এই আত্মমগ্ন ভুলভাল বানানো সমাজ,
এই প্রবঞ্চক, জন্মপরিচয়হীন সমাজকে,
মেনে নিতে যখন আমি বাধ্য,
নির্জলা মদের মতো নির্জলা মিথ্যে মানবতার গান যখন গিলতে হয়, হাততালি দিতে হয় অবিরত,
তোমার, আমার, আমাদের সামান্য মন খারাপের কীই বা মূল্য থাকে?
অভিশাপ দেয়া ছাড়া ক্ষুদ্রের ভান্ডারে বাকি কি কিছু থাকে?
শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি, ছাত্রনেতা-সবাই বিক্রি হয় যেখানে,
সেখানে একজন কবির একা কীই বা করার থাকে?
রক্তাক্ষরে লেখা ব্যানারের নিচে দাড়িয়ে তার কোন স্লোগান তোলার থাকে?
কেবল নিষ্ফল আক্রোশে, অমোঘ আত্মশ্লাঘায় জর্জরিত হওয়া ছাড়া,
আর কতটুকুই তার করার থাকে?
এই মুখোশধারী জনারণ্যে একজন কবির
ভোল পাল্টাতে কিংবা ক্ষমতাবানের পা চাটা সারমেয় হতে?
তবে কীই বা দোষ আছে? কী তার অন্যায়? একার?
নষ্ট সমাজে কবিরা হয়ে ওঠে স্বার্থের নির্লজ্জ দালাল।
কবিতা খোঁজে দেহপসারিনীর সুবিধাবাদী আড়াল।
কবিতায় তাই আর কথা নেই, ছন্দ নেই,
কবিতারা পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে টঙ্কায়।
কবিদের আত্মাহুতি দেখি, কবিত্বের নরক লঙ্কায়।
তুমি যদি চাও, তবে এসো এই নিরব নরকে,
দেখে যাও, কী অনলে পুড়ছে জীবন, সমাজ, সভ্যতার ফ্রেমে বাঁধানো নতুন সড়কে।
কী নিদারুন অসহ্য আত্মসমর্পন।
দেখে যেও, দেখে যেও আমাকে।