সবই মেনে নিয়েছি অকাতরে
কিংবা বলা চলে, মানতে শিখে গেছি।
নিজেকে নিজেরই সাথে যুঝতে শিখেছি।
মনের অলঙ্ঘ অর্গলে নিজের ঘরে
নিজেকেই বন্দী করেছি।
একটি কবিতা ছাড়া, সঙ্গীত, চিত্রকলা-সব সবকিছু ভুলে
বাঁচতে শিখে গেছি আমরা।
বাঁচতে চাই না, বাঁচাতেও না,
আমাদের কোনো স্বপ্ন অদেখা।
নত মস্তকে কুর্নিশ করি শেখানো মন্ত্রেরে।
আমরা এখন সদাই ন্যস্ত, জীবনেরে সংহারে।
ক্রমান্বয়ে বিদায় করেছি সব জমানো আবেগ।
রুদ্ধ কন্ঠের হদিস রাখিনি কোনো প্রান্তে।
তবু শরীরের লাল লহু জ্বলে ওঠে,
বন্দীর সদা লুপ্ত চেতনায়, নিজেরই অজান্তে।
কবিতার কন্ঠরোধ করেছ নির্মম পেষণে,
বিভক্ত ভ্রাতৃত্বে, নিগ্রহে দলনে।
স্বার্থের বলি যখন আমার স্বাধীনতা,
তখুনি তোমার অবাক উদাসীনতা।
তবু মাঝে মাঝে অচেনা দ্রোহের টানে,
কবিতারা চুপি চুপি পায়ে আসে।
দৃপ্ত শপথে, অবলীলায়, অনায়াসে।
কবিতারা বাঁধা মানে না।
জানে না মানতে নিয়মের বেড়াজাল।
কবিতা মুক্ত, কবিতা স্বাধীন,
কবিতায় আসে দ্রোহ, ভাঙনের দিন উত্তাল।