প্রিয়তমেষু রাজনন্দিনী,
আজিকের অবাক বরষায় তোমার হৃদয় কি কিঞ্চিত আকূল হইল?
মেঘেদের আনাগোনা মনের কবাটে মৃদু কড়া নাড়িল কি?
হঠাৎ হঠাৎ কড় কড়াত নাদে তাহাদের সশব্দ পদধ্বনি কি
তোমাকে স্পর্শ করিতেছে?
তোমার দ্বিতল বারান্দায় কি বরষা তাহার আশির্বাদ বর্ষণ করিতেছে?
সে কি মনে করাইতেছে সেই বর্ষন মুখর সন্ধ্যায়
এই একই ব্যালকনিতে তোমার সহিত বসিয়া থাকিবার স্মৃতি?
মনে করাইলে মন খারাপ করিও না।
এ বাঙাল দেশের যাবতীয় স্বভাবের মতো
বরষার এই বেহায়া রুপও ক্ষণস্থায়ী হইবেক।
যেই অতীতকে তুমি বিনা আয়াসে ভুলিয়াছ
তাহাকে সামান্য বরষার উৎপাতে ছন্দপতন ঘটাইতে দিও না।
তোমার আমার সেই স্মৃতি, তোলা থাকুক বিস্মৃতির শিকেয়।
রাজনন্দিনী, তুমি বরং আজ গ্রামোফোন শোনো।
ফিরোজা বেগম কিংবা শচীন কর্তাকে আহবান করো সুরে সুরে।
বরষার প্ররোচনায় মরা স্মৃতিকে আর ডেকো না।
তাকে স্থান দিও না মনে।
বরষার জলের মতোই ক্ষণস্থায়ী অতীতকে।