[রূপালী শব্দের জোৎস্নারা_রচয়িতা প্রকাশনী_পোস্টবক্স গ্রুপ_বইমেলা ২০১৯]
যখন একটি ব্যস্ত শহর
উদভ্রান্ত ছুটছে জানা অজানা গন্তব্যে,
উর্দ্ধশ্বাস, দিকহীন লক্ষ্যে।
যখন নিশ্ছিদ্র আঁধারের বুকে ছুটেছে রাতের ট্রেন,
মাঠঘাট, লোকালয়ের নিরবতা খানখান করে।
আমি তখনো নিশ্চল, ঠায় বসে। জগদ্দল পাথরের মতো
শীতল, নিশ্চূপ, নিরুত্তাপ।
যার ছুটে যাবার কোনো তাড়া নেই।
হয়তো ছুটবার ইচ্ছেটাই বেঁচে নেই
একা আমারই কোনো ছুটি নেই।।
দেয়ালের অমসৃন খাঁজে লুকোনো টিকটিকিটাও
ক্লান্ত হয়ে থামিয়েছে ডাকাডাকি,
যখন দেয়াল ঘড়ির বুড়ো পেন্ডূলাম, থমকে হতবিহ্বল,
বহুকাল ঠিকঠাক দিনক্ষণ বিলি করে।
তখনই আমার ব্যস্ততা দূর্নিবার। অদ্ভূৎ বৈপরীত্য অপার।
আমারই নেই জিরোবার একটুও অবসর।।
যখন মাঘী পূর্নিমার দুধ সাদা আলোয়
ভাসে বিশ্ব চরাচর,
তখনো আমি খুঁজে পাই না একটুকরো মুক্ত আকাশ।
নিকষ কালো রাতে ধূমকেতুর বুনো উচ্ছাস
অধরা রয়ে যায়, দূর কোনো অন্ধ মায়ায়।
শুধু কিছু মধ্যাহ্ন পাগলামি, নির্ঘুম সারা দুপুরময়।
অথচ এককালে ছিল, একটা রঙিন মহাকাশ,
আর কিছু হারাবার ভয়।।
যখন আকাশ আলো করে
জোৎস্না মেয়েরা নামে অবাক রাতে।
সাথে নিয়ে চপলা জোঁনাক মেয়ে।
আমি খুঁজি আমার প্রিয়ার চোখ, মুগ্ধতার অভিপ্রায়ে।
প্রেমিকার চোখের তারায়,
জোৎস্না স্বপ্নরা বেঁচে নেই।
আমার অবাক একাকী রাতে,
কুচ্ছিৎ কালো দুঃস্বপ্নেরা আছে,
একজন রাতজাগা প্রেমিকা নেই।।