RELIANCE: 2,50,000

SONY: 1,46,300

BMW: 1,24,729

Microsoft: 1,20,849

Philips: 1,14,188

Google: 72,000

Telenor: 35,121

Grameen Bank: 24,703

Facebook: 17,048

Grameen Phone: 3,283

#ChallengesofHR #AIchallenge #riseofAI #threatsofAI #obstaclesofHR AIinHR #FutureOfHR #HRTech #HumanResources #HRLeadership #StrategicHR #HRAnalytics #PeopleAnalytics #WorkforceAnalytics #DataDrivenHR #ArtificialIntelligence #GenerativeAI #ChatGPT #ClaudeAI #MicrosoftCopilot #PromptEngineering #HRTransformation #DigitalHR #FutureOfWork #TalentAcquisition #Recruitment #TalentManagement #SuccessionPlanning #WorkforcePlanning #EmployeeExperience #HRAutomation #WorkflowAutomation #PowerBI #Excel #PowerQuery #DashboardDesign #BusinessPartnering #HRBP #HRIS #SAPSuccessFactors #Workday #ChangeManagement #AIGovernance #DataPrivacy #ResponsibleAI #Upskilling #Reskilling #LearningAndDevelopment #LeadershipDevelopment #BangladeshHR #Bangladesh #RMGHR #CorporateHR #PeopleStrategy #HRInnovation

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *