বোশেখ এলো চৈত্র শেষে, কালবোশেখীর হাত ধরে,
তপ্ত রবির রুদ্র দাহে, মধ্য দুপুর যায় পুড়ে।
পান্তা বুড়ি থুত্থুরি, ইলিশ, মোয়া, খই, মুড়ি,
রমনা পার্ক, চারুকলায়, লালপেড়ে নতুন শাড়ি।
মহাকালের বার্তা এলো, নতুন জীবন হাঁক পাড়ে,
মঙ্গল আলোয় আসল নববর্ষ রে।।
রিমঝিমিয়ে বর্ষা এলো বনের ধার
সিক্ত বসন, ভিজল সাগর, বন, পাহাড়।
জল টুপটুপ দিঘীর জলে ছন্দময়
মন উচাটন বাদল মেঘে হয় তন্ময়।
পেঁজা পেঁজা সাদা মেঘ নীল আকাশে
কাঁশবন শিহরে, মৃদু বাতাসে।
রঙীন জীবন মাতে শরত কালে
স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে মেঘের দলে।
হলদে রঙা মাঠের ওপর স্বপ্ন বুনে যায়,
আজকে এলো চাষার ঘরে হেমন্তেরি বায়।
মৃদু বাতাস, হিমের ছোঁয়া, কোন সে বার্তা দেয়?
নবান্নেরি উল্লাসেতে, নেমন্তন্ন নেয়।
হিম হিম ঠান্ডায়, শীত আসে ভূবনে,
পত্র ও পল্লবে, বিধবার বসনে।
তরুরাজি নয়া সাজে, সাজল যে অকালে
থুত্থুরে শীত বুড়ি ডাক দেয় সকালে
কান পাতো, বাতাসে ফিসফিস,
আজি বসন্ত আসিল ধরায়,
ফাগুনের লাল লাজ কৃষ্ণচুড়া, পলাশে আগুন ঝরায়।
মন্দারে দানিল কে, রক্ত রঙা আবির ধারা?
নব কিশলয়, নব আনন্দে মন মহুয়া বাঁধন হারা।
বিরহী কোকিল সখা, কুহু সুরে খোঁজে প্রিয়া বাসন্তি গুঞ্জনে, ঘরে বাঁধিতে নারি হিয়া।